Saturday, April 18, 2026
Home Blog Page 63

চঞ্চল চৌধুরীকে চিনতাম না: ইশরাক

সম্প্রতি বিআইএফএ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। হাসিনা সরকার পতনের পর মাঝে দীর্ঘ সময় কিছুটা আড়ালে থাকার চেষ্টা করলেও এই পুরস্কার নিতে সমাবেশে দেখা গেছে তাকে। অথচ তার বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা।

শনিবার এক অনুষ্ঠানে তার (চঞ্চল) হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন।

বিষয়টি নিয়ে সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ক্ষমা চেয়ে স্ট্যাটাস দেন ইশরাক হোসেন।

পোস্টে ইশরাক বলেন, শুক্রবার ১৬ মে একটি স্বনামধন্য প্রথমসারির স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলর কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে প্রধান অতিথি হিসাবে অ্যাওয়ার্ড সেরেমনি অনুষ্ঠানে কিছু সময়ের জন্যে যোগ দেই।

সেই অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত থাকবেন, আমার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করতে হবে এই বিষয়গুলো কিছুই জানা ছিল না উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, অনুষ্ঠানটিতে একজন অতি বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে ছবি ওঠে যাকে আমি আগে চিনতাম না এবং তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলাম না।

২০১৫ সালে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তখনকার অনেক সেনসিটিভ ঘটনা আমার চোখে এড়িয়ে যায়। এটা আমার সীমাবদ্ধতা, আমার জানা উচিত ছিল। এই ছবিটি দেখার পর আমার অনেক প্রাণপ্রিয় ভাই ও সহযোদ্ধাদের মনে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। আমি সেটার জন্যে ক্ষমা চাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হওয়ার কথা দিচ্ছি।

ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া সেই ব্যক্তি বেঁচে আছেন, আরও যা জানা গেলো

চলন্ত ট্রেনের দরজার বাইরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে একজনকে। তিনি প্রাণপণে চেষ্টা চালাচ্ছেন হাত ছাড়িয়ে নিতে। কিন্তু পেরে উঠছেন না। একপর্যায়ে পড়ে যান ট্রেনের নিচে। এ ঘটনার ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোববার (১৮ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া থেকে সান্তাহার অভিমুখী আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর স্টেশনে একটি কমিউটার ট্রেনে ঘটনাটি ঘটে।

ওই ব্যক্তির নাম মতিউর রহমান (৪০)। তিনি বেঁচে আছেন। মতিউর পেশায় একজন দালাল। দূতাবাস এবং এজেন্সির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর কাজ করেন। তার বাড়ি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পারইল গ্রামে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মতিউর রহমান পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। তবে দুই বছর ধরে দূতাবাস এবং এজেন্সির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর কাজ করছেন। ২০ দিন আগে উপজেলার তালশান গ্রামের হেলালের ছেলে সজীব হোসেনকে সাড়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে সৌদি আরবে পাঠান। সৌদি আরবে গিয়ে সজীবের বৈধ কাগজপত্র পেতে দেরি হওয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা ৭-৮ দিন আগে মতিউরের বাড়িতে গিয়ে কাগজপত্রের বিষয়ে জানতে চান। এ নিয়ে সেখানে ঝামেলা হয়। এরই জের ধরে বগুড়া থেকে আসা ট্রেনে মতিউরকে একা পেয়ে সজীবের ছোট ভাই রাকিব এবং সজীবের শ্যালকরা মিলে ‘মোবাইল চোর’ এবং ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে তাকে ট্রেন থেকে ফেলে দেন। এসময় তার কাছে থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন বলেও অভিযোগ মতিউরের পরিবারের।

