Tuesday, April 7, 2026
Home Blog Page 28

সিলেটে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে খুন করা হয় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রকে

সিলেট নগরের বাদামবাগিচা এলাকার ইলাশকান্দিতে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র শাহ মাহমুদ হাসান তপু (১৫) কে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। আর পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাং নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে এই হত্যাকান্ড।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ছুরিকাঘাতে আহত হয় তপু। আর শুক্রবার সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

কিশোরদের বিরোধে ছুরিবাঘাতে এক কিশোর খুন হয়েছে। শুক্রবার সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জাহিদ হাসানসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত তপুর বড় ভাই রুবেল আহমদ অভিযোগ করেন বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তপুকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে জাহিদসহ কয়েকজন। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হলো তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেছেন রুবেল।

কিশোর গ্যাং নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে তপুকে হত্যা করা হয়েছে জানিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) সাইফুল ইসলাম বলেন, তপু ও জাহিদ দুজন বন্ধ। দুজনই কিশোর গ্যাংয়ের সাথে জড়িত। কিশোর গ্যাংসের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণে এই হত্যাকান্ড।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তপু ও জাহিদসহ দুপক্ষের অনুসারীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জাহিদকে তপু মারধর করে। পরে তপুকে ছুরিকাঘাত করে জাহিদ।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত জাহিদসহ তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন- এয়ারপোর্ট থানার খাসদবির এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. জাহিদ হাসান, কোতোয়ালী থানাধীন লোহারপাড়া এলাকার আব্দুল মনিরের ছেলে মো. অনিক মিয়া ও মো. বশিরুল ইসলামের ছেলে মো. জুনেদ আহমদ।

তপু এয়ারপোর্ট থানাধীন ইলাশকান্দি বাদামবাগিচার উদয়ন ৪০/২ আবাসিক এলাকার শাহ এনামুল হকের ছেলে ও খাসদবির উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। ৪ ভাই, ২ বোনের মধ্যে সবার ছোট তপু।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জানাযা শেষে তপুর দাফন সম্পন্ন হয়।

আগের রাতের ঘটনার বর্ণণা দিয়ে তপুর এক বন্ধু জানায়, রাতে ঘটনার সময় তপুরা ছিলো তিনজন আর জাহিদরা ছিলো ১৫/২০জন। তবু তারা তপুকে মারতে পারতো না। কিন্তু ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তপু পড়ে যায়। এসময় তার পেটে ছুরিকাঘাত করে জাহিদ।

সিলেটের রাস্তায় ‘নতুন পোশাকে’ পুলিশ

পরিবর্তনের বাতাস বইছে দেশের পুলিশ বাহিনীতে। সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া এবার পৌঁছাল সিলেটে। গাঢ় নীল রঙের পোশাকের নিত্য চেনা পুলিশের পোশাকে এবার নতুনত্বের ছোঁয়া। নতুন ইউনিফর্ম গায়ে দিয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন সিলেট মহানগর ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল থেকেই সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের ট্রাফিক সদস্যরা নতুন পোষাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নতুন এই পোশাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখে সাধারণ জনগনের নজর কাড়ছে। এর আগে সর্বপ্রথম ১৫ নভেম্বর ঢাকায় পুলিশের সদস্যরা নতুন পোশাকে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেট মহানগরীর জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, নাইওরপুল, বন্দরবাজার, উপশহর, শিবগঞ্জপয়েন্টসহ মহানগরীর প্রত্যেকটি ট্রাফিক পয়েন্টে নতুন পোশাকে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এর মাধ্যমে ঢাকার পর দ্বিতীয় ধাপে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশেও (এসএমপি) নতুন পোশাক ব্যবহারের সূচনা হলো।

সিলেটে নতুন পোশাকের প্রথমদিনেই নাগরিকদের মধ্যে বিষয়টি আলোচনার জন্ম দেয়। নতুন সাজে মাঠে নামায় সিলেটের নাগরিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া। পথচারীরা অনেকেই বলছেন, পুলিশের নতুন রূপ মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব আরও দৃশ্যমান করবে। ইউনিফর্মের এ পরিবর্তন পুলিশের দায়িত্ব পালনের চিত্রকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আধুনিকভাবে তুলে ধরবে।

আম্বরখানা এলাকার ব্যবসায়ী শাহ গুলজার আলম চৌধুরী (পাপলু) বলেন, ‘সকালে দোকান খুলেই দেখি রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ নতুন পোশাকে দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমে আমি একটু অবাকই হয়েছি-এতদিনের পরিচিত নীল পোশাক হঠাৎ বদলে গেল! কিন্তু ভালো করে দেখলাম, নতুন রঙটা বেশ মার্জিত। দূর থেকেই পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়ে। আমি মনে করি, এ ধরনের পরিবর্তন শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যই বাড়ায় না, জনগণের কাছে পুলিশের ইমেজকেও নতুনভাবে তুলে ধরে। আগে ব্যস্ত সড়কে কখনো কখনো পুলিশ চিনতে একটু সময় লাগত; এখন সেটা আর হবে না। এই পরিবর্তন আধুনিক সময়ের সঙ্গে পুলিশের অগ্রযাত্রারই প্রতীক।’

