Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 104

সিলেট সীমান্ত থেকে সাবেক বিচারপতি মানিক গ্রেপ্তার

সিলেটের কানাইঘাট দনা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতে পালানোর সময় তাকে আটকের কথা জানিয়েছে বিজিবি।

এদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করায় সাবেক বিচারপতি মানিকের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর আদালতে মামলা করা হয়েছে। সোমবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসান পলাশ বাদী হয়ে নোয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলি আদালতে মামলাটি করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, জিয়াউর রহমান সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন সাবেক বিচারপতি মানিক। তিনি বলেছিলেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, ছিলেন পাকিস্তানের চর’। জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পরিচয়ে মিথ্যাচারসহ কালিমা লেপনের হীন উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মানহানিকর বক্তব্য দেন তিনি। যা প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। তার এমন মন্তব্যে জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিশেষ করে গত জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনের সময় চ্যানেল আই-তে প্রচারিত টকশোতে মানিক ঔদ্ধত্য ও কুরুচিপূর্ণ, নারী বিদ্বেষী, অপমানজনক বক্তব্য ও আচরণ করেন, যা সারা দেশবাসী দেখেছে এবং তা সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়।

মামলার বাদী রবিউল হাসান পলাশ গণমাধ্যমকে বলেন, সাবেক বিচারপতি মানিক জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পরিচয়ে মিথ্যাচারসহ কালিমা লেপনের হীন উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। তাই এই মামলা দায়ের করেছি।

বন্যায় পাতিলে ভাসতে থাকা শিশুটি সম্পর্কে যা জানা গেল

দেশের চলমান বন্যায় এখন পর্যন্ত দুইজন নারীসহ ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪৮ লাখের বেশি মানুষ। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। নিহতদের মধ্যে কুমিল্লায় চারজন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে চারজন, নোয়াখালীতে একজন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুর একজন এবং কক্সবাজারে তিনজন।

এদিকে শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাায় একটি শিশু পাতিলের মধ্যে কাপড় দিয়ে পেচানো অবস্থায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে।

পাতিলের ভেতর বন্যার পানিতে ভাসতে দেখে সেখানে থেকে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়। অনেকেই ছবিটি শেয়ার করছেন নানা আবেগঘন ক্যাপশন দিয়ে। অনেকেই বলছেন পরিবারের সব সদস্য মৃত।

তবে অনুসন্ধান করে জানা গেছে ভাইরাল হওয়া ছবিটি কুমিল্লার খারাতাইয়া, বুড়িচং এলাকার। ছবিটি তুলেছেন নাজমুল হাসান তপন নামের এক ব্যক্তি।

তিনি জানিয়েছেন, শিশুটির পরিবারের সবাই জীবিত এবং নিরাপদে আছেন।

এর আগে গত বুধবার (২১ আগস্ট) আরেকটি শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে দেখা গেছে, শিশুটি গলা পর্যন্ত পানির নিচে ডুবে আছে। তার কপালে ভাঁজ এবং অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও ওই ছবি শেয়ার করে বিভিন্ন বার্তা দিয়েছেন। তবে রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি ছিল। রিউমর স্ক্যানারের ফেসবুক পেজ থেকে শিশুর ভাইরাল হওয়া ছবিটিসহ দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, বন্যার বাস্তব দৃশ্য প্রকৃতপক্ষে আরও করুণ। তবে, আমাদের বিশ্লেষণে ভাইরাল ছবিটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি।

পোস্টে আরও বলা হয়, আলোর প্রতিফলন, শিশুটির চোখের অভিব্যক্তি, কপালের ভাঁজ ও ঠোঁটের অস্বাভাবিকতা ইত্যাদি অসংগতি অনুযায়ী আপাতদৃষ্টিতে অনেকেই ভাইরাল ছবিটিকে এআই জেনারেটেড বলেই ধারণা করেছেন। তা ছাড়া, এআই ছবি যাচাইয়ের বিভিন্ন ওয়েবসাইটও ছবিটিকে ৬০% থেকে ৯১% পর্যন্ত এআই বলে ফলাফল দিয়েছে। রিউমর স্ক্যানার টিম হতে MidJourney AI ব্যবহার করে এই একই ধরনের ছবি পুনরায় তৈরি করার চেষ্টায়ও প্রায় একই ফলাফল পেয়েছি আমরা।