ভুক্তভোগী মতিউর রহমানের ছেলে আহসান হাবিবের ভাষ্য, “আমার বাবা এখন পর্যন্ত ৩-৪ জনকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন। তারা সে দেশে ভালো আছেন। ১৫ দিন আগে আমার বাবা আদমদীঘি উপজেলার তালশন গ্রামের হেলালের ছেলে সজিব হোসেনকে সৌদি আরবে পাঠান। সৌদি আরবে পাঠানো বাবদ তার কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে বৈধ কাগজপত্র পেতে দেরি হওয়ায় ৭-৮ দিন আগে সজীব তার বাবাকে আমাদের বাড়িতে পাঠান। তিনি এসে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে যান। এরই জের ধরে বগুড়া থেকে ট্রেনে বাড়িতে ফেরার পথে সজিবের ছোট ভাই রাকিব এবং শ্যালকরা আমার বাবাকে ‘মোবাইল চোর’ বলে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় বাবা খুব কষ্ট করে ৪-৫ মিনিট ট্রেনে ঝুলে ছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “বাবার কাছে ব্যবসায়িক কাজের ৫০ হাজার টাকা ছিল, সেটিও তারা কেড়ে নেন। একপর্যায়ে ট্রেনটি আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর স্টেশনে পৌঁছালে প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বাবা ট্রেনের নিচে পড়ে যান। ট্রেনের নিচে পড়লেও কোনোরকম প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু সেখানকার উৎসুক জনতা বাবাকে ‘মোবাইল চোর’ এবং ‘ছিনতাইকারী’ ভেবে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন। পরে বাবাকে কোনোরকম সেখান থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। বিষয়টি অবগত করতে সান্তাহার রেলওয়ে থানায় গেয়ে পুলিশ বলে, আপনার বাবা জীবিত রয়েছে। মারা গেলে মামলা নেওয়া যেতো।”

উপজেলার কুসুম্বী গ্রামের হাসান নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘মতিউরকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। তার মাধ্যমে আমার দুই আত্মীয়কে বিদেশে পাঠিয়েছি। একজন সৌদি আরবে, আরেকজন মালয়েশিয়ায় আছে। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। মতিউরের সঙ্গে লেনদেন নিয়ে কখনো কারও ঝামেলা হতেও দেখিনি।’

একই কথা জানান নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পারইল গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাকিব হোসেনের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে সজিব হোসেনের বাবা হেলাল বলেন, ‘প্রায় এক মাস আগে মতিউরের মাধ্যমে চার লাখ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত মতিউর আমার ছেলেকে কোনো কাজ দিতে পারেনি। এ নিয়ে তার সঙ্গে অনেকবার দেখা করতে চেয়েছি। সে আমার সঙ্গে দেখা না করে বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে বেড়াচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে ছেলের সম্পর্কে জানতে তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখানে কোনো ঝামেলা হয়নি।’

মতিউরকে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার ব্যাপারে ছেলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বগুড়া থেকে আসার সময় সজিবের শ্যালকেরা ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে মতিউরকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে রাকিব সেখানে কিছুই করেনি। ট্রেনে কী হয়েছে সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।’

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি রেলওয়ে থানা এলাকার মধ্যে। এজন্য এটি রেলওয়ে পুলিশের বিষয়। তাই আমরা কোনো অভিযোগ নিইনি।

এ বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, তারা থানায় এসে সেন্ট্রির সঙ্গে কথা বলে চলে গেছেন। তখন আমি ছিলাম না। এখনো যদি তারা অভিযোগ করেন তাহলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নুসরাত ফারিয়া শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার

অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়াকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

আজ রোববার সকালে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শাহজালালের ইমিগ্রেশন পুলিশের একটি সূত্র প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নুসরাত ফারিয়া শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার
সূত্রটি জানিয়েছে, নুসরাত ফারিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানীর ভাটারা থানায় করা একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ওই মামলায় তাঁকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আসামি করা হয়।

পুলিশের বাড্ডা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নায়িকা নুসরাত ফারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভাটারা থানার পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর নুসরাত ফারিয়াকে থানায় আনা হয়েছিল। তবে থানায় তাঁকে না রেখে পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নুসরাত ফারিয়া ২০১৫ সালে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। এর পর থেকে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের কয়েকটি সিনেমায় কাজ করেছেন। এ ছাড়া মডেলিং ও সঞ্চালনায়ও সক্রিয় তিনি।