নগরীর শিবগঞ্জ এলাকার জয়ন্ত বলেন, ‘যে দেশগুলো উন্নত, সেসব দেশে ইউনিফর্ম অনেক সময় বাহিনীর পরিচয়, পেশাদারিত্ব আর মর্যাদার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের দেশেও এমনভাবে ইউনিফর্ম পরিবর্তন হচ্ছে দেখে বেশ ভালো লাগছে। নতুন রঙে পুলিশকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও পরিপাটি মনে হচ্ছে। আরেকটি বিষয় খুব ভালো লেগেছে-লোগো পরিবর্তন। শাপলা, ধান ও গমের শীষ আমাদের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে- সেসব প্রতীক এখন পুলিশের পোশাকে এসেছে এটা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমার মনে হয়, এতে জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে।’

নাইওরপুল এলাকায় রিকশাচালক রহিম মিয়া বলেন, ‘আমার মতো রিকশাওয়ালাদের সবচেয়ে বেশি দরকার হয় ট্রাফিক পুলিশের সাহায্য। অনেক সময় যানজট হয়, তখন পুলিশ ভাইয়েরা ইশারা দিলে আমরা রাস্তাটা বুঝতে পারি। আরেকটা কথা, আমি টিভিতে দেখেছি-ঢাকায় নাকি আগেই এই পোশাক দেওয়া হয়েছে। আজ সিলেটে দেখে ভালো লাগছে। দেখতে সুন্দর, আর শৃঙ্খলা মনে হয় আরও ভালো হবে। সাধারণ মানুষও পুলিশের প্রতি ভরসা অনুভব করবে।’

নগরীর চৌহাট্টায় রত্না বেগম নামের একজন গৃহিণী বলেন, ‘নতুন পোশাকটা দেখে প্রথমে মনে হলো-এটা কি বিদেশি কোনো বাহিনীর ইউনিফর্ম? পরে শুনলাম এটা আমাদেরই পুলিশের নতুন সাজ। আমার মনে হয় এই রঙটা অনেক স্মার্ট। আগের তুলনায় আধুনিকও দেখায়। যেহেতু সময়ের সঙ্গে সবকিছুই বদলায়, পুলিশ যদি নতুনভাবে নিজেদের উপস্থাপন করে, তাহলে সেটা ইতিবাচকই। এটা দেখে মনে হয়-পুলিশ বাহিনীও উন্নত হচ্ছে, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে।’

বন্দরবাজার এলাকায় সিএনজিচালক তোফায়েল বলেন, ‘আমরা রাস্তায় সারাদিন থাকি, ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগও বেশি। নতুন পোশাক পরে পুলিশ ভাইদের আজকে দেখলাম-একদম নতুন ভাবে লাগছে। আমার মনে হয়েছে, এতে পুলিশের প্রতি সম্মান আরও বাড়বে। বিদেশে দেখি ট্রাফিক পুলিশের ইউনিফর্ম খুব স্পষ্ট আর আকর্ষণীয় হয়। আমাদের এখানে এখন তেমনই একটা ভাব এসেছে।’

পুলিশ সূত্র জানায়, সব সদস্যের জন্য নতুন ইউনিফর্ম তৈরি না হওয়ায় পর্যায়ক্রমে তা সরবরাহ করা হচ্ছে। শুরুতেই ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), দেশের অন্যান্য মহানগর ইউনিট ও বিশেষায়িত বাহিনী এটি পেয়েছে। তবে জেলা পুলিশের সদস্যরা এখনও আগের পোশাকেই দায়িত্ব পালন করছেন। ধাপে ধাপে সারাদেশে নতুন পোশাক পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। নতুন পোশাকে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। পুলিশের ইউনিফর্ম এখন লৌহ (আয়রন) রঙের; র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) পাবে জলপাই (অলিভ) রঙের পোশাক; আনসারের পোশাক হবে সোনালি গমের (গোল্ডেন হুইট) রঙের। তবে এপিবিএন ও এসপিবিএন পুরোনো পোশাকেই থাকবে। একইসঙ্গে বদলে গেছে পুলিশের লোগোও। পুরোনো পালতোলা নৌকার পরিবর্তে যুক্ত হয়েছে জাতীয় ফুল শাপলা, ধান ও গমের শীষ-যার নিচে পাটপাতার টবে লেখা ‘পুলিশ’। নতুন লোগো এখন পতাকা, সাইনবোর্ড ও ইউনিফর্মসহ অন্যান্য সরকারি প্রয়োজনে ব্যবহার শুরু হয়েছে।

এসএমপি ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ্ত রায় সিলেটভিউকে বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু ট্রাফিক বিভাগে নতুন পোশাক প্রদান করা হয়েছে। ধাপে ধাপে মেট্রোপলিটন পুলিশের অন্যান্য ইউনিটেও এই পোশাক চালু করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকায় ১৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পোশাক ব্যবহারের পর ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য মহানগরে এটি চালু করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সিলেট মহানগরীর ট্রাফিক পয়েন্টগুলোতে নতুন পোশাকে প্রথমদিনের দায়িত্ব পালন করেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা।’

সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ : কালনী এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল

ঢাকা-সিলেট রেল পথের হবিগঞ্জের মাধবপুরে কালনী এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ট্রেনটি মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলায় পৌঁছালে ইঞ্জিন হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে। বেলা ১টা পর্যন্ত ত্রুটি মেরামত সম্ভব হয়নি।

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার লিটন দে বলেন, প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে কালনী এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার মতো অবস্থায় দাঁড়িয়ে পড়ে। আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ইতিমধ্যে রওনা দিয়েছে। তিনি বলেন, “সিলেটের সঙ্গে দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি।”

তিনি আরও বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইঞ্জিন মেরামত বা পরিবর্তন করে রেল চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, ইঞ্জিন বিকলের কারণে ট্রেন থেমে যাওয়ায় যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