সন্তানের জন্ম দিলেন ফেনী থেকে উদ্ধার সেই নারী

বন্যাকবলিত ফেনী থেকে অসুস্থ অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে উদ্ধার করেছিল কুমিল্লা সেনানিবাসের ৩৩ পদাতিক ডিভিশন। ওই নারী সেনা হাসপাতালে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) কুমিল্লা সেনানিবাস সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, বন্যাদুর্গত অন্তত ২০ জন রোগীকে ফেনী থেকে সেনাবাহিনীর অ্যাভিয়েশন হেলিকপ্টারে করে কুমিল্লা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ফুলগাজী উপজেলা থেকে গুরুতর অসুস্থ এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকেও আনা হয়েছিল। শুক্রবার দুপুরে তিনি ছেলেসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। মা-ছেলে দুজনই সুস্থ রয়েছেন। অসুস্থ সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং ত্রাণ বিতরণে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।

কুমিল্লা সেনানিবাসের ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম বন্যাদুর্গত এলাকায় উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

উল্লেখ্য, বুধবার থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তিন জেলায় পানিতে আটকে পড়া সাড়ে ৯ হাজার মানুষকে উদ্ধার করেছে কুমিল্লা সেনানিবাসের ৩৩ পদাতিক ডিভিশন। একইসঙ্গে সাড়ে চার হাজার মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে পর্যটক ৯০% কমেছে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের পর্যটনশিল্পে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। গত মাস অর্থাৎ জুলাইয়ের শুরু থেকে এই অস্থিরতা শুরু হয়।

বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটররা বলছেন, গত ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে পর্যটন ব্যবসায়ে প্রভাব পড়তে শুরু করে। এরপর যত সময় গেছে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে থাকে। ব্যবসায়ীরা বলেন, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর তাদের ব্যবসা তলানিতে ঠেকেছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে আছে। স্থানীয় অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে ভারত ভ্রমণকারী পর্যটকের সংখ্যা ৯০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের যাওয়া পর্যটকদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই বাংলাদেশি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই পর্যটকরা মূলত মেডিকেল ট্যুরিজম বা কেনাকাটার জন্য যান, বিশেষ করে দুর্গাপূজা ও বিয়ের মৌসুমে।

অপারেটররা বলছেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কারণ সাময়িকভাবে ফ্লাইট বিঘ্নিত হয় এবং মেডিকেল ভিসা বাদে বেশির ভাগ ভিসা স্থগিত করা হয়।

দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদিও এখন ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়েছে, তবে ঢাকায় ফ্লাইট পরিচালনাকারী একটি এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, তাদের ট্রিপগুলোতে যাত্রীর চাপ ৫০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

বাংলাদেশি ট্যুর অপারেটর কসমস হলিডে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির আহমেদ বলেন, ভারত বর্তমানে শুধু মেডিকেল ও স্টুডেন্ট ভিসা সেবা চালু আছে।

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে তার এক ক্লায়েন্ট মেডিকেল ভিসাও প্রত্যাখ্যান করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কোম্পানির মাধ্যমে প্রতি মাসে গড়ে ৫০০ জন ভারতে যান। কিন্তু গত এক মাসে আমাদের মাধ্যমে তিনজনও যাননি।’

‘ফলে এখন ঋণ নিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু রাখতে হচ্ছে। আমি নিজেই গত দুই মাসে ৬০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি,’ বলেন তিনি।

আরেক দেশীয় ট্যুর অপারেটর ইনোগ্লোব ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তসলিম আমিন শোভন বলেন, তার কোম্পানির ভারতে ভ্রমণকারী পর্যটকের সংখ্যা ৯৮ শতাংশ কমে গেছে।

তিনি বলেন, ‘যাদের জরুরি ভিত্তিতে ভারতে যাওয়া দরকার শুধু তারাই ভ্রমণ করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকে প্রতিবেশী দেশটি ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন।’

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মতে, বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের একটি প্রধান গন্তব্য হলো ভারত, যার পরিমাণ প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ। এর মধ্যে বেশিরভাগন ভ্রমণ করেন চিকিৎসার জন্য (প্রায় ৮০ শতাংশ), কেনাকাটা (১৫ শতাংশ) এবং অবকাশ যাপন (৫ শতাংশ)।

