Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 113

শিক্ষার্থীদের জন্য অশ্রুসিক্ত হয়ে যা বললেন বাঁধন

শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মাঠে নেমেছেন তারকারাও। শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে শিল্পীসমাজ।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) ফার্মগেট এলাকায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিল্পীসমাজের ব্যানারে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

বাঁধন বলেন, আজ ওখানে আমার সন্তানও থাকতে পারতো। এভাবে শান্তিতে থাকা যায় না। এসব বন্ধ করতে হবে। আমরা এর বিচার চাই। আমরা রাষ্ট্রের বিচার চাই।

এ সময় বক্তারা বলেন, সব হত্যার হিসাব ও বিচার করা, গুলি ও সহিংসতা বন্ধ, গণগ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে দাঁড়াতে এখানে এসেছি। অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের বিচার ও হত্যা, সহিংসতা, গণগ্রেপ্তার হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

তারা বলেন, যেই ন্যায্যতা, সমতা ও মানবিক মর্যাদার অঙ্গীকার নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছিল, সেই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।

এ সময় মামুনুর রশিদ, আকরাম খান, নূরুল আলম আতিক, আজাদ আবুল কালাম, হাসান, আজমেরী হক বাঁধন, পিপলু আর খান, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, মুনেম ওয়াসিফ, ঋতু সাত্তার, তাসলিমা আকতার লিমা, তানিম নূর, সৈয়দ আহমেদ শাওকি, ওয়াহিদ তারেক, রেদওয়ান রনি, আমিরুল রাজিব, নুসরাত ইমরোজ তিশা, তানজিম ওয়াহাব, জাহিন ফারুক আমিন, তানভীর আহসান, ইয়াছির আল হক, শঙ্খ দাশগুপ্ত, সাবিলা নূর, নাসিফ আমিন, তাসনিয়া ফারিন, হুমাইরা বিলকিস, শিবু কুমার শীলসহ অনেকে সংহতি প্রকাশ করেন।

আবু সাঈদের নামে চালু হলো বাংলা নতুন ফন্ট

গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদের নামে নতুন বাংলা ফন্ট উন্মুক্ত করেছে কোড পোট্রো। এমন একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন আবু সাঈদের সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন আবু সাঈদ। ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘর্ষের সময় পুলিশের রাবার বুলেটের আঘাতে মৃত্যু হয় সাঈদের।

এর আগে, সাঈদের নামে পার্কের মোড়ের নাম আবু সাঈদ চত্বর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নাম আবু সাঈদ ফটক হিসেবে ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এবার আবু সাঈদের নামে বাংলা নতুন ফন্ট উন্মুক্ত করেছে Codepotro.

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) মাহমুদ হাসান আবীর নামে আবু সাঈদের এক সহপাঠী তার ফেসবুক ওয়ালে একটি পোস্ট করেছেন। সোর্স হিসেবে উল্লেখ করেছেন বুয়েটিয়ান।

তিনি লিখেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম শহীদ আবু সাঈদের নামে বাংলা নতুন ফন্ট উন্মুক্ত করেছে Codepotro. আজ এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সফওয়্যার কোম্পানিটি বিশেষ এই ফন্ট বিনামূল্যে উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেয়। আমাদের শহীদেরা এভাবেই ইতিহাস হয়ে থাকুক বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে।

প্রিয় আবু সাঈদ,
আমরা আপনাকে ভুলি নাই, ভুলব না।
সকল শহীদের আত্মত্যাগই আমরা মনে রাখবো।
Source : বুয়েটিয়ান – BUETian

ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনা য় প্রাণ হারালেন সিলেটের যুবক

ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় হিরন মিয়া বাদশা নামের এক যুবক মারা গেছেন। হিরন সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার জাহানপুর গ্রামের বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) ইতালির পালেরমো শহরের ভিল্লা সুফিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ‍মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ইতালির পালেরমো শহরে কাজ থেকে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন হিরন মিয়া বাদশা। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তিকরা হলে দুইদিন পর চিবিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইতালির সুনামগঞ্জ জেলা সমিতির সহসভাপতি মজনু আলী বলেন, নিহতের লাশ দেশে পাঠানোর জন্য আমরা চেষ্টা করছি।