সিলেটে মোটরসাইকেলসহ ৩ যুবককে ধরল পুলিশ

সিলেটের জৈন্তাপুর থানাপুলিশের অভিযানে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা ‘ইয়ামাহা-R15’ মোটরসাইকেলসহ ৩জনকে গ্রেফতার করে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ। অভিযানে চোরাচালানের মোটরসাইকেলসহ পৃথক ১টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।সিলেট ভ্রমণ প্যাকেজ

রবিবার (১৮ মে) জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত এলাকা থেকে অভিযান পরিচালনা করে মোটরসাইকেলসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ফেনী জেলার দাগনভুঁইয়া উপজেলার কামু পাটুয়ারীবাড়ী সেকান্দারপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে আবদুল্লাহ আল সাবের শান্ত (২৩), ফেনী সদরের মিজানপাড়া গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে ওমর ফারুক (২২) এবং জৈন্তাপুর উপজেলার ডৌডিক গ্রামের মৃত আবদুল লতিফের ছেলে আশিকুল ইসলাম (২৫)।

পুলিশ জানায়, রবিবার (১৮ মে) রাত সাড়ে ১২ টায় পুলিশের একটি টহল টিম জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের শেলটেক কোম্পানির গেইটের সম্মুখ হতে ভারতীয় চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিয়ে আসা ‘নীল-সাদা রঙয়ের ১টি ইয়ামাহ-R15’ মোটরসাইকেলসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে। ওই সময় পুলিশি অভিযান টের পেয়ে চোরাচালানে জড়িত একজন চোরাকারবারী পালিয়ে যায়।

জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, ‘পলাতক ১জন আসামীসহ মোট ৪জনকে আসামী করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঐ মামলায় তাদের ৩জনকে আটক দেখিয়ে রবিবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।’

৩ হাজারের বেশি কবর খোঁড়া মনু মিয়া হাসপাতালের শয্যায়, ঘোড়াটি মেরে ফেলল দুর্বৃত্তরা

মানুষের শেষ ঠিকানার কারিগর কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার মনু মিয়া। পরম দরদ আর ভালোবাসা দিয়ে তিনি সাজান মুসলমান ব্যক্তির শেষ ঠিকানা কবর। কারো মৃত্যু সংবাদ কানে আসামাত্রই কুন্তি, কোদাল, ছুরি, করাত, দা, ছেনাসহ সহায়ক সব যন্ত্রপাতি নিয়ে ছুটে যান কবরস্থানে। এভাবেই কবর খননের কাজ করে তিনি পার করে দিয়েছেন তার ৬৭ বছরের জীবনের সুদীর্ঘ ৪৯টি বছর। কোনো ধরনের পারিশ্রমিক কিংবা বকশিস না নিয়ে এ পর্যন্ত খনন করেছেন ৩ হাজার ৫৭টি কবর।

মনু মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বয়স এখন ৬৭ বছর। জীবনভর কবর খোঁড়ার কাজ করতে গিয়ে নিজের দিকেই খেয়াল দেওয়া হয়নি মনু মিয়ার। রোগে কাবু হয়ে সম্প্রতি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন তিনি। ১৪ মে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই একরকম মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসা চলছে তার। স্বামীর পাশে আছেন স্ত্রী রহিমা বেগম।

কবর খুঁড়তে দূরের যাত্রায় দ্রুত পৌঁছাতে নিজের ধানি জমি বিক্রি করে কয়েক বছর আগে একটি ঘোড়া কিনেছিলেন তিনি। ঘোড়াটি সচল রেখেছিল তাকে। বাড়িতে মনু মিয়া ও তার স্ত্রী রহিমা বেগমের অনুপস্থিতিতে অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে ঘোড়াটি। শুক্রবার (১৬ মে) সকালে পাশের মিঠামইন উপজেলার হাশিমপুর ছত্রিশ গ্রামের একটি মাদরাসার পাশে পানির মধ্যে ঘোড়াটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী। ঘোড়াটির বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মনু মিয়ার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা ভেবে স্ত্রী ও স্বজনেরা তার কাছে গোপন রেখেছেন ঘোড়াটি হত্যার কথা।

মনু মিয়ার এমন সংকটকালেই বর্বরতার বলি হয়েছে তার প্রিয় ঘোড়াটি। বাড়িতে মনু মিয়া ও তার স্ত্রী রহিমা বেগমের অনুপস্থিতিতে অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে ঘোড়াটি। গত তিনদিন যাবৎ গ্রামবাসী কারো নজরে পড়েনি ঘোড়াটি। শুক্রবার সকালে পার্শ্ববর্তী মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নের হাশিমপুর ছত্রিশ গ্রাম থেকে গ্রামবাসীর কাছে একটি ফোনকলে আসে এ দুঃসংবাদটি। হাশিমপুর ছত্রিশ গ্রামের একটি মাদরাসার পাশের জমির পানির মধ্যে ঘোড়াটি লাশ পড়েছিল। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান আলগাপাড়া গ্রামের তিন তরুণ-যুবক। তারা গিয়ে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকা ঘোড়াটিকে দেখতে পায়। বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিথর হয়ে পড়ে রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ঘোড়াটিকে শনাক্ত করতে যাওয়া তিনজনের একজন হলো এসএম রিজন। তিনি জানান, মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নের হাশিমপুর ছত্রিশ গ্রামে গিয়ে তারা এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানতে পেরেছেন, ওই এলাকার শাওনের একটি স্ত্রী ঘোড়া রয়েছে। ওই স্ত্রী ঘোড়াটিকে না কি মনু মিয়ার ঘোড়াটি আঘাত করে। এই অপরাধে মনু মিয়ার ঘোড়াটির বুকে তারা ধারালো অস্ত্রের আঘাত করে এবং ঘোড়াটি মারা যায়। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শাওনের বাবার নাম আজমান এবং তার চাচার নাম হাসান মাস্টার।

মনু মিয়ার স্ত্রী রহিমা বেগম বলেন, উনার অবস্থা ভালো না। একমাত্র আল্লাহ পাকের রহমতেই উনি সুস্থ হতে পারেন। উনি জীবনে কারো কোনো ক্ষতি করেননি। এতোদিন জানতাম, উনাকে মানুষ ভালোবাসে। উনার এমন খারাপ অবস্থায় কি করে এমনভাবে উনার প্রিয় ঘোড়াটিকে মানুষ মেরে ফেলতে পারল। এই খবরটা আমরা উনাকে দিলে উনি কোনোভাবেই সহ্য করতে পারবেন না।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মুকিত সরকার জানান, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি নির্দেশনা দেবেন।

সান্ডা সম্পর্কে এই তথ্যগুলো জানেন?

কাঁটাযুক্ত লেজওয়ালা লিজার্ডের আরেকটি নাম ‘সান্ডা’। এটি টিকটিকির মতো দেখতে এক অদ্ভূত প্রাণী। সম্প্রতি আবদুল মান্নান নামের এক প্রবাসীর একটি রিলসে দেখা গেছে, একটি সান্ডা ফোঁসফোঁস করছে। মান্নান বলছেন, ‘ও ভাইরে ভাই… সাপের মতো ফঁস ফঁস করে, দেখেন, ওয়াও, অসাধারণ!’ তিনি এটুকু বলার সঙ্গে সঙ্গে সান্ডা ফোঁস করে ওঠে। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরে সৌদির মরুভূমিতে কাজ করা অনেক বাঙালি প্রবাসীই সান্ডার ভিডিও শেয়ার করছেন। এদিকে সান্ডা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা।

জানা গেছে, আরবের ধনীরা মূলত সান্ডা খেতে অনেক পছন্দ করেন। এ জন্য আরব ধনীদের অধীনে কাজ করা শ্রমিক বা সেবকরা মরুভূমিতে গিয়ে সান্ডা খুঁজে আনেন।

প্রবাসীদের অনেকেই সান্ডার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে লিখছেন, ‘ভিসা রিনিউ করতে হলে সান্ডা লাগবে।’

আবার কেউ লিখেছেন, ‘সান্ডা শিকার করতে না পারলে চাকরি থাকবে না।’

সান্ডা হাতে আবদুল মান্নান
সান্ডা হাতে আবদুল মান্নান

সান্ডা সম্পর্কে জানা যায়, এটি এক ধরণের টিকটিকি। কিন্তু এগুলো সাধারণ টিকটিকির থেকে নানা দিক দিয়ে আলাদা। সান্ডার শরীর মাংসল। নরম শরীরের এই প্রাণীর লেজটা অনেক বড় হয়ে থাকে। এই লেজ দিয়েই এরা শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করে। সান্ডা মাংসাশী নয়। এই প্রাণীটি শুকনো পাতা, ঘাস, লতা খেয়ে বাঁচে। মরুভূমির কঠিন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে এদের কোনো কষ্ট হয় না। বাংলাদেশেও অল্প পরিমাণে সান্ডার দেখা পাওয়া যায়। তবে অনেকে গুঁইসাপের সঙ্গে সান্ডাকে মিলিয়ে ফেলেন।
অনেকের ধারণা সান্ডা লিজার্ডের তেল খুব মূল্যবান এবং এর ওষুধী গুণ রয়েছে। কিন্তু এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

সিলেটে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ক্লিনিকে আগুন

সিলেট নগরীতে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একটি ক্লিনিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন রোগীরা।

শুক্রবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাজলশাহ এলাকায় অবস্থিত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. নুরুল হুদা নাঈমের মালিকানাধীন এনজেএল-ইএনটি সেন্টারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে চার তলাবিশিষ্ট ভবনের তৃতীৃয় তলায় অপারেশন থিয়েটারে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে কেবিনগুলোতে। ধোঁয়ার কারণে আটকা পড়েন রোগীরা। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন রোগীদের। পড়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আরও একজন নার্সসহ দুজনকে উদ্ধার করে।

জানা গেছে, ক্লিনিকটিতে ৯টি কেবিন রয়েছে। ঘটনার সময় সবকটি কেবিনে রোগী ছিলেন।

ঘটনাস্থলে থাকা ফায়ার ফার্ভিস সদস্য নুর রহমান বলেন, ভেতরে ধোঁয়ার কারণে আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে হয়েছে তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে ভেতরে কোনো মানুষ নেই। সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

সান্ডা ভেবে গুঁইসাপ ধরলেন যুবক, অতঃপর…

রংপুরের পীরগাছায় সান্ডা ভেবে একটি গুইসাপ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৬ মে) সকালে উপজেলার সুখানপুকুর এলাকার আবু নাঈম রাহাদের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে গুইসাপটি উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, সকালবেলা স্থানীয়রা সান্ডা ভেবে গুইসাপটি ধরে ফেলেন। তাঁরা এটিকে একটি গোয়ালঘরে আটকে রাখেন। প্রাণীটিকে সান্ডা ভেবে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

‘ওয়াইল্ডলাইফ স্ন্যাক অ্যান্ড রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ’-এর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সোহেলের কাছে এই খবর পৌঁছায়। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত লোকজনকে প্রাণীটির প্রকৃত পরিচয় জানিয়ে সবার বিভ্রান্তি দূর করেন। এরপর গুইসাপটি উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা হয়।

মাহমুদুল হাসান সোহেল বলেন, ‘গুইসাপ পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। এটি সান্ডা নয় এবং মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। তাই কেউ এ ধরনের প্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগ বা আমাদের সঙ্গে যেন যোগাযোগ করেন।’

স্থানীয়রা ওয়াইল্ডলাইফ স্ন্যাক অ্যান্ড রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতে সচেতন থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

‘মুলা না বোতল’, জবির আন্দোলনে অংশ নিয়ে দীপ্তি চৌধুরীর স্লোগান

আবাসন সংকট নিরসনসহ চার দফা দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজপথে নেমেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৬ মে) বিকাল থেকে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে গণঅনশন শুরু করেছেন তারা।