ভ্রমণকারীদের কেনাকাটার জন্য প্রথম পছন্দ কলকাতা। এরপর আছে সিকিম, গোয়া, কাশ্মীর, দার্জিলিং, গুজরাট, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, দিল্লি, হায়দরাবাদসহ উত্তর-পূর্ব ভারত।

ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতে পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছিল। কিন্তু এই পরিসংখ্যান প্রাক-মহামারি চেয়ে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম।

গত বছর দেশটি ৯ দশমিক ২৩ মিলিয়ন বিদেশি পর্যটক পেয়েছিল। এখান থেকে দেশটির ২৪ কোটি রুপির বেশি আয় হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া পর্যটকের সংখ্যা ছিল ২২ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি, যা যে কোনো একটি দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি।

ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অপারেটরস ওয়েস্ট বেঙ্গল চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান দেবজিৎ দত্ত বলেন, পশ্চিমবঙ্গে হাসপাতাল সংলগ্ন ট্রাভেল অপারেটর, হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর ব্যবসা ৯০ শতাংশ কমে গেছে।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের একজন পরিচালক বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি বিদেশগামী ট্যুর অপারেটরদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এই কারণে অনেককে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে, বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি যদি হিসাব করি, প্রতিদিন বাংলাদেশিদের গড়ে পাঁচ হাজারের বেশি ভারতীয় ভিসা দেওয়া হয়। তাদের একেকজন যদি ভারতে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে, তার মানে ভারত প্রতি মাসে ৭৫০ কোটি টাকা হারাচ্ছে।’

মানুষ বাঁচলে ক্ষতি পুষিয়ে নেব, পানির হিসাবও বুঝে নেব : সাফা কবির

ভারত থেকে আসা পানি ও টানা বৃষ্টিতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে লাখ লাখ মানুষ বাড়ি-ঘর ছাড়া। মূল্যবান জিনিসপত্রসহ বসতবাড়ির ভিটেমাটিও ভেসে গেছে অনেকের। সবমিলে বিপর্যস্ত জনজীবন।

এ করুণ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমসহ ত্রাণ বিতরণে ব্যস্ত সময় পার করছে। আবার অন্যসব অঞ্চলের মানুষও এগিয়ে আসছেন বন্যার্তদের সহায়তায়।

এদিকে সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের পাশাপাশি এগিয়ে এসেছেন অনেক শোবিজ ও সংগীত ইন্ডাস্ট্রির তারকারাও। এদেরই একজন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজে এক পোস্টে বন্যার্তদের রক্ষায় এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন এ অভিনেত্রী।

সাফা কবির লিখেছেন, ‘মানুষ বাঁচলে ক্ষতি আমরা পুষিয়ে নেব, পানির হিসাব অবশ্যই বুঝে নেব, কখন কে গেট ছেড়েছে, সব মনে রেখে অধিকার ঠিকই কড়ায়-গণ্ডায় আদায় করা হবে। শুধু এই মুহূর্তে দরকার মানুষগুলোকে বাঁচানো। নতুন জোয়ারে সব সংস্কার করে ফেলা যাবে। কিন্তু এই বন্যার পানির জোয়ারে আগে মানুষগুলোকে বাঁচানো দরকার।’

‘এই মানুষগুলোই দেশ গড়বে। চলেন আরেকবার সাড়া দেই দেশের ছাত্র-জনতা, বুদ্ধিজীবী, উপদেষ্টা, নাগরিক সমাজ, শিক্ষিত সমাজ ও সব সাধারণ মানুষ, আমরা যুদ্ধ করতে জানি। হোক সেটা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, হোক বা অমানুষ সৃষ্ট বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আমরা যে পারি আরেকবার দেখাই। সব ধরনের সহযোগিতা তৈরি করে ঝাপিয়ে পড়ি, যার যার যতটুকুই সাধ্য আছে, সবটা দিয়ে।’
মানুষ বাঁচলে ক্ষতি পুষিয়ে নেব, পানির হিসাবও বুঝে নেব : সাফা কবির
সবশেষ এ অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘সারা দেশের বন্যাকবলিত এলাকার উদ্ধারকাজ বিষয়ে যেকোনো সেবা গ্রহণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন নম্বর “১০২”। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের নিয়মিত ফোন নম্বর “০২২২৩৩৫৫৫৫৫”। মনিটরিং সেলে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মুঠোফোন নম্বর “০১৭১৩-০৩৮১৮১”। এছাড়া জাতীয় জরুরি সেবা “৯৯৯”-এ ফোন করেও ফায়ার সার্ভিসের এ–সংক্রান্ত সেবা নেয়া যাবে।’

