আন্তর্জাতিকধর্ম

ইউরোপে মাটির নীচে বারো শ’ বছরের পুরোনো মসজিদ আবিস্কার!







ইউরোপে মাটির নীচে বারো শ’ বছরের পুরোনো মসজিদ আবিস্কার হয়েছে। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের রেকোপোলিস গ্রামে এ প্রাচীনতম মসজিদের সন্ধান পাওয়া গেছে।সেখানকার প্রত্মতত্ত্ববিদরা বলছেন, মাটির নীচে মসজিদের মতো একটি স্থাপনা মিলেছে। আর এটি ইউরোপের প্রাচীনতম মসজিদ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, মাটির নীচে চাপাপড়া প্রাচীন রেকোপোলিস শহর নির্মিত হয় ছয় শতকের দিকে। ভিসগথিক শাসকরা শহরটি নির্মাণ করেন। এ শহরে মুসলিম শাসনামলের বিভিন্ন নিদর্শন রয়েছে। পরবর্তীতে ৮০০ সালের দিকে শহরটি পরিত্যক্ত হয়।



রেকোপোলিসের এ স্থানটির মাত্র আট শতাংশ উদঘাটন করতে পেরেছেন প্রত্মতাত্তিকরা। জানা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে প্রত্মতাত্তিক জরিপ চালিয়ে আসছেন। তবে প্রত্মতাত্তিকরা কোনো প্রকার খননকাজ ছাড়াই জিওম্যাগনেটিক পদ্ধতিতে অনুসন্ধান কাজ চালিয়ে যান।হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল ম্যাকক্রোমিক বলেন, যত জায়গায় আমরা জরিপ করেছি, প্রায় সব জায়গার ভবন, সড়ক ও গলি অনুসন্ধান করেছি।

ম্যাকক্রোমিক জানান, ২০১৪ সালে তিনি যখন এই স্থান ভ্রমণ করতে আসেন, তখন এখানে একটি প্রাসাদ, একটি চ্যাপেল ও কিছু দোকানপাটের অবশিষ্টাংশ দেখতে পান। তখন তিনি তার বন্ধু ও স্পেনের আলচালা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ল্যারো ওলমো অ্যানকিসোকে রসিকতা করে বলেন, বাকি শহরটি গেলো কোথায়?



পরের বছর তিনি সম্পূর্ণ স্থানটি জরিপের কাজ শুরু করেন। কয়েকজন সহকর্মীসহ জিওম্যাগনেটিক পদ্ধতিতে তিনি স্থানটির সম্পূর্ণ জরিপ করেন। জরিপ চলাকালীন প্রত্মতাত্তি¡করা লক্ষ্য করেন, অন্যান্য স্থাপনার চেয়ে একটি স্থাপনা ভিন্ন। স্থাপনাটি মক্কা অভিমুখী। এছাড়াও স্থাপনাটির নকশা প্রায় মধ্যপ্রাচ্যের মসজিদের মতো।মাটি না খুঁড়ে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না এটি মসজিদ না অন্য কিছু। যদি এটি মসজিদই হয়, তবে এটিই হয়তো ইউরোপের সর্বপ্রাচীন মসজিদ।

মুসলমানরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে শত্রুদের মোকাবেলায় বিজয়ী হবে: জার্মান নওমুসলিম ইসলামের বিরুদ্ধে নানা প্রচারণা, ষড়যন্ত্র এবং সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ সত্ত্বেও এই ধর্মের অগ্রগতি দিনকে দিন বাড়ছে। বর্তমানে ইসলাম ইউরোপসহ পাশ্চাত্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। ইসলামের শিক্ষাগুলোই পাশ্চাত্যের মানুষকে এ ধর্মের দিকে আকৃষ্ট করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

যেমন, মুসলমানদের উন্নত সামাজিক জীবন, ভ্রাতৃত্ব ও সব ধরনের বৈষম্য বা অন্যায় বিরোধী অবস্থান পশ্চিমাদেরকে এ ধর্মের দিকে আকৃষ্ট করছে। নারীর প্রতি ইসলামের সম্মানজনক স্বীকৃতি পাশ্চাত্যের শিক্ষিত নারী সমাজকেও আকৃষ্ট করছে এই মহান ধর্মের দিকে। এইসব নারী ব্যাপক গবেষণার মাধ্যমেই এ ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তাদের কেউ কেউ গবেষণা প্রতিষ্ঠানেরই কর্মী ছিলেন।গবেষণার মাধ্যমে ইসলামের সত্যতাকে উপলব্ধি করে এই মহান ধর্ম গ্রহণ করেছেন এমন নারীদের মধ্যে জার্মান নারী ক্যাথেরিন হুফারও অন্যতম।

তিনি বলেছেন, “আমি জন্ম নিয়েছিলাম ১৯৬৮ সালে জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে এক ক্যাথলিক পরিবারে। আমার পরিবার খ্রিস্ট ধর্মের অনুষ্ঠানগুলো পালনকে বেশ গুরুত্ব দিত এবং প্রতি রোববার গির্জার প্রার্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দিত। কিন্তু আমি যখন ১৪ বছর বয়সে পা দেই তখন দেখলাম যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো পালনে আমার কোনো আগ্রহ নেই।

আর ধর্ম বিষয়ে যেসব জ্ঞান অর্জন করতাম সেগুলোকে আধুনিক বা বর্তমান জীবন-যাত্রার সঙ্গে মিলাতে পারতাম না এবং এইসব জ্ঞান আমার কাছে বোধগম্য ছিল না। ধর্মীয় বিষয়ের প্রতি আগ্রহহীনতার কারণে কিছুকাল এক জ্যোতিষী বা গণকের কাছে যেতাম।

কিন্তু সেই গণক আমার আধ্যাত্মিক চাহিদার কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। কয়েক বছর পর আমি একজন মুসলমানের সঙ্গে পরিচিত হই। তার চিন্তাধারা ও জীবন-যাপনের পদ্ধতি আমাকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করে। ফলে এ ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের জন্য সক্রিয় হয়ে উঠি।”

ইসলাম সম্পর্কে কিছুকাল পড়াশোনার পর এ ধর্মের প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করতে থাকেন জার্মান নওমুসলিম নারী ক্যাথেরিন হুফার। এ অবস্থায় তিনি হিজাব ও নামাজ সম্পর্কে গবেষণা করতে থাকেন। এসব বিষয়ে কিছুদিন গবেষণার পর মিসেস হুফার ইসলামের প্রতি ঈমান আনেন।

তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “যখন হিজাব পরলাম তখন আগের চেয়েও বেশি নিরাপত্তা অনুভব করলাম। হিজাব আমাকে ব্যক্তিত্ব ও বিশেষ মর্যাদা দান করে। কিন্তু যখন আমার মা আমাকে হিজাব-পরা অবস্থায় দেখলেন তখন তিনি অসন্তুষ্ট হলেন এবং এর বিরোধিতা করলেন।

আমি আমার মাকে খুব ভালোবাসতাম বলে ইসলামের গণ্ডীর মধ্যে থেকেই কিছু সময় পর্যন্ত হিজাবহীন থাকব বলে মনে মনে সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু আমার বিবেক আমাকে এ কাজে বাধা দিল। ফলে আমার নিজের মধ্যেই শুরু হল দ্বন্দ্ব। প্রায় এক বছর পর হিজাব পরিহিতা দু জন জার্মান নও-মুসলিমের দেখা পেলাম।নানা সমস্যা ও বাধা সত্ত্বেও হিজাব রক্ষার ব্যাপারে তাদের বেপরোয়া ভাব দেখে বিস্মিত হলাম এবং আমি অন্তর থেকে তাদের বেশ প্রশংসা করলাম। ফলে আমি আবারও হিজাবের মধ্যে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ হলাম।

এ ব্যাপারে মহান আল্লাহর সাহায্য চেয়ে ও তাঁর ওপর ভরসা করে বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে হিজাব পরলাম। মহান আল্লাহর স্মরণ এবং তাঁর সহায়তা আমাকে জুগিয়েছে জোরালো আত্মবিশ্বাস ও মনোবল। আমার মা যখন আমার দৃঢ়-প্রতিজ্ঞা ও অনমনীয়তার বিষয়টি দেখলেন তখন তিনি বিরোধিতা বন্ধ করে ব্যাপারটিকে মেনে নিলেন।”ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পরের অনুভূতি প্রসঙ্গে হুফার বলেছেন, “ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর আগের চেয়েও বেশি প্রশান্তি অনুভব করলাম। কারণ, আমি এখন এই বিশ্ব জগতের স্রস্টার ওপর নির্ভর করছি এবং তাঁর ওপর বিশ্বাস রাখছি।

আমার জীবনে এখন রয়েছে স্পষ্ট লক্ষ্য। তাই ব্যক্তিগতভাবে খুবই প্রশান্তি ও আস্থা অনুভব করছি। এখন বিশ্ব জগতের স্রস্টা সম্পর্কে আমার বিশ্বাস ও জ্ঞান অনেক বেশি পরিপূর্ণ। আমি বুঝতে পেরেছি যে, জীবনের পরিপূর্ণ কল্যাণ রয়েছে ঐশী নবী-রাসূলগণের নির্দেশ মানার মধ্যেই। ইসলামকে জানতে পারায় আমি এখন জীবনের গভীর অর্থ ও লক্ষ্য খুঁজে পেয়েছি।আমার জীবন এখন বস্তুবাদীদের জীবনের মত অর্থহীন নয়। দুঃখজনকভাবে পশ্চিমাদের সমাজ জীবনের ওপর ধর্মের খুব কম প্রভাব রয়েছে। আসলে পাশ্চাত্যে ও বিশেষ করে আমেরিকায় ধর্ম তার অর্থ হারিয়ে ফেলেছে।

অথচ মুসলমানরা ব্যক্তিগত ও সামাজিক দিক থেকে পশ্চিমাদের চেয়ে অনেক ভিন্ন। কারণ, তারা কুরআনের এ বাক্যটিতে বিশ্বাসী যেখানে বলা হয়েছে- প্রত্যেক মুসলমান হল ভাই ভাই। তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক খুবই হৃদ্যতা ও আন্তরিকতাপূর্ণ। (সুরা হুজুরাত-১০) তারা একে-অপরকে দেখতে যায় এবং বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সমস্যাগুলোর সমাধান করে।”জার্মান নওমুসলিম নারী ক্যাথেরিন হুফার ইসলাম প্রচারের পদ্ধতি ও বিশ্বের মুসলমানদের অবস্থা প্রসঙ্গে কিছু বলেছেন।

তিনি বলেন, “বই-পুস্তক পড়ে সত্যকে জানা যায়। কিন্তু ইসলাম প্রচারের আরেকটি পদ্ধতি হল আমল তথা বাস্তবে ধর্মের চর্চা বা অনুশীলন। কথা কখনও কাজের চেয়ে বেশি কার্যকর নয়। মুসলমানরা যেসবে বিশ্বাস করে তা যদি বাস্তবে চর্চা করে তাহলে বিশ্বের অন্যদের ওপর তার প্রভাব হবে অনেক বেশি।

দুঃখজনকভাবে মুসলমানরা এখন অনেক সংকটের শিকার। পাশ্চাত্য ইসলামের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে এবং এটা জানে যে ইসলাম এগিয়ে গেলে অনেকেই এতে আকৃষ্ট হবে। তাই পাশ্চাত্য নানা কূট-কৌশলে ইসলামের অগ্রগতিকে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমার বিশ্বাস, মুসলমানরা যদি একে-অপরকে সাহায্য করে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে তারা শত্রুদের মোকাবেলায় বিজয়ী হবে।”

Share

Related Articles

Close