সিলেটে এতিম শিশুদের জন্য হচ্ছে বিশ্বমানের স্কুল, বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ

সিলেটের সদর উপজেলার একবারে শেষপ্রান্তে ছালিয়া গ্রাম। সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ মহাসড়ক লাগোয়া এই গ্রামের কাঁচা-ভাঙাচোরা আর সরু সড়ক মাড়িয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর চোখ আটকে যাবে চমতকার নির্মাণশৈলির কিছু ভবনে। ১৫০ শতক জায়গাজুড়ে লাল টিনের একতলা সারি সারি এসব ভবন নজর কাড়বে যে কারো।

এই ভবনগুলোতে চালু হবে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। তবে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল বলতেই যেখানে বিপুল খরচের ব্যাপার, এখানে তার ব্যতিক্রম। বৃটিশ কারিকুলামের এই স্কুলে পড়া যাবে সম্পুর্ন বিনামূল্যে। সম্পূর্ন আবাসিক এ স্কুলে থাকা খাওয়াও একদম ফ্রি। আর এখানে পড়ার সুযোগ পাবে এতিম শিশুরা। সমাজে যারা সুবিধাবঞ্চিত হিসেবে পরিচিত।

অনাথ শিশুদের জন্য এই স্কুলটি নির্মাণ করছে সেচ্ছাসেবী সংস্থা ক্যাপ ফাউন্ডেশন। ‘ক্যাপ ফাউন্ডেশন ভিলেজ দ্য গার্ডিয়ানস’ নামের এই প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্যাপ ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার ও সিইও আব্দুল নূর হুমায়ুন জানান, ১০০ জন এতিম শিশু নিয়ে আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে এই স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে বাছাইকৃত এতিম শিশুদের এনে এখানে ভর্তি করা হবে।

তিনি জানান, এই স্কুলে ৩য় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সুযোগ থাকবে। পরে উচ্চ শিক্ষার জন্য এখানকার শিক্ষার্থীদের ক্যাপ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বৃত্তি দেওয়া হবে। কর্মসংস্থানেও সহায়তা করা হবে।

এই স্কুলের পাশে ক্যাপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একটি ট্যাকনিকেল কলেজ নির্মান করা হবে বলেও জানান তিনি।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে স্কুল ঘুরে ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্কুলে শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য ৩টি ডরমেটরি, একাডেমিক ভবন, একটি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, লাইব্রেরি, প্রশাসনিক ভবন, ইন্টোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স ও মসজিদ রয়েছে। এছাড়া স্টাফদের জন্য ৫টি স্টাফ হাউস রয়েছে। স্কুল ক্যাম্পসের ভেতরেই রয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন লেক ও খেলার মাঠ।

এই প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর দেলোয়ার হোসেন, ২০২১ সাল থেকে এই স্কুল নির্মানের কাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৫ কোটি টাকা। তবে এখনও কিছু আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র ক্রয় বাকি রয়েছে।

ক্যাপ ফাউন্ডেশনের চিফ প্যাট্রন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ মোহাম্মদ বাকীর বলেন, এটি একটি পাইলট প্রকল্প। এই উদ্যোগ সফল হলে এরকম আরও স্কুল করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ থেকে সিলেটে কাজ শুরু করে ক্যাপ ফাউন্ডেশন। মূলত দুর্যোগ, স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি নিয়ে কাজ করে এনজিও ব্যুরোর নিবন্ধনভূক্ত এ প্রতিষ্ঠানটি।

পরিদর্শনে পর্তুগীজ রাজপরিবারের সদস্যরা

গত বৃহস্পতিবার ( ১৩ নভেম্বর) ‘ক্যাপ ফাউন্ডেশন ভিলেজ দ্য গার্ডিয়ানস’ প্রকল্পটি পরিদর্শনে আসেন পর্তুগিজ রাজপরিবারের তিন সদস্য। প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দেখার পাশাপাশি তারা প্রকল্পের অভ্যন্তরে লেকের উদ্বোধন করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির আঙ্গিনায় স্মৃতি স্মারক হিসেবে তিনটি বৃক্ষও রোপন করেন।

পর্তুগিজ রাজ পরিবারের সদস্যরা হলেন- এইচআরএইচ দ্যুম ডুয়ার্থ পিই ডি ব্রাগানজা, এইচআরএইচ ইসাবেল ইনেস ডি কাস্ত্রো সি. ডি হেরেডিয়া ডি ব্রাগানজা এবং এইচআরএইচ আফোন্সো ডি সান্তা মারিয়া ডি ব্রাগানজা।
এসময় তারা এমন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘এটি একটি চমতকার উদ্যোগ। আমরা এসেছি মানবিক সহায়তা ও শুভেচ্ছা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে।’

ক্যাপ ফাউন্ডেশনের অনাথ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে তারাও কাজ করবেন বলে জানান।

ক্যাপ ফাউন্ডেশনের পক্ষে এসময় উপস্থিত ছিলেন- প্রতিষ্ঠানটির চিফ প্যাট্রন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ মোহাম্মদ বাকীর, লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ব্যারিস্টার মইনুল ইসলাম এবং ফাউন্ডার ও সিইও আব্দুল নূর হুমায়ুন প্রমুখ।

সিলেটে এয়ারপোর্ট রোডে প্রাইভেটকার-ট্রাক সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ৭