চার বছর ধরে জমানো টাকার ব্যাংক ত্রাণ তহবিলে দিল তৃতীয় শ্রেণির আনায়া

শিশু আনায়া। পড়ে তৃতীয় শ্রেণিতে। চার বছর ধরে পবিত্র ওমরাহের জন্য জমিয়েছিল টাকা। সেই টাকা দিল বন্যার্তদের সহায়তায়। আজ শুক্রবার বন্যার্তদের সাহায্যের উদ্দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জরুরি সংযোগ কনসার্ট চলছে। সেখানে ত্রাণ তহবিলে এই টাকা জমা দেয় সে।

রাজু ভাস্কর্যের পাশে নিজ উদ্যোগে আসছে জনতা, দিচ্ছেন সামর্থ অনুযায়ী অর্থ, পোশাকসহ নানা সহযোগিতা। এই কনসার্টের মিডিয়া পার্টনার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি।

কনসার্টে শিরোনামহীন, সায়ানসহ ৩০টির মতো ব্যান্ড ও শিল্পী গান পরিবেশন করবেন, যা এনটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার চলছে। এ ছাড়া বন্যার্তদের জন্য টিএসসিতে ত্রাণ সংগ্রহ করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ত্রাণ নিয়ে টিএসসিতে মানুষের এই উপস্থিতি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে পানি, শুকনো খাবার, ঔষধসহ জরুরি সেবার নানা উপকরণ দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা।

বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের প্রাণহানি, পানিবন্দি ৯ লাখ পরিবার

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ মুহূর্তে ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬২৯টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

কামরুল ইসলাম বলেন, এই মুহূর্তে দেশের ১১ জেলা বন্যা প্লাবিত আছে। বন্যায় সিভিয়ার অবস্থায় রয়েছে ফেনী। এ ছাড়া কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ বর্তমানে বন্যা প্লাবিত আছে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বন্যায় ৪৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই ১১টি জেলায় ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, এ পর্যন্ত আহতের তালিকা পাওয়া যায়নি। তবে ১৩ জন নিহতের খবর পেয়েছি। তাদের মধ্যে কুমিল্লায় ৪ জন, ফেনীতে ১ জন, চট্টগ্রামে ২ জন, নোয়াখালী ১ জন, লক্ষ্মীপুরে ১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ জন এবং কক্সবাজারে ৩ জন নিহত হয়েছেন।
বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের প্রাণহানি, পানিবন্দি ৯ লাখ পরিবার
কামরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এসব জেলায় সর্বমোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ও ২০ হাজার ১৫০ টন চাল এবং ১৫ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবি, পুলিশ, রোভার স্কাউট এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয়রা কাজ করছে। সবাইকে নিয়ে বন্যা মোকাবিলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কন্ট্রোলরুম থেকে প্রতিটি জেলার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, যদি বর্ষণ না হয় তবে আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে বন্যার পানি ধীরগতিতে হ্রাস পাচ্ছে।

হালদার বাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি, ডুবে গেছে শতাধিক ঘরবাড়ি

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নাজিরহাট নতুন ব্রিজ এলাকায় হালদার তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে।

বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে লোকালয়ে পানি ঢুকছে।

রাত ১২টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাঁধ উপচে ও ভেঙে যাওয়া বাঁধের অংশ দিয়ে পানি ঢুকে উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত শতাধিক ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। দ্য ডেইলি স্টার এমন খবর প্রকাশ করেছে।

ওই খবরে পানি প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সোহাগ তালুকদারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বুধবার থেকে হালদার পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্তত ২২টি স্থানে বাঁধ ভেঙেছে।
হালদার বাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি, ডুবে গেছে শতাধিক ঘরবাড়ি
খবরে বলা হয়, ভাঙা অংশে জিও ব্যাগ ফেলে পানি প্রবেশ বন্ধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল হক জানান, পানি স্রোতের তীব্রতা এত বেশি যে, কেউ দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না।

বাঁধ ভেঙে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ওই সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন।

