Friday, April 10, 2026
Home Blog Page 55

সিলেটে অল্পের জন্য রক্ষা বর-কনের, প্রাণ গেল সাবু মিয়ার

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন অফিস বাজারের দক্ষিণ পাশে বিয়ের মাইক্রোবাস ও টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও শিশুসহ আহত হয়েছেন ১২জন।

বুধবার (১৮ জুন) বিকেল ৪টার এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় টমটম চালক নিহত হন। নিহত ব্যক্তি বারঠাকুরী ইউনিয়নের হাসিতলা গ্রামের প্রবাসী হারুন মিয়ার বড় ভাই, সাবু মিয়া (৫০)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে টমটম চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন।

ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা বর-কনে সহ বরযাত্রীদের অনেকেই গুরুতর আহত হন। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিয়ানীবাজারে মোটরসাইকেল চোরাই সিন্ডিকেটের সাথে জড়াচ্ছে তরুণরা

বিয়ানীবাজার তথা সিলেটের মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের সন্ধান পেয়েছে থানাপুলিশ। চোরাই মোটরসাইকেল প্রথমে কোথায় রাখা হয়, কিভাবে হাতবদল হয়, কারা এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তাদের সিন্ডিকেট দলের সদস্য সংখ্যা কতজন? এমন সব তথ্যের উপর ভিত্তি করে চোরাই সিন্ডিকেট রোধ করতে কাজ করছে বিয়ানীবাজার থানাপুলিশ।সিলেট ভ্রমণ গাইড

মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে এই সিন্ডিকেট চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতারের পরে এসব তথ্য বের করেছে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ। বুধবার (১৮ জুন) তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এসব ঘটনায় থানায় পৃথক ৩টি মামলা (নং ০৮, ০৯, ১০) দায়ের হওয়ার পর মাঠে নামে থানাপুলিশ কয়েকটি টিম। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রথমে পৌরশহরের খাসা শহীদ টিলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় কামরুল হাসান (২৩) নামের একজনকে। তিনি জকিগঞ্জ উপজেলার মুমিনপুর গ্রামের আব্দুল মুকিতের ছেলে। শহীদ টিলা এলাকায় ভাড়া থাকে কামরুল। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জগন্নাথপুর থানার রানীগঞ্জ এলাকা থেকে মো. আকাইদুর রহমান (২৫) নামের আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়। আকাইদ একই গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে। চুরি হওয়া তিনটি মোটরসাইকেলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানায়- জগন্নাথপুর বাঘমারা এলাকার তাজপুরস্থ সেফুল মিয়ার বাড়ীর সামনে পার্কিংয়ে গাড়িগুলো রাখা আছে, পরে পুলিশ তাদের সাথে করে নিয়ে গাড়িগুলো উদ্ধার করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার জানান, ‘আসামী কামরুল এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে মোটরসাইকেল চুরি করতে পারে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ উজ্ জামান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ছবেদ আলী পুরো তদন্ত কার্যক্রম সমন্বয় ও পরামর্শ প্রদান করেন। আদালতের কাছে আসামীদের ৫ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।’

জানা যায়, বিয়ানীবাজারে ৩০/৩৫ জনের একদল তরুণ মোটরসাইকেল চুরির সাথে জড়িত। চুরির পেছনে তাদের একাধিক মদদদাতা রয়েছেন। বিয়ানীবাজারে বর্ষা মৌসুমে সবথেকে বেশি মোটরসাইকেল চুরি বৃদ্ধি পায়। দ্রুত চোরাই মোটরসাইকেলগুলো হাতবদল হয়ে একস্থান থেকে অন্যস্থানে চলে যায়। গত ৩ মাসের ব্যবধানে বিয়ানীবাজার থেকে আনুমানিক ১০/১৫টি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। কিন্তু এই চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলের সব ঘটনায় মামলা দায়ের করতে আগ্রহী হননা ভূক্তভোগীরা।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ উজ্ জামান বলেন, ‘থানাপুলিশের সমন্বিত কার্যক্রমের সুফল এটি। আসামীদের রিমান্ডে এনে মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের পুরো তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে। আমরা ইতোমধ্যে অনেক তথ্য পেয়েছি। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সব বলা সম্ভব হচ্ছেনা।’