সিলেটে প্রাইভেটকার ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাহফুজ নামে এক যুবক (২৬) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ জন। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর আম্বরখানা-এয়ারপোর্ট সড়কে লাক্কাতুড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মাহফুজ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চেচিশেউড়া গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঈন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুজনকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

থানা পুলিশ ও ওসমানী হাসপাতাল পুলিশ বক্স সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আম্বরখানা-এয়ারপোর্ট সড়কে একটি প্রাইভেটকার ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে হতাহত অবস্থায় সাতজনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাহফুজ নামে যুবককে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের দুইটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।

সিলেট এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিচয় শনাক্তকরণে কাজ করছে পুলিশ। বিস্তারিত জানতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

সিলেটে উদ্ধার নিখোঁজ ২ কিশোরী

কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই কিশোরীকে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। সোমবার (২৪ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মাজার এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী মডেল থানাধীন শাহজালাল মাজার (রহ.) তদন্ত কেন্দ্রের আওতাধীন একদল পুলিশ নিয়মিত টহল পরিচালনা করে। এই টহলের সময় পুলিশ সদস্যরা দুই কিশোরীকে অস্বাভাবিকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা-পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যান।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী এই দুই কিশোরী জানায়, তারা আগের দিন রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে ৯টার দিকে কুমিল্লার নিজ বাড়ি থেকে স্কুলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল। তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুলের পথে একটি অটোরিকশায় উঠলে এরপরে কি হয়েছে তাদের মনে নেই। কীভাবে তারা কুমিল্লা থেকে সিলেট পর্যন্ত আসলো। কে বা কারা তাদের নিয়ে এসেছে, এ বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই। জ্ঞান ফেরার পর তারা জানতে পারে তারা সিলেটে অবস্থান করছে।

পুলিশ দুই কিশোরীর কথাবার্তা শুনে তাদের পরিচয়, বাড়ির ঠিকানা ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে। পরে তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা দ্রুত থানায় এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করার পর কিশোরীদের পরিবারের লোকজনের হাতে তুলে দেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি উত্তর) ও মিডিয়া অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভিকটিমদের উদ্ধার করে পরিবারের লোকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তারা কীভাবে, কুমিল্লা থেকে সিলেট পর্যন্ত পৌঁছাল তা উদঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।’

ভেঙে ফেলা হবে সিলেটের ঝুঁকিপূর্ণ সেই ২৩ ভবন

প্রায় ছয় বছর আগে সিলেট নগরের ২৩ টি ভবনকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। এগুলো ভেঙে ফেলারও পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা। এতোদিন এসব ভবনের ব্যাপারে নির্বিকার ছিলো সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। ফলে ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ সিলেটে এসব ভবন ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

তবে এবার এই ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। শুক্র ও শনিবার কয়েকদফা ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে আতংকের মধ্যে তিনি এমনটি জানান।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, ‘সিলেট নগরীর ২৩টি বিপজ্জনক ভবন ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেগুলো খুব শীঘ্রই ভেঙে ফেলা হবে। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি বেশ কয়েকটি ভবন রয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই অপসারণের কাজ শুরু হবে।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘চিহ্নিত ভবনগুলোতে এখনো কেউ কেউ বসবাস করছে বা কাজ করছে। দ্রুত অপসারণ না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নাগরিকদের সুরক্ষার জন্যই আমরা জরুরি ভিত্তিতে ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসন ইতোমধ্যে একাধিক ওয়ার্কশপ করেছে। তবে উদ্ধারকাজে প্রধান সমস্যা হচ্ছে সংকীর্ণ রাস্তা-ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে না পারলে রেসকিউ কার্যক্রম ব্যাহত হবে।’

জানা যায়, ২০১৯ সালে কয়েকদফা ভূমিকম্পের পর ঝুঁকি মোকবেলায় সিলেট নগরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলা, সব বহুতল ভবনের ভূমিকম্পসহনীয়তা পরীক্ষাসহ কিছু উদ্যোগ নেয় সিটি করপোরেশন। এ সময়ে নগরের প্রায় ৪২ হাজার বহুতভবন পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিল সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। কিন্তু অর্থ সংকটে সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি।
তবে অনেক পুরনো কয়েকটি ভবন বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার পর নগরের ২৫ টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রকাশ করে সিসিক।

ওইদিনই নগরের সুরমা মার্কেট, সিটি সুপার মার্কেট, মধুবন সুপার মার্কেট, সমবায় মার্কেট, মিতালী ম্যানশ্যান ও রাজা ম্যানশন নামের ৭টি বিপনী বিতানকে ১০ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর নির্ধারিত ১০ দিন পর কোনো সংস্কার ছাড়াই খুলে দেওয়া হয় বন্ধ করা ভবনগুলো। এখনো এগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে।

জানা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা চারটি ভবনকে অপসারণ এবং আরও দুইটি ভবনকে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সংস্কার করা হয়।

এরপর দীর্ঘ ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও বাকি স্থাপনাগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সিসিক। এসব স্থাপনার মধ্যে বাসাবাড়ি, বিদ্যালয় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। নগর প্রশাসনের এমন দুর্বলতাকে পুঁজি করে উল্টো খোলস পাল্টে ফেলা হয়েছে এসব স্থাপনার।