ডিবি হেফাজতে ওয়ারি বিভাগের সেই ডিসি ইকবাল

কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ছাত্রদের ওপর পুলিশের নির্বিচারে গুলির একটি ভিডিও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেখাচ্ছিলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ভিডিও দেখিয়ে মোহাম্মাদ ইকবাল নামে ডিএমপির ওই কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খানকে বলছিলেন, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।’

মোহাম্মাদ ইকবাল ওয়ারি বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি আর কর্মস্থলে আসেননি। সোমবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় নরসিংদীর বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয় তাকে। তিনি এই মুহূর্তে ডিবি হেফাজতে আছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, মোহাম্মদ ইকবালকে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাকে এখনও আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে ফৌজদারি মামলা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে।

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে শিক্ষার্থীসহ আন্দোলনকারীদের গুলি করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করলে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। এর দুদিন আগে পুলিশের গুলি করা নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আন্দোলনের সার্বিক অবস্থা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে জানাচ্ছেন ডিসি ইকবাল। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।’

আন্দোলনের পুরো সময় মোহাম্মদ ইকবাল ওয়ারি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। যাত্রাবাড়ী ও শনির আখড়া এলাকা তার আওতাধীন ছিল। আন্দোলনের সময় এই দুটি জায়গাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। আন্দোলনে নিহতদের সংখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকার আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পুলিশ ও জনতা হতাহত হয়েছেন যাত্রাবাড়ী ও শনিরআখড়া এলাকায়।

শেখ সেলিমের ডেরা থেকে উত্থান নায়িকা নিপুণের

নিপুণ আক্তার। পেশায় চিত্রনায়িকা। তবে এই পরিচয় ছাপিয়ে তিনি হয়ে ওঠেছিলেন শেখ ফজলুল করিম সেলিমের রক্ষিতা। বিষয়টি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ছিলো ওপেন সিক্রেট। এমনকি সহকর্মীদের মধ্যেও চলতো রসালো গল্প। তবে মাথার ওপর শেখ পরিবারের সদস্য সেলিমের ছাতা থাকায় কেউ টু শব্দ করতে পারেননি। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিপুণ হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। অপরাগতা যেন তার ডিকশনারিতে ছিলই না। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন, সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে আইন মন্ত্রণালয়। সর্বত্রই ছিলো তার দৌড়।

নিপুণ এমপি বা মন্ত্রী নয়। শেখ হাসিনার সরকারের কোনো দায়িত্বেও ছিলেন না। তারপরও তার এই প্রভাবের উৎস কী, নেপথ্যে কে? বিষয়টি অনেকেরই জানা। তবে মুখ খোলার দুঃসাহস দেখাননি কেউ। যদিও কখনও কখনও ক্ষীণভাবে উচ্চারিত হয়েছে আড়ালে থাকা একটি নাম। শেখ ফজলুর করিম সেলিম ওরফে শেখ সেলিম। শেখ হাসিনা সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। সম্পর্কে শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। প্রধানমন্ত্রীর পরেই তার প্রভাব ছিলো বলে মনে করা হয়। জনসম্মুখে নিপুণ শেখ সেলিমকে আঙ্কেল বলে সম্বোধন করলেও তাদের একান্ত ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে জানতো অনেকেই। শেখ সেলিমের ভালোবাসায়-আর্শীবাদে অবৈধ প্রভাব বিস্তার করেছিলেন নিপুণ। সরকারি বেশ কয়েক দপ্তরে ছিল নিপুণের রাজত্ব। এরমধ্যে অন্যতম রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। রাজউক থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে নিপুণ।

