Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 16

সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালু না রাখলে বিমান বয়কট ও রেমিট্যান্স স্ট্রাইকের ঘোষণা

সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে আগামী ১ মার্চ থেকে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য ও সিলেটে প্রতিবাদ শুরু করেছেন প্রবাসীরা। ধারাবাহিক প্রতিবাদ ও কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রোববার সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে বিমানের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউকে এনআরবিসি সোসাইটির নেতারা।

তারা বলেছেন, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ৮৩ ভাগ ব্যবসা করছে বিমান। অথচ কর্তৃপক্ষ বলছে, লোকসান হচ্ছে। তারা ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লাইট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। ফ্লাইট চালু না রাখলে প্রয়োজনে বিমান বয়কট ও রেমিট্যান্স স্ট্রাইক করার ঘোষণা দেন প্রবাসী নেতারা।

নগরীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সোসাইটির পরিচালক মিজানুর রহমান, এম জুনেদ আহমদ, জামাল উদ্দিন ও নজরুল ইসলাম বাসন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিমানের টালবাহানা ও তাদের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদে আগামী বুধবার সকাল ১১টায় ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি পালন করা হবে। সিলেট শহীদ মিনার থেকে কর্মসূচি শুরু হবে এবং নগরীর মজুমদারী এলাকার বিমান অফিস ঘেরাও করে রাখা হবে।

প্রবাসী নেতারা জানান, সর্বশেষ ২০২০ সালে সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালু হলেও সরকার পরিবর্তনের পর হজ মৌসুমের দোহাই দিয়ে বিমানের একটি মহল তৎপর হয়ে উঠে। তারা টিকেটিং সিস্টেম বন্ধ করে দেয়। আন্দোলন ও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইট অব্যাহত রাখা হয়। কিন্তু আবার গত ২২ জানুয়ারি বিমান কর্তৃপক্ষ লোকসানের অজুহাত দিয়ে ফ্লাইট বন্ধের ঘোষণা দেন। অথচ, সেই রুটে ৮৩ ভাগ ব্যবসা করছে বিমান। দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে প্রবাসীরা সিলেটে যাতায়াত করছেন।
সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালু না রাখলে বিমান বয়কট ও রেমিট্যান্স স্ট্রাইকের ঘোষণা
২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিমানের ৪৫ হার সিটের বিপরীতে ৩৮ হাজার যাত্রী আসা যাওয়া করেন। সেখানে লস কীভাবে হল? মূলত একটি অসাধু চক্র রুটটি অলাভজনক দাবি করে বন্ধের চেষ্টা করছে। অথচ ইতালি, জাপান, কুয়েতসহ বিভিন্ন রুটে বিমান ৫০ ভাগ ব্যবসা করেও ফ্লাইট চালু রেখেছে।

প্রবাসীরা আরও জানান, যুক্তরাজ্যের নর্থ ইংল্যান্ডে ৭-৮ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তারা সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইটে কম সময়ে দেশে ফিরতে পারছেন। ফ্লাইট বন্ধ হলে ২২-২৪ ঘণ্টা সময় লাগবে তাদের। সিনিয়র নাগরিক ও শিশুরা পড়বেন ভোগান্তিতে।

শীত মৌসুম ও সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা দেশে ফিরছেন উল্লেখ করে প্রবাসী কমিউনিটি নেতারা আরও জানান, তারা ফিরতি টিকিট পাচ্ছেন না। হিথ্রো বিমানবন্দরের টিকিট মিলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিমানের ‘না’ সূচক জবাবের কারণে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিভিন্ন দেশের উড়োজাহাজ নামছে না। অথচ ওসমানী ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত। এ অবস্থায় সিলেটের সাথে বিমাতাসূলত আচরণ দূর করে ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালু না রাখলে বিমান বয়কট ও রেমিট্যান্স স্ট্রাইক করার হুঁশিয়ারি দেন প্রবাসী নেতারা।

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ: সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আট কর্মকর্তা-কর্মচারী কারাগারে

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুনশী আব্দুল মজিদ তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দুদকের মামলায় অভিযুক্ত ৮ জন আজ আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন প্রার্থণা করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

আত্মসমর্পণকারীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকিউরমেন্ট অফিসার আব্দুল মুনিম, সেকশন অফিসার রিঙ্কু দাস, চৌধুরী রুম্মান আহমেদ, লোকমান আহমেদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুরঞ্জিত রঞ্জন তালুকদার, রবিউল আলম বকুল, মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর রুহুল আমিন।

রোববার দুপুরে দুদকের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তারা। পরে আদালত তাদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন।

এর আগে এই মামলায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা কারাভোগ করেছেন। তারাও আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত বছরের ২৪ এপ্রিল নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়মের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় ৫৮ জনের বিরুদ্ধে ২০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ অভিযোগ আমলে নিয়ে ইউজিসি ২০২৩ সালে তদন্ত করে। তদন্তে তৎকালীন উপাচার্য মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নঈমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া যায়। পরে দুদকের সিলেটের সমন্বিত জেলা কার্যালয় নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন উপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ ৫৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল মামলা করে।

মামলায় তৎকালীন উপাচার্য মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নঈমুল হক চৌধুরী ছাড়া আরও ৫৬ জন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়। তাঁদের মধ্যে আছেন ফাহিমা খানম চৌধুরী, অঞ্জন দেবনাথ, মাইদুল ইসলাম চৌধুরী, মো. গোলাম সরোয়ার, মো. বিলাল আহমদ চৌধুরী, শমসের রাসেল, গাজী মো. ফারাজ, আবদুল মুনিম, রিংকু দাস, আতিক শাহরিয়ার ধ্রুব, খালেদা চৌধুরী, আশরাফুল ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌসী, চৌধুরী রোম্মান আহমদ, সাজু ইবনে হান্নান খান, বেলাল উদ্দিন, লোকমান আহমেদ, চৌধুরী জুলফিকার খালেদ, মো. মোশারফ হোসেন, হালিমা বেগম ও সুরঞ্জিত চন্দ্র তালুকদার।

এ ছাড়া মামলায় মো. তৌফিক মিয়া, মো. রহমত আলী, এনি সরকার, দেবশ্রী রানী দাস, বিপুল কান্তি দাস, মো. আবদুল আজিজ, মো. মুহিতুর রহমান, আলী ফজল মো. কাওছার, নাহিমা আক্তার, মো. আবদুল মজিদ, হুমায়ুন কবির জুয়েল, নাজমুস শামস তুষার, তানভীর আহমদ, ইয়ামিন হোসেন, রাধা রানী রায় শর্মী, তারেক মো. রেদোয়ান, অনিন্দিতা বিশ্বাস, রাজীব বৈদ্য, মো. আবদুস সবুর, মবরুর মিয়া, তামান্না ফিরোজী, দিব্য জ্যোতি, আলেয়া নেছা, মো. মুমিনুর রহমান, রবিউল আলম, মো. কয়েছ আহমদ, লুৎফা বেগম, রুহুল আমিন, জাহিদ হোসেন, রোমানা সুলতানা, আনিছুর রহমান, রাফি ইব্রাহিম, মো. আবদুস সাত্তার, মোছা. সুলতানা বেগম ও মো. রাশেদুল ইসলামকেও আসামি করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে সিন্ডিকেট ও ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেন। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২২০ জনকে সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে (অ্যাডহক) ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে মেয়াদ অনূর্ধ্ব ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নির্ধারিত সময় পূর্ণ হওয়ার পর চাকরি নিয়মিত না করে আবার অ্যাডহকে দুই থেকে পাঁচবার পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৮ এর ১২-এর ১০ উপধারা অনুযায়ী উপাচার্য কোনো শূন্য পদে অ্যাডহক নিয়োগের ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে অনধিক ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দিতে পারবেন এবং প্রয়োজনে মেয়াদ অনূর্ধ্ব ছয় মাস পর্যন্ত বাড়াতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে হয় চাকরি নিয়মিত করতে হবে অথবা অব্যাহতি দিতে হবে। কোনোভাবেই আবার অ্যাডহকে নিয়োগ বা মেয়াদ বাড়াতে পারবেন না। তবে তৎকালীন উপাচার্য আইন লঙ্ঘন করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অ্যাডহক নিয়োগ দেন ও অবৈধভাবে মেয়াদ বাড়ান। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার তাঁকে ওই কাজে সহযোগিতা করেন।

ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া নিয়োগের পাশাাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেট থেকে বেআইনিভাবে বেতন–ভাতা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত আছেন ২৩৯ জন। এর মধ্যে ইউজিসি অনুমোদিত পদ আছে ১১২টি। এসব অনুমোদিত পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৯৮ জনকে। তাঁদের বেতন–ভাতা ইউজিসি থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হয়। অন্যদিকে অতিরিক্ত ১৪১টি পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও ইউজিসির অনুমোদন নেওয়া হয়নি এবং তাঁদের বেতন–ভাতা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুদান থেকে প্রাপ্ত। এসব অতিরিক্ত নিয়োগের ব্যাপারে ইউজিসি কিংবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া নিয়োগে ৪৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বয়স-সংক্রান্ত যোগ্যতা না থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়। এতে আরও বলা হয়, বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগদান, শিক্ষাগত যোগ্যতায় তৃতীয় শ্রেণি থাকা সত্ত্বেও চারজনকে নিয়োগ এবং অ্যাডহকে নিয়োগ দেওয়া সত্ত্বেও তিনজন কর্মকর্তাকে দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে এবং সাতজন কর্মকর্তাকে ১৪তম গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া দুজন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্ট পদে চাহিদা মোতাবেক ডিগ্রি না থাকলেও অবৈধভাবে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

সিলেটে কুশিয়ারায় ধরা পড়া বাঘাইড়ের দাম ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার পীরের বাজারে মাছের মেলায় তোলা একটি বিশাল আকারের বাঘাইড় মাছের দাম হাঁকা হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ৬০-৬৫ কেজি ওজনের বিপন্ন এ মাছটি শেরপুরের কুশিয়ারা নদী থেকে ধরে আনা। মেলায় এ মাছটি ছিলো সবচেয়ে বড়। মাছটি এক নজর দেখতে উপচে পড়েন দর্শনার্থীরা।

শনিবার দুপুর থেকে ৪র্থ বারের মতো পীরের বাজারে এ মেলা বসে। মেলায় ছিলো দেশি-বিদেশি ও সামুদ্রিক মাছের সমাহার। বিশাল এ বাঘাইড়টি নিয়ে আসে শেরপুরের মৎস্য ব্যবসায়ী ছয়ফুল মিয়া।

কথা হলে তিনি জানান, ‘শেরপুরের কুশিয়ারা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়ে এ বাঘাইড়টি। আমরা বিক্রির উদ্দেশ্যে তাদের কাছ থেকে ক্রয় করে মেলায় নিয়ে আসি। মাছটি তোলার পর থেকেই এক নজর দেখতে মেলায় আসা সবাই দোকানের সামনে ভিড় করছে। দাম চেয়েছি, ২ লাখ ৬০ হাজার। দেখা যাক, কত টাকায় বিক্রি করতে পারি।

সিলেটে রেলের টয়লেটে মিললো ভারতীয় বি*স্ফো*রক

সিলেটে রেলের টয়লেটের ভেতর থেকে ভারতীয় বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে র‌্যাব। গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দক্ষিণ সুরমার জৈনপুর শিববাড়ি এলাকায় রেলওয়ের পুরাতন টয়লেটের ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিস্ফোরকগুলো উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ৬টি পাওয়ার জেল ও ৫টি নন ইলেকট্রিক ডেটোনেটর। পরে জিডিমুলে বিস্ফোরকগুলো দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব।

র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, উদ্ধারকৃত পাওয়ার জেল ও ডেটোনেটর উচ্চ মাত্রার বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ধারণা করা হচ্ছে নাশকতার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা বিস্ফোরকগুলো রেখেছিল। এর সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে র‌্যাব কাজ করছে।

এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে গতকাল পর্যন্ত র‌্যাব-৯ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরকের মধ্যে রয়েছে- ৩৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৪ রাউন্ড গুলি, ৫টি ম্যাগাজিন, ৬৩৩০ গ্রাম বিস্ফোরক, ৩৮টি ডেটোনেটর, ১টি সাউন্ড গ্রেণেড, ৫টি পেট্রোলবোমা ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ ৭৫টি এয়ারগান

বিয়ানীবাজারে আইফোনের জন্য বন্ধুকে হত্যা করা সেই মুন্না গ্রেফতার

সিলেটে আইফোনের জন্য বন্ধুকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামীকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার বিকেলে তাকে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার কদমতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া সাজিদুল ইসলাম মুন্না (২৩) ঘাটাইল থানার দেলুটিয়া গ্রামের মো. ইব্রাহিমের ছেলে।

জানা গেছে, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর সিলেটের বিয়ানীবাজার থানার খশির নামনগর গ্রামের যুবক ইমন আহমদ বাড়ি থেকে স্থানীয় বৈরাগীবাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হলে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ইমনের বন্ধু আশরাফুলকে আটক করে। পরে আশরাফুলের দেওয়া তথ্যমতে ১০ ডিসেম্বর বিয়ানীবাজারের শেওলা ইউনিয়নের শালেশ্বর এলাকার একটি পুকুরপাড় থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ইমন আহমদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে ইমনের ওই আশরাফুল জানায়, আইফোন ছিনতাইয়ের জন্য সাজিদুল ইসলাম মুন্নাসহ তিন-চার জন মিলে কৌশলে শালেশ্বর এলাকার একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে ইমনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর তার কাছ থেকে আইফোন ছিনিয়ে নেয় তারা।