সিসিকের তালিকানুযায়ী, নগরীর ঝুঁকিপূর্ন ভবনগুলো হলো- কালেক্টরেট ভবন-৩, সমবায় ব্যাংক ভবন মার্কেট, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সাবেক কার্যালয় ভবন, সুরমা মার্কেট, বন্দর বাজার এলাকার সিটি সুপার মার্কেট, মিতালী ম্যানশন, দরগা গেইটের আজমীর হোটেল, মধুবন মার্কেট, কালাশীল এলাকার মান্নান ভিউ, শেখঘাটের শুভেচ্ছা-২২৬, চৌকিদেখী এলাকার ৫১/৩ সরকার ভবন।

যতরপুরের নবপুষ্প-২৬/এ, জিন্দাবাজারের রাজা ম্যানশন, পুরানলেন এলাকার ৪/এ কিবরিয়া লজ, খারপাড়ার মিতালী-৭৪, মির্জাজাঙ্গালের মেঘনা-এ-৩৯/২, পাঠানটুলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর বাগবাড়ী এলাকার ওয়ারিছ মঞ্জিল একতা- ৩৭৭/৭, হোসেইন মঞ্জিল একতা- ৩৭৭/৮ ও শাহনাজ রিয়াজ ভিলা একতা- ৩৭৭/৯, বনকলাপাড়া এলাকার নূরানী-১৪, ধোপাদিঘী দক্ষিনপাড়ের পৌর বিপনী ও পৌর শপিং সেন্টার, এবং পূর্ব পীরমহল্লার লেচুবাগান এলাকার ৬২/বি- প্রভাতী, শ্রীধরা হাউস।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সিলেটে যেকোনো সময় বড় ধরণের ভূমিকম্প হতে পারে। এতে ধ্বসে পড়তে পারে বেশিরভাগ বহুতল ভবন। তাই বহুতল ভবনগুলো ভেঙে ফেলা বা সংস্কার এবং নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ও এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মুশতাক আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে সিলেটের অধিকাংশ স্থাপনাই উচ্চ মাত্রার ভূ-কম্পন সহ্য করতে সক্ষম নয়। সিলেট শহরে প্রায় ৪২ হাজার ভবন রয়েছে। এসবের বেশিরভাগই পুরনো ও দুর্বল, যেগুলো মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেই ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সিলেট শহরে গড়ে উঠা প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভবন নির্মাণে যথাযথ বিধিমালা মানা হয়নি। ফলে ভূমিকম্প হলে এ অঞ্চলে বিপুল প্রাণহানি ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।’

অধ্যাপক মুশতাক বলেন, ‘পুরোপুরিভাবে ভূমিকম্প মোকাবেলা সম্ভব না করা গেলেও, আগে থেকে কিছু সতর্কতা অবলম্বন এবং পদক্ষেপ নিলে এর তীব্র ক্ষয়ক্ষতি থেকে কিছুটা বাঁচা যাবে।’

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, ‘সিলেট মহানগরীতে যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো রয়েছে সেই ভবনগুলোর সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা খুব শীঘ্রই একটি পদক্ষেপ নেব। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে একটি কমিটি আছে, তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যে ভবনগুলোতে সংস্কার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা তাদের সংস্কার কার্যক্রম শেষ করে আমাদের কাছে তাদের কাগজপত্রাদি দাখিল করবে, আমরা সেটা খতিয়ে দেখে পরবর্তী নির্দেশনা দেব।’

সিলেটে এবার ভূমিকম্পের জন্য বন্ধ হলো গ্যাস কূপ খনন

ভূমিকম্পের পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতার অংশ হিসেবে সিলেট, চট্টগ্রাম ও নরসিংদী এলাকায় সব গ্যাস কূপে ড্রিলিং কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ (রোববার, ২৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) থেকে পাঠানো এক নির্দেশনায় এতথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন (বাপেক্স) জানায়, ২ দিনের মধ্যে ৪টি ভূমিকম্প প্রমাণ করে নরসিংদী জেলার উপরে অবস্থিত ভুস্তরীয় প্লাটিলেট খুবই অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এই সময়ে ভূমিতে যে কোনো ধরনের সামান্য কম্পনও ওই এলাকার ভূমিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

ফলে সিলেট, ময়মনসিংহ, ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোন জেলায় যদি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়ামে করপোরেশন পরিচালিত কোনো প্রাকৃতিক গ্যাস কূপ খনন কাজ চালু থাকে সেই ড্রিলিং কাজও ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার জন্য সাময়িক ভাবে বন্ধ ঘোষণা করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়।

একই সঙ্গে নরসিংদী জেলায় সব প্রকার ড্রিলিং কাজ ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে সাভার বাইপাইল এলাকায় আরও একবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৩.৩। উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশ উপজেলা।

এছাড়া সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরপর দু’বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এর এক সেকেন্ড পর সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে দ্বিতীয়বার ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে এটির মাত্রা ৪ দশমিক ৩। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকার বাড্ডা এলাকা।

এদিকে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে আঘাত হানা ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৭। এতে সারা দেশে ১০ জনের মৃত্যু হয়। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী। সাধারণত ভূমিকম্পের পর ছোট ছোট কম্পন বা আফটারশকের সম্ভাবনা থাকে।

যে ভূমিকম্পে মারা গিয়েছিলেন সিলেটের পাঁচ শতাধিক মানুষ

সিলেটকে ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে সবসময়ই চিহ্নিত করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। সক্রিয় ডাউকি ফল্টের কারণে এ অঞ্চলে বড় ধরণের ঝুঁকির আশঙ্কা তাদের।

গত কয়েকবছরে মাঝারি মাত্রার বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প হলেও সাম্প্রতিক অতীতে এ অঞ্চলে বড় কোন ভূমিকম্প হয়নি। ছোট ও মাঝারি ভূমিকম্পে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

