Thursday, April 9, 2026
Home Blog Page 49

মাইলস্টোনে মেয়েকে বাঁচাতে প্রাণ দিলেন মা

রাজধানী ঢাকার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন মেহেরপুরের গাংনীরে মেয়ে রজনী। বিমান বিধ্বংস হওয়ার পর শিশু কন্যাকে বাঁচাতে শ্রেণী কক্ষের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। তবে তার আগেই তার কন্যা শিশু স্কুলের বাইরে বের হয়ে যায়। 

এতে শিশুটি রক্ষা পেলেও অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঢাকা সিএমএস হাসপাতালের বার্ন ইউনিটি ইউনিটে মারা যান রজনী। রজনী ভেবেছিলেন তার বাচ্চা শ্রেণিকক্ষেই রয়েছে। 

নিহত রজনী মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাওট গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়ে।

রজনীর স্বামী জহিরুল ইসলামের ব্যবসায়িক সূত্রে তিন সন্তান নিয়ে রাজধানী ঢাকায় বসবাস করতেন। জহিরুলের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চর সাদিপুর গ্রামে। সেখানেই তার মরদেহ দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। 

এই ঘটনায় রজনীর পিতার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে বইছে শোকের ছায়া। 

পোড়া শরীর নিয়ে বের হয়ে শিশুটি বলল–‘ভাইয়া আমাকে ধরো’

রোবাইদা নূর আলবিরা মাইলস্টোনের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। পোড়া শরীর নিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসে শিশুটি। আলবিরা এমন অবস্থা থেকে ওকে বাঁচাতে এগিয়ে যায় একাদশ শ্রেণির ছাত্র সায়েম খান।

সোমবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সায়েম খান বলেন, ‘হঠাৎ বিকট শব্দ। দেখি আগুন জ্বলছে। এতো আগুন যে কাছে যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। এর মধ্যে একটা বাচ্চাকে এগিয়ে আসতে দেখি। আমাকে দেখে ও বলছিল–ভাইয়া আমাকে ধরো। কাছে এগিয়ে যেতেই আমার কাঁধের ওপর পড়ে যায়। ওর আইডি কার্ড আমি আমার কাছে রাখি। রিকশায় উঠে যখন হাসপাতালে রওনা দিই, তখন আরেক আন্টি বলছিলেন– বাবা আমার মেয়েকে হাসপাতালে নেও। দু’জন রিকশায় নিয়ে উত্তরায় একাধিক হাসপাতাল ঘুরতে থাকি। কোথাও তেমন চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেনি। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে আলবিরাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে আসি।’

ঢাকা মেডিকেলে আলবিরার মা রওশন ইয়াসমিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি সমকালকে বলেন, সায়েম না বাঁচালে আমার মেয়ের কী হতো জানি না। ওকে আগে থেকে চিনি না। স্কুলের বড় ভাই হিসেবে সায়েম যে উদাহরণ তৈরি করেছে তা আমাদের পরিবারের জন্য আশর্বীদ।

ঢামেকের বার্ন ইউনিটের পঞ্চম তলায় চিকিৎসাধীন আলবিরা। শিশুটির মায়ের কাছ থেকে ‘বিদায়’ নিচ্ছিলেন সায়েম। এসময় আলবিরার স্কুলের আইডি কার্ড তার মায়ের হাতে তুলে দেন। সায়েম বললেন–‘আন্টি এখন বাসায় যাচ্ছি। আবার আলবিরার খোঁজ নিতে আসব।’ এসময় চোখের কোনা অশ্রুসিক্ত আলবিরার মায়ের।

নাতনির জন্য দাদার মাতম, মেয়েকে খুঁজে পাগলপ্রায় বাবা

‘আমার নাতনিকে খুঁজে দাও। আমার এতিম নাতনি কোথায় আছে? আরও কয়েক জায়গায় খুজেঁছি’। কথাগুলো ঢাকার উত্তরার আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মা-বাবাহারা নাতনি শারমিনকে খুজঁতে আসা দাদা হারুণের।

‘আমার নাতনির কোনো ছবি নাই, আমার কোনো মোবাইল নাই, আমার নাতনি ক্লাস এইটে পড়ে’, বলতে বলতে চোখ মুছছিলেন ৬৫ বয়সী এই বৃদ্ধ।

সোমবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করার পর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। এতে স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী আহত এবং অনেকে নিহত হয়। অনেকে গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়। আহতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে উত্তরার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আহতদের মধ্যে ১৬০ জনকে নিয়ে আসা হয় উত্তরার আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তবে সেখানে আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় বেশিরভাগ রোগীকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।

হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কথা হয় শিশুদের খোঁজে আসা অভিবাবকদের সঙ্গে।

হারুণ বলেন, নাতনিকে খুজঁতে গাজীপুর থেকে এসেছি। আমার নাতনি শারমিন মাইলস্টোন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বাবা-মা ছোটবেলায় মারা যাওয়ার পর নাতনিকে নিজের কাছে রেখে বড় করেছি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জানায় এখানে শারমিন নামে কেউ নেই। একজন কর্মচারীও তাকে জানান, শারমিন নামের কেউ সেখানে নেই। ওনাকে (হারুণ) ঢাকা মেডিকেল বা বার্ন ইউনিটে পাঠানোর চেষ্টা করছি। কোনো অ্যাম্বুল্যান্স বা গাড়ি পেলে ওনাকে পাঠিয়ে দেবো।

হারুণের মতোই সন্তান, স্বজনের খোঁজে উত্তরার হাসপাতালটিতে অনেককে ভিড় করতে দেখা যায়। তবে হাসপাতালটির ভেতরে ও বাইরে তখন হাজারো মানুষের জটলা। কেউ কেউ হাসপাতালে ঢুকতে কাকুতি মিনতিও করেন। মোবাইলে ছবি নিয়ে খোঁজ করতেও দেখা যায় অভিবাবকদের। কাউকে স্কুলের শিক্ষক ও অন্য অভিবাবকদেরও ফোন করতে দেখা যায়।

এসময় মাইকিং করতে শোনা যায়, এখানে কোনো সিরিয়াস রোগী নেই। রোগী না পেলে বার্ন ইউনিটে যোগাযোগ করুন।

আরেক নারী এসে বলেন, আমার বোনের মেয়ে মাহফুজাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। এসময় একজন স্বেচ্ছাসেবী তাকে জরুরি বিভাগের ভেতরে নিয়ে যান।

সায়মাকে খুঁজতে হাসপাতালে এসেছেন তার দুই বোন পারভীন ও মুক্তি। তাদের মাঝে চাপা ভয় বোনকে হারানোর।
তারা জানান, শিক্ষক ও অন্যান্য অভিভাবক কেউ তার বোনের খোঁজ দিতে পারছেন না।

বিকাল ৪টায় হাসপাতালটিতে জবা নামে এক শিশুর আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ করেন ভলেন্টিয়াররা।

মাইলস্টোন স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিজভীকে খুঁজতে হাসপাতালের প্রতিটি ফ্লোর দৌড়ে বেড়াচ্ছিলেন তার চাচা।তিনি বলেন, আমার ভাতিজা স্কুলে গিয়েছিল। দুর্ঘটনার কথা শুনে স্কুলে যাই। সেখান থেকে বলা হয় সবাইকে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এজন্য আমরা দুপুর দেড়টা থেকে উত্তরার বিভিন্ন হাসপাতালগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছি।

এদিকে তৃতীয় শ্রেণির নিধিকে খুঁজছিলেন তার বাবা ফারুক। বিভিন্ন হাসপাতালে নিজের সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। অন্যদিকে, শিক্ষার্থী জাহেরাকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন মা লামিয়া আক্তার। সামান্য আহত অবস্থায় জাহেরাকে পাওয়া গেলেও মায়ের খোঁজে হাসপাতালগুলোতে যাচ্ছেন স্বজনরা।

৮ম শ্রেণির ছাত্র ফাহাদ সামান্য আহত হয়েছেন। এই শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাস ছুটির ৫-৬ মিনিট পর বিমান আছড়ে পড়ে স্কুল ভবনে। আমি ভেতরে থাকলে আহত কিংবা নিহত হতে পারতাম। আমার দুই বন্ধু নিহত হয়েছে।