আটক শিক্ষার্থীকে ছাড়াতে গিয়ে আহত ঢাবি শিক্ষক

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের কর্মসূচি মার্চ ফর জাস্টিসে পুলিশের হাতে আটক হওয়া শিক্ষার্থীকে ছাড়াতে গিয়ে আহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামী। এসময় তার সঙ্গে থাকা অপর শিক্ষক নুসরাত জাহান চৌধুরীও হেনস্তার শিকার হন। এর প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৩১ জুলাই) দুপুরে দোয়েল চত্বর ও হাইকোর্টের মাঝামাঝি জায়গায় পুলিশ এক ছাত্রকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় এক পুলিশ সদস্য জোরপূর্বক শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করেন এবং ওই নারী শিক্ষককে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।

এতে ওই শিক্ষক হাতে, হাঁটুতে এবং পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পুলিশ ওই শিক্ষার্থীকে আটক করে নিয়ে যান।

পরে বিকেল সাড়ে তিনটায় এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা এই ঘটনায় নিন্দা জ্ঞাপন করেন। এসময় হামলায় জড়িত প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পর দণ্ডবিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি চান এবং বাংলাদেশ পুলিশকে এই আক্রমণের জন্য দাপ্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সব শিক্ষার্থী আমাদের বিভাগের শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামী ও নুসরাত জাহান চৌধুরীর ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশি হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনের প্রতি তীব্র ঘৃণা জানাচ্ছি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আজ ৩১ জুলাই, বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বিনা কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশ এক ছাত্রকে হেনস্তা করতে থাকে এবং তাতে আমাদের শিক্ষকরা বাধা প্রদান করলে পুলিশ আমাদের দুই শিক্ষকের ওপর চড়াও হয়। তাদের অকথ্য গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। এতে আমাদের শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামী আহত হন। আমরা মনে করি এই ঘটনা স্বাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমূলে আঘাত করেছে। আমরা আরও মনে করি, বিভাগীয় প্রশাসন, সিন্ডিকেট কমিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনায় দায় এড়াতে পারে না।

বাংলাদেশ পুলিশকে এই ঘটনায় দাপ্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে উল্লেখ করে বলা হয়, শিক্ষক জাতির মেরুদণ্ড এবং জাতির মেরুদণ্ড নির্মাণের কারিগর। অবশ্যই বাংলাদেশ পুলিশকে এই আক্রমণের জন্য দাপ্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। প্রথমে আমাদের সহপাঠী এবং এখন আমাদের বিভাগের শিক্ষকদের ওপর এই বেআইনি এবং অমানবিক আক্রমণ কোনোভাবে মেনে নিতে বা কোনো সহাবস্থানে যেতে আমরা রাজি নই।

শিক্ষকের ওপর আক্রমণের ঘটনায় লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিস বাশার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের আমার শিক্ষক পুলিশের আক্রমণে আহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। দোয়েল চত্বর ও হাইকোর্টের মাঝামাঝি জায়গায় এক ছাত্রকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় নুসরাত ম্যাম ও মোনামী ম্যাম বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে তর্ক-বির্তক চলতে থাকে। তারা ছেলেটিকে তাদের সামনে চেক করতে বলেন, যেহেতু এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

তিনি বলেন, এই অবস্থায় এক পুলিশ সদস্য জোরপূর্বক শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করে এবং ছেলেটিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই পর্যায়ে ম্যামকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং ম্যাম আহত হন। ম্যাম হাতে, হাঁটুতে এবং পায়ে আঘাত পেয়েছেন। ধস্তাধস্তি করে পুলিশ ছেলেটিকে ধরে নিয়ে যায়। ওরা শিক্ষকদের গায়েও হাত দিতে ছাড়লো না! আমার শিক্ষক আহত কেন? জবাব চাই, প্রশাসনের অ্যাকশন চাই!

এ বিষয়ে লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক শেহরিন আমিন মোনামী বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে পুলিশ তুলে নিতে চাইলে আমি বাধা দিই। বললাম তার অপরাধ কী, চেক করার থাকলে আপনি আমাদের সামনে করুন। কিন্তু তিনি কোনো কথা না শুনে বলপ্রয়োগ করলেন। আমার হাত মুচড়ে দিয়ে ছেলেটাকে নিয়ে যেতে চাইলে আবার ধরতে গেলে ধাক্কা দিলে আমি পড়ে যাই। হাঁটুতে ব্যথা পেয়েছি একটু, তবে হাত মুচড়ে যাওয়ায় বেশি ব্যথা পেয়েছি।