তবে ১৮৯৭ সালে এ অঞ্চলে ভয়াবহ এক ভূমিকম্প হয়। ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ নামে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিলো ৮.১। উৎপত্তিস্থল ছিল মেঘালয়ের শিলং অঞ্চল (সেই সময়ের আসাম রাজ্য)। সেই ভূমিকম্পে দেড় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, সিলেটেই প্রাণহানির সংখ্যা ছিল পাঁচ শতাধিক। সিলেটের বহু বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানান, ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’-এ দেড় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, সিলেটেই প্রাণহানির সংখ্যা ছিল পাঁচ শতাধিক। সিলেটের বহু বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়, ময়মনসিংহ এবং দেশের উত্তরাঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেইবার বিভিন্ন এলাকায় ফাটল দেখা দেয় এবং সুরমা ও ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথে প্রভাব পড়ে।

তিনি জানান, ১৯১৮ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৬। উৎপত্তিস্থল ছিল শ্রীমঙ্গলের বালিছড়া। সেই সময় শ্রীমঙ্গল ও ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চ

‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’
আজ থেকে ১২৬ বছর আগের কথা। ১৮৯৭ সাল। জুন মাসের ১২ তারিখ। বছরের প্রায় মাঝামাঝি সেই সময়ে শনিবার বিকেলে শিলং আঘাত হানে একটি ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে সেটির মাত্রা ছিল ৮.১। ভয়াবহ সব ক্ষতির খবর আসতে শুরু করে।

আসামের তৎকালীন প্রধান কমিশনারের মতে, এই ভূমিকম্পে চেরাপুঞ্জি পাহাড় ও সিলেট জেলায় সাড়ে নয় শ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। প্রচুর বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছিল। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইতিহাস বিভাগের যৌথ এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ঢাকা থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু এরপরও আহসান মঞ্জিলসহ অসংখ্য ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

কথিত এই ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ বা ভারতবর্ষের মহাভূমিকম্প নিয়ে তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকারের মুখপত্র ‘দ্য ইংলিশম্যান’ পত্রিকায় একের পর এক বিবরণ আসতে থাকে। প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পটির দালিলিক প্রমাণ রাখার উদ্দেশ্যেই ওই পত্রিকার বিবরণী পরবর্তী সময়ে স্থান পেয়েছে পুস্তকে। ‘দ্য আর্থকোয়েক ইন বেঙ্গল অ্যান্ড আসাম’ শীর্ষক বইয়ে ইংলিশম্যানের প্রতিবেদনগুলো পুনরায় মুদ্রিত হয়। সেসব বিন্যস্ত হয়েছে কালানুক্রমিকভাবে।

১৮৯৭ সালের সেই বিধ্বংসী ভূকম্পনের পর তৎকালীন পূর্ববঙ্গের কী রূপ সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তার একটি ধারণা পাওয়া যায় এই বই থেকে। বইয়ে সূত্র হিসেবে ইংলিশম্যান পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে অনেক প্রাসঙ্গিক তথ্যও উদ্ধৃত হয়েছে, পাশাপাশি অনেক প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরও জবানবন্দি উঠে এসেছে।

ভূমিকম্পের মাত্র দুদিন পর ইংলিশম্যান পত্রিকায় জুন ১৪-তে লেখা হয়েছে, ‘শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর ভারত জুড়ে যে মহাভুমিকম্পটি হয়েছে, তা নিয়ে এখনই নির্ভুলভাবে কিছু বলা অসম্ভব। তবে বর্তমান প্রজন্ম এই ধরনের কোনো ঘটনা তাদের জীবদ্দশায় দেখেনি আর যেসব দেখেছে, এর তীব্রতা যে সব কটিকেই ছাড়িয়ে গেছে, তাতে সন্দেহ সামান্যই। আমাদের টেলিগ্রাম থেকে এটি জানা গেছে যে ভূকম্পনের ঢেউটি বাংলা, মণিপুর, আসাম এবং বম্বেতে কম-বেশি সব জায়গাতেই অনুভুত হয়েছিল। ভূমিকম্পের ব্যাপ্তি থেকে ধারণা করা যায় যে এটা একদিকে বিহার অন্যদিকে মধ্য প্রদেশকে স্পর্শ করেছিল। একই সঙ্গে আরেক দিকে দার্জিলিং এবং শিমলার মতো দূরবর্তী জায়গায়ও এর কম্পন অনুভূত হয়েছে।’

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ভুমিকম্পের তরঙ্গের শক্তি কলকাতার মতো দার্জিলিংয়েও তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। ত্রিপুরার কসবা থেকে টেলিগ্রাফযোগে একজন সংবাদদাতা জানিয়েছেন, আসাম-বাংলা রেলপথে ১০০ মাইলেরও বেশি সীমানা জুড়ে কম্পন মারাত্মকভাবে অনুভুত হয়েছিল এবং শমশেরনগরে একটি ট্রেন উল্টেও গিয়েছিল। খবর আসে, মিশ্র যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে মন্টোল্লায় আটকে যাওয়ার। এই দুটি উদাহরণ থেকে অনুমান করা যায় এই ভূমিকম্পের তীব্রতা: একটি ভূমিকম্প, যা সেতু ধ্বংস করেছে এবং ট্রেন লাইনচ্যুত করে দিয়েছে, এবং এটা মানুষের জন্য কতটা ভয়ংকর হতে পারে।