তাদের এ কর্মসূচিতে জবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং আলোচিত টিভি উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর দেখা মিলেছে। সেখানে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিতে দেখা গেছে তাকে। এর মধ্যে তার একটি স্লোগান সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সে স্লোগানটি হচ্ছে-’মুলা না বোতল’।

সামাজিক মাধ্যমে তার এই স্লোগানের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ স্লোগানের ভিডিও ক্লিপের নিচে ‘বোতল, বোতল’ কমেন্ট করেছেন। আবার কেউ বলেছেন, ‘বেশি বাড়াবাড়ি করা ভালো না’।

এদিকে জবি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দীন ঘোষণা দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের চার দফা হলো- আবাসন সুবিধা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি কার্যকর করতে হবে।

এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কোনোরকম কাটছাঁট ছাড়াই অনুমোদন করতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের প্রকল্প পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে। শিক্ষক নিপীড়নে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

‘অস্ত্রোপচার নয়, স্বাভাবিকভাবেই আমার পরিবর্তন এসেছে’

কৈশোর থেকেই চেহারার আকার নিয়ে নানা রকমের কটাক্ষ শুনেছেন বলিউডের অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডে। একটা সময় বেশি স্কিনি বা রোগা-পাতলা গড়নে থাকায় বহু মশকরার শিকারও হয়েছেন তিনি। কিন্তু যখন তার মাঝে পরিবর্তন আসতে থাকে, সঙ্গে বাড়তে থাকে নিন্দুকদের তির্যক মন্তব্য।

নিন্দুকরা বলছেন, অস্ত্রোপচার করে নাকি নিতম্বের আকৃতি বৃদ্ধি করেছেন অনন্যা পাণ্ডে। এবার এমন কটাক্ষ নিয়ে খোলাখুলি জবাব দিলেন অভিনেত্রী।

কৈশোরের অভিজ্ঞতা শুনিয়ে অনন্যা বলেছেন, ‘তখন আমার ১৮-১৯ বছর বয়স। খুব রোগা ছিলাম আমি। সেটা নিয়েও মশকরা করা হত। লোকে আমাকে বলত, “আরে, তোমার পা দুটো মুরগির ঠ্যাং-এর মতো।” কেউ আবার বলত, “তোমার চেহারাটাই দেশলাই কাঠির মতো। তোমার তো স্তন বা নিতম্ব কোনোটাই নেই।” এই সব বহু শুনেছি।’
‘অস্ত্রোপচার নয়, স্বাভাবিকভাবেই আমার পরিবর্তন এসেছে’
এবার বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে চেহারাতেও ভার এসেছে অনন্যার। আর তা নিয়ে এবার তির্যক মন্তব্য শুনতে হচ্ছে তাকে। তার জবাবে অনন্যা বললেন, ‘আমি স্বাভাবিকভাবেই বড় হচ্ছি। আমার চেহারাও ভারি হচ্ছে স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু বলা হচ্ছে, আমি নাকি অস্ত্রোপচার করিয়ে নিতম্বের আকার বৃদ্ধি করেছি। মানুষ যা-ই করবে, দেখতে যেমনই লাগুক, কটাক্ষ শুনতেই হবে। কিছু সমালোচনা করবেই। বিশেষ করে নারীদের নিয়ে এমন মন্তব্য করা হবেই। পুরুষদের এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় বলে মনে হয় না।’

অভিনয়ের জন্যও প্রথম দিকে কটাক্ষের শিকার হয়েছেন অনন্যা। তারকা-সন্তান তকমা থাকার কারণে বারবার সমালোচিত হয়েছেন। কিন্তু গত কয়েকটি ছবি ও সিরিজে অভিনয় করার পর থেকে প্রশংসা পেতে শুরু করেছেন তিনি। ‘খো গায়ে হাম খাঁহা’, ‘কল মি বে’ ও ‘কন্ট্রোল’-এ তার অভিনয় সাড়া ফেলেছিল।