Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 19

ব্রিটেনের সড়কে প্রাণ হারানো সিলেটের মছরব আলীর পরিবারে শোকের মাতম

‘আমার জন্য চিন্তা করো না…আমি খুব ধীরে গাড়ি চালাই।’ পরিবারকে আশ্বস্ত করতে প্রায়ই এ কথাটাই বলতেন মছরব আলী। স্ত্রী আর সন্তানরা যখন বারবার সতর্কভাবে গাড়ি চালানোর কথা মনে করিয়ে দিতেন, তখন তিনি হাসিমুখে বলতেন—‘চিন্তা করো না, আমি সাবধানে চালাই, আল্লাহ ভরসা।’

পরিবারের সেই দুশ্চিন্তাই আজ নিষ্ঠুর বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে।

ব্রিটেনের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বোলটনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মছরব আলীর মেয়ে এভাবেই বলছিলেন বাবা হারানোর কথা। মছরিব আলীকে এভাবে অকালে হারিয়ে শোকের মাতম চলছে এই পরিবারে।

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক পৌনে ১টার দিকে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বোলটন এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ ক্রস লাইন থেকে আসা একটি লাল রঙের গাড়ি তার যাত্রীবাহী ট্যাক্সিকে সজোরে আঘাত করে। এতে মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় সব স্বপ্ন।

ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৫৪ বছর বয়সী ট্যাক্সি চালক মছরব আলী।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার মইনপুর গ্রাম থেকে জীবিকার সন্ধানে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর কেটে গেছে প্রায় ৪০ বছর। স্ত্রী, চার সন্তান, কর্মজীবন—সব মিলিয়ে ব্রিটেনেই গড়ে উঠেছিল তার সাজানো জীবন।

মানুষটি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছিলেন। ধীরস্থিরভাবে গাড়ি চালাতেন, কখনো তাড়া করতেন না, কখনো রাগ দেখাতেন না। আমরা একসঙ্গে নামাজে যেতাম, ব্যাডমিন্টন খেলতাম—বন্ধুর কথা বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া সহকর্মী ট্যাক্সি চালক আবুল কাশেম এভাবেই বলছিলেন। ব্রাকবর্নের পাশাপাশি তাদের বাড়ি। তারা ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

পরিবার সূত্র জানায়, গত জুন মাসে মছরব আলী তার বড় ছেলের বিয়েও দিয়েছেন। নতুন সংসার, নতুন স্বপ্ন নিয়ে পরিবার যখন আনন্দে ছিল, তখনই হঠাৎ এই শোকের ছায়া নেমে আসে।

এই দুর্ঘটনায় মছরব আলীর পাশাপাশি আরো তিন তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন—মোহাম্মদ জিব্রায়েল মুখতার (১৮), ফারহান প্যাটেল (১৮) এবং মোহাম্মদ দানিয়াল (১৯)। তিনজনই বোলটনের বাসিন্দা। তাদের জীবনও থেমে গেছে সময়ের অনেক আগেই।

এ দুর্ঘটনায় আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজন নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই থেকে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের পরপরই পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়। লাশ এখনো বোলটন হাসপাতালে রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর অ্যান্ড্রু পেজ জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এটি একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি পুলিশ গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে। তিনি নিশ্চিত করেন, এই দুর্ঘটনায় তিন তরুণসহ এক ট্যাক্সি চালক নিহত হয়েছেন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বোলটনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সবশেষ তথ্যে জানা গেছে, নিহত চারজনের একজনের পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে।

সিলেটে উচ্চমাত্রার বিস্ফো*রক সরঞ্জাম আনল কারা?

এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরাও দিনরাত সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা। এদিকে সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা জৈন্তাপুর থেকে বিপুল পরিমাণ উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৯ এর একটি দল।

তবে এসময় কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানিয়েছে র‌্যাব। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকের মধ্যে ১৪টি ইন্ডিয়ান পাওয়ার জেল এবং ১৪টি নন ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকালে জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কাটাগাং এলাকার একটি টিনের ঘরের ভেতর থেকে এসব বিস্ফোরকের ‘কাঁচামাল’ উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ। তিনি জানান, উদ্ধারকৃত এসব জেল এবং নন ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

