Friday, April 10, 2026
Home Blog Page 56

সিলেটে ঈদের দিন মোটরসাইকেল-কার সংঘর্ষে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের, ছোট ভাই আহত

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ঈদের দিন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাহেদ হোসেন সুমন (২৬) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ছোটভাই রুমন আহমদ গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (৭ জুন) বিকেলে উপজেলার কাঠালতলী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর কারের চালক পালিয়ে গেলেও কারটি জব্দ করেছে পুলিশ।

নিহত সুমন ও আহত রুমন বড়লেখা পৌরসভার মহুবন্দ গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে কোরবানির গরুর মাংস শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দিতে ছোট ভাই রুমনকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে দক্ষিণভাগের দিকে যাচ্ছিলেন সাহেদ। বড়লেখা-কুলাউড়া আঞ্চলিক সড়কের কাঠালতলী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে ঘটনাস্থলেই সাহেদ মারা যান এবং রুমন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন রুমনকে উদ্ধার করে প্রথমে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।সিলেট জেলায় ট্যুরিস্ট স্পট

বড়লেখা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিউটন দত্ত বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মরদেহ থানায় আনা হয়েছে।

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম সরকার বলেন, কার ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। শুনেছি, তারা পরস্পরের আপন ভাই। দুর্ঘটনার পর প্রাইভেট কারটির চালক পালিয়ে গেছেন। তবে গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।

সিলেটে কোরবানি দিতে গিয়ে আহত শতাধিক

সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় দুর্ঘটনায় আহত হয়ে কমপক্ষে ১০০ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।সিলেট জেলায় ট্যুরিস্ট স্পট

শনিবার (৭ জুন) সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই সংখ্যা হাসপাতালে ভর্তি হন বা চিকিৎসা নেন। আহতদের মধ্যে কেউ ষাঁড়ের গুতোয়, কেউবা ধারালো ছুরি বা দা দিয়ে মাংস কাটতে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালটি ইউনিট জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ২৬ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

মিরাবাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, সকালে আমরা কয়েকজন মিলে গরু কোরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। পাঁচজন ধরে রাখা অবস্থায় হঠাৎ গরুটি লাফিয়ে ওঠে। এসময় দুজন গরুর রশি ছেড়ে দিলে পাশেই থাকা একজনের ধারালো দা আমার হাতে লাগে। কেটে প্রচুর রক্ত বের হয়।

পাঠানটুলা এলাকার বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, কোরবানির মাংস কাটার সময় হাত ফসকে ছুরির আঘাতে আমার বাম পা কেটে যায়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী জানান, গুরুতর আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং আশা করা যাচ্ছে তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

সিলেটে চামড়া নিয়ে আগ্রহ কম ব্যবসায়ীদের

এ বছর কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে আগ্রহ কম সিলেটের ব্যবসায়ীদের। নানা সংকটে এ ব্যবসায় অনাগ্রহ দেখা দিয়েছে। লোকসান গুণতে গুণতে অনেকে এ ব্যবসাও ছেড়ে দিয়েছেন।

এ অবস্থায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে বড় ধরনের ধস নামতে পারে বলেও ধারণা ব্যবসায়ীদের। তবে বকেয়া তুলতে সুযোগ বুঝে বিনিয়োগ করার কথা বলছেন কেউ কেউ।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা এক লাখের বেশি। প্রতিবছর পশুর চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এরপর সেটি প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করা হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, গত ১৫ বছর ধরে সিন্ডিকেটে জিম্মি চামড়া ব্যবসা। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। ঢাকার বাইরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা না করে ইচ্ছেমতো দর নির্ধারণ করে দেয় সরকার। এতে করে সারা বছর লোকসানের পর ঈদে এসেও একই অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়।

তাছাড়াও ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে সিলেটের ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের টাকা বকেয়া রয়েছে। অন্যদিকে বৃষ্টিপাতের কারণে আবহাওয়াও অনুকূলে নেই। এ অবস্থায় নতুন করে চামড়া ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে সাহস পাচ্ছেন না তারা।

এ বছর সরকার নির্ধারিত দর অনুযায়ী ট্যানারি ব্যবসায়ীরা ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় কিনবেন; গত বছর এ দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। আর ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৫৫ টাকা ৬০ টাকা গত বছর যা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ছিল।

এছাড়া সারা দেশে লবণযুক্ত খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২২ থেকে ২৭ টাকা দরে বিক্রি হবে ট্যানারিতে। যা গত বছর ছিল ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা। আর বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০ থেকে ২২ টাকা। যা আগের বছর ছিল ১৮ টাকা থেকে ২০ টাকা।

এছাড়া এ বছর প্রতি বর্গফুটে চামড়ার দামের পাশাপাশি ছোট গরুর আয়তন হিসেবে লবণযুক্ত চামড়ার সর্বনিম্ন দাম ১১৫০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ দাম ঢাকায় হবে ১৩৫০ টাকা।

সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানির ঈদের পশু ছাড়া বছরের অন্যান্য সময় সিলেটে প্রতিপিস গরুর চামড়া ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় কেনা হয়। কোনোটি আবার ৬০০ টাকায়ও বিক্রি হয়। এগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে আরও খরচ পড়ে। সবশেষে ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। কেনা দামেও অনেক সময় তারা নিতে চান না। বাধ্য হয়ে কমদামে তাদের কাছে এগুলো বিক্রি করতে হয়। এক বছরের টাকা পরের বছর দেওয়ার শর্তেও অনেক সময় চামড়া ছাড়তে হয়।

চামড়া ব্যবসায়ী মো. লিয়াকত আলী বলেন, ২০১৪ সালের এক কোটি টাকা এখনও ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পড়ে আছে। গত বছরের আরও ৮ লাখ টাকা বকেয়া। এ অবস্থায় নতুন করে বিনিয়োগ করার আগ্রহ নেই। তবুও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে যতটুকু সম্ভব ততটুকু বিনিয়োগ করবো।

তিনি আরও বলেন, সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করে একরকম। কিন্তু ট্যানারি ব্যবসায়ীরা অর্ধেক দামে চামড়া কিনতে চান। গত বছর সরকার প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা নির্ধারণ করলেও ট্যানারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে হয়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে। বিগত কয়েক বছর ধরে এভাবেই সিন্ডিকেটে জিম্মি এ ব্যবসা।

সিলেট শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির কার্যকরী সদস্য হামিদ আহাদ বলেন, গত বছরের লবণযুক্ত অন্তত ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার খাসির চামড়া গুদামে প্রক্রিয়াজাত করে রাখা। এগুলো ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে কেনা। আর প্রক্রিয়াজাত করতে আরও খরচ পড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এখন প্রতি পিস ২০ টাকা দরে নিতে চাচ্ছে ট্যানারি ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে আর চামড়া কেনার সাহস হারিয়ে ফেলেছি।

তিনি বলেন, এবার শেষবারের মতো চামড়ার ব্যবসা করবো। এ বছরও যদি লোকসান গুণতে হয় তাহলে আর চামড়ার ব্যবসা ছেড়ে দেবো। সরকার এ ব্যবসা করুক।

বিগত চার-পাঁচ বছরে সিলেটে চামড়া ব্যবসায়ী অর্ধেকে নেমে এসেছে উল্লেখ করে শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ শামীম আহমদ জানান, দাম কমে যাওয়া, বকেয়া পড়ে থাকা, সরকারের সমন্বয়হীনতার কারণে এ ব্যবসা থেকে অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। নানা জটিলতার কারণে এখন চামড়া ব্যবসায় আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের। বছরের পর বছর লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের। সরকার উদ্যোগ না নিলে একসময় এ ব্যবসায় আর কেউ থাকবে না।

যুক্তরাজ্যে সিলেটি তরুণী খুন : স্বামীর দায় স্বীকার

যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ডে নিজের শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে খাবার কিনতে যাওয়ার সময় ছুরিকাঘাতে নিহত কুলসুমা আক্তার (২৭) হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তার স্বামী হাবিবুর রহমান মাসুম (২৬)। ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল ব্র্যাডফোর্ডের ওয়েস্টগেট ও ড্রিউটন রোডের সংযোগস্থলে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ব্র্যাডফোর্ড ক্রাউন কোর্টে হাজির হয়ে হাবিবুর রহমান মাসুম এই হত্যার দায় স্বীকার করেন। আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা দুটি অভিযোগই তিনি মেনে নিয়েছেন। আদালত বিচার শুরু না হওয়া পর্যন্ত মাসুমকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী সোমবার (৯ জুন) এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিচার শুরু হবে।

আদালতে শুনানির সময় বাংলা দোভাষীর সহায়তা নেন মাসুম। এর আগে তিনি ‘হত্যার হুমকি’, ‘পিছু নেওয়া’ এবং দুটি হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

‘পিছু নেওয়ার’ অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে মাসুম তার স্ত্রী কুলসুমার গতিবিধি অনুসরণ করেন। নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরও তিনি কুলসুমার অবস্থান খুঁজে বের করেন, তাকে মৃত্যুর হুমকি দিয়ে আপত্তিকর বার্তা পাঠান এবং তার বাসস্থানের আশপাশের ছবি ও ভিডিও পাঠান।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার স্ত্রীর অস্থায়ী বাসস্থানের কাছে ঘোরাঘুরি করতেন, যা কুলসুমার মনে চরম আতঙ্ক, মানসিক চাপ এবং সম্ভাব্য সহিংসতার ভয় তৈরি করেছিল।

হত্যাকাণ্ডের দিন ইফতারের আগে কুলসুমা তার শিশুপুত্রকে নিয়ে খাবার কিনতে বের হলে, আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা মাসুম ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে একাধিকবার আঘাত করেন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও গুরুতর আঘাতের কারণে কুলসুমা মারা যান। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, হামলার সময় শিশুটি অক্ষত ছিল।

হাবিবুর রহমান মাসুমের বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলায়। পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মাসুম ও কুলসুমা দম্পতি দুই বছর আগে সিলেটের বিশ্বনাথ থেকে যুক্তরাজ্যে আসেন। মাসুম আসেন শিক্ষার্থী ভিসায় এবং স্ত্রী কুলসুমা (ঘরোয়া নাম শিউলী) আসেন ডিপেন্ডেন্ড ভিসায়।সিলেট ট্যুর

প্রথমে তারা ওল্ডহাম এলাকায় বসবাস শুরু করেন। পারিবারিক কলহের কারণে একপর্যায়ে বিষয়টি পুলিশের হস্তক্ষেপে গড়ায়। পরে পুলিশ কুলসুমাকে সামাজিক সেবামূলক সংস্থার সহায়তায় নিরাপদে ব্র্যাডফোর্ডে স্থানান্তর করে। কিন্তু পুলিশের নিষেধ সত্ত্বেও মাসুম গোপনে তার স্ত্রীর ওপর নজরদারি করতে থাকেন এবং শেষপর্যন্ত এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটান।

সিলেটে কাজিরবাজারের প্রধান আকর্ষণ “ব্লাক ডায়মন্ড ও পিংক ডায়মন্ড “

সিলেট এবার কুরবানির পশুর হাটে দেখা মিললো অদ্ভুত নামের দুইটি মহিষের। গায়ের রঙের সাথে নাম মিলিয়ে রাখা হয়েছে পশু দুটির। যেখতে ব্লাক কালারের হওয়াতে কালো রঙের একটি মহিষকে ব্লাক ডায়মন্ড এবং অপরটির পুরো শরীর পিংক কালারের হওয়াতে একটির নাম পিংক ডায়মন্ড রাখা হয়েছে।

বুধবার (৪জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেটের কাজিরবাজারের পশুর হাটে মহিষ দুটি দেখতে ভীড় জমিয়েছেন শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সের মানুষ। যেখানে অনেকেই দেখা যায়।
সিলেটে কাজিরবাজারের প্রধান আকর্ষণ "ব্লাক ডায়মন্ড ও পিংক ডায়মন্ড "
গরুর মালিক মোয়াজ্জেম আহমেদ নতুন সিলেটকে বলেন, মৌলভীবাজারের আরকে ডেইরি ফার্ম থেকে আমরা এই দুইটি মহিষ নিয়ে এসেছি অনেকেই দামাদামি করছেন তবে এখনো প্রাপ্য দাম পাইনি । পেলে ছেড়ে দেবো। প্রতিদিন এই মহিষ দুইটি দেখতে নানা বয়সী মানুষ ভীড় জমান।

গরু কিনতে আসা উবেদ আহমেদ নামের এক ক্রেতা বলেন, এ বছর দেশী গরুর দাম তুলনামূলক ভাবে একটু বেশি । আমি একটি গরু কেনার জন্য ছেলেদের নিয়ে এসেছি । যদি দাম ধরে পোষায় তাহলে এখান থেকে কিনতে পারি।

শ্যালিকার কাঁচির আঘাতে দুলাভাই খুন, যা জানা গেল

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে শ্যালিকার কাঁচির আঘাতে দুলাভাই খুন হয়েছেন। পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

বুধবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতি ইউনিয়নের হাজরানীয়া (সদরপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত দুলু মিয়া (৩৫) ওই গ্রামের শওকত আলীর ছেলে। অভিযুক্ত শ্যালিকা চাঁদনী বেগম চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি ও নিহতের স্ত্রী মনি বেগম একই এলাকার মোকছেদুর রহমানের মেয়ে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় দুলু মিয়া বাড়ি ফিরে তার স্ত্রী মনি বেগমকে মোবাইলে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখেন। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে শ্যালিকা চাঁদনী বেগম উত্তেজিত হয়ে হাতে থাকা কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে দুলু মিয়ার গলা ও ঘাড়ে আঘাত করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকেই চাঁদনী ও তার বড় বোন মনি বেগম পলাতক রয়েছেন।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

রিলস বানাতে গিয়ে যমুনায় ডুবে ৬ কিশোরীর মৃত্যু

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের আগ্রায় যমুনা নদীতে গোসলের রিলস বানাতে গিয়ে ছয় কিশোরী পানিতে ডুবে মারা গেছে।

উত্তরপ্রদেশের আগ্রার সিকান্দরা থানা এলাকায় মঙ্গলবার মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য মোবাইল ফোনে রিলস বানানোর সময় পানিতে ডুবে মারা গেছে তারা।

আগ্রার সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, ওই ছয় কিশোরী আশপাশের কৃষি জমিতে কাজ শেষে নদীর পাড়ে যায় এবং শরীর ঠাণ্ডা করার জন্য পানিতে নামে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, প্রথম দিকে তারা নদীর ধারে খেলছিল ও মোবাইল ফোনে রিলস ভিডিও করছিল। এরপর ধীরে ধীরে গভীর পানিতে চলে গেলে স্রোতের টানে ভেসে যায় তারা।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় চারজন ডুবে যায় এবং বাকি দু’জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই কিশোরীও মারা যায়। এর ফলে সেখানে পানিতে ডুবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে।

মৃত ছয়জনই সেখানকার একটি গ্রামের বাসিন্দা। হঠাৎ এই মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ওই কিশোরীদের এক স্বজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, নদীর ধারে জমিতে কাজ করছিল তারা। প্রচণ্ড গরমের কারণে তারা পানিতে নামে। তাদের সঙ্গে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে কল্পনাও করিনি।

এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। আতঙ্কিত লোকজন নদীর পাড়ে ছুটে যান। পরে স্থানীয়রা এই ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে খবর দেন।

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।ছয় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তে ছয়জনই পানিতে ডুবে মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত সব পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিএসএফ সদস্যকে আটকে বেঁধে রাখলো গ্রামবাসী

অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নারায়ণপুরে শ্রী গনেশ নামে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক সদস্যকে আটক করে বিজিবির কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

বুধবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের সাত রশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ধারণ করা এ ঘটনার ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু।

স্থানীয়রা বলেন, সকালে একটি ছাগলকে ধাওয়া করে জিরো লাইন অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েন দুজন বিএসএফ সদস্য। তারা একজন বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টাও করেন। পরে স্থানীয় গ্রামবাসী একত্র হয়ে এক বিএসএফ সদস্যকে ধরে আটকে রাখে। অন্যজন পালিয়ে ভারতে চলে যান।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বেনজির আলী বলেন, বিএসএফ সদস্যকে স্থানীয়রা আটক করেছে এ ঘটনা সত্যি। আমার পাশের গ্রামেই এ ঘটনা ঘটেছে।

নারায়নপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাত রশিয়া গ্রাম ও সীমান্তের জিরো লাইন কাছাকাটি। তাই বাংলাদেশি ছাগল জিরো লাইনের কাছাকাছি গিয়ে ঘাস খায়। এতে বিএসএফ সদস্যরা ছাগল ধরতে এসে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েন। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটক কলাগাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে বিজিবির হাতে সোপর্দ করেছে। সঙ্গে থাকা আরও একজন বিএসএফ সদস্য পালিয়ে গেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদকেও একাধিকবার ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি।

বিয়ানীবাজারে ভাই ভাতিজাদের হামলায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

বিয়ানীবাজারের লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর উত্তর গাংপার এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেড়ে ভাই ও ভাতিজাদের হামলায় আহত ফয়জুর রহমান মাখন নিহত হয়েছেন।

তিন সপ্তাহের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের সময় সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে তিনি মৃত‍্যুবরণ করেন।

জানা যায়, ফয়জুর রহমান মাখন নিজ ঘরের পাশে আরেকটি কক্ষ নির্মাণের সময় ভাই, ভাতিজার সাথে বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এর এক পর্যায়ে মাথায় আঘাত পেলে ফয়জুর রহমান মাখন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আহত অবস্থায় প্রথমে বিয়ানীবাজার উপজেলা হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন‍্য সিলেট পাঠানো হয়েছিল।

প্রত‍্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘর নির্মাণকালে ছোট রফিক উদ্দিন কটইয়ের দুই ছেলেসহ রফিক নিজে মারধর করেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে লোহার একটি লাঠি দিয়ে রফিক উদ্দিন কটই আঘাত করলে সেটি ফয়জুর রহমান মাখনের মাথা লাগে।

বিয়ানীবাজার থানার ওসি আশরাফুজ্জান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে এক ছেলেসহ রফিক উদ্দিন কটই জেল হাজতে রয়েছেন।

জুড়ীতে বন্যার পানিতে পড়ে এক ছাত্রের মৃত্যু

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় বন্যার পানিতে পড়ে এক ছাত্রের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার জাফর নগর ইউনিয়নের মনতৈল গ্রামের মোঃ পাখি মিয়া মিয়ার ছোট ছেলে জালালিয়া হাফিজি মাদ্রাসার ছাত্র মো রিয়াদ আহমদ (১৩) সোমবার (২ জুলাই) বিকেলে বন্ধুদের সাথে কাপনা পাহাড় চা বাগানের গাছ থেকে পাখির বাচ্চা সংগ্রহ করতে গিয়েছিল।

সেখান থেকে আসার পথে অনুমান বিকেল ৪ টা ৩০ মিনিটের সময় বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া রাস্তায় হঠাৎ পা পিছলে সে পানিতে পড়ে যায়। তখন সাঁতার জানা না তাকায় পানির স্রোতে সে ভেসে যায়। পরে তার সাথে থাকা সহকর্মীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে তাকে উদ্ধার করে জুডী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জুড়ী থানার ওসি মোরশেদুল ইসলাম ভূঁইয়া এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটা বড় দুঃখজনক। বন্যার পানি এসেছে। এ ব্যাপারে তিনি সকলকে সাবধান থাকতে অনুরোধ করেছেন।