সিলেটের ক্ষয়ক্ষতি

সিলেটের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রবীণদের স্মৃতিতেও এই ভূমিকম্প ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। তারা অন্য ভূমিকম্পের সাথে এটির তুলনা করে বলেছিলেন যে ওসব এর কাছে কিছুই না। স্মৃতিতে তাদের কাছে ভূমিকম্পের আগের সময়টা অন্য রকম ঠেকেছে। কিন্তু তারা ভূমিকম্পের আগাম বার্তা অনুমান করতে পারেননি। আকাশে কালো মেঘ ভরে ছির, এরপর শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। এর আগের প্রায় প্রতিটি ভূমিকম্পেই তীব্র গর্জন শোনা যেত। কিন্তু সেবার এমন কিছুই শোনা গেল না ভূমিকম্প আঘাত হানার আগে।

এমন আচমকা শুরু হলো যে, মানুষ যে দৌড়ে ঘর থেকে পালাবে, সেই সুযোগটিও পাওয়া যায়নি। প্রকাণ্ড সব গাছ মাটির কাছে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছিল। তিন মিনিটের মতো স্থায়ী হওয়া এই ভূমিকম্পটির ঢেউ উত্তর থেকে দক্ষিণের দিকে ধাবিত হয়েছিল।

মার্টিঙ্গা ফ্যাক্টরির বিপরীতে ধলাই নদীর কূল ছাপিয়ে ঢেউ ডাঙায় আছড়ে পড়ে। মুনশি বাজারে সেদিন হাট বসেছিল। মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ভূমিকম্প আঘাত হানা এলাকাবাসী প্রাণভয়ে পালাবার চেষ্টা করলেও নদীর ফাটলের মুখোমুখি হয়। শুরুতে ইংলিশম্যান পত্রিকায় সন্দেহ করা হয়েছিল, এলাকাবাসীর এসব বয়ান অতিরঞ্জিত। কিন্তু পরে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ আসতে শুরু করলে ক্ষক্ষতির পরিমাণ সঠিক ছিল বলে প্রমাণিত হয়।

আসাম-বাংলার রেলপথ করিমগঞ্জের কাছাকাছি লাইনচ্যুত হয়। তেলাগাঁওয়ের কাছে অবস্থান করা এই ভারী ট্রেনের ইঞ্জিন আর কয়েকটি ট্রাক ছাড়া বাদবাকি অংশ নিচের ধানখেতে গিয়ে পড়ে।

ভূমিকম্পে ওেলের বাঁধগুলো পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, কোথাও কোথাও নিচে চিড় ধরে গেছে। সব দিক থেকে তখন কেবল দুর্যোগের সংবাদ আসতে শুরু করে। সিলেটের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় জমিদার ছিলেন আলী ওমজিদ খান, তার বাড়ি ও তদসংলগ্ন এলাকা থেকেও ভূমিকম্পের নির্ভরযোগ্য বয়ান পাওয়া যায়:

মহররমের সময় (১১ মহররম ১৩১৫ হিজরি) হওয়ায় জনসমাগম ছিল। গুঞ্জন আছে যে জমিদারবাড়িটি পাকা হওয়ার পরও, সেখানে ১০ জন আহত হয়েছেন আর তিনজনের অবস্থা মৃত্যু-সংকটাপন্ন। ভবনটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে, প্রথমে গুজব রটেছিল যে ওমজিদ খান নিজেও এই ধ্বংসাবশেষের নিচেই চাপা পড়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জীবিত ফেরেন। এবং এলাকাবাসীর প্রিয় হওয়ায় তার জীবিত থাকার সংবাদে স্বস্তি নেমে আসে। এই ভূমিকম্পে আসাম-বাংলার যোগাযোগেও ছেদ ঘটেছিল সাময়িক সময়ের জন্য।

জুলাই ৩, ১৮৯৭-এর ইংলিশম্যান পত্রিকা থেকেও জানা যায় সিলেটের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ। পত্রিকারটির নিজস্ব প্রতিবেদক লিখেছেন, ‘ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ও অভূতপূর্ব প্রকৃতি সম্পর্কে ইতোমধ্যে সবকিছু জানানো হয়েছে, তাই আমি মোটামুটি সবচেয়ে খারাপ ক্ষতির একটি সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরার চেষ্টা করছি। চা শিল্পে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের ক্ষতি হবে– এটা বাজে কথা। আশঙ্কা হলো, এক পাউন্ড চা-ও নষ্ট হবে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে চায়ের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যদিও এর তেমন উদাহরণ নেই। তবে একটি সম্পূর্ণ চা কারখানার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। ভালো চা তৈরির অন্যান্য যন্ত্রপাতি কমবেশি ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে চা কারখানা ও প্রক্রিয়ায় চা শিল্পের জন্য যথেষ্ট অসুবিধার তৈরি করবে।

সিলেটের ফসলের ৫০ শতাংশের নষ্ট হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পাকা বাংলোগুলোর। সেখানকার বারান্দার স্তম্ভগুলো ভূমিকম্পের ধকল সহ্য করতে পারেনি। আর ভূমিকম্প শেষে হয়েছে, বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে এগিয়েছে। তবে যে বাংলোগুলোতে লোহার পিলার ছিল, সেগুলো আশ্চর্যজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পেরেছে এবং খুব বেশি ক্ষতির মুখোমুখিও হয়নি। কিন্তু মনুমুখ, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারের মতো অনেক জায়গা পলিমাটির ওপর গড়ে ওঠা, ফলে মনুমুখে ভ’পৃষ্ঠের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, এখানে চা মিল পুরো মাটির নিচে তলিয়ে গেছে।