এসব নাশকতার কাজে ব্যবহার করার জন্য নিয়ে আসা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে এসব জৈন্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আট মাস দেশের ভেতরেই লুকিয়ে ছিলেন ড. মোমেন, পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশেই ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. একে আব্দুল মোমেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের মতো তিনিও আত্মগোপনে চলে যান। এরপর দেশের ভেতরেই পালিয়ে ছিলেন ৮ মাস। ধরা পড়ার ভয়ে একাধিকবার বাসা বদল করেছেন। মোবাইল ফোনের সিম বদলিয়েছেন ৬ বার। চেহারায়ও এসেছে আমূল পরিবর্তন। রেখেছেন দাড়িও। তবে এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন।

এক বছরের অধিক সময় তিনি অন্তরালে ছিলেন। খোঁজ-খবর কেউ জানতেন না। সম্প্রতি তিনি নিজেই মিডিয়ার সামনে হাজির হয়েছেন। স্বভাব ভঙ্গিতেই জানিয়েছেন দেশে পালিয়ে থাকার ঘটনা। তবে কীভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র্রে পৌঁছালেন সেটি বলেননি। নিজেই জানিয়েছেন; এখনো সে ঘটনা বলার সময় আসেনি। এ নিয়ে রহস্যও জিইয়ে রাখলেন। যুক্তরাষ্ট্র্রে থাকা এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি ভার্চ্যুয়াল মিডিয়ায় কথা বলেন।

ওই ইন্টারভিউতে ড. মোমেন বলেছেন; গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী সময়ে তিনি আমেরিকাতেই ছিলেন। সেখান থেকে কয়েক দিন আগে দেশে ফিরেন। আর তিনি আসার পরপরই গণ-অভ্যুত্থান হয়। ফলে তাকেও অন্যদের মতো আত্মগোপনে যেতে হয়েছে। প্রশ্ন করা হয়েছিলো কীভাবে তিনি দেশ ছেড়েছেন। সে প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি। তার আগে দেশের ভেতরে পালিয়ে থাকার কিছুটা বর্ণনা দিয়েছেন। বলেন- ‘এটা একটা সিনেমা হতে পারে। সুন্দর মুভি হবে। আই ওয়াজ দ্য লাস্টম্যান টু লিভ দ্য কান্ট্রি। আমি কোনো অন্যায় করিনি। কাউকে কোনোদিন জেলে পাঠাইনি। কোনো চুরি-চামারি করিনি। সো আই ওয়াজ কনফিডেন্ট। আমি কেন পালাবো? কিন্তু যখন কর্নেল সাব আমাকে ফোন করে বললেন; স্যার উই উইল প্রটেক্ট ইউ। তখন আমার সবাই বললো- স্যার আপনার নাম্বার পেয়ে গেছে। এখান থেকে পালান।’

ড. একে মোমেন জানান- ‘আমি কোনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাইনি। আমার সব আত্মীয়-স্বজন পাবলিকলি নোন। আমি অন্যান্য লোকের যেমন রেন্ট হাউসের বাড়িতে ছিলাম। এইটা আমার খুব কাজ দিয়েছে। এক বাসার মালিকের সঙ্গে দেখা হয়েছিলো। সেই মালিককে আমি জিজ্ঞেস করলাম; আপনার এগুলো তো সুন্দর। উনাকে আমি আগে চিনতাম। উনি এসে বললেন; আমরা গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। হোটেলে আমাদের বায়ারকে রাখি না। বাসায় রাখি। এজন্য বাসা সুন্দর করে রাখি। এখন যেহেতু দেশে কোনো বায়ার আসতেছে না, কেউ আসলে সিঙ্গাপুর কিংবা ব্যাংকক পর্যন্ত আসে। ঢাকায় ভয় পায় আসে না। সেজন্য সব খালি। তার জন্য আপনি ভাড়া পাচ্ছেন।’

পালিয়ে থাকা বিবরণ তুলে ধরে ড. মোমেন জানান- ‘আমি পালিয়ে পালিয়ে ছিলাম। যাতে বাইরে কেউ না চিনতে পারে মব’র জ্বালায় সেজন্য চেহারা-টেহারা সব পরিবর্তন করে ফেলেছি। যখন নাপিতের কাছে গেলাম। এক বাসায় গেলাম সার্টেন টাইমে। ওই বাসায় এক নাপিত এলো। সেটি আমার বাসা না। আরেকজনের বাড়িতে। যাতে ওই নাপিত কাউকে বলতে পারে না কোথায় আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে। এটা লং স্টোরি। বহুত কষ্ট করে বের হয়েছি। আমার বউয়ের প্রেসারে ও উনার বুদ্ধিতে বের হয়েছি। এই যে বের হইছি কিছু জানি না। কারণ আমি তো ফোনে কথা বলতে পারি না। সি মেক দিস এরেঞ্জমেন্ট। দেশে অনেক ফড়িয়া আছে আপনাকে বিদেশ পাঠানোর জন্য। ওগুলো সবগুলোই মানি মেকিং। শুধু টাকা নেয়।

মোমেন বলেন- আমি জীবিত আছি। আর মানুষের দোয়া। বহু লোক আমার জন্য দোয়া করেছে। ওমরাহ্‌ হজ করেছে। আমি তো অনেককেই চিনি না। বাট ডিড ইট।’

প্রশ্ন করা হয়েছিলো বাই এয়ারে সরাসরি শাহ্‌জালাল থেকে এসেছেন না অন্য কোনো বিমানবন্দর থেকে? জবাবে ড. মোমেন জানান- ‘না না বিমানবন্দর তো আপনি যেতেই পারবেন না। ধারে কাছেও না। এটা পালাইয়া আসছি। কীভাবে? বিভিন্নভাবে পালিয়ে আসছি। বলা যাবে কোনো এক সময়। এখনো বলতে চাচ্ছি না। কারণ- সরকারি লোকরাই আমাকে সাহায্য করেছে।’

কথা শেষে ডক্টর মোমেন জানান- ‘আমরা সাদাসিধে মানুষ। দেশটাকে বাঁচাতে হবে। দেশটাকে জঙ্গি দেশ বানাতে চাই না। এ ব্যাপারে সবার উদ্যোগ নেয়া দরকার।’
(মূল রিপোর্ট : মানবজমিন)

সিলেটে রাস্তায় প্রশাসনের যৌথ অভিযান, জরিমানা

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) এর অভিযানে মোবাইল কোর্টের সহায়তায় ২টি দোকান ও ১৬টি গাড়ির মালিককে বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেট শহরের বিভিন্ন এলাকা এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাব জানায়, সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সিলেট বিআরটিএ’র সহযোগিতায় র‌্যাব-৯ সিলেটের একটি আভিযানিক দল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেট শহরের বিভিন্ন এলাকা এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে।

অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আদালত নং-১৬, বিআরটিএ সিলেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযানে শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ, রেজিস্ট্রেশনবিহীন যানবাহন চালনা এবং দোকানের সামনে বালু ফেলে পথরোধের অভিযোগে ১৬টি গাড়ির মালিক ও ২টি দোকানের মালিকসহ মোট ১৮ জনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ১টি লেগুনা ও ১টি অটোটেম্পু জব্দ করা হয়।

র‌্যাব জানায়, পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযানের পাশাপাশি জনস্বার্থে এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে প্রচলিত বায়ু দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০২২, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০), শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০২৫ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী সড়কে যানবাহন চলাচল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এসব আইনের বিধি-নিষেধ লঙ্ঘনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আইন অনুযায়ী এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড, আর্থিক জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

এক বছরে সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৬৪, ১৩২ জনই মোটর সাইকেল আরোহী

সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে সিলেট বিভাগে ৩৫৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬৪ জন নিহত ও ৮৭২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকলে চালক ও আরোহী।

বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলায় সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়েছেন। উপজেলার মধ্যে মাধবপুর উপজেলায় সবেচেয়ে বেশি নিহত হয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০২৫ সালে সিলেট জেলায় ১৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত ও ২৯৯ জন আহত হয়েছেন। সিলেট জেলার সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে সিলেট-তামাবিল সড়কে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন, সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কে ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন, সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে ২৮টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন, সিলেট-এয়ারপোর্ট সড়কে ৭টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত হয়েছে। সিলেট জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় জৈন্তাপুর উপজেলায় ২২টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন, দক্ষিণ সুরমায় উপজেলায় ২২টি দুর্ঘটনায় ২১ জন ও জকিগঞ্জ উপজেলা ২১টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলায় ৬৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ১৭০ জন আহত হয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ২১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত, ছাতক উপজেলায় ১২টি দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছেন।

মৌলভীবাজার জেলায় ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬০ জন নিহত ও ৭০ জন আহত হয়েছেন। মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় কুলাউড়া উপজেলায় ১২টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত, বড়লেখা উপজেলায় ৭টি দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৯টি দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন।