হামলার বিষয়ে ঢাবি সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. হাসান ফারুক বলেন, ঘটনার সময় আমরা সেখানে না থাকলেও প্রক্টরিয়াল বডি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছে। ঘটনার পরে প্রক্টর ভুক্তভোগী নারী শিক্ষকের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে সেই শিক্ষককে কোনো মাধ্যমেই পাওয়া যায়নি। আমরা তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।

সিলেটে শাবি গেইটে পুলিশ-ছাত্র সংঘর্ষ, প্রায় অর্ধশত আহত

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে ও এর সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে পুলিশ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।

১৫-২০ মিনিট ব‍্যাপী এ সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ডেকেছেন। জরুরি সেবার যানবাহন ও অফিস ছাড়া সব বন্ধ রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ কর্মসূচি পালনে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ফটকের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের ঘিরে সতর্ক অবস্থানে থাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী। এসময় তারা পুলিশ-বিজিবির সামনে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেয়।

শাবি ক‍্যাম্পাসে থাকা সিলেটভিউ’র নিজস্ব প্রতিবেদক নাজাত আহমদ পুরকায়স্থ জানান- সোয়া ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক‍্যাম্পাসের দখল নিতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় দুপক্ষের মাঝে সংঘর্ষ শুরু হয়।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ইট-পাটকেল ও পুলিশের পক্ষ থেকে গুলি-টিয়ার সেল নিক্ষেপ করা হয়।

১৫-২০ মিনিট ব‍্যাপী এ সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। এর মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটভিউ’র শাবি প্রতিনিধি নোমান ফয়সল জানান- বেলা ১১টা ২০ থেকে শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। ক্যাম্পাসের ভেতরে ও অবস্থানের আশপাশে প্রচুর পুলিশ রয়েছে। তবে দুপুর ১২ পর্যন্ত কোনো অঘটনা ঘটেনি। তীব্র গরমকে উপেক্ষো করে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে কোটা, সরকার ও পুলিশবিরোধী নানা স্লোগান দিচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) বিশেষ টিম ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি)। এসময় থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তা ও মোড়ে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। এসময় শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় তারা।

দুই সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থী আন্দোলন প্রথমে অহিংস থাকলেও রবিবার (১৪ জুলাই) রাত থেকে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠে সিলেট। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ৬ শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। বুধবার (১৭) জুলাই দিনভর সিলেট ছিল উত্তাল। এছাড়া ঢাকাসহ প্রতিটি বিভাগীয় শহরেও পুলিশের সঙ্গে সাধারণ ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়। এ অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সিলেটের আন্দোলনের শাবিপ্রবির সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব বুধবার রাতে সিলেটভিউ-কে বলেন- বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় অবস্থান নিবো। জরুরি সেবা ছাড়া আর সব বন্ধ থাকবে। আশা করছি- সিলেটের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষও আমাদের সঙ্গে থাকবেন। এটা অধিকার আদায়ের আন্দোলন, সবাই অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি জানান- কর্মসূচি বাস্তবায়নে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা শুরুতে মেয়েদের হল গুলো পুরোপুরি নিরাপদ করতে সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসের গোল চত্বরে একত্রিত হয়ে মেয়েদের হল ঘুরে এসে রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এবং কন্ট্রোলার ভবনে তালা মেরে বেলা ১১টায় ভার্সিটি গেইটে অবস্থান নিবে এবং দিনভর মাঠে থাকবে।

কিন্তু এসব কর্মসূচি শুরু করার আগেই সকাল ৮টা থেকে শাবি ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় পুলিশ।

আসাদুল্লাহ আল গালিব বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা দিকে সিলেটভিউ-কে বলেন- পুলিশের ভয়ে কিছু সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী হল ছেড়েছে। তবে বেশিরভাগই হলে রয়ে গেছেন। পুলিশ চাপ দিচ্ছে হল ছাড়তে। কিন্তু যাই ঘটে যাক আমরা হল ছাড়বো না। আর যারা বের হয়েছে তারাও পুরোপুরি চলে যায়নি, আশপাশেই আছে। কর্মসূচি শুরু হলে তারা এসে আমাদের সঙ্গে যোগদান করবে।

এর আগে সারা দেশে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মঙ্গলবার রাতে দেশের সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ সব কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এছাড়া বুধবার দুপুরে- বিকাল ৩টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় শাবি প্রশাসন। কিন্তু এসব নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে আন্দোরনকারী শিক্ষার্থীরা হলে থেকে যায় এবং বুধবার দিনভর নানা কর্মসূচি পালন করে।

লন্ডনে সিলেটের তাহমিনার কৃতিত্ব

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তাহমিনা আহমদ বৃটেনে অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ১২ জুলাই প্রকাশিত ফলাফলে তিনি বিশ্ববিখ্যাত লন্ডন ইউনিভার্সিটি অব কুইন মেরী থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে বিএসসি (অনার্স) ডিগ্রীতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েছেন।

ডিগ্রীর প্রতিটি একাডেমিক বর্ষে তার গড় মার্কস ছিল ফার্স্ট ক্লাসের উপরে। তাছাড়া প্রতি বর্ষে কয়েকটি সাবজেক্টে তিনি তার ডিপার্টমেন্টের মধ্যে রেকর্ড পরিমান মার্কস পেয়েছেন।

তাহমিনা প্রথম বর্ষে ইকোনোমিকস ফর বিজনেস বিষয়ে মার্কস পেয়েছেন ৯০ শতাংশ, ফান্ডামেন্টালস ফর বিজনেস স্টাডিজ এন্ড স্কীলস মডিউলে পেয়েছেন যথাক্রমে ৯৮, ৮৬.৬ ও ৮১ শতাংশ এবং ক্যারেন্ট চ্যালেঞ্জ ইন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে গ্রোপ প্রেজেন্টেশনে পেয়েছেন ৮০ শতাংশ।

দ্বিতীয় বর্ষে বিজনেস ল’তে পেয়েছেন ৮৪.৯ শতাংশ এবং অপারেশন্স ম্যানেজমেন্টে পেয়েছেন ৮১ শতাংশ।

তৃতীয় ও শেষ বর্ষে ম্যানেজিং ডাইভার্সিটি বিষয়ে মার্কস পেয়েছেন ৭৯ শতাংশ, স্ট্র্যাটিজিক এনালাইসিস এন্ড প্র্যাকটিস সাবজেক্টে পেয়েছেন ৮৩ শতাংশ ও এমপ্লয়মেন্ট রিলেসন্সে পেয়েছেন ৯০ শতাংশ।

লন্ডনে জন্ম নেয়া তাহমিনা আহমদের পৈত্রিক নিবাস বাংলাদেশের সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বাহাড়া দুবাগ গ্রামে। তিনি বৃটেনের প্রতিথযশা আইনজীবী, স্বনামধন্য লেখক ও নিউহ্যাম কাউন্সিলের টানা তিন টার্মের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার নাজির আহমদ ও কবি মিসেস সালমা আহমদের তৃতীয় সন্তান।

ছোটবেলা থেকে প্রখর মেধাবী, ও প্রচন্ড পরিশ্রমী ছাত্রী ছিলেন তাহমিনা আহম। তাহমিনার বড় বোন তাসনিয়া আহমদ ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টমিনস্টর থেকে কৃতিত্বের সাথে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রী লাভ করার পর রোহ্যাম্পটন ইউনিভার্সিটি থেকে পিজিসিই কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করে একটি সেকেন্ডারী স্কুলে কোয়ালিফাইড শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করছেন। তার মেঝো বোন ফারহানা আহমদ লন্ডন ইউনিভার্সিটির সিটি ল’ স্কুল থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রীতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়ার পর একই ল’ স্কুল থেকে এলএলএম ডিগ্রী ও বার-এট-ল কৃতিত্বের সাথে পাশ করে বিশ্বখ্যাত অনারেবল সোসাইটি অব লিংকন্স ইন থেকে ব্যারিস্টার হোন। তার ছোট দু’ভাই বৃটেনের অন্যতম সেরা সেকেন্ডারী স্কুল ও সিক্সথ ফরম যথাক্রেমে ব্রামটন মেনর একাডেমী ও ব্রামটন মেনর সিক্সথ ফরমে পড়াশুনা করছেন।

উল্লেখ্য, তাহমিনার পিতা ব্যারিস্টার নাজির আহমদও একই ইউনিভার্সিটি থেকে ২৭ বছর আগে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রী ও পরবর্তিতে এলএলএম ডিগ্রী কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেন।

এই অসাধারণ সাফল্য লাভের প্রাক্কালে এক প্রতিক্রিয়ায় তাহমিনা আহমদ বলেন, “প্রথমেই শুকরিয়া জানাচ্ছি মহান আল্লাহপাকের প্রতি। এরপর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমার শ্রদ্ধেয় পিতামাতা ও শিক্ষকমন্ডলী ও বড় বোনদের প্রতি যাদের সাপোর্ট, সহায়তা ও গাইডেন্স আমাকে এই ফলাফল আনতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমি আলোকিত সমাজ ও কমিউনিটি বিনির্মানে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চাই।”

তাহমিনার স্বপ্ন ভবিষ্যতে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী বা বৃটিশ সিভিল সার্ভিসের উচ্চ পর্যায়ে কাজ করা অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করা। তিনি সবার দোয়া প্রার্থী।

নিরস্ত্র মানুষটাকে গুলি করা পুলিশ ভাই কি কাল রাতে ঘুমাতে পেরেছেন?