ফেঞ্চুগঞ্জে এখন পর্যন্ত স্টিমার অফিসের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বড় লোহার গোডাউনের মেঝে নিচে দেবে গেছে এবং পুরো গোডাউনটিই যেন উপড়ে পড়েছে। করিমগঞ্জ তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, তবে মাটিতে যথেষ্ট চিড় ধরেছে। সিলেট শহর এই মুহূর্তে যেন একটা নদীর মতো। জেলা প্রশাসক, জজ, পুলিশ সুপাররা নৌকায় বসবাস করছেন। খাজাঞ্চির খাজানাখানাও মাটিতে তলিয়ে গেছে। মাটি থেকে মূল্যবান পুরোনো রেকর্ড পুনরুদ্ধারের জন্য কুলিদের নিয়োগ করা হয়েছে। অবিরাম বর্ষণে সব ছত্রখান।

সিলেটে পুরনো কূপে নতুন করে মিলল গ্যাস

সিলেটের কৈলাশটিলা গ্যাসফিল্ডের ১ নং কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে নতুন করে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। এই কপে থেকে প্রতিদিন পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানা গেছে।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডের অধীনে কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডে ৯টি কূপ রয়েছে। এরমধ্যে ১ নং কূপে ১৯৬১ সালে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায। একবার বিরতি দিয়ে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এ কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলিত হয়।

২০২৩ সাল থেকে দেশের পরনো কূপগুলো নতুন করে ওয়ার্কওভার শুরু হয়। এরমধ্যে সিলেট গ্যাসফিল্ডের আওতাধিন ১৪টি কূপের ওয়ার্কওভার চলছে। কৈলাশটিলা-১ সহ ইতোমধ্যে ৭টি কূপের ওয়ার্কওভার সম্পন্ন হয়েছে। সাতটিতেই গ্যাসের মজুদ পাওয়া গেছে।

কৈলাশটিলার-১ নম্বর কূপের ওয়ার্কওভার শেষে গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে এই প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের মজুদ পাওয়া গেছে। এখনও কিছু কাজ বাকী আছে। এসব কাজ শেষে আজকালের মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে ঘোষণা দেন।

সিলেট গ্যাস ফল্ডে সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডে এ গ্যাস যুক্ত হতে পারে।

এই সূত্র জানায়, প্রায় ৪ মাস আগে কৈলাশটিলায়-১ নম্বর কূপ ওয়ার্কওভার শুরু করে বাপেক্স। ওয়ার্কওভারকালে প্রায় ২২ হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের সন্ধান মিলে।

এরআগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের আওতাধিন রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডের ৩ নম্বর পুরোনো কূপ থেকে নতুন করে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়।

এরফলে সিলেটের কূপগুলো প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এরআগে গত বছরের ২২ অক্টোবর সিলেট গ্যাস ফিল্ডের ৭নং কূপে খননকাজ শেষে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। হরিপুরে ৭ নং কূপ থেকে দৈনিক ৭ থেকে ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পরীক্ষামূলকভাবে উত্তোলন হচ্ছে। কূপের ১ হাজার ২০০ মিটার গভীরতায় এ গ্যাস পাওয়া গেছে।

তারও আগে ওই বছরের ২৪ মে খননকাজ শেষে সিলেটের কৈলাশটিলা গ্যাস ক্ষেত্রের ৮নং কূপে দৈনিক ২১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার যায়। কূপের ৩ হাজার ৪৪০ থেকে ৫৫ হাজার ফুট গভীরতায় গ্যাস পাওয়া যায়।

জানা যায়, সিলেট গ্যাসফিল্ড লিমিটেযের আওতাধিন কূপগুলোতে চলমান আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ হবে। খনন চলমান থাকা অন্য সকল কূপে আশানুরূপ গ্যাস পাওয়া গেলে শুধুমাত্র এই কোম্পানি থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে ২৫০ মিলিয়ন গ্যাস যুক্ত করা সম্ভব বলছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কয়েকটি অনুসন্ধান কূপ ও ওয়ার্কওভারের কাজ চলছে।

গতবছরের ২৭ জানুয়ারি সিলেট গ্যাসফিল্ডের আওতাধীন রশিদপুরের ২ নং কূপে গ্যাসের নতুন স্তরের সন্ধান মেলে। যার পরিমাণ প্রায় ১৫৭ বিলিয়ন ঘনফুট।

তারও আগে ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর দেশের সবচেয়ে পুরানো গ্যাসক্ষেত্র হরিপুরের ১০ নম্বর কূপে গ্যাসের সন্ধান মেলে। খনন কাজ শেষে ওইদিন গ্যাস প্রাপ্তির তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)।
আর ওই বছরের ২২ নভেম্বর সিলেটের কৈলাশটিলায় পরিত্যক্ত ২ নং কুপ থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। এখান থেকে দৈনিক ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।

সিলেটের হরিপুরে প্রথম গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৫৫ সালে। এরপর আবিষ্কার হতে থাকে একের পর এক গ্যাসক্ষেত্র। বর্তমানে এসজিএফএল-এর আওতায় পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। সেগুলো হলো- হরিপুর গ্যাসফিল্ড, রশীদপুর গ্যাসফিল্ড, ছাতক গ্যাসফিল্ড, কৈলাশটিলা গ্যাসফিল্ড ও বিয়ানীবাজার গ্যাসফিল্ড। এর মধ্যে ছাতক গ্যাসফিল্ড পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে।