Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 100

কোটা আন্দোলন: আমিরাতে আটক বাংলাদেশিদের শাস্তি মওকুফ

কোটা আন্দোলনের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করায় দায়ে আটক বাংলাদেশিদের শাস্তি মওকুফ করে দেশে পাঠিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। ওই সময় আরব আমিরাতে ৫৭ জন বাংলাদেশি আটক হয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান তাদেরকে ক্ষমা করেছেন। ওই বাংলাদেশিদেরকে শিগগিরই বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গেল ১৯ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতে কয়েক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বিক্ষোভ করেন। ওই ঘটনার পর ৫৭ জন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন দেশটির একটি আদালত। তাদের মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন, ৫৩ জনকে ১০ বছর এবং বাকি একজনকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, ইউএই’র অ্যাটর্নি-জেনারেল চ্যান্সেলর ড. হামাদ আল শামসি সাজা কার্যকর বন্ধ এবং ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর আদেশ জারি করেছেন।

অ্যাটর্নি-জেনারেল সংযুক্ত আরব আমিরাতের সব বাসিন্দাকে সে দেশের আইনকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে, মতামত প্রকাশের অধিকার রাষ্ট্র এবং এর আইনি কাঠামো দ্বারা সুরক্ষিত।

তিনি আরও বলেরন, রাষ্ট্র মতামত প্রকাশের জন্য আইনানুগ উপায় সরবরাহ করে এবং এই অধিকারটি নিশ্চিত করে, যাতে জাতি ও এর জনগণের স্বার্থের ক্ষতি হতে পারে এমন কর্মে পরিণত না হয়।

সিলেটে মাইকিং, কাল থেকে যৌথ অভিযান

শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগের দিন (৫ আগস্ট) সিলেটসহ সারা দেশের প্রায় প্রত্যেকটি থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অস্ত্র লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা। এসব অস্ত্র ফিরে পেতে আজ মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে বর্তমান নির্দলীয় সরকার।

এছাড়া বেসামরিক লোকজনকে দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স গত ২৫ আগস্ট স্থগিত করেছে বর্তমান সরকার। এসব অস্ত্রও জমা দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এসব সব অস্ত্র ফিরে না পেলে আগামীকাল বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) থেকে সারা দেশে যৌথ বাহিনী অভিযানে নামবে।

এ বিষয়ে সতর্ক করে সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সিলেটজুড়ে মাইকিং করা হয়েছে। সোমবার বিকালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা ও বিশ্বনাথে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যাটরিচালিত রিকশাযোগে মাইকিং করতে দেখা যায়।

রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বার্তায় জানা গেছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সারাদেশে বুধবার থেকে যৌথ অভিযান চালানো হবে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজেদের পরিচয় দিতে হবে। পরিচয় না দিয়ে কোনো অবস্থাতেই কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এমন নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। যৌথ অভিযানসহ যে কোনো ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা মানতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোর কমিটির বৈঠক হয়েছে। এতে সব বাহিনী ও গোয়েন্দাপ্রধান এবং তাদের প্রতিনিধিরা ছিলেন। সম্প্রতি থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশ স্টেশন থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করার বিষয়ে এতে জোর দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, গত ২৫ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত বেসামরিক লোকজনকে দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। ওই সময়ে যাদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, তাদের ৩ সেপ্টেম্বরের (মঙ্গলবার) মধ্যে গোলাবারুদসহ আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হবে। অস্ত্র-গোলাবারুদ জমা দেওয়ার শেষ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর (বুধবার থেকে) অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান শুরু হবে।

যৌথ অভিযানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে দেশব্যাপী অভিযান চালানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সিলেটসহ সারা দেশে এখন লোকজনের কাছে বৈধ অস্ত্র প্রায় ৫০ হাজার। এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র রয়েছে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর হাতে। তাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। তাদের অনেকেই ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন।

এদিকে, ৫ আগস্ট সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকার ৬টি পুলিশ স্টেশনে হামলা করে ১০১টি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র লুট করা হয়। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এসবের মধ্যে ৮০টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েেছে। ২১টি এখনো উদ্ধার হয়নি।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ তথ্যগুলো জানিয়েছেন। তিনি বলেন- উদ্ধার হওয়া ৮০টি অস্ত্রের মধ্যে এসএমজি, চায়না রাইফেল, পিস্তল ও শটগান রয়েছে।

সিলেটে বাবার সঙ্গে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে স্কুলছাত্রী নিখোঁজ

সিলেটে বাবার সঙ্গে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে ১৫ দিন থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মাহি আক্তার নামে এক স্কুল ছাত্রী। এ ঘটনায় সিলেট কোতোয়ালী মডেলে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে ঐ ছাত্রীর পরিবার।

মাহি আক্তার মহানগরীর মির্জাজাঙ্গল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তিনি মহানগরীর শেখঘাট এলাকার নাজিম উদ্দিনের মেয়ে।

নিখোঁজ ছাত্রীর বড়ভাই রাজিব আহমদ সিলেটভিউকে জানান, গত ১৯ আগস্ট (সোমবার) সকালে বাবাকে নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলো সে। পরে তাকে হাসপাতালের নিচতলা রেখে দুইতলায় গিয়েছিলেন বাবা। পরে তিনি ফিরে আর তাকে (মাহি আক্তার) পাওয়া যায়নি। আমরা সব জায়গায় খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু পাইনি। থানায় একটি সাধারণ ডায়েরীও করেছি। কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুনু মিয়া বলেন, থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল্লাহিল কাফী বিমানবন্দর থেকে আটক

গত ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতাকে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) আব্দুল্লাহিল কাফীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আজ সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) তার পালিয়ে যাওয়ার খবর পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দিনভর চেষ্টার পর রাত ১০টার দিকে তাকে বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপনসূত্রে আব্দুল্লাহিল কাফীর পালিয়ে যাওয়ার খবর পায় তারা। এরপর দিনভর নানা নাটকীয়তার পর শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করতে সমর্থ হয় তাদের একটি দল।

কাফীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, তিনি গত ৫ আগস্ট ঢাকার আশুলিয়ায় ছাত্রজনতাকে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগে অভিযুক্ত।

ওমরাহযাত্রী বেশে পালাচ্ছিলেন সাবেক এমপি বদির ক্যাশিয়ার, ধরা পড়লেন যেভাবে

ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে বিতর্কিত কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির ক্যাশিয়ার সালাহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র পরিচালক আ ন ম ইমরান খান।

তিনি বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট কক্সবাজারের উখিয়ায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত অন্যতম মূলহোতা সাবেক বিতর্কিত সংসদ সদস্য ইয়াবা সম্রাট আব্দুর রহমান বদির ক্যাশিয়ার সালাহ উদ্দিন। তাকে গ্রেপ্তারে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, অভিযুক্ত সালাহ উদ্দিন সিলেটের এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন। র‍্যাবের সদস্যরা যেতে যেতে সালাহ উদ্দিন বিমানে ওঠে পড়েন। এরপর এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরের রানওয়েতে থাকা একটি বিমান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় ‘

আ ন ম ইমরান খান বলেন, ‘ওমরাহযাত্রীর ছদ্মবেশে দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। তিনি গায়ে ইহরামের পোশাক পরেছিলেন। তার বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

অনুদান পাঠিয়েছেন ১৫ লাখ মানুষ, একজন সর্বোচ্চ ২০ লাখ

আস-সুন্নাহর ত্রাণ তহবিল

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে শায়খ আহমাদুল্লাহ পরিচালিত আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। এবারের বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আস্থাও অর্জন করেছে সংগঠনটি। দেশ-বিদেশ থেকে অনেকেই অনুদান পাঠিয়েছেন এখানে। সবাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অনুদান দিয়েছেন। তবে একজন সর্বোচ্চ ২০ লাখ পর্যন্ত অনুদান দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ তথ্য নিজেই নিশ্চিত করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে তিনি বলেছেন, পথচলার শুরু থেকেই আমরা চেয়েছি, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন গণ মানুষের প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠুক। আল্লাহর শুকরিয়া যে, ধীরে ধীরে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন গণ মানুষের প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে পেরেছে।

তিনি বলেন, এবারের বন্যায় মাত্র ১২ দিনে ১৫ লক্ষাধিক মানুষ মোবাইল ব্যাংকিং এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনুদান দিয়েছেন (সাধারণ ব্যাংকিং চ্যানেল এবং নগদ প্রদান এটার অন্তর্ভুক্ত নয়)। দাতাদের এই বিশাল সংখ্যাই প্রমাণ করে, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মূল প্রাণশক্তি কারা।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুদানে ফাউন্ডেশনের কোনো প্রকল্প পরিচালিত হয় না। এবারের বন্যায় সবচেয়ে বড় একক অনুদানের পরিমাণ ২০ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা। বন্যায় আমাদের মোট তহবিলের তুলনায় সংখ্যাটা খুবই ক্ষুদ্র। অর্থাৎ লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সহযোগিতায় আমাদের অনেক বড় বন্যা তহবিল গঠিত হয়েছে।

শায়খ আহমদুল্লাহ তার পোস্টে বলেন, গণ মানুষের প্রতিষ্ঠান হিসেবে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাক, আপনাদের ভালোবাসায় সিক্ত হোক, মহান রবের কাছে এটাই প্রার্থনা।

পাকিস্তান যেতে ভিসা ফি লাগবে না বাংলাদেশিদের

বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার আহমদ মারুফ জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহ আগে পাকিস্তান নতুন ভিসা নীতিমালা ঘোষণা করেছে। এর আওতায় বাংলাদেশসহ ১২৬টি দেশের নাগরিকরা ভিসা ফি ছাড়া পাকিস্তানে যাতায়াত করতে পারবেন।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর (অব.) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ সময় দুই দেশের মধ্যে বন্যা পুনর্বাসন, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, ভিসা সহজীকরণ, সরাসরি ফ্লাইট চালু, কৃষি গবেষণায় সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

উপদেষ্টা পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বন্যার বিষয়ে অবহিত করলে হাইকমিশনার পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বন্যা দুর্গতদের জন্য উপকরণ দিয়ে সহায়তার আশ্বাস দেন।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ের প্রভাব পাকিস্তানে পড়েছে উল্লেখ করে বলেন, “সে সময় অনেক পাকিস্তানি নাগরিক বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে আনন্দ-উৎসব করেছে।”

পাকিস্তানের হাইকমিশনার গত ১৫ বছরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে “শুষ্কতা” পরিলক্ষিত হয়েছে, তার উত্তরণ ঘটিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান জানান।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার পারস্পরিক সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক স্বার্থে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় সরাসরি ফ্লাইট চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি জানান, সবশেষ ২০১৮ সালে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু ছিল, যা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ) অপারেট করত।

বৈঠকে মানব পাচার প্রতিরোধ, সন্ত্রাস দমন ও কৃষি গবেষণা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এ সময় ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের কাউন্সেলর কামরান ধাঙ্গাল ও জাইন আজিজ সহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক এমপি বাহার ও মেয়ে সূচি যেভাবে ভারতে পালালেন

কুমিল্লার সাবেক এমপি বাহাউদ্দিন বাহার এবং তার মেয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সুচনা ভারতে পালিয়েছেন। বর্তমানে বাবা মেয়ে কলকাতায় এক রাজনৈতিক নেতার আশ্রয়ে রয়েছেন। তবে কখন কীভাবে কোন পথে তারা পালালেন তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন- তাহলে বাহার সূচনা কি কুমিল্লাতেই আত্মগোপনে ছিলেন? তারা কীভাবে সীমান্ত পার হলেন? তার মেয়ে সূচনা কীভাবে ভারতে গেলেন?

সূত্র বলছে, অন্তত ১০ দিন আগে কুমিল্লার সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার চোরাই পথে ভারতে পাড়ি জমান। শনিবার বিকালে কলকাতায় বাবার কাছে পৌঁছান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের অপসারিত মেয়র তাহসীন বাহার সূচনা।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার চরানল সীমান্ত দিয়ে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পৌঁছান সূচনা। পরদিন শুক্রবার তিনি ফেসবুকে সচল হন। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সাবেক এমপি বাহার ও মেয়ে সূচি যেভাবে ভারতে পালালেন
সূত্রটি জানায়, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার শশিদল ইউনিয়নের একজন হুন্ডি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে সীমান্ত পার হন তাহসিন বাহার সূচনা। তার সীমান্ত পার হওয়ার একটি ভিডিওকলের ছবি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওকলে সন্দেহভাজন পাচারকারীর নামও রয়েছে। ভারতের বক্সগঞ্জে একদিন থাকার পর শনিবার বিকালে কলকাতায় পৌঁছান সূচনা। সেখানে এক রাজনৈতিক নেতার তত্ত্বাবধানে অবস্থান করছেন কুমিল্লার সাবেক এমপি বাহার। প্রতিদিন ১০ হাজার রুপি চুক্তিতে গত ৮-১০ দিন ধরে আছেন তিনি। নির্ভরযোগ্য সূত্র এমনটাই জানিয়েছে।

জানা গেছে, ব্রাহ্মণপাড়ার শশিদলের যে হুন্ডি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে সূচি সীমান্ত পার হয়েছেন তিনি এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ঘনিষ্ঠ। সীমান্ত পার হওয়ার দিন সূচি কুমিল্লা শহরের একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে সূচনা সীমান্ত পার হয়ে বক্সনগরের একটি বাড়িতে উঠেন। সেখান থেকে তার একটি ছবি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ছবি কেন প্রচার হলো এ নিয়ে সাবেক এমপি বাহার কলদাতাকে ধমকিও দেন।

সাবেক এমপি বাহারেরও একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, তার মাথায় চুল নেই এবং সোনালী রংয়ের দাড়িও নেই। তার মুখে ছোট সাদা রংয়ের দাড়ি রয়েছে।

এমপি বাহার ও তার মেয়ে সূচির গন্তব্য এখন কোথায় হবে তা নিয়ে রয়েছে গুঞ্জন। তবে সূত্র বলছে, তারা লন্ডন যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের লক্ষ্য যেকোনোভাবে লন্ডন পাড়ি দেওয়া।

এখনও ফেরদৌসের সাড়া পাননি, কষ্ট পাচ্ছেন ঋতুপর্ণা

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোপের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপরই ভেঙে দেওয়া হয় সংসদ।

আওয়ামী লীগ সভাপতির দেশ ছাড়ার খবরে দলটির মন্ত্রী-এমপি, নেতাকর্মীরাও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ দেশের ভেতরেই আত্মগোপনে চলে যান।

যাদের একজন ঢাকা-১০ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকেই কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না তার।

ঢাকাই সিনেমার এই নায়কের বেশ ঘনিষ্ঠ বন্ধু ওপার বাংলার অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। প্রায় অর্ধশত ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন তারা। বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখলেই ফেরদৌসের বাড়িতে ঘুরতে যান ঋতুপর্ণা।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিগত একমাসেও ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি এই অভিনেত্রী। যে কারণে প্রিয় বন্ধুকে নিয়ে বেশ চিন্তিত তিনি।

সম্প্রতি দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঋতুপর্ণা বলেন, গত একমাস ধরে ফেরদৌসের খোঁজ পাইনি। তার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারও বন্ধ পাচ্ছি।

অভিনেত্রীর কথায়, প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল সমর্থন করতে পারেন। তবে মানুষ হিসেবে ফেরদৌস অসাধারণ।

ঋতুপর্ণা বলেন, ‘প্রত্যেকের আলাদা আলাদা রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করার অধিকার আছে। ফেরদৌসও সেভাবে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে, সংসদ সদস্য হয়েছে। তবে ব্যক্তি ফেরদৌস খুব নরম মানুষ। অসাধারণ তার ব্যক্তিত্ব। যারা তাকে কাছ থেকে দেখেছেন, এটা স্বীকার করবেন। আমি জানার বহু চেষ্টা করেছি সে এখন কেমন আছে, কোথায় আছে। কেউ যদি আমাকে জানাতে পারেন চিন্তামুক্ত হতাম। ওর জন্য খুব কষ্ট পাচ্ছি।’

নায়কের বিভিন্ন ঘনিষ্ঠজনের সূত্রমতে, ৪ আগস্ট রাত পর্যন্ত ঢাকাতেই অবস্থান করছিলেন ফেরদৌস। এর দুইদিন আগেও বিটিভিতে হাজির হয়ে টেলিভিশন চ্যানেলটির ওপর হামলা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে ৫ আগস্ট থেকে ফেরদৌসকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই নায়কের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও ৪ আগস্টের পর কোনো স্ট্যাটাস শেয়ার করতে দেখা যায়নি।

এরই মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে, পরিবার নিয়ে ফেরদৌস দেশ ছেড়েছেন। যদিও নায়কের দেশ ছাড়ার খবরের এখনও কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এমনকি তার পিএস-এর নাম্বারও বন্ধ রয়েছে।

হাঁটুকে সিঁড়ি বানিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন সেনা সদস্য সুজন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের হাঁটুকে সিঁড়ি বানিয়ে অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের ট্রাকে উঠতে সহায়তা করে মানবিক সেবার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ল্যান্স করপোরাল (গানার) কাজী সুজন।

ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ভুজপুর এলাকায় বন্যাকবলিত এলাকায় অসহায় বন্যার্তদের উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে তিনি এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। অনেকেই সেনা সদস্য সুজনকে ‘সুপার হিরো’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

জানা যায়, সেনা সদস্য কাজী সুজনের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকীর কাঁঠালতলী গ্রামে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্টিলারি কোরে কর্মরত রয়েছেন। দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুরে বন্যার্ত এলাকার রেসকিউট টিমের উদ্ধার কাজে যান সুজন।

এক পর্যায়ে উদ্ধারকৃতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ট্রাক আনা হয়। কিন্তু তাতে কয়েকজন নারী উঠতে পারছিলেন না। ওই সময় তিনি নারীদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে হাঁটুকে সিঁড়ি বানিয়ে তাদের গাড়িতে উঠতে সহায়তা করেন। মুহূর্তের মধ্যেই এ ঘটনার ধারণকৃত ভিডিও দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় অনেকেই বলছেন, তরুণ সেনাসদস্য কাজী সুজনের মতোই দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রত্যেক সদস্য কাজ করে যাচ্ছে বন্যার্তদের সেবায়। তারুণ্যের এই সহমর্মিতা ও মানবতাবোধ হোক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস এই চাওয়া সবার।