হবিগঞ্জ জেলায় ৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৯ জন নিহত ও ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন। হবিগঞ্জ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় মাধবপুর উপজেলায় ২১টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন, নবীগঞ্জ উপজেলায় ১৮টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় ১২টি দুর্ঘটনায় ১২ জন ও বাহুবল উপজেলায় ১১টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

সিলেট বিভাগে ২০২৫ সালে জানুয়ারী মাসে ৩৩টি দুর্ঘটনায় ৩৬ নিহত ও ৬৮ জন আহত, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩২টি দুর্ঘটনায় ৩২ নিহত ১৪৪ জন আহত, মার্চ মাসে ২৯টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত, এপ্রিল মাসে ২৯টি দুর্ঘটনায় ৩০ নিহত ও ৪২ জন আহত, মে মাসে ৩৩টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত ৮২ জন আহত, জুন মাসে ২৯টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ৪৮ জন আহত, জুলাই মাসে ২৬টি দুর্ঘটনায় ২৬ নিহত ও ৬১ আহত, আগষ্ট মাসে ২৬টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৮২ জন আহত, সেপ্টেম্বর মাসে ৩২টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ৩০ জন আহত, অক্টোবর মাসে ২৮টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ১১০ আহত, নভেম্বর মাসে ২৬টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও ৬৬ জন আহত, ডিসেম্বর মাসে ৩৩টি দুর্ঘটনায় ৩৭ জন নিহত ও ৬১ আহত হয়েছিলেন।

সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩২ জন, সিএনজি লেগুনা চালক ও যাত্রী ৬৬ জন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে ৬২টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন, পথচারী ৮৬ জন, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছের সঙ্গে ধাক্কায় ২৪টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত, মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২০টি দুর্ঘটনায় ১৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২২ জন চালক রয়েছেন।

২০২৫ সালে সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২৭৩ জন পুরুষ, ৫৪ জন মহিলা ও ৩৭ জন শিশু রয়েছেন।

নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট-চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মিশু গণমাধ্যমে মঙ্গলবার পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, স্থানীয় ৫টি দৈনিক পত্রিকা, ২টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন পত্রিকার তথ্য, অনুমেয় অনুজ্জ বা অপ্রকাশিত ঘটনা ও নিসচার শাখা সংগঠনগুলোর রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও নিসচা সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন তৈরী করেছে।

প্রতিবেদনে সড়কে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ে অভাব, ট্রাস্কফোর্স কর্তৃক প্রদত্ত ১১১টি সুপারিশনামা বাস্তবায়ন না হওয়া, চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে ওভারটেকিং করা, লাইসেন্স ছাড়া চালক নিয়োগ, পথচারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব, সিটবেল্ট ব্যবহার না করা, বিরতি ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালানো, চালকেরা মাদকের আসক্তি, মহাসড়কে নির্মাণ ত্রুটি, গাড়িতে শিশুদের উপযোগী আসন না থাকা, সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও তিন চাকার গাড়ি বৃদ্ধি পাওয়া, মোটরসাইকেল চালকদের মানসম্মত হেলমেট ব্যববহার না করা, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, রোড মার্কিং পর্যাপ্ত না থাকা, রাস্তার পাশে হাটবাজার ও দোকানপাট বসানো ও চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানোকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার অভাব, সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া, অশিক্ষিত ও অদক্ষ চালক দ্বারা গাড়ি চালানো ইত্যাদি দুর্ঘটনা মূল কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া জেলা পর্যায়ে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অতিরিক্ত লোক সংখ্যা, অপর্যাপ্ত রাস্তা, মোটরসাইকেল ও রিক্সার আলাদা লেন না থাকা, অবৈধ ব্যাটারীচালিত যান, সড়ক-মহাসড়কে উঠে বেপরোয়া গতিতে চলা, পথচারীদের নিয়ম না মানার প্রবণতা, জেব্রাক্রসিং, ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ব্যবহার না করে যত্রতত্র পারাপার ও রাস্তা চলাচল, রাস্তা পারাপার ও গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করাকে দায়ী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,২০২৪ সালে সিলেট বিভাগে ৩৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭৫ জন নিহত ও ৭০৯ জন আহত হয়েছিলেন।

সিলেটে ছি*নতাই চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

সিলেটে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ব্যবহার করে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাও আটক করা হয়েছে। রোববার (১২ জানুয়ারি) সোবহানীঘাট ফাঁড়ি পুলিশের অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, শনিবার নূরপুর এলাকার শহিদুর রহমানের গ্যারেজ হতে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিক্শা “নাঈম এন্ড হাদী” নামীয় অটোরিকশা (রেজিঃ নং- সিলেট-থ-১২-৬৮৬২) উদ্ধার করে মালিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহপরাণ (রহঃ) থানাধীন বিআইডিসি এলাকা হতে সিএনজি‘র চালক জাহিদুল ইসলাম নাজিম (২৪), ফয়সল আহমদ (২৫) ও হৃদয় খান (২৩) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি পুলিশ সদস্য সাদেকুর রহমান মেন্দিবাগ পয়েন্ট থেকে বন্দরবাজারগামী “নাঈম এন্ড হাদী” নামীয় একটি সিএনজিতে উঠেন। নাইওরপুলস্থ দারাজ অফিসের সামনে পৌঁছালে সিএনজিতে থাকা ছিনতাইকারীরা ধারালো চাকু সাদেকুর রহমান এর গলায় ধরে ভয়ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি করে প্যান্টের পকেট হতে তার ছোট বোনের বিয়ের জন্য রাখা নগদ ২ লাখ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে তাকে সিএনজি থেকে নামিয়ে দিয়ে দ্রুত সোবহানীঘাটের দিকে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা করা হয় ( নং-১৫)

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ফয়সাল ডাকাতির মামলার আসামী। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

ব্রিটেনের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩ জন সিলেটি ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে

যুক্তরাজ্যের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বোলটন এলাকায় ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন সিলেটি প্রবাসী বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি পেশায় ট্যাক্সিচালক ছিলেন এবং উবারে গাড়ি চালাতেন।

নিহত প্রবাসীর নাম মছরব আলী (৫৪)। তিনি সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার মইনপুর গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি সপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে আসছিলেন।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি লাল রঙের গাড়ির সঙ্গে একটি ট্যাক্সির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পরপরই পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, নিহত চারজনের মধ্যে তিনজন তরুণ। তারা হলেন—মোহাম্মদ জিব্রায়েল মুখতার (১৮), ফারহান প্যাটেল (১৮) এবং মোহাম্মদ দানিয়াল (১৯)। তিনজনই বোলটনের বাসিন্দা।

এ দুর্ঘটনায় আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই থেকে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

নিহত মছরব আলী ব্র্যাকবার্ন এলাকায় বসবাস করতেন। তার প্রতিবেশী ও সহকর্মী উবারচালক আবুল কাশেম বলেন, ‘আমার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন।

খবর পেয়ে আমি তার বাসায় যাই। পরিবারের সবাই তখন বোলটন জেনারেল হাসপাতালে ছুটে গেছেন।’

তিনি বলেন, পুলিশের ময়নাতদন্ত শেষে আমরা কমিউনিটির পক্ষ থেকে লাশ আনার ব্যবস্থা করব। তিনি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। নিহত বাকি তিনজনও এশিয়ান মুসলিম যুবক।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দুর্ঘটনার সময় বিকট শব্দ ও গাড়ির ভয়াবহ ভাঙচুর দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে দ্রুত জরুরি সেবায় ফোন করেন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর অ্যান্ড্রু পেজ গণমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ বিস্তৃত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি পুলিশ গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সময়কার কোনো তথ্য, সিসিটিভি বা ড্যাশক্যামের ফুটেজ কারো কাছে থাকলে তা পুলিশের কাছে সরবরাহ করার আহ্বান জানাচ্ছি। এ দুর্ঘটনায় তিন তরুণসহ একজন টেক্সিচালক নিহত হয়েছেন।

টনারবোলটনের এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, নিহত চারজনের একজনের পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে।

ইংল্যান্ডে গাড়ির মুখো মুখি সংঘর্ষে ৪ সিলেটী নিহত

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের বোল্টনে সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশিসহ তিন তরুণ এবং একজন প্রবীণ ট্যাক্সিচালক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বোল্টনের উইগান রোডে এই ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি লাল রঙের সিট লিওন গাড়ি ও সিট্রয়েন সি-৪ মডেলের একটি ট্যাক্সির মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে দুটি গাড়িই দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বোল্টন কাউন্সিল অব মস্ক (বিসিওএম) নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন, মোহাম্মদ জিবরায়েল মুখতার, ফারহান প্যাটেল এবং মুহাম্মদ দানিয়াল আসগর আলী। তাদের সবার বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। নিহত অপর ব্যক্তি হলেন ট্যাক্সিচালক মোসরাব আলী, তার বয়স ৫০-এর কোঠায়।

গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের (জিএমপি) সিরিয়াস কলিশন ইনভেস্টিগেশন ইউনিট ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উইগান রোডের সিসিটিভি ফুটেজে ভয়াবহ সংঘর্ষের দৃশ্য ধরা পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী বা কারও কাছে ড্যাশক্যাম ফুটেজ থাকলে তা পুলিশকে সরবরাহ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বোল্টন কাউন্সিলের কাউন্সিলর আইয়ুব প্যাটেল এই ঘটনাকে পুরো কমিউনিটির জন্য এক বিশাল ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

সিলেট থেকে উড়ে যাওয়া বেলুন নিয়ে তদন্তে ভারতীয় পুলিশ!

বাংলাদেশ থেকে উড়ে গেছে বলে ধারণা করা একটি বড় আকারের গ্যাস বেলুন রোববার (১১ জানুয়ারি) উদ্ধার করা হয়েছে আসামের কাছার জেলা থেকে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং এ নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানায় স্থানীয় গণমাধ্যম।

পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বেলুনটিতে বাংলাদেশের সিলেট জেলার গিলাছড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম লেখা ছিল। বেলুনটি কাছার জেলার বরখোলা এলাকায় পাওয়া যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘অস্বাভাবিকভাবে বড়’ ওই বেলুনটি একটি কৃষিজমিতে নেমে আসে, যা সঙ্গে সঙ্গে সবার নজরে আসে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় গ্রামবাসীরা প্রথমে ভিলেজ ডিফেন্স পার্টিকে (ভিডিপি) অবহিত করেন, যারা পরে পুলিশকে খবর দেয়।

সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে কাছার জেলার পুলিশ সুপার পার্থ প্রতিম দাসও সেখানে যান। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, বেলুনটিতে বিদ্যালয়ের নাম ছাড়াও তিনজন ব্যক্তির ছবি এবং বাংলায় লেখা কিছু তথ্য ছিল।

আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে কীভাবে বেলুনটি আসামে পৌঁছাল এবং এর সঙ্গে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে কি না – তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।

সূত্র: এনডিটিভি

সিলেটে উড়ানো বেলুন পড়ল ভারতে, জনমনে আত*ঙ্ক

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার গিলাছড়া দ্বীমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে উড়ানো একটি গ্যাস বেলুন ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচরে গিয়ে পড়ায় সেখানে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বেলুনটি উদ্ধার করে পুলিশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

জানা গেছে, গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ও শনিবার গিলাছড়া দ্বীমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৫ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে রশি দিয়ে একটি গ্যাস বেলুন উড়িয়ে রাখা হয়। বেলুনটিতে স্কুলের জন্য অবদান রাখা তিনজনের ছবি লাগানো ছিল। এক পর্যায়ে বেলুনটি ছিঁড়ে গিয়ে উড়ে চলে যায়।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) ভোরে ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচর শহরের অদূরে মাসিমপুর সুবেদারবস্তি এলাকায় বেলুনটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। মাসিমপুর এলাকায় কয়েকজন লোক গরু-মহিষ মাঠে ছাড়তে গিয়ে বিশালাকৃতির বেলুনটি দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি এলাকার ভিডিপি সম্পাদক সুমন দাসকে জানান। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) পার্থপ্রতীম দাস সেখানে ছুটে যান। পরে বেলুনটির ভেতরের গ্যাস বের করে সেটি এসএসপি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় সাংবাদিক মঞ্জুর আহমদ জানান, মাসিমপুর এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং বিএসএফের কাছাড়–মিজোরাম ফ্রন্টিয়ারের সদর দফতর থাকায় বেলুনটি নিয়ে শুরুতে আতঙ্ক তৈরি হয়।

প্রাথমিক পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে কাছাড় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সুব্রত সেন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, বেলুনটিতে তিনটি ছবি রয়েছে এবং এটি একটি স্কুলের ৬৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে উড়ানো হয়েছিল।