হাসপাতালের প্রত্যক্ষদর্শী কর্মচারীরা জানান, দেড়টার পর থেকেই প্রচুর আহত হাসপাতালটিতে আসতে থাকে। এর মধ্যে মৃত দুইজন ছিল। আহতদের সবাই আগুনে পোড়া। কারও কারও শরীরের চামড়া পুরো পুড়ে গেছে।

হাসপাতালটির চিকিৎসক জোবায়ের বলেন, রোগীদের মধ্যে ৬-৯ বছর বয়সীই বেশি। এখন যারা আছে তাদের স্যালাইনে রাখা হয়েছে। বেশিরভাগের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখানে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে উত্তরার হাসপাতালগুলো থেকে রোগীদের নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের দিকে ছুটে চলছে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স। রোগী পৌঁছে দিয়ে ফেরত আসা অ্যাম্বুলেন্স চালক জাহাঙ্গীর বলেন, তিনজন রোগী নিয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে গেছি। পথে একজন মারা গেছে।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক এস এম রাকিবুল ইসলাম আকাশ বলেন, দুপুরের পর থেকে আমাদের হাসপাতালে ১৬০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে ৪০-৪৫ জনের অবস্থা গুরুতর ছিল, সবার শরীর ৭০-৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। এখন ২৩ জন উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল আছে।

স্কুল থেকে ছেলে ফিরলেও ফেরেননি মা

প্রতিদিনের মতো সোমবার দুপুরেও স্কুল থেকে ছেলেকে আনতে যান আফসানা আক্তার টিয়া (২৮)। কিন্তু ছেলে একা বাসায় ফিরলেও ফেরেননি মা আফসানা।

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আফসান ওহি। তার মা এখন পর্যন্ত নিখোঁজ। পরিবার বলছে, হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান মেলেনি ওহির মা আফসানা আক্তারের।

শিক্ষার্থী ওহির চাচা হাসিবুল জাগো নিউজকে বলেন, তৃতীয় শ্রেণিতে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আফসান ওহি। প্রতিদিন ওহির মা স্কুল ছুটির পর ওহিকে বাসায় নিয়ে আসত। আজ দুপুরেও সে স্কুলে যায়। ক্লাস ছুটি হয়ে গিয়েছিল ওহির। স্কুলের ওয়েটিং রুমের সামনে দাঁড়িয়েছিল ওহির। ছেলের সঙ্গে মায়ের দেখাও হয়। ছেলের কাছ থেকে ব্যাগ নেয় তার মা। ঠিক ওই মুহূর্তেই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনাটি ঘটে। সব হাসপাতাল খুঁজেও কোনো সন্ধান মেলেনি।
বিমান বিধ্বস্তে নিখোঁজ রাইসা মনি, সন্ধান চায় পরিবার
তিনি বলেন, ওহি নিরাপদে বাসায় ফিরেছে। কিন্তু তার মায়ের এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। উত্তরা দিয়াবাড়ি ফায়ার সার্ভিসের সামনের একটি বাসায় থাকতেন।এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জন নিহত এবং ১৭১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫০ জনের বেশি দগ্ধ অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। সরকার এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ জুলাই) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

বিমান বিধ্বস্তে নিখোঁজ রাইসা মনি, সন্ধান চায় পরিবার

ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় রাইসা মনি নামের এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

সোমবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রাইসা মনি ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। কোড- ২০১০, সেকশন-স্কাই।
বিমান বিধ্বস্তে নিখোঁজ রাইসা মনি, সন্ধান চায় পরিবার
নিখোঁজ রাইসা ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বাজড়া গ্রামের শাহাবুল শেখের মেয়ে। তিনি ঢাকার মিরপুর এলাকার বাসিন্দা ও একজন ব্যবসায়ী।

রাইসার চাচাতো ভাই তারিকুল শেখ জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আমার চাচা শাহাবুল শেখের বাসা ঢাকার মিরপুরে। আমার চাচাতো বোন রাইসা মাইলস্টোনে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার পর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। বিভিন্ন স্থান ও হাসপাতালে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

রাজধানীর উত্তরায় বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত

রাজধানীর উত্তরায় বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সোমবার দুপুরে উত্তরা মাইলস্টোন কলেজ এলাকায় এটি বিধ্বস্ত হয় বলে জানা গেছে। এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ বিমান রাজধানীর উত্তরায় বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটি আজ সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে।

এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম গণমাধ্যমকে জানান, তারা দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে সংবাদ পান যে উত্তরা মাইলস্টোন কলেজের কাছে একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে তাদের তিনটি ইউনিট কাজ করছে। আরও দুটি ইউনিট যোগ দিচ্ছে।

রাতের সিলেটে বাড়ছে আতঙ্ক

রাত তখন একটা। দুই বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সবুজ। পথে কাটাখাল ব্রিজে দেখা মিললো পুলিশের। ঠিক আধা কিলোমিটার দূরে যেতেই লাশ হলেন সবুজ। ছিলেন মোটরসাইকেলে। ড্রাইভ করছিলেন নিজেই। ডাকাতরা ব্রিজের রেলিংয়ে এপাশ থেকে ওপাশে রশি টানিয়ে রাখলো। অন্ধকারে রশি না দেখে ব্রিজে উঠতে গলায় রশি পেঁচিয়ে মারা যান সবুজ। দুই বন্ধু গুরুতর আহত হন।

বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের দ্বিতীয় তেলিখাল ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে আতঙ্ক বেড়েছে কোম্পানীগঞ্জে। শুধু এ ঘটনাই নয়, কোম্পানীগঞ্জ জুড়ে এখন চুরি ও ডাকাতি নিয়ে আতঙ্ক। যে সড়কে ডাকাতের হাতে সবুজ মারা গেছে সেই সড়কের ডাকাতির ঘটনা এবারই নয়। বর্ষা এলেই ডাকাতি বাড়ে। ঘটনার পর শুক্রবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল আলীম।

স্ট্যাটাসে তিনি বলেন-‘কোম্পানীগঞ্জে ২-৩ দিন পর পর রাস্তায় রশি বেঁধে ডাকাতি হচ্ছে। ব্যাপারটি খুবই উদ্বেগের। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে আছেন। থানা পুলিশের ঘুম আর কখন ভাঙবে?’ স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন- ‘গত এক সপ্তাহ আগে আমার ডাক্তার দেখিয়ে দেরি হওয়ায় রাত ১১টার দিকে আম্বরখানা থেকে বাড়িতে আসার জন্য ফোন দিয়ে রাস্তায় পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। কারণ আমার সঙ্গে ৪০ হাজারের মতো টাকা ছিল। তারা বলেছিল পুলিশ নাকি সিএনজি দিয়ে রোডে টহল দিচ্ছে। তাদের কথায় রওয়ানা দিয়ে পুরো রাস্তায় দুরুদ আর কালেমা পড়ে পড়ে থানা পর্যন্ত এলাম। কিন্তু কোথায়ও কোনো জায়গায় পুলিশ দেখিনি।

৪ দিন আগে উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তাকে রশি বেঁধে মোবাইল ফোন ও নগদ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে ডাকাতদল।’ এ কথা কেবল সাংবাদিক আলীমের নয়। গোটা কোম্পানীগঞ্জের মানুষেরও। ডাকাতদের ফাঁদে সবুজ নিহত হওয়ার পর পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকায় সরব মানুষ। তবে কোম্পানীগঞ্জের পুলিশের ভাষ্য হচ্ছে- পুলিশের একাধিক টিম ওইদিন টহলে ছিল। পুলিশ একদিকে গেলে অন্যদিকে ডাকাতি হয়। আর বর্ষার মৌসুম হওয়ায় ডাকাতরা নৌকাযোগে এসে ডাকাতি করে চলে যায়। তাদের ধরা সম্ভব হচ্ছে না। কোম্পানীগঞ্জের একই সড়কের আগের সারি-গোয়াইনঘাটের ডাকাতির একটি ভিডিও প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ভাইরাল হয়। রাত ১টার দিকে লাফনাউটের একটি ব্রিজের কাছে ওই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

একটি বেসরকারি কোম্পানীর চলতি একটি গাড়ির সামনে দা ও রামদা নিয়ে দাঁড়ায় কয়েকজন যুবক। কাছে এসে থামতেই ডাকাতরা গাড়ি থেকে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনাটিও নৌ-ডাকাতরা ঘটিয়েছে বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন। সিলেটের জকিগঞ্জে কয়েকটি ডাকাতি ও চুরি সংঘটিত হয়েছে। কানাইঘাটের দুর্গম এলাকাতেও বেড়েছে চুরি। সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা সিনিয়র এসএসপি সম্রাট হোসেন মানবজমিনকে জানিয়েছেন- পুলিশের পক্ষ থেকে টহল বাড়ানো হয়েছে। বর্ষাকাল ও দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে দুর্বৃত্তরা মাথাচাড়া দেয়ার চেষ্টা করছে। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। টহল আরও বাড়ানো হয়েছে।স্মার্টফোনের অফার

কোম্পানীগঞ্জের ঘটনার পর পুলিশ অভিযানে রয়েছে বলে জানান তিনি। সিলেটের ধোপাগুল ও ভোলাগঞ্জ এলাকার স্টোন ক্রাশার মিল মালিকরা জানিয়েছেন- জেলা প্রশাসকের অভিযানের দুটি এলাকায় শতাধিক স্টোন ক্রাশার মিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় স্টোন ক্রাশার মিলে চুরি হচ্ছে। গত ১৫ দিনে অন্তত ৫-৬টি স্টোন ক্রাশার মিলে চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়টি তারা পুলিশকেও অবগত করেছেন।

ভোলাগঞ্জের বিএনপি নেতা ও পাথর আমদানি ও রপ্তানিকারক আক্তারুজ্জামান নোমানের বাাসায়ও দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। চোররা দরজা ভেঙে মোবাইল, ল্যাপটপসহ নগদ টাকা লুটে নিয়েছে। জৈন্তাপুরের সারিঘাটসহ কয়েকটি এলাকায় প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এদিকে- রাতের সিলেট নগরেও বেড়েছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা ঘটনা। কয়েকটি ঘটনা জনমনে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। বুধবার রাতে নগরের মেজরটিলার মোহাম্মদপুরের ১নং গলির একটি বাসায় ডাকাতি হয়েছে।

প্রবাসী পরিবারের এক বৃদ্ধা একাই বাসায় ছিলেন। ভোররাতে ডাকাতদল তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বৃদ্ধাকে ছুরিকাঘাত করে বাসা লুট করে। ঘটনার পর পুলিশ ওই বাসা তদন্ত করেছে। ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্তে নেমেছে। মোহাম্মদপুরের এই ডাকাতির ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। নগরের চুরির হওয়ার নানা দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাসছে। সিসিটিভি ফুটেজে চোরদের কার্যক্রম ধরা পড়ার পর এই ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাড়া হয়। নগরে পাড়াভিত্তিক চুরি ছিনতাই বেড়েছে।

গত সপ্তাহে নগরের নয়াসড়কের একটি স্কুলে ও মিরাবাজারে চুরির সময় দুই চোরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা এডিসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সিলেট নগরে মধ্যরাত থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারাও মাঠে টহলের দায়িত্বে থাকেন। গলিপথে কিছু কিছু ঘটনা ঘটলেও পরবর্তীতে আইনি উদ্যোগ নিয়ে গেলে বাদী পাওয়া যায় না। তবে ঘটনাকারীদের ধরতে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে বলে জানান তিনি।

২০ বছর কোমায় থাকার পর মারা গেলেন সৌদি আরবের ‘স্লিপিং প্রিন্স’ আল ওয়ালিদ

সৌদি আরবের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন খালেদ বিন মুসাইদ আল সৌদ ২০ বছর কোমায় থাকার পর মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘স্লিপিং প্রিন্স’ নামে পরিচিত ছিলেন।

২০০৫ সালে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর তিনি কোমায় চলে যান। এরপর থেকে তিনি রিয়াদের কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর সৌদি রাজপরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন খালেদ সৌদি আরবের প্রয়াত কিং খালেদ বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের নাতি ছিলেন। তার বাবা প্রিন্স খালেদ বিন মুসাইদ ১৯৮৫ সালে একটি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন।

প্রিন্স আল ওয়ালিদের নিহতের ঘটনায় সৌদি রাজপরিবার ও দেশজুড়ে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। ওয়ালিদের দাফন রাজধানী রিয়াদের আল উদ কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে।

তার দীর্ঘ কোমা ও মৃত্যু সৌদি আরবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে চিকিৎসা ও দুর্ঘটনা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানানো হচ্ছে।

সূত্র: গালফ নিউজ।

‘মা আমার জন্য দোয়া করিও, আমি আন্দোলনে যাচ্ছি’

‘মা আমার জন্য দোয়া করিও আমি আন্দোলনে যাচ্ছি।’ ‘আমি যদি দেশের জন্য আমি যদি শহীদ হই, তাহলে আমার কোনো দুঃখ নেই।’ ‘আমি মারা গেলে আমার জন্য দোয়া করিও।’ ছেলের স্মৃতি স্মরণ করে প্রতিবেদকের কাছে কথাগুলো বলেছিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সিলেট নগরীতে গুলিতে নিহত হওয়া শহীদ ক্বারী হাফেজ কামরুল ইসলাম পাবেলের মা দিলারা বেগম।

বুক ফাঁটা আর্তনাদ আর ছেলের ছবি বুকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে দেশের জন্য শহীদ হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল তরঙ্গে শত শত ছাত্র-জনতার সাথে ছিলেন মাদরাসা পড়ুয়া ছাত্র ক্বারী হাফেজ কামরুল ইসলাম পাবেল। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে নগরীর ক্বীন ব্রিজের পাশে আলী আমজদের ঘড়ির সামনে গুলিবিদ্ধ হন ক্বারী হাফেজ কামরুল ইসলাম পাবেল। তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এমন ঘটনার পর শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পাবেলের পরিবারসহ পুরো উপজেলা।

শহীদ কামরুল ইসলাম পাবেলের মা দিলারা বেগম বলেন, ‘গত বছরের ৫ আগষ্ট সকালে আমাকে ফোন দিয়ে বলে মা আমার জন্য দোয়া করিও আমি আন্দোলনে যাচ্ছি। এসময় দেশের অবস্থা ভালো না থাকায় আমি আমার ছেলেকে নিষেধ করি আন্দোলনে না যাওয়ার জন্য। কিন্তু সে আমার কথা শুনেনি। রাতে খবর পাই আমার ছেলে গুলিতে মারা গেছে। কথাগুলো বলার সময় তিনি বুক ফাঁটা আর্তনাদ আর ছেলের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েন।’

শহীদ কামরুল ইসলাম পাবেলের বাবা রফিক উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে সিলেটে মাদরাসায় পড়তো। সর্বশেষ গত বছরে ৩০ জুলাই বাড়িতে আসছিলো। এরপর আবার সে সিলেটে চলে যায়। ৫আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আমার ছেলে মারা যায়। আমার ৪ ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে কামরুল ইসলাম পাবেল ছিল তৃতীয়। আমার ছেলে দেশের জন্য শহীদ হয়েছে। তার যথাযত মূল্যায়ন হলে তার আত্মা শান্তি পাবে।’

শহীদ কামরুল ইসলাম পাবেলের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের নিজ ঢাকাদক্ষিণ গ্রামে। তিনি ঢাকাদক্ষিণ দারুল উলুম মাদরাসায় লেখাপড়া করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে ৩০ পারার মধ্যে ২৮পারা কোরআন শরীফ মুখস্থ করেছেন। আরও ২পারা শেষ করার আগেই তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। হিফজ শেষ করে হাফেজের সনদও তুলতে পারেন নি পাবেল।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সিলেট নগরীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মিছিলে অংশ নেন কামরুল ইসলাম পাবেল। এসময় নগরীর কিনব্রিজের পাশে গুলিবিদ্ধ হন। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিমানের ‘চাকায় ত্রুটি’, দুবাইতে আটকা ২৭৫ যাত্রী

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকামুখী একটি ফ্লাইটের ২৭৫ জন যাত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওই নগরীতে আটকা পড়েছেন। (খবর: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের ওই উড়োজাহাজ বুধবার রাত থেকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘গ্রাউন্ডেড’ হয়ে আছে; অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা থেকে চাকা যাওয়ার।

দুবাইয়ে বিমান বাংলাদেশের স্টেশন ম্যানেজার পি এম দস্তগীর বলেন, উড়োজাহাজটির আরেকটি চাকা ঢাকা থেকে সেখানে পৌঁছানোর পর ফ্লাইটটি শুক্রবার ভোরে রওনা হতে পারে।

বিমানের এ ফ্লাইট দুবাইয়ে অবতরণ করেছিল রাত ১০টা ৫০ মিনিটে। সেখান থেকে ফিরতি ফ্লাইটে রওনা দেওয়ার কথা ছিল বুধবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে স্টেশন ম্যানেজার দস্তগীর বলেন, “হেভি লোড নেওয়ার কারণে বিমানের চাকায় বাতাসের স্ফীতি কমতে পারে। উড়োজাহাজটি বিমানের বহরে অপেক্ষাকৃত নতুন সংযোজন। এটি আমাদের টরন্টো, ইউরোপের গন্তব্যেই বেশি যায়। মঙ্গলবার এটি দুবাই থেকে ক্লিয়ার করেছি, তখনো কোন সমস্যা দেখা যায়নি।”

এ ফ্লাইটের ২৭৫ জন যাত্রীর মধ্যে ৫৫ জন ঢাকার এবং বাকিরা চট্টগ্রামের। ফ্লাইটটিতে শিশু ও প্রবীণ যাত্রীও রয়েছেন।

ফ্লাইটটি বুধবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে দুবাই থেকে ৪ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট উড়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল।

পরে চট্টগ্রামে এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি শেষে ঢাকার পথে উড়াল দেওয়ার কথা ছিল। এখন এটি প্রায় ৩০ ঘণ্টা বিলম্বে শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে দুবাই ছাড়তে পারে বলে যাত্রীদের জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় আটকে পড়া যাত্রীদের দুর্ভোগে থাকার তথ্য দিয়ে ফ্লাইটটির বিজনেস ক্লাসের যাত্রী আবুধাবি প্রবাসী আবাসান ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আবুল বাশার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দেশে যাওয়ার জন্য বুধবার রাত আটটায় তিনি আবুধাবি থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।

“এখন বিলম্ব হওয়ায় নারী, শিশু, প্রবীণসহ নানা বয়সের যাত্রীরা দুর্ভোগের মধ্যে এখনো দুবাই আটকা পড়ে আছেন।”

চট্টগ্রামের পটিয়ার এই প্রবাসী বলেন, বুধবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে তাদের মূল ফ্লাইটটি ছিল। তারা বোর্ডিং পাস পেয়ে উড়োহাজাজে ওঠার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। প্রথমে বিমান থেকে তাদের জানানো হয় ফ্লাইটটি এক ঘন্টা বিলম্ব হবে। এক ঘণ্টা পর দ্বিতীয় দফায় বলা হয়, ফ্লাইট ছাড়বে রাত ৩টায়।

“এ সময়ও ফ্লাইট না ছাড়লে বিমানের দুবাই এয়ারপোর্টে কর্মরত একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তাকে একটি ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে বলেন যে, এয়ারক্রাফটটির একটি চাকায় সমস্যা দেখা গেছে। ঢাকা থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে নতুন চাকা দুবাই এসে পৌঁছালে তা লাগানো হবে।”

তবে এমিরেটসের ওই ফ্লাইটে চাকা পৌঁছেনি দুবাইতে।

কবে আসবে জানতে চাইলে বিমানের স্টেশন ম্যানেজার দস্তগীর বলেন, “এমিরেটস এয়ারলাইনস কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে ঢাকা থেকে তাদের ফ্লাইটে বিমানের চাকাটি আনতে পারেনি। তাই বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১টায় বিমানের একটি ফ্লাইটে চাকাটি আনা হচ্ছে। শুক্রবার আমিরাতের সময় ভোর সাড়ে ৫টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে দুবাই ত্যাগ করবে।

“বিমান যাত্রীদের সবাইকে হোটেল নেওয়া হয়েছে। কেবল ১২ সদস্যের একটি পরিবার নিজে থেকেই হোটেলে যেতে চাননি। তারা বিমানবন্দরের ‘লাউঞ্জেই’ থেকে গেছেন।”