সিলেটে আবাসিক হোটেল থেকে অনৈতিক কাজে জড়িত ৫ জন গ্রেফতার

সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে দক্ষিণ সুরমা থানাধীন একটি আবাসিক হোটেল থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসএমপির ফেসবুক পেজ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গতকাল (১৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় দক্ষিণ সুরমার ঢাকা প্যালেস আবাসিক হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে তিনজন পুরুষ ও দুইজন নারীকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত অবস্থায় আটক করে ডিবি পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন: ফাহিম আহমেদ (২৩), রেজুয়ান আহমেদ রফি (২৪), মো. শাহীদুল ইসলাম (২৭), রিমু আক্তার (২০) এবং রানী বেগম (৩২)।

অভিযান শেষে তাদের বিরুদ্ধে সিলেট মহানগরী পুলিশ আইন, ২০০৯-এর ৭৭ ধারায় দক্ষিণ সুরমা থানায় নন-এফআইআর নং-১১৮, তারিখ: ১৭/০৬/২০২৫ রুজু করা হয়েছে। পরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে সোয়া কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার চোরাইপণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বিজিজি ৪৮ ব্যাটালিয়ন। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস, গরু ও খাদ্যপণ্য। একই সময়ে ভারত থেকে পাচারের জন্য আনান শিং মাছ আটক করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৭ জুন) ৪৮ বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিজিবি জানিয়েছে, মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বাধীন সিলেট এবং সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় তামাবিল, প্রতাপপুর, পান্থুমাই, বিছনাকান্দি, দমদমিয়া, বাংলাবাজার বিওপি কর্তৃক অভিযান চালায়। এসময় বিপুল পরিমানে ভারতীয় শাড়ি, জিলেট ব্লেড, আলট্রা ব্রাইট ক্রিম, গরু, চিনি, সাবান, বিস্কুট, শ্যাম্পু, অলিভওয়েল, টুথপেস্ট, চিংড়ি রেনু পোনা জব্দ করে। একই সময় বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ শিং মাছ জব্দ করে বিজিবি।

জব্দকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ ২ হাজার ৬০০ টাকা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্ণেল মো. নাজমুল হক। তিনি জানান, সীমান্তে নিরাপত্তারক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতার ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চোরাচালানী মালামাল জব্দ করা হয়। আটককৃত চোরাচালানী মালামাল সমূহের বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিখোঁজের পর খাল থেকে উদ্ধার মডেলের মরদেহ

শুটিংয়ে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরা হল না ভারতীয় মডেল শীতলের। পরিবারের পক্ষ থেকৈ নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি করার পর পুলিশি তদন্তে হরিয়ানার সোনিপাতের একটি খাল থেকে উদ্ধার করা হয় তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা গলা কেটে শীতলকে খুন করা হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শীতল শনিবার (১৪ জুন) বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের পরেও বাড়ি না ফিরলে পরিবারের পরিবারের পক্ষ থেকৈ নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এরপর রবিবার উদ্ধার হয় শীতলের মরদেহ। উদ্ধারের পর তা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

পানিপথের খালিলা মাজরা গ্রামের বাসিন্দা শীতল মডেলিংয়ের পাশাপাশি মিউজিক ভিডিওর কাজও করতেন। মডেলিং শুরু করার আগে শীতল কর্ণালের একটি হোটেলে কাজ করতেন। পরিচিত ছিলেন সিমি চৌধুরী নামেও।

কুলাউড়ার স্কুল ছাত্রী নাফিজা জান্নাত আনজুম হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী নাফিয়া জান্নাত আনজুম (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় প্রতিবেশী মো. জুনেল মিয়াকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার স্বীকারোক্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে ভিকটিমের বোরকা, স্কুলব্যাগ, বই ও একটি জুতা।

সোমবার (১৬ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন।

তিনি জানান, গত ১২ জুন সকাল ৭টার দিকে দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা আনজুম পাশের সিংগুর গ্রামে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের দুইদিন পর ১৪ জুন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ির পাশের ছড়ার ধারে দুর্গন্ধ পেয়ে ভিকটিমের ভাই ও মামা তার অর্ধগলিত মরদেহ খুঁজে পান। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা এবং কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ একাধিক তদন্ত টিম গঠন করে। কুলাউড়া থানার ওসি মো. গোলাম আপছার ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্যসহ একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে ছড়ার পাশের ঝোপে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ আনজুমের স্কুলব্যাগ, বই এবং একটি জুতা উদ্ধার করে। পাশাপাশি স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গঠন করা হয় ৬টি বিশেষ দল। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, প্রতিবেশী জুনেল মিয়ার মোবাইলে পর্নোগ্রাফি দেখার রেকর্ড রয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রাত ১২টার দিকে পুলিশের সামনে হত্যার দায় স্বীকার করে জুনেল।

জবানবন্দিতে জুনেল জানায়, সে দীর্ঘদিন ধরে আনজুমকে লক্ষ্য করছিল এবং তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাচ্ছিলো। ১২ জুন সকালে প্রাইভেট শেষে বাসায় ফেরার পথে জুনেল তার পথরোধ করে। আনজুম তা এড়িয়ে যেতে চাইলে জুনেল পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে এবং চিৎকার করলে গলা চেপে ধরে। এতে আনজুম অচেতন হয়ে পড়লে তাকে পাশের ঝোপে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলের আশপাশে আনজুমের বোরকা, জুতা ও স্কুলব্যাগ ফেলে দেয়।

তার দেখানো মতে পুলিশ কিরিম শাহ মাজারসংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানের পাশ থেকে ভিকটিমের বোরকাও উদ্ধার করে।

ইরানসহ ৪ দেশ মিলে ইসলামিক আর্মি গঠনের প্রস্তাব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত মোকাবিলায় সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্ককে নিয়ে ‘ইসলামিক সেনাবাহিনী’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।

দেশটির নেতা মহসেন রেজাই জানান, এই সেনাবাহিনী গঠন করা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ইসলামিক সেনাবাহিনী গঠিত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার সমীকরণে নতুন মোড় নিতে পারে এবং সংঘাত আরও বিস্তার লাভ করার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে সোমবার ভোরেও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলায় রাজধানী তেল আবিব ও বন্দরনগরী হাইফায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও অনেক আহত হয়েছেন। হামলায় ঘরবাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, টানা কয়েকদিন ধরে ইরান ও ইসরায়েলের হামলা ও পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। গত ১৩ জুন ভোরে তেহরানসহ ইরানের বেশ কিছু স্থানে পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরায়েল। পরে তীব্র শক্তি নিয়ে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। দফায় দফায় চলছে এই হামলা ও পাল্টা হামলা। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল, আল জাজিরা

সিলেটে ট্রাকের ধাক্কায় নারী চিকিৎসক নিহত

সিলেট নগরে ট্রাকের ধাক্কায় রিকশার যাত্রী এক নারী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার বেলা ১১টার দিকে নগরীর শেখঘাট এলাকার জিতু মিয়ার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামসুল হাবিব।

নিহত চিকিৎসক রহিমা খানম জেসি (৩২) সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তিনি দক্ষিণ সুরমা এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, দ্রুতগামী একটি ট্রাক এসে রিকশাকে সামনে থেকে ধাক্কা দিলে জেসি গুরুতর আহত হন। তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিকাল ৩টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিদর্শক (তদন্ত) শামসুল হাবিব বলেন, ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। চালককে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

হুররেম সুলতান: দাসী থেকে সম্রাজ্ঞী, বিতর্ক আর রহস্যে ঘেরা এক নারী

হুররেম সুলতান–যাকে নিয়ে ইতিহাসের পাতায় নানা বিতর্ক রয়েছে, তবে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে তিনি ছিলেন অটোমান সাম্রাজ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী, ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী শাসক সুলতান সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের প্রিয় স্ত্রী এবং একজন রহস্যময় ব্যক্তিত্ব। যার লিগ্যাসি বা পরম্পরা নিয়ে এখনো লেখালেখি হচ্ছে, নতুন ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হচ্ছে, সেইসঙ্গে তকে নিয়ে হারানো অনেক তথ্য পুনরুদ্ধারের কাজও চলছে।

হুররেম সুলতান মারা যান ১৫৫৮ সালে। মৃত্যুর চারশ বছরের বেশি সময় পরে এখনো এই ব্যক্তিত্ব ইতিহাসপ্রেমীদের মুগ্ধ করে চলেছেন। হুররেম সুলতান, যার আরেক নাম রক্সেলানা, তিনি কেবল সম্রাটের একজন উপপত্নী বা সঙ্গিনী বা স্ত্রী-ই ছিলেন না; বরং দাসত্ব থেকে সাম্রাজ্যের প্রভাবশালী অবস্থানের চূড়ায় ওঠার এক অসাধারণ যাত্রা পাড়ি দিয়েছেন তিনি।নিজেকে ভেঙেচুড়ে এমনই এক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিলেন যা ষোড়শ শতাব্দীর অটোমান রাজদরবারের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন রূপ এনে দিয়েছিলো।

১৪শ শতক থেকে ২০শ শতকের শুরুর দিকে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকায় আধিপত্য বিস্তার করেছিলো অটোমান সাম্রাজ্য।যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘস্থায়ী সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত।

অনেক ইতিহাসবিদের মতে, হুররেমের উত্থানের মধ্য দিয়ে মূলত নারীদের সালতানাতের একটি পর্ব শুরু হয়েছিল যখন অটোমান বা উসমানীয়দের শাসনে রাজপরিবারের নারীদের নজীরবিহীন প্রভাব বিস্তার করতে দেখা গিয়েছিল। তুর্কি ভাষায় একে ‘কাদিনইয়ার সালতানাতে’বলা হতো। যার অর্থ নারীদের শাসন করার বা নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছানো।

মূলত হুররেমের উত্থানের সঙ্গে রাজ্যের নারীদের এমন অভূতপূর্ব প্রভাব বিস্তার শুরু হয়েছিল। অটোমান বা উসমানীয় সাম্রাজ্যে সুলতানের প্রাসাদের ভেতরে হারেম ছিল। এই হারেম হলো প্রাসাদের আলাদা একটি অংশ যেখানে সুলতানের স্ত্রী, উপপত্নী, পরিবারের নারী সদস্য এবং নারী দাসীরা থাকতেন। এই অটোমান হারেমে হুররেমের থাকার সময়কাল এবং তার পরবর্তী সময় বিশদে নথিভুক্ত আছে।

তবুও শত শত বছর পেরিয়ে গেলেও, হুররেমের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে, অর্থাৎ তিনি কোথা থেকে এসেছিলেন সে নিয়ে রহস্য ও বিতর্ক এখনো রয়ে গিয়েছে। তিনি ইউক্রেন অঞ্চল থেকে অপহৃত কোনো বন্দি, অর্থোডক্স পুরোহিতের কন্যা, নাকি — অপ্রত্যাশিত তত্ত্ব অনুযায়ী— জলদস্যুদের দ্বারা অপহৃত কোনো ইতালীয় অভিজাত নারী ছিলেন?
হুররেম সুলতান: দাসী থেকে সম্রাজ্ঞী, বিতর্ক আর রহস্যে ঘেরা এক নারী
বন্দিদশা থেকে রাজদরবার পর্যন্ত

বেশিরভাগ ইতিহাসবিদদের মনে করেন, হুররেম সুলতান ১৫শ শতকের শুরুর দিকে রুথেনিয়া নামে এক ঐতিহাসিক অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন; আজকের দিনে যা ইউক্রেন, পোল্যান্ড এবং বেলারুশের কিছু অংশ জুড়ে ছিল। জন্মের পর হুররেমের নাম কী ছিল সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো রেকর্ড নেই। কিছু ইউক্রেনীয় সূত্র তাকে আলেকজান্দ্রা লিসোভস্কা বা আনাস্তাসিয়া হিসেবে উল্লেখ করে।

অন্যরা মনে করেন– তিনি পশ্চিম ইউরোপে লা রোসা (লাল), রোজানা (মার্জিত গোলাপ), রোকসোলান (রুথেনিয়ান নারী), রোকসানা বা রোক্সেলানার মতো নামে পরিচিত ছিলেন। তবে, সরকারি অটোমান নথিতে তাকে হাসেকি হুররেম সুলতান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফার্সি ভাষায় ‘হুররেম’অর্থ সুখী বা আনন্দময়, এবং ‘হাসেকি’হলো সুলতানের সন্তানের মায়ের জন্য সংরক্ষিত একটি সম্মানসূচক উপাধি। কিছু সূত্র দাবি করে যে, হুররেম একজন অর্থোডক্স পুরোহিতের কন্যা ছিলেন, আবার অনেকে মনে করেন যে তিনি একটি কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

তুরস্কের অধ্যাপক ফেরিদুন এমেচেন এমন কিছু নথিপত্র পাওয়ার কথা বলেছেন যেখানে বলা হয়েছে, রোহাটিন নামের এক শহরে — যা তখন পোলিশ রাজ্যের অংশ ছিল এবং বর্তমানে পশ্চিম ইউক্রেনে অবস্থিত — সেখানে হুররেম ক্রিমিয়ান তাতার দস্যুদের হাতে বন্দি হয়েছিলেন।

এরপর, তাকে দাস হিসেবে বিক্রি করা হয়েছিল। কিশোর বয়সে হুররেমকে অটোমান সাম্রাজ্যে আনা হয় এবং তাকে যুবরাজ সুলেমানের মা-র কাছে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। আরেক তুর্কি অধ্যাপক জেইনেপ তারিম এমন ব্যাখ্যা দেন। এই যুবরাজ সুলেমান পরবর্তীতে সুলতান হন এবং সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট নামে পরিচিতি পান।

ইতিহাসবিদরা বলছেন, হুররেম সম্ভবত ১৫২০ সাল নাগাদ হারেমে যোগ দিয়েছিলেন, কারণ সুলেমানের সঙ্গে তার প্রথম সন্তান, প্রিন্স মেহমেদ, পরের বছর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শত বছরের প্রথা ভেঙে, সুলেমান হুররেমকে বিয়ে করেছিলেন – যা রাজদরবারকে বিস্মিত করেছিলো এবং হুররেমের অবস্থানকে নজিরবিহীন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলো। এর আগে অন্য কোনো অটোমান সুলতান কোনো উপপত্নীকে বিয়ে করেননি।

ইতালীয় পরিচয়

হুররেম রুথেনিয়ান বংশোদ্ভূত হতে পারেন এ বিষয়ে ব্যাপক একমত হওয়া সত্ত্বেও, হুররেমের পেছনের কাহিনী নিয়ে বিকল্প তত্ত্বগুলো এখনো রয়ে গেছে।(পূর্ব ইউরোপীয় এলাকার বাসিন্দাদের বোঝাতে পশ্চিম বা মধ্য ইউরোপীয়রা মধ্যযুগে এই রুথেনিয়ান শব্দটি ব্যবহার করতো)

একটি বিশেষভাবে বিতর্কিত দাবি করেছেন গবেষক ড. রিনালদো মারমারা, যিনি বলেছেন যে তিনি ভ্যাটিকানের আর্কাইভে একটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে হুররেম আসলে একজন ইতালীয় অভিজাত নারী ছিলেন — তিনি ছিলেন সিয়েনা অঞ্চলের মার্সিলি পরিবারের একজন সদস্য এবং তার নাম ছিলো মার্গেরিটা।

তিনি বলেন, এই নথি অনুযায়ী, তিনি এবং তার ভাইকে জলদস্যুরা বন্দি করেছিলো এবং পরে তাদের অটোমান দরবারে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

গবেষক মারমারা আরও বলেন, ওই পাণ্ডুলিপি থেকে জানা যায় যে হুররেমের বংশধর সুলতান মেহমেদ চতুর্থ এবং পোপ আলেকজান্ডার সপ্তমের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল — যা তার রুথেনিয়ান পরিচয় নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করে এবং এক গোপন অভিজাত বংশের ইঙ্গিত দেয়।

তবে ইতিহাসবিদরা সন্দেহ প্রকাশ করেন। অধ্যাপক তারিম সতর্ক করে দেন যে এই দাবির সত্যতা প্রমাণের জন্য আরও অনেক তথ্য-প্রমাণ দরকার।

তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন ভেনিসীয় রাষ্ট্রদূতের রেকর্ডে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো উল্লেখ নেই। সেই সময়ের রাজদরবারের গুজব ও কূটনৈতিক বিষয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস ছিল এই ভেনিসীয় রাষ্ট্রদূতের রেকর্ড। তিনি বলছেন, যদি এমন কিছু থাকতো, তাহলে ওই রেকর্ডগুলোয় সেই তথ্য পাওয়া যেতো, আমরা অনেক আগেই তা জেনে যেতাম।

অধ্যাপক এমেচেনও এই সন্দেহের সঙ্গে একমত, তিনি স্বীকার করেন যে হুররেম পোলিশ রাজপরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন ঠিকই, তবে সেটা সম্ভবত আনুষ্ঠানিক কূটনীতির অংশ ছিল— অভিজাত বংশের প্রমাণ নয়।
হুররেম সুলতান: দাসী থেকে সম্রাজ্ঞী, বিতর্ক আর রহস্যে ঘেরা এক নারী
‘রাশিয়ান ডাইনি’

বিভিন্ন সূত্রে হুররেম সুলতানকে যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তা নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। অটোমান যুগের নথি এবং কবিতাগুলোয় মাঝে মাঝে তাকে ‘রাশিয়ান ডাইনি’হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ছিল সমালোচকদের দেওয়া তার একটি অপমানজনক উপাধি।

বিশেষ করে অন্য নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া সুলেমানের বড় ছেলে প্রিন্স মুস্তাফার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর তাকে এই এমন কটাক্ষমূলক উপাধি দেওয়া হয়। প্রিন্স মুস্তাফা অটোমান সিংহাসনের প্রথম উত্তরসূরি ছিলেন। ধারণা করা হয়, হুররেমই তার এই মৃত্যুর নেপথ্যে ছিলেন, যেন তার নিজের ছেলেদের সিংহাসনে আরোহণের পথ পরিষ্কার হয়ে যায়।

অধ্যাপক এমেচেন ব্যাখ্যা করেন, অটোমান প্রেক্ষাপটে ‘রুস’ শব্দটি শুধু জাতিগত রাশিয়ানদের বোঝাতে ব্যবহার করা হতো না। বরং, এটি ছিল একটি ভৌগোলিক উপাধি—উত্তরের যেকোনো এলাকা থেকে আসা লোকদের জন্য এটি ব্যবহৃত হতো, যার মধ্যে বর্তমান ইউক্রেন ও বেলারুশও পড়ে। সেই সময়ে, আজকের সীমানার মধ্যে কোনো রাশিয়া ছিল না। (তৎকালীন চিঠিপত্রে) তারা রাশিয়ান বলতে বোঝাতো ‘রুশীয় অঞ্চল থেকে’।

ইউক্রেনিয়ানের ভিতালি চেরভোনেঙ্কো বলছেন, ষোড়শ শতকে, পোল্যান্ডে যেখানে ইউক্রেনীয়রা বাস করতেন, সেই এলাকাগুলোকে বলা হতো ‘রুস্কে’ প্রদেশ, এবং রোহাতিন ছিল তার অংশ। সেই সময়ে ইউক্রেনীয়দের ‘রুসিন’বলা হত, কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক ছিল না।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, হুররেম সুলতানের পরিচয় নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে, বিশেষ করে ইউক্রেনে, যেখানে তিনি একজন জাতীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে সম্মানিত।

তার সম্মানে তার কথিত জন্মস্থান রোহাতিনে ভাস্কর্য রয়েছে এবং বর্তমানে রাশিয়া-অধিকৃত মারিউপোল শহরের একটি মসজিদে সুলেমানের নামের পাশাপাশি তার নাম রয়েছে।

২০১৯ সালে, আঙ্কারায় ইউক্রেনীয় দূতাবাসের অনুরোধে, ইস্তাম্বুলের সুলেমানিয়ে মসজিদ কমপ্লেক্সে হুররেমের কবরের শিলালিপি থেকে তার ‘রাশিয়ান বংশোদ্ভূত’ সংক্রান্ত তথ্য মুছে ফেলা হয়।

আপডেট করা শিলালিপিটি এখন তার ইউক্রেনীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়েছে, যার মাধ্যমে ধারণা পাওয়া যায় যে আধুনিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে হুররেমের উত্তরাধিকার কতোটা গুরুত্ব বহন করে।

জনহিতকর কাজ

হুররেমের প্রভাব হারেমের চার দেয়ালের বাইরেও অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তবে সম্ভবত তার জনহিতকর কাজগুলো সবচেয়ে বেশি স্থায়ী হয়েছে।

তিনি ইস্তাম্বুল এবং জেরুসালেমে (যা তখন অটোমান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল) মসজিদ, বিনামূল্যে খাওয়ানোর কেন্দ্র বা স্যুপ কিচেন এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠান চালু করেছিলেন, যা তখন অটোমান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল।ইস্তাম্বুলের হাসেকি এলাকা আজও তার নাম বহন করে আসছে।

ঐতিহাসিক নথি অনুসারে, হুররেম সুলতান ১৫৫৮ সালের ১৫ই এপ্রিল ইস্তাম্বুলে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।তার দেহ সুলেমানিয়ে মসজিদে দাফন করা হয়েছিল। পরে, সুলতান সুলেমানের নির্দেশে তার কবরের স্থানে একটি সমাধি নির্মাণ করা হয়। হুররেমের মৃত্যুর মাধ্যমে একটি অসাধারণ জীবনের সমাপ্তি ঘটে, কিন্তু তাকে ঘিরে থাকা প্রশ্নগুলো আজও ফুরায়নি।

তিনি রুথেনিয়ান বন্দি হোন, ইতালীয় অভিজাত পরিবারের সদস্য হন, কিংবা ভুল বোঝা এক ক্ষমতাধর নারী— হুররেম সুলতান অটোমান ইতিহাসে এবং বৈশ্বিক ইতিহাসে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্বদের একজন হয়ে আছেন।

কার-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ: বড় ভাইয়ের পর চলে গেলেন ছোট ভাইও, শোকে স্তব্ধ বড়লেখা

ঈদের দিন সবার ঘরে যখন আনন্দ আর উৎসব, তখন বিষাদের ঘন ছায়া নেমে এসেছে বড়লেখার এক পরিবারে।

সড়ক দুর্ঘটনায় ওই পরিবারের বড় ভাইয়ের মৃত্যুর কয়েক ঘন্টার পর ছোট ভাই রুমন আহমদ (২৪) চলে গেলেন না ফেরার দেশে। শনিবার (৭ জুন) রাত সাড়ে নয়টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন রুমন।

এর আগে শনিবার (৭ জুন) বিকেলে কোরবানির মাংস শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দিতে গিয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন বড় ভাই সাহেদ হোসেন সুমন (২৬)। এসময় ছোটভাই রুমন আহত হন।

নিহত দুই ভাই মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার মহুবন্দ গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিনের ছেলে। বড় ভাই সুমন ছিলেন সৌদি প্রবাসী। মাত্র কয়েক মাস আগেই দেশে ফিরে বিয়ে করেছিলেন।

এদিকে দুই ভাইয়ের এমন করুণ মৃত্যুতে শুধু তাদের পরিবার নয়, শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে গোটা বড়লেখা উপজেলার মানুষকেও।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে কোরবানির গরুর মাংস শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দিতে ছোট ভাই রুমনকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে দক্ষিণভাগের দিকে যান সাহেদ। বড়লেখা-কুলাউড়া আঞ্চলিক সড়কের কাঠালতলী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাহেদ মারা যান এবং রুমন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন রুমনকে উদ্ধার করে প্রথমে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। কিন্তু রাত সাড়ে নয়টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুমনও চলে যান না ফেরার দেশে।

বড়লেখা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিউটন দত্ত সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টা নিশ্চিত করে শনিবার রাত ১১টায় বলেন, কার ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বড়ভাই সুমন ঘটনাস্থলে মারা যান। তার লাশ থানায় আনা হয়েছে। আহত রুমনকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেছেন।

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম সরকার বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রাইভেট কারটির চালক পালিয়ে গেছেন। তবে গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।