Sunday, April 19, 2026
Home Blog Page 72

চাঁদাবাজির অভিযোগে সিলেটের ১৩ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

পাথরবাহি ট্রাক থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ১৩ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। এর মধ্যে ২জন এসআই, ২ এএসআই ও ৯ কনস্টেবল রয়েছেন। ক্লোজড করার পর তাদের সিলেট পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রাসেলুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাদেরকে ক্লোজড করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, কোম্পানীগঞ্জ থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ পাই আমরা। এর প্রেক্ষিতে এসআইসহ ১৩ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। তাদের আপাতত অন্য কোন কর্মস্থলে দেওয়া হয়নি। তদন্তের পরে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্লোজড হওয়া ১৩ পুলিশ সদস্যরা হলেন, এসআই খোকন চন্দ্র সরকার ও মিলন ফকির, এএসআই শিশির আহমেদ মুকুল ও শামীম হাসান, কনস্টেবল নাজমুল আহসান, মুন্না চৌধুরী, নাইমুর রহমান, তুষার পাল, আবু হানিফ, সাখাওয়াত সাদী, সাগর চন্দ্র দাস, মেহেদী হোসেন, ও কিপেস চন্দ্র রায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলার কেটে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন শুরু করে স্থানীয় একটি গোস্টি। এনিয়ে সমালোচনার পর পাথর উত্তলন বন্ধে শাহ আরেফিন টিলার পাশে পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প বসায় জেলা পুলিশ। তবে ওই ক্যাম্পে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে টিলার পাথরবাহী গাড়ি থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে উঠে।

পুলিশ সদস্যদের চাঁদাবাজির কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর তাদেরকে ক্লোজড করে সিলেট পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া বাংলাদেশিদের ভবিষ্যত ‘অনিশ্চিত’

দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার আসনে ফিরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই ‘সেকেন্ড কামিং’ নিয়ে চর্চা হচ্ছে অনেক। কারণ, ক্ষমতায় এসেই ট্রাম্প এক বড়সড় ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি অবৈধ অভিবাসীদের অবিলম্বে আমেরিকা থেকে বের করে দেবেন এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনটিও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই ঘোষণার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা, বিশেষ করে বাংলাদেশী প্রবাসীরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে আছেন। বিশেষভাবে, গত বছর কানাডায় ভিজিট ভিসায় গিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আমেরিকায় প্রবেশ করা বাংলাদেশীদের জন্য পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাংলাদেশিদের মধ্যে সিংহভাগই সিলেট বিভাগের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ১৪.৩ শতাংশ হলেন অভিবাসী। বিদেশীদের সংখ্যা বৃদ্ধির এ হার গত কয়েক বছর থেকেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। এবার তার লাগাম টানতে চাচ্ছেন ট্রাম্প। যদিও এর সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব হতে পারে ভয়াবহ।

তবুও ট্রাম্পের প্রশাসন ইতিমধ্যেই আমেরিকায় অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ১ লাখ নথিবিহীন অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন; ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যে তাদের ফেরত নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনী ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অভিযান শুরু করেছে। গত মাসের শেষ দিকে পরিচালিত দেশব্যাপী অভিযানে ৯৫৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এসব অভিযানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কানাডা থেকে ভিজিট ভিসায় এসে আমেরিকায় ঢোকা বাংলাদেশীরা, যারা বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন। তারা জানেন না, তাদের ভবিষ্যত কী হতে চলেছে, কারণ তারা অবৈধ অবস্থায় আছেন।

আমেরিকায় এই বাংলাদেশী অভিবাসীদের একটি বড় অংশ কাজ করছেন বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ, বা অন্যান্য সেক্টরে। এসব মানুষ বহু অর্থ খরচ করে, দীর্ঘ প্রক্রিয়া পেরিয়ে, ভিজিট ভিসায় কানাডায় গিয়েছিলেন। তারপর সেখান থেকে দালালের মাধ্যমে আমেরিকায় পাড়ি দিয়েছেন। এখন, ট্রাম্পের কঠোর নীতির ফলে, তাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বিভিন্ন সংস্থা ও গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ১.৫ মিলিয়ন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বৈধভাবে বসবাস করছেন। তবে, একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী অবৈধভাবে দেশটিতে বসবাস করছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা এবং অন্যান্য গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা প্রায় ২ লাখের কাছাকাছি হতে পারে।

এছাড়া, আমেরিকা বাংলাদেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানোর অন্যতম একটি উৎস। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। টানা তিন মাস ধরে রেমিট্যান্স পাঠানো দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে, যদি আমেরিকায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা হলে রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গত বছরের সেপ্টেম্বরে কানাডায় ভিজিট ভিসায় যাওয়া সিলেট নগরীর পীরমহল্লা এলাকার এক যুবক বলেন, অনেক টাকা খরচ করে ভিজিট ভিসায় কানাডায় এসেছিলাম। এসে দেখি কাজ নেই। এক সপ্তাহ পর সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রবেশ করেছি আমেরিকায়। এর জন্য দালালকে মোটা অংকের টাকা দিতে হয়েছে। আসার পর কাজ পেয়েছি, ভালোই চলছিল। কিন্তু ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় চরম দুশ্চিন্তায় আছি। কখন গ্রেফতার হতে হয়, সেই ভয়ে দিন কাটে। শুধু তিনি একা নন, আমেরিকায় সম্প্রতি এই পথে পাড়ি জমানো বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার পর তারা এক অজানা ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছেন। দিন কাটছে গ্রেফতার আতঙ্কে। এই অবৈধ অভিবাসীরা কি তাদের জীবিকার জন্য ভবিষ্যতে আইনি সুরক্ষা পাবে, নাকি তাদেরকে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে? এ বিষয়ে কোনো পরিষ্কার উত্তর নেই, তবে ট্রাম্প প্রশাসন একেবারে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা এই ধরনের অভিবাসীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধরপাকড় করবে। এর ফলে, দেশটির পুলিশ ও অভিবাসন কর্মকর্তাদের উপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যাদের কাজ হলো এসব অবৈধ বসবাসকারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি গ্রেপ্তার

সিলেট নগরী থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত অয়ন দাশ (২৭) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তাকে রোববার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি। তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা জানায়নি পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া অয়ন দাশ সিলেট নগরীর বাগবাড়ি প্রমুক্ত একতা ৪নং রোডের বিমল কান্তি দাসের ছেলে।

ইতালির জন্য ‘গেম’ দিয়ে নিখোঁজ কুদ্দুস, নিঃস্ব হয়েছে পরিবার

অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কুদ্দুস বেপারী (৩২)। বাড়ি থেকে যাত্রা করার আগে দালালকে লিখে দিয়েছেন দুই বিঘা জমি। এখন স্বামী আর জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন কুদ্দুসের স্ত্রী এবং একমাত্রা সন্তান। ইউরোপ যেতে পারলেই স্বপ্ন পূরণ, এমন আশায় বের নিখোঁজ কুদ্দুস বেপারী। আর দেশে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার।

নিখোঁজ কুদ্দুস বেপারী মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের আতাহার বেপারী ও শান্তি বেগমের ছেলে। তিনি বাংলাদেশে ছিলেন মোবাইল মেকানিক।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একই গ্রামের দালাল মনির শেখ (৫০) ২ বিঘা জমি লিখে নেন কুদ্দুস বেপারীর কাছ থেকে। ওই জমির মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। পরে গত চার মাস আগে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন কুদ্দাস। বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় গিয়ে বন্দি থাকেন এক জায়গায় যাকে দালালদের ভাষায় বলা হয় ‘গেম ঘর’। সম্প্রতি লিবিয়ায় নৌকাডুবির ঘটনার পর থেকে কুদ্দুস বেপারী নিখোঁজ। ওই ঘটনার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই তার। তিনি জীবিত নাকি মৃত, কিছুই জানে না কেউ।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, দালাল মনির শেখ দুই বছর আগেও দর্জির কাজ করতেন। এরপর বিভিন্ন যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধপথে ইতালি নেওয়ার কাজ শুরু করেন। তার মাধ্যমেই ইতালি যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন কুদ্দুস বেপারী।

কুদ্দুস বেপারীর স্ত্রী দিনা আক্তার বলেন, তিন বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। আমাদের সংসারে আট মাস বয়সের একটি ছেলে আছে। হঠাৎ দালাল মনিরের প্রলোভনে পড়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা দামের ২ বিঘা জমি গোপনে লিখে দেয় আমার স্বামী। আমরা কিছুই জানতাম না। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আমার স্বামী জানায়, মনির দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাচ্ছে। ৪ মাস লিবিয়ায় ছিল। তখন তার সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্তু গত প্রায় ১৪ দিন কোনো কথা হয় না। তার কোনো খোঁজও পাচ্ছি না। এদিকে দালালও পালিয়ে গেছে, তারও ফোন বন্ধ।

দিনা আক্তার বলেন, একপর্যায়ে জানতে পারি গত ২৪ জানুয়ারি নাকি লিবিয়ার বেনগাজি থেকে ৪৩ জনের গেম দিয়েছে, তাতে অনেকেই মারা গেছে। অনেকেই নিখোঁজ। সেদিন থেকেই আমার স্বামীরও কোনো খোঁজ নেই। এখন আমার ছেলেকে নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচবো? দালালের কঠোর বিচার চাই।

ইতালির জন্য ‘গেম’ দিয়ে নিখোঁজ কুদ্দুস, নিঃস্ব হয়েছে পরিবার

নিখোঁজ কুদ্দুস বেপারীর ভাই সোবহান বেপারী বলেন, আমার ভাইকে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২ বিঘা জমি লিখে নিয়েছে মনির দালাল। আমার বাবা ও আমাকে ভাই কিছুই জানায়নি। সর্বশেষ ২২ জানুয়ারি আমার ভাই আমাদের জানিয়েছিল, গেম দেবে তাই তার ফোন নিয়ে যাবে। এরপর থেকে কোনো কথা হয়নি। গেম দেওয়ার কথা ছিল ২৫ জানুয়ারি। কিন্তু কবে গেম দিয়েছে, আমার ভাই বেঁচে আছে কি না, কিছুই জানি না। আর কোনো যোগাযোগ নেই। দালালও ফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছে। আমরা কী করবো, জানি না। দালাল মনিরের বিচার চাই।

নিখোঁজ কুদ্দুস বেপারীর মা শান্তি বেগম বলেন, আমার ছেলে কাউকে কিছু না জানিয়ে দালাল মনিরকে ২ বিঘা জমি লিখে দিয়েছে। আমরা এর কিছুই জানতাম না। হঠাৎ একদিন বলে আমি ইতালি যাই। লিবিয়া হয়ে ইতালি যাবো। আমাদের আর কোনো দুঃখ থাকবে না। কিন্তু আমার ছেলের সঙ্গে বর্তমানে কোনো যোগাযোগ নেই। আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না তাও জানি না। আমি মনির দালালের বিচার চাই, ছেলের সন্ধান চাই।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. সাইফুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে মামলা করতে পারেন। আমরা তাদের সহযোগিতা করবো। মানবপাচারকারীদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া অবৈধভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আর কেউ যেন না যান, সে বিষয়ে আমরা সচেতনতামূলক সভা করছি।

এ ব্যাপারে দালাল মনির শেখের মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাছাড়া তার বাড়িও তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে।

সিলেটে এক তরুণীর সাথে দুই তরুণ আটক

সিলেটে একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে এক তরুণীর সাথে দুই তরুণকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। হোটেলে অবস্থান করে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।সিলেটের খাবার ও রেস্তোরাঁ

শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় দক্ষিণ সুরমার কদমতলীস্থ হোটেল প্রবাসে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার ঝালোপাড়া স্বপ্ননীড় ১৭০ নম্বর বাসার আব্বাস উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলাম তুহিন (২১), সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার হোসেনপুর তালুকদার বাড়ির আবদুল জলিলের ছেলে রাসেল আহমদ (২৬) ও পপি (৩০) নামের এক তরুণী।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

সিলেটের এক কূপে প্রতিদিন মিলবে ৮শ ব্যারেল তেল

সিলেটের গোয়াইনঘাটের ১টি কূপ থেকে প্রতিদিন মিলবে ৮শ ব্যারেল তেল। যার ফলে দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং জ্বালানি আমদানি খাতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।সিলেট পর্যটন প্যাকেজ

ইতোমধ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সিলেটে জ্বালানি তেলের কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিলেট-১২নং কূপ খনন (তেল খনন) শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

প্রকল্পটি চলতি বছর থেকে শুরু করে আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) । সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

প্রকল্পটির বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় সিলেট ১২ নং কূপ ( তেল কূপ) থেকে ১০ বছর দৈনিক প্রায় ৮০০ ব্যারেল হারে তেল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি চাহিদা আংশিক পূরণ করা সম্ভব হবে। এর ফলশ্রুতিতে দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং জ্বালানি আমদানি খাতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।সিলেট পর্যটন প্যাকেজ

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সিলেট-১০নং কূপ খনন করার সময় একটি স্তরে ক্রুড অয়েল এবং ৪টি স্তরে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এই তেল স্তরে ডিএসটি পরিচালনা করলে ঘন্টায় প্রায় ৩৫ ব্যারেল তেল (ক্রুড অয়েল) উৎপাদিত হয়। আবিষ্কৃত এ তেল স্তর থেকে তেল উত্তোলনের জন্য তেল কূপ খননের বিষয়ে অনুষ্ঠিত কারিগরি কমিটির সভায় সিলেট-১২ নং কূপ (তেল কূপ) খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- খনন অপারেশন, প্রকৌশল সেবা, সারফেস ইক্যুইপমেন্ট স্থাপন ও ভূমি উন্নয়নসহ পূর্ত কাজ এবং বৈদেশিক পরামর্শক নিয়োগ।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সিলেট-১০নং কূপটি সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। কূপটি খননকালে মাড লগ এবং ওয়‍্যারলাইন লগ পর্যালোচনা করে ডিএসটি (ড্রিল স্টেম টেস্ট) পরিচালনা করা হলে কূপটির একটি স্তরে ক্রুড অয়েল (১৩৯৭-১৪৪৫ মিটার) এবং ৪টি স্তরে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়।

এই কূপের ২ হাজার ২১৮ মিটার গভীরতায় তেলের ফুলোরেসসেন্স পাওয়া যায়। এজন্য সারফেস কো-অর্ডিনেট অনুযায়ী (সিলেট-১০নং কূপের নিকটে ) কূপটির লোকেশন নির্ধারণ করা হয়েছে। আবিস্কৃত এ তেল স্তর থেকে তেল উত্তোলনের জন্য সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় এই স্ট্রাকচারে তেল কূপ হিসেবে ২ হাজার ৪৯১ মিটার গভীরতায় সিলেট-১২নং কূপ খননের প্রস্তাব করা হয়।

অবৈধ ভারতীয়দের হাতকড়া ও পায়ে শিকল বেঁধে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র

অবৈধ ভারতীয়দের দেশে ফেরত পাঠাতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি সামরিক বিমানে অবৈধ ভারতীয়দের ফেরত পাঠিয়েছে। এ নিয়ে রাজ্যসভায় তোপের মুখে পড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার।
এবার ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোর একটি ভিডিও শেয়ার করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমেরিকার বর্ডার পেট্রলের (ইউএসবিপি) প্রধান মাইকেল ডব্লিউ ব্যাঙ্কস।

বৃহস্পতিবার (০৬ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধ ভারতীয়দের বিমানের তোলার একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন আমেরিকার বর্ডার পেট্রলের (ইউএসবিপি) প্রধান মাইকেল ডব্লিউ ব্যাঙ্কস।
এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বেআইনি ভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করলে তাকে বের করে দেওয়া হবে।

২৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর শুরুতে মার্কিন সি-১৭ বিমানের দরজা খুলে যেতে দেখা যায়। এরপর বিমানে রাতের অন্ধকারে হাতকড়া পরিয়ে ভারতীয়দের বিমানে তোলা হয়।
এ সময় তাদের পায়েও শিকল পরানো ছিল। এমনকি বিমানের সামনে মার্কিন সেনাকর্মকর্তাদেরও দেখা গেছে।

বিয়ানীবাজারে ম্যুরাল ও ফলক ভাঙচুর, পৌর কর্মচারি পুলিশের হেফাজতে

বিয়ানীবাজার উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ও পুরাতন ভবনের সম্মুখে থাকা শেখ হাসিনার উদ্বোধন সংক্রান্ত নামলফলক ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়। এর আগে পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। তারা ‘মুজিব বাদ মুর্দা বাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ, দিল­ী না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’সহ শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ বিরোধী স্লোগান দেন। এদিন বিকাল পৌনে ৫টার দিকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গনে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে ফেলা হয়।

বিয়ানীবাজারে ম্যুরাল ও ফলক ভাঙচুর, পৌর কর্মচারি পুলিশের হেফাজতে

দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ের সম্মুখে থাকা পৃথক আরেকটি উদ্বোধনী ফলক ভাংচুর করা হয়। তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত পৌরসভার নকশাকার আশরাফুল ইসলাম মারধরের শিকার হন। তাকে মারধরের পর পুলিশের হাতে তোলে দেয়া হয়।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক গোলাম মুস্তাফা মুন্না জানান, আচমকা কিছু যুবক এসে ভাঙুর করে। তাৎক্ষণিক তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

মেহের আফরোজ শাওন গ্রেপ্তার

অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ধানমন্ডি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে আজ রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শাওনকে। তাকে ডিবি কার্যালয় নেওয়া হচ্ছে। ডিবি হেফাজতে তাকে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আগামীকাল তাকে সুনির্দিষ্ট মামলায় আদালতে উত্থাপন করে রিমান্ড চাওয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

এদিকে আজ সন্ধ্যায় মেহের আফরোজ শাওনের জামালপুর সদর উপজেলার নরুন্দি রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি শাওনের রাজনৈতিক অবস্থান ও কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা তার পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে এবং বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

নিউইয়র্কে বাড়ির সামনে বাংলাদেশিকে গু’লি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের ওজোন পার্ক এলাকায় গতকাল রোববার রাতে দুর্বৃত্তের গু’লিতে গুরুতর আহত হয়েছেন এক বাংলাদেশি। ওই দুর্বৃত্ত তাঁর কাছ থেকে মানিব্যাগ ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নিতে চাইলে তিনি চিৎকার করলে তাঁকে গু’লি করা হয়। আহ’ত বাংলাদেশির নাম মামুনুর রশিদ। তাঁকে নিউইয়র্কের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিউইয়র্ক নগরের বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওজোন পার্ক এলাকার ১০১ অ্যাভিনিউর ৭৪ স্ট্রিটের কাছে মামুনুর রশিদের বাড়ি। বাংলাদেশে তাঁর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়।

রোববার রাত ১১টার দিকে বেশ তুষারপাত হচ্ছিল। এ সময় তিনি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় মুখোশধারী এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি এসে তাঁর কাছে থাকা মানিব্যাগ ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নিতে চায়। মামুন ভয়ে চিৎকার করলে সেই ছি’নতাইকারী গুলি করে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট অনিক রাজ বলেন, গু’লিবিদ্ধ হয়ে মামুনুর রশিদ রাস্তায় পড়ে থাকলে একই এলাকায় বসবাসকারী বিয়ানীবাজারের একজন মুরব্বি পুলিশে ফোন করেন। খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে।

মামুনুর রশিদের বন্ধু ফাহাদ হোসাইন বলেন, আহ’ত অবস্থায় পুলিশ মামুনুরকে উদ্ধার করে জ্যামাইকা হাসপাতালে ভর্তি করে। তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন নয় বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে।

এখন পর্যন্ত কেউ গ্রে’প্তার হয়নি বলে এনওয়াইপিডি সূত্রে জানা গেছে।

এনওয়াইপিডি তদন্তের স্বার্থে ওই জায়গায় মানুষের চলাচল নি’ষি’দ্ধ করেছে। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, মামুনুর রশিদকে দুটি গু’লি করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রে’প্তারের চেষ্টা চলছে।