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে উত্তাল সারা দেশ। এক দফা এক দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের রেশ ধরে ছাত্রলীগের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এ ঘটনায় শতাধিক ছাত্রছাত্রী আহত হয়েছেন, নিহত হয়েছেন ৬জন। আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন দেশের মানুষ।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে যখন সারা দেশ উত্তাল, তখন তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন শোবিজ তারকারাও। ছাত্রছাত্রীদের গায়ে হাত তোলায় প্রতিবাদে সরব হন।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন লিখেন, বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো এই নিরস্ত্র মানুষটাকে সরাসরি গুলি করা পুলিশ ভাই কি কাল রাতে ঘুমাতে পেরেছেন? উনার কি কোনো সন্তান আছে? সেই সন্তানের চোখের দিকে তাকাতে উনার কি একটুও লজ্জা লাগবে না!

সেইসঙ্গে তিনি হ্য্যাশট্যাগ যোগ করে জানান, তিনি কোটা সংস্কারের পক্ষে।

সিলেটে শাবি ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রীত কক্ষ থেকে শটগান ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে উত্তাল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বুধবার (১৭ জুলাই) সবাইকে হল ছাড়ার নির্দেশ দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ের যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে, ঢাকার নির্দেশে শাবিতে গায়েবানা জানাযার নামাজ আদায় শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরাণ হলের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়েছে শিক্ষার্থীরা। হলটির কয়েকটি কক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশিয় অস্ত্র ও মদের বোতল জব্দ করের তারা। পরে বিকাল সাড়ে ৬টায় উদ্ধারকৃত অস্ত্র নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আন্দোলনের শাবিপ্রবির সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন- দেড় শতাধিক মদের বোতল, ১টি শর্টগান, ১টি রিভলবার, ৩টি চেইন, ১ শ স্টিলের পাইপ, ১০টি রামদা, ১২টি চাকু, হাতুড়ি ৩টা ও কিছু গাঁজা পেয়েছি। শুধু শাহপরাণ হলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে এসব আমরা জব্দ করেছি। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার কারণে আর তল্লাশি চালাতে পারিনি। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) আমরা বাকি হলগুলোতে তল্লাশি করবো। আমরা জানতে পেরেছি- তল্লাশি শুরু হয়েছে জানতে পেরে সন্ত্রাসীরা অনেক অস্ত্র সরিয়ে ফেলেছে।

তিনি আরও বলেন- আজ থেকে শাবিকে ছাত্রলীগ ও সন্ত্রাসমুক্ত ঘোষণা করলাম। এরা এখানে মাদক কারবার করতো। আজ থেকে শাবিতে এসব বন্ধ। আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি- আগামীতে যাতে রাজনৈতিক পরিচয়ে বা শক্তির জোরে হলের সিট বরাদ্দ দেওয়া না হয়, মেধা যাচাইয়ের ভিত্তিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেন সিট দেওয়া হয়।

গালিব বলেন- যাদের কক্ষে এসব জিনিস পেয়েছি তাদের আমরা শনাক্ত করতে পারিনি। তবে প্রশাসনের প্রতি দাবি- তারা এদের চিহ্নিত করে তাদের ছাত্রত্ব আজীবনের জন্য বাতিল করতে হবে।

প্রেস ব্রিফিং শেষে মাদকদ্রব্য ও অস্ত্রগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসরেন কাছে হস্তান্তর করেন আন্দোলনকারীরা।

শাবি ক্যাম্পাস থেকে সিলেটভিউ’র নিজস্ব প্রতিবেদক ও শাবি প্রতিনিধি জানান- সোমবার দেশের তিন বিভাগে আন্দোলনকারী ৬ শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে বুধবার বেলা ২টায় ফটকে গায়েবানা জানাযা নামাজ আদায় করেন। পরে কফিন মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা হলের দিকে আসতে থাকেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যারিকেড দিয়ে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ‘হলে অস্ত্র এবং অছাত্ররা আছে। যারা বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আমরা সেই অস্ত্র উদ্ধার করতে চাই।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘হল কারো বাপের না, হল মোদের অধিকার’, ‘ছাত্রলীগের চামড়া তুলে নেব আমরা’, ‘মেধা না কোটা, মেধা মেধা’, ছাত্রলীগের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’ স্লোগান দেন।

এছাড়া হলের সামনে ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের ছবি সংবলিত ব্যানার ছিঁড়ে শিক্ষার্থীরা জুতা দিয়ে পেটান এবং পরে তারা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেন।

অন্যদিকে বেলা দুইটার দিকে শাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি খলিলুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক সজীবুর রহমান হল ত্যাগ করেন।

কোটাবিরোধী আন্দোলন: দিনভর সংঘর্ষে নিহত ৬

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের এক দফা দাবির আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশ। আন্দোলন করতে গিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এবং পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন কয়েকশ।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে তিনজন প্রাণ হারান। ঢাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে মারা গেছেন দুইজন। রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মারা গেছেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে টানা আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলন গতকাল সোমবার (১৫ জুলাই) সহিংস রূপ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে তিন শতাধিক আহত হন।

আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সারাদেশে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এর অংশ হিসেবে আজ সকাল থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানেও সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। কোটাবিরোধী আন্দোলনে আজই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে নিহত ৩

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোটা আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বেলা সোয়া তিনটার দিকে নগরীর মুরাদপুরে এই ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন তিনজনের মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় আরও সাতজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান পরিচালক।

নিহত দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম এবং ওয়ার্কশপ কর্মচারী ফারুক। ওয়াসিমের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় আর ফারুকের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। বাকি একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৩টা থেকে নগরীর মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট এবং ষোলশহরসহ আশেপাশের এলাকায় কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এর আগে দুপুর থেকে বিভিন্ন মোড়ে অবস্থা নেন ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা। দুই নম্বর গেট এলাকায় একটি বাস ভাঙচুর করে তারা। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে। কোটা আন্দোলনকারীরাও লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন।
কোটাবিরোধী আন্দোলন: দিনভর সংঘর্ষে নিহত ৬
রংপুরে সংঘর্ষে বেরোবি শিক্ষার্থী নিহত

রংপুরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আবু সাঈদ নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। তিনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক, ছাত্রলীগ ও কোটা আন্দোলনকারীসহ শতাধিক আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ ব্যাচের ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জের জাফর পাড়ায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোটা সংস্কার ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে দুপুরে বেরোবির কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শহরের লালবাগ এলাকায় থেকে ক্যাম্পাসের দিকে যায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এসময় পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সকাল থেকে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন এবং পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ান। এতে অনেক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থী মারা গেছে শুনেছি। কিন্তু কীভাবে মারা গেছে তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।

ঢাকায় সংঘর্ষে নিহত ২

কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনে ঢাকায় প্রাণ গেছে দুইজনের। এর মধ্যে একজনের নাম মুনির। অন্যজনের নাম জানা যায়নি। স্থানীয়রা জানান, নিহত ওই ব্যক্তি পেশায় একজন হকার। তার আনুমানিক বয়স ২৫ বছর।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা কলেজের বিপরীত পাশে কোটা আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে অজ্ঞাতনামা এক যুবক আহত হন৷ গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন এক পথচারী। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় এক যুবককে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বাচ্চু বলেন, তার কানের নিচে ও মুখের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এদিকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে বিকেলে শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে মনির নামে একজন যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থী নাকি পথচারী এ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের একপর্যায়ে মনিরকে স্থানীয়রা মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পপুলার মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শাবি শিক্ষার্থীরা

দেশের বিভিন্ন স্থানে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেল থেকেই ক্যাম্পাসের গোলচত্বরে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।

এই কর্মসূচিতে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, লিডিং ইউনিভার্সিটি, পলিটিক্যাল ইনস্টিটিউট, এম সি কলেজে, সিলেট সরকারি কলেজ, মদন মোহন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী যোগ দেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘চাইতে গেলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’, ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান, এক হও লড়াই করো’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে আন্দোলনস্থলে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে পুলিশ এবং কুইক রেসপন্স টিমের (সিআরটি) সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।

এদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সব সময় আইডি কার্ড সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুপুরে সকল শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড সার্বক্ষণিক সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।