Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 105

প্রবাসী আয়ের পালে হাওয়া, ১৭ দিনে এলো ১১৩ কোটি ডলার

প্রবাসী আয়ে লেগেছে পালের হাওয়া। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১০ দিনে (১ থেকে ১০ আগস্ট) প্রবাসী আয় প্রতিদিন গড়ে এসেছিল চার কোটি ৮২ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। সেখানে মাসটির শেষ সাতদিনে (১১ থেকে ১৭ আগস্ট) প্রবাসী আয় প্রতিদিন গড়ে এসেছে ৯ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

আজ সোমবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনে (১ থেকে ১৭ আগস্ট) প্রবাসী আয় দেশে এসেছে ১১৩ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ডলার। যেখান মাসটির প্রথম ১০ দিনে প্রবাসী আয় এসেছিল ৪৮ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার। মাসটির শেষ সাত দিনে প্রবাসী আয় এসেছে ৬৫ কোটি ১৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৯৪ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে তিন কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২১ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

দেশে কার্যরত ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রথম ১৭ দিনে একক ব্যাংক হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে প্রবাসী আয় ২৫ কোটি ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার এসেছে। আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৮ কোটি ৭২ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে সাত কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার, ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ছয় কোটি ৪৫ লাখ ডলার এবং জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ছয় কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ফেব্রুয়ারিতে আসে ২১৬ কো‌টি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার, মার্চে ১৯৯ কো‌টি ৭০ লাখ ৭০ হাজার ডলার, এপ্রিলে ২০৪ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার ডলার, মেতে ২২৫ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার, জুনে ২৫৪ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এসেছে। আগের বছরের ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৯ কোটি ১২ লাখ ৬০ হাজার ডলার, নভেম্বরে ১৯৩ কোটি ৪০ হাজার ডলার, অক্টোবরে ১৯৭ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার, সেপ্টেম্বরে ১৩৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার, আগস্টে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং জুলাইয়ে ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

বিসিবি থেকে জালাল ইউনুসের পদত্যাগ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করলেন পরিচালক জালাল ইউনুস। সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বোর্ডে ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের প্রধান ছিলেন তিনি। পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) এর মনোনয়নে।

সেই পদ থেকে এবার সরে দাঁড়ালেন তিনি। নিজের পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন এনএসসির কাছে। এছাড়া আরেক পরিচালক সাজ্জাদুল আলম ববিকেও পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে। তবে এখন পর্যন্ত সরে যাননি তিনি।

জালাল ইউনুস বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছিলেন দীর্ঘদিন। এরপর ২০২১ সালে ক্রিকেট অপারেশন্সের প্রধান হিসেবে আকরাম খান পদত্যাগ করলে জালাল ইউনুসকে সেই পদে নিয়ে আসেন নাজমুল হাসান পাপন। এরপর থেকেই গত ৪ বছর ধরে বিসিবির এই পদে ছিলেন জালাল।

ইন্টারনেটে ধীর গতির কারণ ভিপিএনের ব্যবহার বৃদ্ধি: পাকিস্তানের আইটি প্রতিমন্ত্রী

সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা দমনের নামে দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে মানুষ। সম্প্রতি প্রদেশটিতে লাখ লাখ মানুষের বিশাল বিক্ষোভ হয়েছে। কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ জোরালো হচ্ছে। এর মধ্যে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী এবং ব্যবসায়ী নেতারা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। এতে ভঙ্গুর অর্থনীতি আরও সংকটের দিকে যাবে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। বিষয়টি এরই মধ্যে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

এ নিয়ে অবশেষে রোববার (১৮ আগস্ট) মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) প্রতিমন্ত্রী শাজা ফাতিমা খাজা। তিনি পাকিস্তানের এআরওয়াই টিভিকে জানিয়েছেন, ইন্টারনেটের ধীর গতির কারণ হলো ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন)–এর অত্যধিক ব্যবহার।

রোববার ইসলামাবাদে একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ বা ইচ্ছাকৃতভাবে ধীর গতির করা হয়নি। তবে ভিপিএন–এর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে ইন্টারনেটের গতি প্রভাবিত হয়েছে।

ফাতিমা খাজা এর ব্যাখ্যায় বলেন, যখন নির্দিষ্ট অ্যাপের পরিষেবা ব্লক করা হয়েছিল, লোকেরা তখন ভিপিএন ব্যবহার করতে শুরু করেছিল। এটি (ভিপিএন) স্থানীয় ইন্টারনেট পরিষেবাগুলোকে বাইপাস করে এবং ইন্টারনেটের গতি ধীর করে দেয়। তিনি যোগ করেন, ভিপিএনের ব্যবহার মোবাইল ইন্টারনেটের গতিও কমিয়ে দেয়।

তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সরকার সমস্যাটি সমাধান করতে এবং পাকিস্তানে ইন্টারনেট পরিষেবা উন্নত করতে কাজ করছে। শাজা ফাতিমা বলেন, অর্থনীতির ডিজিটালাইজেশনের জন্য একটি ডিজিটাইজেশন কমিশন গঠন করা হচ্ছে।

সরকারের তরফে ইন্টারনেট বন্ধ বা ধীর গতির করার খবর প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইন্টারনেট ট্রাফিকের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে ধীর গতি দেখা যাচ্ছে।

একটি আইটি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুসারে, গত জুলাই থেকেই পাকিস্তানে ইন্টারনেটের গতি ৪০ শতাংশ কমেছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষ হোয়াটসঅ্যাপে নথি, ছবি এবং ভয়েস নোট ব্যবহার করেন, তাঁরা সমস্যায় পড়ছেন।

ডিজিটাল অধিকার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকার একটি ফায়ারওয়াল পরীক্ষা করছে। এটি এমন এক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা নেটওয়ার্ক ট্র্যাফিকের ওপর নজর রাখতে এবং অনলাইনে মানুষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেও ব্যবহার করা যায়।

ডিজিটাল অধিকার বিশেষজ্ঞ এবং অধিকার কর্মী উসামা খিলজি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, সরকার একটি জাতীয় ফায়ারওয়াল এবং কনটেন্ট ফিল্টারিং সিস্টেম স্থাপনের কারণে ইন্টারনেটের গতি ধীর হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো নজরদারি বাড়ানো এবং রাজনৈতিক ভিন্নমত, বিশেষ করে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপকারী নিরাপত্তা সংস্থার সমালোচনামূলক কনটেন্ট সেন্সর করা।

এদিকে পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথোরিটি (পিটিএ) দেশব্যাপী ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে একটি নতুন নীতি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপটি এসেছে চলতি বছর দেশে ভিপিএনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার পর। প্রাথমিকভাবে এক্স (আগের টুইটার) প্ল্যাটফর্ম ব্লক করার পর এটি হয়।

টপ টেন ভিপিএনের তথ্য অনুসারে, এক্স ব্লক করার দুই দিন পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ভিপিএনের চাহিদা ১৩১ শতাংশ বাড়ে। ভিপিএন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সার্ফশার্ক জানিয়েছে, এক্স ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পরে পাকিস্তানে তাদের নতুন ব্যবহারকারী ৩০০–৪০০ শতাংশ বেড়েছে।

ভেঙে পড়েছেন পলক, করছেন কান্নাকাটি

ছাত্রজনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের অনেক মন্ত্রী-এমপি ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা আত্মগোপনে চলে যান। কেউ কেউ দেশ ছাড়তে পারলেও অনেকেই গ্রেপ্তার হচ্ছেন। তাদের মধ্যে একজন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। গত ১৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কোটা আন্দোলনে রিকশাচালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার পলক বর্তমানে ১০ দিনের রিমান্ডে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর থেকেই ভেঙে পড়েন পলক। জিজ্ঞাসাবাদে তেমন কোনো তথ্য দিতে পারছেন না। প্রশ্ন করলেই মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কানাকাটি করেন। বেশিরভাগ সময় কান্নাকাটি করছেন। এমনকি নিজের মন্ত্রণালয়ের কোনো কাজের দায়-দায়িত্ব নিতেও অস্বীকার করে যাচ্ছেন।

পলকের ভাষ্যমতে, ইন্টারনেট বন্ধ করার বিষয়ে তার একক কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার সায় ছিল। একইসঙ্গে এনটিএমসির মহাপরিচালক সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নির্দেশনা মেনে তিনি ইন্টারনেট শাটডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান।

জিজ্ঞাসাবাদে সাব্কে এই প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আওয়ামী সরকারের পতন এত দ্রুত হতে পারে, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। চাইলে তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে পারতেন। কিন্তু শেখ হাসিনার সঙ্গে ‘বেইমানি করা হবে’ বলে তিনি যাননি। তবে, স্ত্রী-সন্তানদের বিদেশ পাঠিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কয়েক হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছেন পলক। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার নাম ভাঙিয়ে তিনি স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন তথ্য প্রযুক্তিখাতে। একের পর এক প্রকল্প বানিয়ে বাজেট থেকে শত শত কোটি টাকা লোপাট করেন। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দেশের বাইরেও পাচার করেছেন পলক।

শুধু পলক নয়, হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তার স্ত্রী আরিফা জেসমিন কনিকাও। পেশায় স্কুল শিক্ষিকা হলেও গেল ১০ বছরে তিনি কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। বিদেশেও এই দম্পতির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি রয়েছে। নামে-বেনামে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে পলক ও তার স্ত্রীর নামে।

সজীব ওয়াজেদ আইসিটির উপদেষ্টা হওয়ায় এ খাতে ছিল না কোনো জবাবদিহি। পলকের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বলতে পারেনি।

বিয়ানীবাজারের দেয়ালগুলোতে জুলাই বিপ্লবের চিত্র

কথা বলছে বিয়ানীবাজারের দেয়ালগুলো! দেয়াললিখন বা গ্রাফিতির মাধ্যমে রঙতুলির আঁচড়ে বদলে গেছে এই জনপদের দেয়ালগুলোর চিত্র। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হাসিনা সরকারের পতনের পর সারা দেশের মতো বিয়ানীবাজারেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পর এবার সৌন্দর্যবৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীরা হাতে নিয়েছে রঙতুলি।

যেসব দেয়ালে এতদিন ছিল রাজনৈতিক ব্যানার পোস্টার কিংবা বিভিন্ন বিজ্ঞাপন অথবা শেওলা ময়লা জমে ছিল সে দেয়ালগুলোতে এখন শোভা পাচ্ছে ইতিহাস ও সাহসিকতার বিপ্লবের নানা স্লোগান। দেয়াললিখন, গ্রাফিতি অঙ্কন, চিত্র অঙ্কনসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষার্থীরা। কেউ ফুটিয়ে তুলছেন উদ্যমি প্রতিবাদ, কেউ-বা আবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চিত্র কিংবা নানা বীরত্বগাথা তুলে ধরছেন।

সরেজমিনে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের কলেজ রোড, সরকারি কলেজের দেয়াল ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি খালি দেয়ালে অঙ্কনের উদ্যোগ নিয়েছে তারা। স্ব-উদ্যোগে অঙ্কনে ব্যস্ত সময় পার করছে সবাই।

তাদের লেখায় ফুটে উঠেছে ‘রির্ফম বিয়ানীবাজার, উই স্ট্যান্ড উইথ প্যালেস্টান, জেন-জেড, স্বাধীনতার সূর্যোাদয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার চিত্র।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, দেশ স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করেছি, এবার দেশকে সংস্কার করব। দেয়ালে লিখন কর্মসূচি চলছে, যাতে আগামীর প্রজন্ম ২৪-এর যোদ্ধাদের অবদান দেখেই স্মরণ করতে পারে। আনন্দসহকারে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে এ কাজ করছেন। এতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহযোগিতা করছে বলে জানায় তারা।

মাহতাব নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা ৫২ দেখিনি, ৭১ দেখিনি, তবে দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে আমরা সেসব বীরত্বের সম্পর্কে জানতে পেরেছি। গত দুই মাসে ছাত্র আন্দোলন থেকে স্বৈরাচার পতন এ সময়টা তরুণ প্রজন্ম পার করেছে। সে বিষয়গুলো দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি নোংরা শেওলাযুক্ত দেয়ালগুলোর সংস্কার কাজ হয়ে গেল।

বিয়ানীবাজারের দেয়ালগুলোতে জুলাই বিপ্লবের চিত্র
আরেক শিক্ষার্থী ইমন আরাফাত বলেন, আমাদের এ প্রজন্মকে অনেকে বলে থাকে, মোবাইলে আসক্তির প্রজন্ম। অথচ এ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সফল করেছে বর্তমান প্রজন্ম। অনলাইন যোদ্ধা হয়েও অনেকে কাজ করেছে। সে অবদানগুলো দেয়ালে তুলে ধরা হচ্ছে।

অন্যদিকে কেউ কেউ আরবি ক্যালিওগ্রাফি করছেন আলিয়া মাদ্রাসার বিপরীতে দেয়ালগুলোতে। সেখানে আরবিতে বিভিন্ন লেখা ও দেশাত্মবোধক বিভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের এমন কাজের প্রশংসা করছেন সকলে, শিশুদের দেখাতে অভিভাবকরাও ভিড় করছেন। তারা বলছেন, আমাদের বাচ্চারা কতটা সাহসী তা তারা দেখিয়ে দিয়েছে। এখন তারা শহরকে সুন্দর করে তুলছে। আগামী প্রজন্ম এসব স্মৃতি মনে রাখবে।

করিম উদ্দিন নামে আরেকজন অভিভাবক বলেন, কিছুদিন আগে দেখলাম তারা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ করেছে। শহরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেছে। এখন তারা দেয়াললিখন কর্মসূচি পালন করছে। এভাবে সর্বত্র সচেতনভাবে সবাই এগিয়ে এলে দেশটা আসলেই সুন্দর হবে। আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনেক মেধাবী। তাদের জন্য দোয়া করি।

রূপপুর থেকে ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাৎ শেখ হাসিনার, সহায়তায় জয়-টিউলিপ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি আত্মসাৎ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শনিবার (১৭ আগস্ট) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা-রোসাট্রম মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে এ অর্থ আত্মসাতের সুযোগ করে দেয়, যাতে মধ্যস্থতা করেন ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক।

সম্প্রতি এ বিষয়ে নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পোরেশন। গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প নামে পোর্টালটি ২০১৮ সালে চালু হয়। বিভিন্ন দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে দুর্নীতির অনুসন্ধান করে থাকে তারা।

প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আশা করা হচ্ছে, এটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের পর দেশের ২০ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করবে।

এতে আরও বলা হয়, রাশিয়ার সহযোগিতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণে খরচ ধরা হয় ১ হাজার ২৬৫ কোটি ডলার। প্রয়োজনের তুলনায় যা অনেক বেশি। যাতে মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে এই বাজেট থেকে ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাতের সুযোগ করে দেয় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা-রোসাট্রম।

নিজের ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের মধ্যস্থতায় রাশিয়ার সঙ্গে এ চুক্তি করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এ মধ্যস্থতার বিনিময়ে পাচার করা অর্থের ৩০ শতাংশ পেয়েছেন টিউলিপ, শেখ রেহানা ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য।

২০১৩ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শেখ হাসিনার সাক্ষাতের সময় সঙ্গী ছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক। গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের দাবি, সে সময় ঢাকা-মস্কোর বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তির মধ্যস্থতাও করেন তিনি।

২০০৯ সালে ‘প্রচ্ছায়া লিমিটেড’ নামে একটি ভুয়া কোম্পানি চালু করেন টিউলিপ সিদ্দিক, তার মা শেখ রেহানা ও চাচা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক। যুক্তরাষ্ট্রেও জুমানা ইনভেস্টমেন্ট নামে একটি কোম্পানি রয়েছে তাদের।

গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প বলছে, এ কোম্পানির মাধ্যমেই বিভিন্ন দেশের অফশোর অ্যাকাউন্টে অর্থপাচার করতেন শেখ হাসিনা। তাদের এ কোম্পানিটি ডেসটিনি গ্রুপ নামে একটি চিটিং ফান্ড কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার পাচার করেছে।

এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা দেরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার মান্টিটস্কি। গেল বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর একথা জানান তিনি।

রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা দেরি হতে পারে। তবে তা কঠিন কিছু নয়।’

রাশিয়ার সহযোগিতায় পাবনার রূপপুরে নির্মাণ হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটি নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এটি তৈরি হলে এর দুটি ইউনিট থেকে পাওয়া যাবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

প্রকল্পটির ৯০ ভাগ অর্থায়ন হচ্ছে রাশিয়ার ঋণে। ১০ ভাগের জোগান দিচ্ছে সরকার। প্রকল্পটিতে ভিভিইআর প্রযুক্তির তৃতীয় প্রজন্মের পরমাণু চুল্লি ব্যবহৃত হচ্ছে। যার প্রত্যেকটির উৎপাদন সক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট করে। চলতি বছর প্রথম ইউনিট এবং ২০২৫ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের প্রথম ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল বা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান দেশে আসে। পরে তা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে রাশিয়া।

ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে ‘সেনাগৌরব পদক’ পেলেন আলোচিত ক্যাপ্টেন আশিক

পেশাদারিত্ব এবং ধৈর্যের পরিচয় দেয়ায় সেনাগৌরব পদক (এসজিপি) অর্জন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলোচিত ক্যাপ্টেন আশিক।

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের কার্যালয়ে গেলে তাকে এ সম্মাননা দেয়া হয়।

এ সময় প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পেশাদারিত্ব বজায় রাখায় ক্যাপ্টেন আশিককে সাধুবাদ জানান তিনি। তাকে ভবিষ্যতের জন্যও অনুপ্রাণিত করেন সেনা প্রধান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে ক্যাপ্টেন আশিক অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতির সামাল দেন এবং সেটির সমাধান করেন।

দোকান ভাঙচুরের সময় সেনাবাহিনীর হাতে ধরা, সেই দুজনের পরিচয় মিলেছে

মোটরসাইকেলে করে একটি দোকানের সামনে আসেন দুই ব্যক্তি। এদের একজনের হাতে কুড়াল, আরেকজনের হাতে রামদা ছিল। এগুলো দিয়ে তারা দোকানের সাটারে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায় একটি গাড়িতে করে আসেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

এসেই দুই সেনাসদস্য ওই দুই ব্যক্তির ওপর অস্ত্র তাক করলে তারা হাঁটু গেড়ে কানে ধরে আত্মসমর্পণ। এরপর তাদের আটক করে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী। গত বুধবার (১৪ আগস্ট) এ ঘটনা ঘটে। এরপর শনিবার (১৭ আগস্ট) এ সংক্রান্ত ১ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দোকান ভাঙচুরের সময় তাদের সিনেম্যাটিক কায়দায় আত্মসমর্পণ করিয়ে আটক করে সেনাবাহিনী।

জানা গেছে, ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর একপক্ষের কর্মীরা অপর পক্ষের দোকান ভাঙচুরের সময় ঘটনাটি ঘটে। আটককৃতরা হলেন বোয়ালমারীর যুবদল কর্মী মো. টুটুল হোসেন (২৮) ও দুখু মিয়া (৩০)। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই আসনে বিএনপির আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থকরা এ হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেন শামসুদ্দিন মিয়া। এর প্রতিবাদে ওইদিনই বিকেলে বোয়ালমারী পৌরসভায় অবস্থিত খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক উপজেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সঞ্জয় সাহার কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই ছেলেসহ আহত হন সঞ্জয় সাহা। এ ঘটনায় তিনি বোয়ালমারী উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. আজিজুল শেখকে প্রধান করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ওই দুই ব্যক্তিকে সেনাবাহিনী আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে সঞ্জয় সাহার মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

বস্তায় করে ঘুষ যেত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায়

পুরো প্রশাসন যিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলবে সেই সাধ্য কার। ক্ষমতা ছাড়ার পর এবার সেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বিরুদ্ধে উঠল কারি কারি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। বান্ডিল বান্ডিল নয়, বস্তায় ভরে ঘুষ যেত সাবেক এই মন্ত্রীর ফার্মগেটের বাসায়। নিয়োগ, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্য আর মাদক কারবার থেকেই উঠত এত টাকা।

পুলিশ যাকে অভিভাবক হিসেবে জানে, সেই পুলিশের নিয়োগে মোট অংকের টাকা দিতে হতো খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। শুধু তাই নয়, বদলির জন্যও দিতে হতো বস্তাভর্তি টাকা। তাতেও থেমে থাকেনি কামাল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিস থেকে অবৈধভাবে টাকা নেওয়া অভিযোগও তার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, নিয়োগের জন্য জনপ্রতি ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা নিতো কামাল-হারুন সিন্ডিকেট।

নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালনায় তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব ড. হারুন অর রশীদ বিশ্বাসের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সিন্ডিকেটে ছিলেন সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস, এপিএস মনির হোসেন, পিআরও শরীফ মাহমুদ অপু ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা ইব্রাহিম হোসেন।

হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ কামাল-হারুন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। হারুন অর রশীদ অবসরে গেলেও এই মন্ত্রণালয়ের সব ঘুষ, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। ঝুঁকি এড়াতে টাকা পাঠানো হয় দেশের বাইরে।

এই সিন্ডিকেটের আশীর্বাদ ছাড়া পুলিশের কেউ কোনো জেলায় বা গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন হতো না। জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়নের ক্ষেত্রে এক থেকে তিন কোটি টাকা নিত এই সিন্ডিকেট। ২০২২ সালে ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান ডিআইজি মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম। এসব টাকা বস্তায় ভরে পৌঁছে দেওয়া হয় আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের ফার্মগেটের বাসায়।

এনজিওর ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা ‘এনওসি’ দিতে ৮০ থেকে এক কোটি টাকা দিতে হতো আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের দরবারে। ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে উত্তরার একটি উন্নয়ন সংস্থার এনওসি নিতে মন্ত্রীকে দিতে হয় ৮৫ লাখ টাকা।

তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপে ২০২৩ সালে ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সে ৫৩৫ জনের মধ্যে ২৫০ জনকে নিয়োগ দিতে বাধ্য হয় ফায়ার সার্ভিস।

তেজগাঁও শেরে-বাংলা নগর এলাকার চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ করতো কামাল। কাওরান বাজারে ফুটপাতে কাঁচাবাজার, মাদক ও আবাসিক হোটেল থেকে তোলা হতো দৈনিক দেড় কোটি টাকা। মন্ত্রীর এপিএস মনিরসহ আরও দুজন এই টাকা তুলতো বলে খবর পাওয়া গেছে।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যখন এতো অভিযোগ, তখন কী আর বসে থাকতে পারে দুদক। কমিশনের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করে দুদক। শিগগির মাঠে নামার ঘোষণাও দিয়েছে সংস্থাটি।

ডিবি হারুনের শতকোটি টাকার ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেওয়াসহ অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ উঠেছে। হারুন অর রশীদ কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে শত কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তুলেছেন ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’ নামে অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল একটি প্রমোদাগার। হেলিপ্যাড ও অত্যাধুনিক সুইমিং পুলসহ কী নেই সেই রিসোর্টে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও বিত্তশালীদের আনন্দ-ফুর্তির জন্য অত্যন্ত নিরাপদ স্থান হয়ে উঠেছিল হারুনের এই রিসোর্ট।

হারুনের নিজ গ্রামের ৪০ একরের বেশি আয়তনের প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের প্রিমিয়াম স্যুটের প্রতিদিনের ভাড়া ২০ হাজার টাকা। সর্বনিম্ন ডিলাক্স রুমের ভাড়া প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা। রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তার ছোট ভাই ডা. শাহরিয়ার। ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রিসোর্টটি উদ্বোধন করা হয়।

প্রেসিডেন্ট রিসোর্টে হারুনের পরিবারের মাত্র ৫ থেকে ৭ একর জমি থাকলে বাকি জমি নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে দখল করেছেন তিনি। এ ছাড়া যেসব মালিক জমি বিক্রি করেছেন তারা প্রকৃত মূল্য পাননি। প্রকৃত মালিকদের কেউ ১০ লাখের মধ্যে ১ লাখ, কেউ ২০ লাখের মধ্যে ২ লাখ এই হারে টাকা পেয়েছেন। এখনও অন্তত ১০ থেকে ১২ জন দাম না পাওয়ায় তাদের জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি।

হারুনের প্রতরণার শিকার হওয়া তাদের মধ্যের একজন মিঠামইন সদর ইউনিয়নের গিরীশপুর গ্রামের দিলীপ কুমার বণিক। তিনি বলেন, ‘হারুন রিসোর্টের কথা বলে তার এক একর ১০ শতাংশ জায়গা নিয়েছেন। জমির কোনো দরদামও নির্ধারণ করা হয়নি। আমাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। অথচ জমির দাম হবে অন্তত ২০ লাখ টাকা। আমার মতো এমন অন্তত আরও ১২ জন রয়েছেন, যাদের নামমাত্র টাকা দিয়ে জমি নিয়ে গেছে হারুন।’

জনরোষে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে গেলে সেদিন থেকেই হারুনের প্রেসিডেন্ট রিসোর্টে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে রিসোর্টে বুকিং চালু রয়েছে।

দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান হারুন ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০০০ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশে চাকরি পান। অথচ তার বাবা মো. হাসিদ ভূঁইয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। চার ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় হারুন। দ্বিতীয় জিয়াউর রহমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক। তৃতীয় জিল্লুর রহমান পুলিশের ইনস্টেকটর হিসাবে কর্মরত। এ ছাড়া হারুনের প্রতিষ্ঠিত বিলাসবহুল ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’-এর এমডি হিসাবে আছেন সবার ছোট শাহরিয়ার।