র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইল থেকে সাজিদুল ইসলাম মুন্না নামের এক আাসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানার ওসি মো. ওমর ফারুক জানান, আইনফোন ছিনিয়ে নিতে কয়েকজন বন্ধুমিলে ইমনকে খুন করেছে- তদন্তে এমনটা মিলেছে। ওই মামলার আসামী মুন্নাকে র‌্যাব গ্রেফতার করে থানায় হস্তান্তর করেছে।

নির্বাচন উপলক্ষ্যে দেশে ফিরছেন সিলেটের প্রবাসীরা

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটে ফিরতে শুরু করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রবাসীদের কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। মূলত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই প্রবাসীদের মধ্যে দেশে ফেরার প্রবল আগ্রহ দেখা দেয়। কর্মব্যস্ততা ও সঠিক সময়ের অপেক্ষায় যারা তখন আসতে পারেননি, তারা এখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলে দলে দেশে ফিরছেন।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক হাজার প্রবাসী সিলেটে পৌঁছেছেন। নির্বাচনের ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে, এই ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। অনেকে আগেভাগেই বিমানের টিকিট বুকিং দিয়ে রেখেছেন। এছাড়া নির্বাচনের পরপরই পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর থাকায় প্রবাসীরা এই সুযোগে লম্বা সময় দেশে থাকার পরিকল্পনা করছেন। নির্বাচনী প্রচারে প্রবাসীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবার ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন–এমন ঘোষণায় প্রবাসীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। প্রিয় নেতার আগমন ও দলীয় প্রচারণায় অংশ নিতে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এখন সিলেটে ফেরার অপেক্ষায়। এরই মধ্যে অনেকেই দেশে ফিরেই নিজ নিজ এলাকায় প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরাসরি দেশে আসার পাশাপাশি এবার পোস্টাল ব্যালটেও সিলেটের প্রবাসীরা এগিয়ে রয়েছেন। জানা গেছে, এবার প্রায় অর্ধলক্ষ প্রবাসী পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করেছেন, যা প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক।

গত সোমবার দীর্ঘ ১২ বছর লন্ডন থেকে সিলেটে ফিরেছেন জগন্নাথপুরের সৈয়দপুরের বাসিন্দা এনামুল ইসলাম। তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর থেকেই দেশে আসার জন্য উদগ্রীব থাকলেও কাজের চাপে আসতে পারেননি। মাটির টানে ও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে তিনিসহ আরও ১০ জন প্রবাসীসহ এই সময়ে দেশে এসেছেন বলে জানিয়েছেন। এনামুলের মতো হাজারো প্রবাসীর উপস্থিতিতে সিলেটের নির্বাচনী আমেজ এখন উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রবাসীদের এই জনস্রোত নির্বাচনী পরিবেশকে আরও চাঙা করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিয়ানীবাজারের মাথিউরা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের জীবনের গল্পটি অন্য অনেক প্রবাসীর মতোই বিষাদময়। ২০১৩ সালে মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে দেশে ফেরার পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন তিনি। তৎকালীন সরকার সমর্থকদের দায়ের করা মিথ্যা মামলার কারণে দীর্ঘ ১৩ বছর তিনি প্রবাসে কাটাতে বাধ্য হন, ফিরতে পারেননি নিজভূমিতে। তবে ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি বদলেছে। এবার তিনি সপরিবারে দেশে ফিরেছেন পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়ে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে তিনি এখন যোগ দিচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণায়।

ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবাসীদের আসার হিড়িক ছিল। মাঝে কিছুটা কমলেও বর্তমানে নির্বাচনী আমেজে তা আবারও বেড়েছে। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে ঢাকা ফেরার সময় লন্ডন-সিলেট ফ্লাইটের টিকিটের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এখনও।

গত বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি থেকে তারেক রহমান সিলেট থেকে বিএনপির আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। সিলেট-৩ আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক এবং সুনামগঞ্জ-৩ আসনে সাধারণ সম্পাদক এম কয়সর আহমদ প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া সিলেট-৩ আসনে মোস্তাকীম রাজা, মইনুল বাকেরসহ প্রায় ১২ জন প্রবাসী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব প্রার্থী সাধারণ প্রবাসীদের মাঝে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলেছেন।

কুলাউড়ায় নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ, দুই ঘণ্টা পর মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

মনু নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে নাঈম আহমেদ (১৭) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কটারকোণা মাদ্রাসা সংলগ্ন মনু নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাঈম আহমেদ কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর নোয়াগাঁও তালিমুল কোরআন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও ইসলামপুর ইউনিয়নের উত্তর কানাইদেশী এলাকার হোসেন আলির ছেলে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ আগে নোওয়াগাