Thursday, April 9, 2026
Home Blog Page 3

সিলেটেও ‘হাম’ আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা, শামসুদ্দিন হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট চালু

দেশে হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে ছোঁয়াছে রোগ হাম-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারাও গেছে কয়েকজনও। সিলেটেও হাম-এ আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। হাম আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন শিশুদের চিকিৎসায় সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চালু করা হয়েছে আলাদা আইসোলেশন ইউনিট।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩০ মার্চ) পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামের সন্দেহভাজন হিসেবে ৩০ শিশুকে সনাক্ত করা হয়েছে। তাদের হাম পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে সোমবার ১৬ জন শিশু শহীদ শমিসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি আছে।

এছাড়া ঈদের আগে নমুনা পরীক্ষায় চার শিশুর হাম শনাক্ত হয়। তবে তারা অনেকটাই সুস্থ হয়ে ওঠেছে।

এসব তথ্য জানিয়ে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম আহমদ সিলেটটুডেকে বলেন, যাদের সেম্পল ঢাকায় পাঠানো হয়েছে তাদের জ্বর, পাতলা পায়খানা, শরীরে রেশ ওঠাসহ নানা উপসর্গ রয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে ৪/৫ দিন সময় লাগে। তারপর নিশ্চিত হওয়া যাবে তারা হাম আক্রান্ত কী না।

তিনি বলেন, রোববার পর্যন্ত হাম সন্দেহভাজন ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলো। তবে সোমবার ৪ জন সুস্থ হয়ে চলে গেছে। তাছাড়া সন্দেহভাজন শিশেদের ভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়িছিলো। আমরা তাদের শামসুদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে আসছি। কারণ হাম যেহেতু ছোঁয়াছে রোগ। তাই অন্য শিশুদের মধ্যেও তা ছড়িয়ে যেতে পারে।

হাম রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে একটি আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এটি চালু করা হয়।

শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসাধীন ১৬ জনের মধ্যে ১৪জন শিশু ও দুইজন ১৮ বছরের উপরে। চিকিৎসাধীন সকলের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ঈদের আগে নমুনা পরীক্ষায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এ পর্যন্ত চারজনের হাম শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় একজন, বাহুবলে একজন, মাধবপুরে একজন এবং সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় একজন রয়েছেন।

সিলেটে আবাসিক হোটেল থেকে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

সিলেট নগরীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার বিকেলে এসএমপির কোতোয়ালী থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

ব্যবসায়ীর নাম মোফাজ্জল হক সৌরভ (৩২)। তিনি নগরীর লামাবাজারের তন্বী কিচেন নামক একটি রেস্টুরেন্টের মালিক। তার বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানার কসবা গ্রামে।

জানা যায়, সৌরভ ধোপাদিঘীর উত্তরপাড়ের রিল্যাক্স ইন নামের একটি আবাসিক হোটেলের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে থাকতেন। হোটেলের কর্মচারীরা বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে খবর দিলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করে।

সোমবার বিকেলে এর সত্যতা নিশ্চিত করে এসএমপির কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মুহাম্মদ মাঈনুল জাকির বলেন, উদ্ধারের পর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মা-স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজন পোস্টমর্টেম ছাড়াই লাশ দাফন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করেছেন। কর্তৃপক্ষ আবেদন মঞ্জুর করলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্থান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ওই যুবক দরজা বন্ধ করে ভিডিও রেকর্ড করে আত্মহত্যা করেন। পুলিশ দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে।

ইউরোপে যাওয়ার পথে অনাহারে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ গেল সিলেটি যুবক ফাহিমের

লিবিয়া থেকে নৌকাযোগে ইতালিতে পাড়ি দিতে কয়েক দিন বোটে থাকেন ভূমধ্যসাগরে। সেখানে টানা কয়েক দিনের অনাহার আর তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ ঝরে গেল দোয়ারাবাজারের যুবক ফাহিম আহমদ মুন্নার (২০)।

শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে মুন্নার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তার গ্রামের বাড়িতে শুরু হয়েছে শোকের মাতম। মৃতের আত্মীয়স্বজনসহ উপজেলাজুড়ে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।

মৃত মুন্না উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিন ও হেলেনা বেগমের পুত্র।

জানা গেছে, স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে গত রমজান মাসের প্রথমদিকে লিবিয়া যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রওনা করেন মুন্না। প্রথমে সৌদি আরব গিয়ে পবিত্র ওমরাহ্ হজ পালন শেষে লিবিয়া পৌঁছান তিনি। পরে লিবিয়া থেকে ইতালি যেতে ভূমধ্যসাগরে দীর্ঘপথ পাড়ি দিচ্ছিলেন ফাহিমসহ তার অনেক সহযাত্রী। এ সময় তাদের পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। যাত্রাপথে টানা কয়েক দিনে তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। সেই সঙ্গে অনাহারে মারা যান মুন্না।

পরে তাদের বেঁচে থাকা এক সহযাত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বক্তব্যের বর্ণনামতে মুন্নার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার শোকাহত পরিবার। এমনকি মৃত্যুর দুই দিন পরও লাশ নৌকায় ছিল বলে জানা যায়। পরে লাশ পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি মৃত ফাহিম আহমদ মুন্নার লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান চাচা তাইজ উদ্দিন আহমদ।

ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে মৃত্যু: সিলেট বিভাগের এক জেলা থেকেই ১২ প্রাণহানি

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময়ে পথ হারিয়ে নৌকায় মারা যাওয়া ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের বাসিন্দা।

এরআগে এই জেলার ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য জানা গেলেও পরে আরও দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। সবমিলিয়ে হাওরবেষ্টিত এই জেলা থেকে মারা গেছেন। এ তথ্য জানিয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার বলেন, তারা এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এর মধ্যে দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন আছেন।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, যেসব দালালের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করবে জেলা প্রশাসন।

মৃত ব্যক্তিদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। আর যাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের রাখা হয়েছে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে। মারা যাওয়া ২২ জনের মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের। তাঁদের পরিচয় মিলেছে।

৬ মার্চ ভূমধ্যসাগর নৌকায় পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছান হবিগঞ্জের এক যুবক। তাঁকে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। ২৭ মার্চ উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদেরও একই ক্যাম্পে রেখেছে দেশটির কোস্টগার্ড।

তিনি বলেন, মূলত খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণেই ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা যান। নৌকাটি পথ হারিয়ে সাগরে ছিল ছয় দিন। এতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়।

ওই যুবক বলেন, শনিবার তিনি ক্যাম্পে আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা সুস্থ আছেন। ওই যুবক বলেন, বোটটি পথ হারিয়ে ফেলে। ছয় দিন সাগরে ছিল। এ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে অনেকে মারা গেছেন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই সুনামগঞ্জের। তবে মৃত মানুষের সঠিক সংখ্যা তাঁদের জানাতে পারেননি আহত ব্যক্তিরা। মৃত ব্যক্তিদের দুই দিন বোটে রেখে পরে তাঁদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। সীমিত খাবার নিয়ে ছোট ছোট বোটে করে লোকজনকে লিবিয়া থেকে গ্রিসে পাঠানো হয়।

পুলিশ, পরিবার, প্রতিবেশী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁরা হলেন দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আবদুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে সাহান এহিয়া (২৫) ও একই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের আবদুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮), করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েক মিয়া ও বাসুরি গ্রামের সোহাস; দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিম; জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া গ্রামের সোহানুর রহমান, টিয়ারগাঁও গ্রামের শায়েক আহমেদ, চিলাউড়া কবিরপুর গ্রামের মো. নাঈম, পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমান, ইছগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ আলী।

সুনামগঞ্জের মারা যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারে এখন চলছে মাতম। এ ঘটনায় দালালদের বিচার চাইছেন অনেকে।

রোববার দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের টিয়ারগাঁও গ্রামের মৃত শায়েক আহমদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর বাবা আখলুছ মিয়া উঠানে পড়ে আহাজারি করছেন। তিনি দীর্ঘদিন কুয়েতে ছিলেন। আখলুছ বলেন, ‘আমার পুয়ার লাখন সুন্দর ছেলে এলাকাত আর নাই। আমার পুয়ারে আইন্যা দেয়। আমার পুয়ারে না খাওয়াইয়া মারল। আমি দালাল আজিজুলের ফাঁসি চাই।’

তিনি আরও বলেন, ছেলেক গ্রিসে পাঠাতে এলাকার ইছগাঁও গ্রামের দালাল আজিজুল ইসলামকে দুই দফা ১২ লাখ টাকা দিয়েছেন। আজিজুল লিবিয়ায় থাকেন। তিনিই এলাকার যুবকদের লিবিয়া থেকে গ্রিসে পাঠান।

উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম তাঁর এলাকার দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছেন। রানীগঞ্জ ইউনিয়নের পরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম তাঁর ওয়ার্ডে দুজনের মৃত্যুও তথ্য জানিয়েছেন। পাইলগাঁও গ্রামের মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাঁর ভাই মারা গেছেন। দোয়ারাবাজার উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন তাঁর ভাগনের আবু ফাহিমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য এওর মিয়া মুঠোফোনে বলেন, মারা যাওয়া চারজন তাঁর আত্মীয়। শনিবার বিকেলে ওই নৌকায় থাকা গ্রামের আবদুল কাহারের ছেলে রোহান আহমদ (২৫) ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন। রোহান আহমদ জানিয়েছে, গেমে (নৌকায়) খাবার ও পানির সংকটের কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে অনেকেই মারা যান। পরে তাঁদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

একই গ্রামের বাসিন্দা বর্তমান ইউপি সদস্য শাহনূর মিয়া বলেন, রোহানই ফোনে গ্রামের চারজনের মৃত্যুর খবরটি জানিয়েছেন। রাবারের নৌকায় করে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে নেওয়া হয়। এটিকে লোকজন গেম বলে। গেমেই তাঁরা মারা গেছেন।

মারা যাওয়া সাহান এহিয়ার বড় ভাই মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, প্রত্যেকেই ১২ লাখ টাকায় গ্রিসে যাওয়ার জন্য দালালের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। গত মাসে তাঁরা বাড়ি থেকে রওনা দেন। লিবিয়া যাওয়ার পর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। কয়েক দিন ধরে তাঁদের কোনো খোঁজ ছিল না। শনিবার বিকেলে চাচাতো ভাই রোহান ফোনে তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছেন।

বিয়ানীবাজারে আহত জুলাইযোদ্ধাদের আহ্বায়ক কমিটি গঠন

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় গ্যাজেটভুক্ত আহত জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় উপজেলার আহত জুলাইযোদ্ধাদের সর্বসম্মতিক্রমে এ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

গত ২৪ মার্চ (মঙ্গলবার) আহতদের সম্মতিতে কমিটির ঘোষণা দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্বাস্থ্যবিষয়ক সমন্বয়ক সেল, সিলেটের প্রতিনিধি আলী আব্বাস শাহীন।

নবগঠিত কমিটিতে আমিনুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং মোহাম্মদ জহির খানকে সদস্য সচিব নির্বাচিত করা হয়েছে।

নির্বাচিত দায়িত্বশীলরা বলেন, জুলাই শহীদ ও আহতদের কল্যাণে তারা সর্বদা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবেন। দল-মত নির্বিশেষে যেভাবে সবাই জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, ভবিষ্যতেও একইভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে সকল অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন বলেও তারা অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— আব্দুস সামাদ তাপাদার, শাহ আলম মুসা, জবরুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান, জহির আহমদ, ইমন আহমদ, সুহাগ উদ্দিন, রুহুল আমিন, কেফায়েত মাহমুদ, নাজমুল ইসলাম চৌধুরী, মিজানুর রহমান, মো. মিজানুর রহমান, রেদওয়ান হোসেন মুন্না, ইসহাক আহমদ তাওহিদ, আরিফুল ইসলাম, আবু সাঈদ, রাহুল আহমদ ও জুয়েল আহমদসহ আরও অনেকে।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, নবগঠিত এ কমিটি আহত জুলাইযোদ্ধাদের অধিকার, চিকিৎসা ও সার্বিক কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে তাদের সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

সিলেটে জ্বালানী তেলের ডিপোর নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েন

সিলেটের জ্বালানী তেলের ডিপোর নিরাপত্তায় বিজিবির দুই প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে চোরাচালান ও মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরে অবস্থিত যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) এক প্লাটুন এবং পদ্মা অয়েল পিএলসির ডিপোতে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) এক প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ২৫ মার্চ থেকে সার্বিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা ডিপোর অভ্যন্তরীণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ডিপো হতে চাহিদার অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে কিনা তাও নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি, অবৈধ মজুদের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি প্রতিরোধ এবং সীমান্ত পথে তেল পাচার রোধে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট ও পার্শ্ববর্তী মৌলভীবাজারসহ দেশের মোট ১৯টি জ্বালানি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি স্থানে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে সদস্যরা টহল ও সার্বিক তদারকি করছেন। পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সিলেটের পদ্মা ও মেঘনা ডিপোতে দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য কয়েক দিন ধরেই দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া ডিপোর নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধেও জোর তৎপরতা চলছে। সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশনে পণ্যবাহী যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে গুজব ঠেকাতে এবং পাম্প পর্যায়ে সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনও ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে তদারকির জন্য ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ মজুত বা কারসাজির তথ্য দিলে পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

তবে সিলেটে এখনও জ্বালানী তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তারা জানান,, ঈদের ছুটির পর থেকে সিলেটে এখন পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ অনেকটা স্বাভাবিক আছে। ক্রেতারাও চাহিদা মাফিক পেট্রোল-অকটেন নিতে পারছেন। তবে ডিজেলের কিছু সঙ্কট আছে।

সিলেটে কিশোরীকে অপহরণ-ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার

সিলেটে এক কিশোরী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়াইনঘাট উপজেলার মানিকগঞ্জ এলাকা থেকে অলিউর রহমান (২৩) নামের ওই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।

জৈন্তাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মার্চ বাবা-মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে ওই কিশোরীর বাড়িতে একটি পিকআপ নিয়ে যায় অলিউর রহমান। ওই কিশোরীর বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন এমন মিথ্যা সংবাদ দিয়ে অলিউর কিশোরীকে পিকআপে তুলে ফতেহপুর ইউনিয়নের পাখিটেকি এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষন করে। পরে ধর্ষনের ঘটনায় জৈন্তাপুর থানায় মামলা হয়।

জৈন্তাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী অলিউরকে গ্রেফতার করে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

সিলেটে ভূমি অফিসে মারামারি, অফিস সহায়ক বরখাস্ত

সিলেটের গোয়াইনঘাটের তোয়াকুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও অফিস সহায়ক আয়াত উদ্দিনের মধ্যে অফিসের ভিতরে দরজা লাগিয়ে মারামারির ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটির গঠনের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সাথে মারামারির ঘটনায় অফিস সহায়ক আয়াত উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) জেলা প্রশাসক কর্তৃক একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার জাহিন শাকিল ভূঞা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, অভিয়ুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আইন অনুসারে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভূমি অফিসে মারামারির ঘটনাটি জেলা প্রশাসনের নজরে আসার সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়।

জানা যায়, অফিস সহায়ক আয়াত উদ্দিন দেরীতে অফিসে উপস্থিত হওয়াকে কেন্দ্র করে তার নিয়ন্ত্রণকারী ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর রুস্তমপুর ইউনিয়নের তোয়াকুল ভূমি অফিসের উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তার (তহশিলদার) রুমে দরজা লক অবস্থায় এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় তহশিলদার দেলোয়ার হোসেন ও তার অফিসের অফিস সহায়ক আয়াত উদ্দিনের মধ্যে তহশিলদারের অফিস রুমের দরজা লাগানো অবস্থায় একজন আরেকজন গলার কলার ধরে কিল-ঘুষি মারছেন। অফিসের বাইর থেকে সেবা গ্রহীতারা বলছেন দরজা খোলার জন্য। এক পর্যায়ে দরজা খুলে এক যুবককে ভেতরে প্রবেশ করে সংঘর্ষ থামাতে আয়াত উদ্দিনকে রুম থেকে বের করে দিতে দেখা যায়। এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

কেউ বলছে টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে আবার কেউ বলছে এ অফিস দুর্নীতির আখড়া যে কোন সেবা নিতে গেলেই ফি ছাড়া হয়না কাজ-এসব মন্তব্য করছেন স্থানীয়রা। সরকারি ওই অফিসে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সিলেটে ফিলিং স্টেশন থেকে মোটরসাইকেলে তেল নিতে পুলিশের ৩ শর্ত

সিলেট মহানগর এলাকায় মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি তেল সংগ্রহে তিনটি শর্ত আরোপ করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় জনস্বার্থে মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এতে মহানগর এলাকায় মোটরসাইকেলের তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে সব ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, তেল সংগ্রহকারীর বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। মোটরসাইকেলটি অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন করা হতে হবে। পাশাপাশি চালক ও আরোহী—উভয়ের জন্য মানসম্মত হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেলকে জ্বালানি তেল সরবরাহ না করার জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইন অমান্যকারী ও নির্দেশনা উপেক্ষাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম বলেন, ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে শর্তপূরণ না করলে মোটরসাইকেলে জ্বালানি সরবরাহ না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ফিলিং স্টেশনের আশপাশে পুলিশ মোতায়েন থাকবে, বেআইনিভাবে কোনো কিছু হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিভিন্ন মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় সিলেটের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঈদের বন্ধের সময় থেকে মোটরসাইকেল আরোহীরা জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ সারি তৈরি করছেন। অনেকে চাহিদার বেশি জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। এতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

সিলেটে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে উচ্ছৃঙ্খল জনতা ‘মব’ সৃষ্টি করে পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ছিনতাই করার অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে ওই আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের নতুন মেঘারগাঁও রহিমার বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ৩ জন কনস্টেবল আহত হন।

গ্রেপ্তার আলী হোসেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মেঘারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি মামলায় আদালতের রায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টার দিকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি আলী হোসেনকে গ্রেপ্তারের জন্য কোম্পানীগঞ্জ থানার একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানে তাকে আটক করে হাতকড়া পরিয়ে থানার দিকে রওনা দেয় পুলিশ। এ সময় পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান উপজেলা কমিটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য একই গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল লোক পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পুলিশ তাদের বাধা দিলেও তারা তা উপেক্ষা করে হামলা ন। এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাগরসহ তিন কনস্টেবল আহত হন।

খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত বিএনপি নেতা তাজুল ইসলামের মেয়ে খাদিজা ও সুমাইয়া, নতুন মেঘারগাঁও গ্রামের হাবিবুল্লাহর মেয়ে হাজেরা এবং আমির মিয়ার ছেলে মানিক মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর চাপের মুখে আড়াই ঘণ্টা পর একই এলাকা থেকে হাতকড়াসহ আলী হোসেন পুনরায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।