নিপুণ সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য রাজউকের উচ্চমান সহকারী মাহবুব হোসেন। সিবিএ নেতা। মাহবুবের বাড়ি গোপালগঞ্জে। শেখ সেলিমের লোক হিসেবে পরিচিত তিনি। এই মাহবুুবের সঙ্গে নিপুণকে পরিচয় করিয়ে দেন শেখ সেলিম। ২০১৪ সালের পর থেকেই রাজউকে আধিপত্য বিস্তার করেন নিপুণ। ড্রয়িং এপ্রুভাল, অকুপেন্সি সার্টিফিকেট, রাজউকের নামজারিসহ এই দপ্তরে অন্যান্য কাজ করাতেন নিপুণ। লোক মারফতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতেন তিনি। মাহবুবের কাছে অফিসাররা ছিলেন জিম্মি। মাহবুবের কাজে টাকা চাইতেন না তারা। ‘শেখ সেলিমের লোক’ এই পরিচয়ে মাহবুব অত্যন্ত প্রভাবশালী। যে কারণে মাহবুবের কাজ হতো দ্রুত গতিতে। অনেক সময় ‘ক্লায়েন্টকে’ মাহবুবের কাছে পাঠাতেন নিপুণ। তখন রাজউক ভবনের পাশের বিল্ডিংয়ের একটি কক্ষে নিয়ে যেতেন ক্লায়েন্টকে। সেখানে গিয়ে নিপুণের কথামতো ক্যাশ টাকা নিতেন মাহবুব। ওই কক্ষেই টাকা রাখা হতো। অফিস শেষে সেই টাকা পাঠানো হতো নিপুণের বাসায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নিপুণের সঙ্গে শেখ সেলিমের সম্পর্কের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত না করার জন্যই সরাসরি সেখানে যেতেন না নিপুণ। এ কাজে ব্যবহার করা হতো মাহবুবকে। এ সংক্রান্ত প্রমাণ রয়েছে দ্য নিউজের কাছে।
শেখ সেলিমের ডেরা থেকে উত্থান নায়িকা নিপুণের
জানা গেছে, ড্রয়িং এপ্রুভালের ক্ষেত্রে ৮ তলা ভবনের জন্য ২০-২৫ লাখ, ১০ তলার জন্য ৫০ লাখ টাকা নিতেন নিপুণ। তবে মাঝেমধ্যে ২-৩ লাখ টাকা ভাগে পেতেন মাহবুব। শেখ সেলিম যখন যেখানে ডাকতেন তার সেবায় উপস্থিত হতেন নিপুণ। নিপুণের ‘সেবা প্রদানকারী’ টিমে রয়েছে একঝাঁক সুন্দরী। তারা কেউ মডেল, কেউ নায়িকা, কেউ শিক্ষার্থী। নিজে যেমন শেখ সেলিমের জন্য নিয়োজিত ছিলেন, তেমনি এই সুন্দরী টিমের সদস্যদের নিয়োজিত রাখতেন নিপুণ।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে অভিজাত এলাকা বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে নিপুণ গড়ে তোলেন প্রসাধনী ও লাইফ-স্টাইল কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান ‘টিউলিপ নেইলস অ্যান্ড স্পা’। সাধারণত শেখ সেলিমের মতো নেতা পার্লার উদ্বোধন করার কথা না হলেও নিপুণের এই পার্লারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন তিনি। এই পার্লারকে কেন্দ্র করে বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় নিপুণ গড়ে তুলেছেন অনৈতিক বাণিজ্যের বৈধ হাট। তার পার্লারে কর্মরত কোনো মেয়ে অনৈতিক কাজ করতে আপত্তি জানালে তাকে মামলার ভয় দেখাতেন নিপুণ। ডেকে আনতেন পুলিশ। রেগে গিয়ে মারধরও করতেন তিনি।

কথিত রয়েছে, এই পার্লারটি তাকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন শেখ সেলিম। এমনকি নিপুণের প্রতি দুর্বলতা এতোটাই ছিল যে, নিপুণের সঙ্গে শেখ সেলিম সিনেমায় অভিনয় করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এমনটি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন নিপুণ নিজেই। শেখ সেলিম ও নিপুণের ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ ছিল ওপেন সিক্রেট। এই বার্তা পৌঁছে যায় শেখ সেলিমের পরিবারের সদস্যদের কাছেও। যে কারণে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি আর করা হয়নি। তবে সিনেমা না করলেও এফডিসিতে নিপুণকে বিশাল প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়েছিলেন শেখ সেলিম।

আর এ কারণেই হেরেও হারেন না নিপুণ। ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারির বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে চিত্রনায়ক জায়েদ খানের কাছে সাধারণ সম্পাদক পদে হেরে যান নিপুণ। তারপর প্রভাব খাটিয়ে নানা খেলা দেখান তিনি। পরবর্তীতে বিজয়ী প্রার্থী জায়েদ খানকে অযোগ্য ঘোষণা করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির আপিল বোর্ড। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান নিপুণ আক্তার। কোনো নিয়ম কানুনের বালাই নেই। শেখ সেলিমের নির্দেশে এমনটি হয়েছিলো বলেই জানিয়েছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। পরবর্তীতে জায়েদ খানের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২ মার্চ হাইকোর্ট জায়েদ খানকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ঘোষণা করেন। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ার দখল করে রাখেন নিপুণ। জায়েদ ও নিপুণ দু’জনই আওয়ামী লীগের আর্শীবাদপুষ্ট হলেও নিপুণের প্রভাবে পেরে ওঠেননি জায়েদ। প্রশাসনকে ব্যবহার করে জায়েদ খানকে কোণঠাসা করেছিলেন এই নায়িকা।

জায়েদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বেবি নামে এক অভিনয় শিল্পীকে পাঠিয়েছিলেন ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানের কাছে। নিপুণের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরলেও এ বিষয়ে বেবি নিজেই গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘শেখ সেলিমের নাম ভাঙিয়ে চলেন নিপুণ। তার পেছনে কালো টাকার লোক আছেন। শেখ সেলিমের নাম বলে আমাকে ডিআইজি হাবিব স্যারের কাছে জায়েদ খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে বলতে বলেছিলেন শেখ সেলিমের নাম।’ একইভাবে শেখ সেলিমের রেফারেন্সে ডিবি অফিসেও পাঠিয়েছিলেন বেবিকে। এছাড়াও জায়দে খানকে নানাভাবে হুমকি-ধমকিতো ছিলোই।

এরমধ্যে ২১ নভেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে। এই আদেশের ফলে নিপুণ আক্তার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকেন। সর্বশেষ, গত ২৮ জানুয়ারির নির্বাচনে খল অভিনেতা ডিপজলের কাছে পরাজিত হন নিপুণ। সেখানেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন এই নায়িকা। তিনি আদালতে রিটসহ নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। ওই সময়ে খল-অভিনেতা ডিপজল বলেছিলেন, নিপুণের পেছনে অবশ্যই বড় শক্তি আছে। তার পেছনের হাত লম্বা বলে জানান তিনি। ওই সময় নিপুণের অনৈতিক বাণিজ্য নিয়েও কথা বলেন ডিপজল। নিপুণের মূল ব্যবসাটা কী প্রশ্ন রেখে ডিপজল বলেন, শুনলাম, নিপুণ পার্লার দিয়েছেন। কী পার্লার এটা? সেই পার্লারে গিয়ে আপনারা দেখেন, সেটা কেমন পার্লার। সেখানে কী হয়। এমন প্রশ্ন রেখেছিলেন ডিপজল।

নায়িকা নিপুণ আক্তারের পুরো নাম নাসরিন আক্তার নিপুণ। ২০০৬ সালে চলচ্চিত্রের নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু হয় তার। তার প্রথম চলচ্চিত্র এফ আই মানিক পরিচালিত পিতার আসন। নিপুণের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বরুরা উপজেলার জালগাঁও। তার পিতা মনসুর আলী। ১৯৯৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের পর রাশিয়া চলে যান তিনি। মস্কো থেকে যান যুক্তরাষ্ট্রে। ২০০১ সালে সেখানে নিপুণ বিয়ে করেন কুমিল্লা শ্মশানগাছার সন্তান মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন অপু নামে এক ব্যবসায়ীকে। অপুর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর একমাত্র সন্তান তানিসা হোসেনকে নিয়ে ঢাকাতেই বসবাস করতেন। কিন্তু নিপুণের বাধার কারণে কোনোভাবেই মেয়ে তানিসা হোসেনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান না অপু। কথাও বলতে পারেন না। এ বিষয়ে সাজ্জাদ হোসেন অপু জানান, নিপুণ সবসময় শেখ সেলিমের ভয় দেখাতেন। যখনই মেয়ের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছেন, তখনই প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অপু বলেন, নিপুণ মূলত শেখ সেলিমের রক্ষিতা। এসব কারণে ২০০৩ সালে নিপুণ আমাকে ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীতে আমি তাকে ডিভোর্স দেই। নিপুণ তার কাছ থেকে ১০০ ভরি স্বর্ণসহ বিপুল ডলার নিয়ে এসেছে বলে জানান তিনি।

এসব বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বারবার চেষ্টা করেও নিপুণ আক্তারকে পাওয়া যায়নি। একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্টে অবস্থান করছেন এই নায়িকা।