Sunday, April 5, 2026
Home Blog Page 116

খাটের নিচে ৩ মরা বিড়ালের সঙ্গে রাসেল ভাইপার, অতঃপর…

ভোলার ইলিশা ও দৌলতখান থেকে একই দিনে দুটি রাসেল ভাইপার সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আতঙ্কিত হয়ে সাপ দুটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকালে ইলিশা ও রাতে দৌলতখানে সাপ দুটি পাওয়া যায়।

এদিকে মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাতে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ১ ওয়ার্ডের জালু মাঝির বসতঘর থেকে আরো একটি রাসেল ভাইপার উদ্ধার করা হয়।

জালু মাঝি জানান, তার বসতঘরে খাটের নিচে তিনটি বিড়ালকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘরের লোকজন খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিষধর সাপ রাসেল ভাইপারকে দেখতে পায়। এ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের পাকার মাথা এলাকায় বাড়ির পাশে জালের সঙ্গে পেচানো অবস্থায় একটি রাসেল ভাইপার পাওয়া যায়। এ সময় স্থানীয়রা সাপটিকে পিটিয়ে মেরে মাটিচাপা দেন।

ভোলার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, বাচ্চা দেওয়ার কারণে হয়তো ওই সাপটি লোকালয়ে চলে আসতে পারে। তবে সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

ভূমধ্যসাগরে নিহত ১১: অধরাই রয়ে গেল আলীর স্বপ্ন

মাদারীপুরের শিবচর পৌরসভার খানকান্দি এলাকার ইউনুস হাওলাদারের ছেলে আলী হাওলাদারের স্বপ্ন ছিল ইউরোপে গিয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু নেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেলো।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী দুইটি নৌকা ডুবে ইতালির দক্ষিণ উপকূলে ১১ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এদের একজন আলী হাওলাদার। আলি সম্প্রতি দুবাই হয়ে লিবিয়া পৌঁছান। এর আগেও একবার সমুদ্র পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ব্যর্থ হন তিনি। দ্বিতীয় বার আবার চেষ্টা করেন। কিন্তু এবার নৌকা ডুবিতে নিহত হয় আলী।

মঙ্গলবার লিবিয়া হয়ে ইতালী যাবার উদ্দেশ্যে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সাগর পাড়ি দিতে গেলে দুর্ঘটনায় ১১ জন মারা যান। এই ১১ জনের মধ্যে মাদারীপুরের শিবচরের আলী হাওলাদার, সাব্বিরসহ তিনজন রয়েছেন।

মৃত আলী হাওলাদারের স্ত্রী রোমেনা আক্তার বলেন, দেশে থাকালীন সময়ে ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চালাতেন আলী। স্বপ্ন ছিল ইউরোপ গিয়ে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাবেন। ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে গিয়ে এভাবে মারা যাবে তা মেনে নিতে পারছি না। পরিবারে ৬ বছরের এক ছেলে ও এক বছরের এক মেয়ে রয়েছে। এখন সংসার চালানো দায়।

জানা যায়, আলী হাওলাদার ধার-দেনা করে পরিবারের সচ্ছলতার আশায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে ইতালি যাত্রা করেন। কিন্তু আলীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে চলছে শোকের মাতম। মৃতদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

উল্লেখ্য, ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী দুইটি নৌকা ডুবে ইতালির দক্ষিণ উপকূলে ১১ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজন মাদারীপুরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ২৬ শিশুসহ এখন ৬৪ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বলেন, মাদারীপুরের কতজন নিহত হয়েছে সেই বিষয়টি এখনো আমরা নিশ্চিত নই। তবে মরদেহ ফিরিয়ে আনতে আমরা প্রশাসনিক সবধরনের সহযোগিতা করবো।

সিলেটে নামছে পানি, ভাঙছে সড়ক-ব্রিজ

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। সুরমা নদীর পানি বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকাল থেকে কমলেও স্থিতিশীল রয়েছে কুশিয়ারা নদীর পানি। তবে দুপুরে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি ৬ পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

ভারতের চেরাপুঞ্জির আকাশে মেঘ থাকলে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আর চেরাপুঞ্জিতে একই সময়ে বৃষ্টি হয়েছে ৪৪ মিলিমিটার। উজানের পাহাড়ি ঢল কম হওয়ায় সুরমা নদীর পানি কমলেও স্থিতিশীল রয়েছে কুশিয়ারা নদীর পানি। অন্যান্য নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে। ফলে নতুন করে প্লাবিত হয় নি কোনো এলাকা। কিছু কিছু এলাকায় পানিতে তলিয়ে যাওয়া বাড়িঘর ভেসে ওঠতে শুরু করেছে।

এদিকে হাওরের পানি নামতে না পারায় গ্রামীণ সড়ক ও উপজেলা সদরের সড়কগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয় নি। তবে সুরমা নদীর পানি কমতে থাকায় সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি কিছুটা কমেছে। তবে পানি নেমে যাওয়ার সময় বেশকিছু রাস্তা নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সিলেট নগরীর আম্বরখানা-সাহেবের বাজার সড়কের বদনা ছড়ায় পানির প্রবল চাপে একটি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সিলেট নগরীর সাথে সাহেবের বাজারসহ পূর্বাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।

ঈদের আগেরদিন থেকে এ পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৩টি ওয়ার্ড ও জেলার ১০৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে ৮ লাখ ২৫ হাজার ২৫৬ জন মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এর মধ্যে সিলেট নগরে পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা অর্ধলক্ষাধিক। সিলেট জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে নগরীতে ৮০টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১৯ হাজার ৯৫৯ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে, বেশিরভাগ মানুষজন নিজের ঘর-বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে পাড়া-প্রতিবেশীদের উঁচু বাসা-বাড়ি বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

এদিকে বন্যার পানিতে নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত না হওয়ায় সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর, যতরপুর, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, শেখঘাট, ঘাসিটুলা, তালতলা, জামতলা, বাগবাড়ির বিভিন্ন সড়কের পানি নামতে শুরু করেছে। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারসহ অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন আশ্রিতরা।

অপরদিকে, সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুরসহ কয়েকটি উপজেলার গ্রামীণ অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় সড়ক যোগাযোগ চালু হয় নি। অনেক কৃষিজমির ফসল তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। বন্যার জন্য উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সাথে পলিমাটিকে দায়ী করা হচ্ছে। নদী খননের উপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটর সাদীখাল ব্রিজে বন্যা পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। তিনি বলেন, দেশে ৯টি ড্রেজিং স্টেশন করা হচ্ছে, নদীতে চর জাগলে তাৎক্ষণিক অপসারণ করা হবে, এতে যেমন নদী ভাঙন কমবে তেমনি নদী প্লাবিত হবে না। দেশে ড্রেজিংয়ের সক্ষমতা বাড়াতে এমন উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, উজান থেকে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে পলিমাটি নেমে এসে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যায়। ছোট ছোট চর জাগলে পানি উন্নয়ন বোর্ড যাতে তাৎক্ষণিক তা অপসারণ করতে পারে সে জন্য এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে সকালে তিনি বিমানযোগে সিলেট পৌঁছে সাদীখাল ব্রিজে যান। তিনি বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়রের সাথে কথা বলেন। এ সময় তিনি নদী খননের উপর জোর দেন।

এদিকে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়ন-ভিত্তিক ১২৬টি মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস জানান, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর আমলসিদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০২, শেওলা পয়েন্টে ৩৬ সেন্টিমিটার ও শেরপুর পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি বইছিল।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১১০.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সিলেটের আকাশে মেঘ রয়েছে। যদি তা আসে সাথে বজ্রপাতও থাকতে পারে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবারসহ ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের সকলের ছুটি বাতিল করে বন্যার্তদের জন্য সার্বক্ষণিক কাজ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বনৗা পরিদর্শন করেছেন। তিনি নদী খননের ওপর জোর দিয়েছেন। আমরাও চাই ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর গভীরতা বাড়ানো হোক। তাহলে আর নদী প্লাবিত হবে না।

মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে খেলতে নেমে ২ জনের মৃত্যু

মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশু ও এক কিশোর মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের শ্যামেরকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো, পশ্চিম শ্যামেরকোনা গ্রামের পচন মিয়ার ছেলে ছাদি মিয়া (৮) ও একই গ্রামের জমির মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (১৭)।

চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আকতার উদ্দিন জানান, ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে শ্যামেরকোনা গ্রামসহ আশেপাশের গ্রামের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পানিতে খেলতে নেমে সাঁতার না জানার কারণে দুজনই ডুবে যায়। প্রতিবেশীরা এই ঘটনা দেখে দুজনকে পানি থেকে উদ্ধার করে নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে।

তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুমুর্ষ অবস্থায় মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

সিলেট শহরে পানি থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ

সিলেট শহরে রোববার রাত থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ছিল। এর পর থেকে বৃষ্টি পড়ছে থেমে থেমে। এতে বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়ি ও সড়ক আবারও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এতে রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে সেপটিক ট্যাঙ্কের ময়লার দুর্গন্ধে শহরবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।

বুধবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট নগরের উপশহর এলাকায় কিছু লোকের ঘরে কোমরসমান পানি ছিল। এমন পরিস্থিতিতে চোখে–মুখে আতঙ্ক নিয়ে ব্যাগ গোছাচ্ছিলেন রহমত আলী ও তার স্ত্রী রহিমা বেগম।

রহমত আলী বলেন, গত সোমবার রাতে তার ঘরে পানি আসতে শুরু করে। মুহূর্তেই হাঁটুসমান পানি উঠে যায়। দুই দিনের ব্যবধানে পানি বেড়ে হয়েছে কোমরসমান। পানি বাড়ার আশঙ্কায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

ভারী বৃষ্টি আর ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সোমবার থেকে সিলেটে বন্যা দেখা দিয়েছে। এর আগে গত ২৯ মে সিলেটে বন্যা হয়েছিল, সেটি ৮ জুনের পর অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে যায়। প্রথম দফার রেশ না কাটতেই দ্বিতীয় দফায় সিলেট নগরসহ সব কটি উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

আজ সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সিলেট নগরের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপশহর, যতরপুর, তালতলা, জামতলা, ছড়ারপাড়, কামালগড়, মাছিমপুর, ঘাসিটুলা, শামীমাবাদ এলাকাসহ নিচু এলাকার অনেক বাসিন্দা ঘর ছেড়ে পরিচিতজন কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রের উদ্দেশে যাচ্ছে। অনেকে ঘরে কয়েক স্তরে ইট ফেলে সেখানে খাট তুলে কোনোরকমে আছে।

সকাল নয়টার দিকে মাছুদিঘিরপার এলাকায় তালতলা এলাকামুখী মূল সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি ছিল। সড়কটিতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহনের চলাচল বন্ধ করতে একটা লম্বা আকৃতির বাঁশ আড়াআড়ি বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্যাকবলিত এলাকার সড়কগুলোতে মানুষজনের চলাচল ছিল কম। তবে অফিসগামী মানুষেরা পানি মাড়িয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। নগরের শামীমাবাদ, ঘাসিটুলা, বেতেরবাজার, তোপখানা, কাজিরবাজার, মির্জাজাঙ্গাল, তালতলা, জামতলা, কালীঘাট, ছড়ারপাড়, কামালগড়, মাছিমপুর, চালিবন্দর, কাষ্টঘর, সোবহানীঘাট, মেন্দিবাগ, যতরপুর, তেরোরতন ও উপশহর এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। অনেক বাসা, দোকানপাট পানিতে তলিয়ে আছে।

সকাল ১০টার দিকে নগরের অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত শাহজালাল উপশহর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রোজভিউ হোটেলের সামনে দিয়ে উপশহরমুখী রাস্তায় ঘোলা পানি থই থই করছে। সড়কের কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও আবার কোমরপানি। জমে থাকা পানিতে ভাসছে বারোয়ারি ময়লা-আবর্জনা। এ পানি মাড়িয়েই স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচল করছে। পানিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, রিকশাসহ অন্যান্য যান চলাচল করছে। রাস্তা ও নালা-নর্দমা একাকার হয়ে যাওয়ায় অনেক যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।

উপশহর এলাকার বাসিন্দা মনির মিয়া বলেন, তাঁর দোকান পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে অনেক পণ্য ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি নষ্ট হয়ে পড়েছে। তাঁর মতো এলাকার অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকের বাসার চুলা-নলকূপ ডুবে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

শামীমাবাদ এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী সালমা আক্তার (৩৫) বলেন, তার ঘরের ভেতরে হাঁটুসমান পানি। ঘরের চুলা ডুবে গেছে। জরুরি জিনিসপত্র তিনি খাটসহ উঁচু স্থানে রাখছেন। তবে অনেক জিনিস নষ্টও হয়েছে। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় দৈনন্দিন কাজকর্মও করা যাচ্ছে না। পানি আরেকটু বাড়লে বাসা ছাড়তে হবে।

বন্যাকবলিত এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় প্লাবিত এলাকাগুলোয় কয়েক শ দোকান বন্ধ আছে। দোকানের মালামাল নষ্ট হওয়ায় ব্যবসায়ীরা কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নগরবাসীর কয়েকজন জানিয়েছেন, অনেক বাসাবাড়ির চুলা পানির নিচে। মানুষের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন খাবার ও বিশুদ্ধ পানি। এ ছাড়া পানিবন্দী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রসূতি ও নারীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় আছেন। যেসব এলাকার রাস্তা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে, সেসব এলাকায় রিকশাচালকেরা যাত্রী পরিবহনে অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন। এ ছাড়া বানের পানির সঙ্গে ভেসে আসছে ময়লা-আবর্জনা। এসব পানি থেকে দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের গণসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর বলেন, নগরের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২২টি ওয়ার্ডের অন্তত ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৮০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশনায় আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও বন্যাকবলিত এলাকায় রান্না করা ও শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। পানিতে ভাসমান ময়লা-আবর্জনা অপসারণে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করছেন। এ ছাড়া বৃষ্টি ও ঢল অব্যাহত থাকায় সিটি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছে।

বজ্রপাতে মারা গেল ৪ গরু

মাধবপুর উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের ঘাঘরাবাড়ী গ্রামের দক্ষিণ মাহমুদপুর মাঠে বজ্রপাতে দুই কৃষকের ৪টি গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রবল বর্ষণের সময় মাঠে চড়ানো অবস্থায় বজ্রপাতে গরুগুলো মারা যায়। এ ঘটনায় ঘাঘরাবাড়ি গ্রামের বাচ্চু মিয়ার দুটি ও রুক্কু মিয়ার দুটি গরু মারা যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বাচ্চু মিয়া ও রুক্কু মিয়া জানান, আমাদের বড় ক্ষতি হয়ে গেলো। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপর কারো হাত নাই।

বুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, বজ্রপাতে গরু মারা যাওয়ার কথা শুনেছি।

সিলেটে অবিরাম বৃষ্টি, বাড়লো পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সিলেটে চলমান দ্বিতীয় দফা বন্যায় মহানগর ও জেলাজুড়ে প্রায় ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এর মধ্যে মহানগরে ২১টি ওয়ার্ডের অর্ধলক্ষ মানুষ বন্যা কবলিত।

জেলা প্রশাসনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য এটি।

২০ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে সিলেট। গত ২৭ মে সিলেটে আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে জেলার সব উপজেলার সাড়ে ৭ লাখ মানুষ আক্রান্ত হন। সেই বন্যার পানি পুরোপুরি নামার আগেই শনিবার (১৫ জুন) ফের কবলিত সিলেট।

ঈদের দিন (১৭ জুন- সোমবার) ভোররাত থেকে সিলেটে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। সঙ্গে নামে পাহাড়ি ঢল। সকাল হতে না হতেই তলিয়ে যায় মহানগরের অনেক এলাকা। জেলার বিভিন্ন স্থানেও অবনতি হয় বন্যা পরিস্থিতির। সোমবার বিকালে বৃষ্টি থামলে ধীরে ধীরে কিছুটা কমে পানি। কিন্তু মঙ্গলবার ভোররাত থেকে ফের শুরু হয় বৃষ্টি। উজানেও বৃষ্টিপাত হয় প্রচুর। ফলে হু হু করে বাড়তে সিলেটের সব নদ-নদীর পানি। আজ বুধবার (১৯ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩টি নদীর পানি ৬ পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) মধ্যরাতে সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এ সময় পর্যন্ত মহানগরের ২১টি ওয়ার্ড ও জেলার ১ হাজার ৩২৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৭ জন মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এর মধ্যে সিলেট মহানগরে অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দী।

জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে মহানগরে ৮০টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১৭ হাজার ২৮৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে, বেশিরভাগ মানুষজন নিজের ঘর-বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে ইচ্ছুক নন। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন পাড়া-প্রতিবেশিদের উঁচু বাসা-বাড়ি বা আত্মীয়-স্বজনের ঘরে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় সূত্র বুধবার সকাল ৯টায় জানিয়েছে, এ সময় সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি বইছে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। কুশিয়ারা নদীর আমলশীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৯২ ও শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি বইছে।

এছাড়া সারি-গোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ০.৯ সে.মি সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সিলেটজুড়ে ২০২২ সালের মতো ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। মহানগরের শাহজালাল উপশহর, যতরপুর, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, তালতলা, জামতলা, কাজিরবাজার, মাদিনা মার্কেট, আখালিয়া, মেজরটিলা ও দক্ষিণ সুরমার লাউয়াই, বরইকান্দি, আলমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেকের বাসাবাড়িতে গলা পর্যন্ত পানি। নিচু এলাকাগুলোর কলোনি বা বাসা-বাড়ি প্রায় পুরোটাই তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে। এতে চরম বিপাকে এসব এলাকার মানুষ। অনেকে গেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে, আবার অনেকে নিজের বাসা-বাড়ি ছেড়ে যেতে চাচ্ছেন না।

অপরদিকে, সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুরসহ কয়েকটি উপজেলার গ্রামীণ অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষিজমির ফসল তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সিলেটে ২৪ ঘন্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার ৬টা পর্যন্ত) ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং বুধবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি ৫৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী কয়েক দিন সিলেটে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পানিবন্দী লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ডেডিকেটেড অফিসার নিয়োগের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আগামী ৩ দিন সিলেট অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

সিলেটে পানিবন্দি ৪ লাখ, আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে মানুষ

পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় সিলেট জেলায় প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাড়িঘরে পানি উঠে পড়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েছেন প্রায় চার হাজার মানুষ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ১৩ উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের সবশেষ অবস্থা জানিয়ে সিলেট জেলা প্রশাসনের বন্যা বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে সিলেটে আবার বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সিলেটের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৩ হাজার ৯২৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন। জেলায় বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫০৭ জন।

এদিকে, সিলেটে দ্বিতীয় দফায় সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর জানিয়েছেন।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিকাল ৬টার দিকে কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩৩ সেন্টিমিটার এবং সিলেট শহর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আর কুশিয়ারা নদীর পানি জকিগঞ্জের আমলশীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বইছে বিপৎসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে।

এ ছাড়া সারি নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে বইছে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে।

আর সারি-গোয়াইন নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ০ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর বলেন, সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার পানি ঢুকে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এরই মধ্যে কয়েকটি ওয়ার্ডে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্র ও বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

বিদ্যুৎ সচল রাখতে তৎপরতা

এদিকে বন্যার মধ্যে সিলেটের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনী, সিলেট সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ।

মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে নগরীর দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি বিদ্যুৎ উপ-কেন্দ্র সেনাবাহিনীর একটি দল নিয়ে পরিদর্শন করেছেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

এ সময় তিনি বলেন, “এই সাব-স্টেশনে কোনো সমস্যা হলে চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। এ ছাড়া যাতে পানি না উঠে সেজন্যও কাজ করা হচ্ছে।”

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি উপ-কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ এর অধীন। এই উপ-কেন্দ্রের মাধ্যমে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার সাংবাদিকদের বলেন, “উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনও উঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সাহায্য করবে।”

সিলেটের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় আবারও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো। মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন।

মঙ্গলবার সিলেটের বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে তলিয়ে যায় সাদা পাথর, জাফলং, বিছানাকান্দিসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া না পর্যন্ত সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির জন্য সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে সেগুলো কার্যকর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ মে বন্যা পরিস্থিতির কারণে প্রথম দফায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়করা। এরপর প্রায় এক সপ্তাহ পর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবারও পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়।

স্ত্রী-ও থামাতে ব্যর্থ, ভক্তের দিকে তেড়ে গেলেন রউফ (ভিডিও)

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হয়েছে আজ (মঙ্গলবার), আগামীকাল থেকে শুরু হবে সুপার এইট পর্ব। যদিও সেখানে নেই পাকিস্তান, গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচ হেরে তারা বিদায় নিশ্চিত করেছে। ইতোমধ্যে পাকিস্তান দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই বিশ্বকাপ পাট চুকিয়ে ফিরে গেছেন নিজ দেশে। যদিও বাবর আজমসহ বেশ কয়েকজন আরও কিছুদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কথা রয়েছে। এরই মাঝে ঘটেছে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনা, কোনো একটি বিষয় নিয়ে এক ভক্তের ওপর চড়াও হন পাক পেসার হারিস রউফ।

ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যেখানে দেখা যায়, স্ত্রী মুজনা মাসুদ মালিকের সঙ্গে ফুটপাত ধরে হাঁটছিলেন হারিস। সেখান থেকে কিছুটা দূর দিয়ে যাচ্ছিলেন কয়েকজন ক্রিকেট সমর্থক। হঠাৎই হারিস দাঁড়িয়ে পড়ে কিছুটা দূরে থাকা এক ভক্তের সঙ্গে কিছু একটা নিয়ে কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে মারমুখী হয়ে ওই ভক্তের দিকে এগিয়ে যান এই পাকিস্তানি পেসার।

এ সময় স্ত্রী মুজনা থামানোর চেষ্টা করলেও রউফ থামেননি। তিনি স্ত্রীর হাত ছাড়িয়ে মারমুখী হয়ে ওঠে এগোতে থাকেন ওই ভক্তের দিকে। পরে আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি হারিসকে থামাতে চেষ্টা চালান। ক্ষণিক পরই শান্ত হন হারিস। দু’পক্ষের মধ্যে কি নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল জানা যায়নি, ভিডিওতে তাদের কথাও ছিল অস্পষ্ট। ওই ঘটনার পর উভয়ই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

তবে কয়েকজন নেটিজেনের দাবি– ওই সময় সমর্থককে উদ্দেশ্য করে হারিস বলেন, ‘তুই ইন্ডিয়ান, তুই ইন্ডিয়ান।’ তার উত্তরে সেই ভক্ত জানান, তিনি পাকিস্তানি। তখন ফের রেগে যান হারিস। তিনি বলতে থাকেন, ‘তোমার বাবা-মা তোমাকে কীভাবে মানুষ করেছে? কোনো শিক্ষা দেয়নি?’

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে বেশ কয়েক মাসের ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফেরেন হারিস। মাঠের পারফরম্যান্সও তার ভালোই ছিল। চার ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন সাতটি। কিন্তু দলীয় ব্যর্থতায় পাক বোলারদের সেই ফর্ম আর কাজে আসেনি। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় হয়ে গেছে বাবর-হারিসদের। এরপর থেকে পাকিস্তান দলে চরম অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাবেক ক্রিকেটারদের কেউ কেউ তো বিশ্বকাপ খেলা বেশিরভাগ ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছেন।


সংবাদমাধ্যমের খবর, বাবর আজম দেশে ফিরলেই তাকে ডেকে পাঠাতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তাকে অধিনায়কত্বে বহাল রাখা নিয়েও রয়েছে সংশয়। বিশ্বকাপ দিয়ে পাকিস্তানের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়া গ্যারি কারস্টেনও সমালোচনা করেছেন শিষ্যদের। তার মতে– পাকিস্তান দলে কোনো ঐক্য নেই। সবাই একে অপরের থেকে আলাদা। এর আগে অনেক দলের সঙ্গে কাজ করলেও এখানে নাকি ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে তার।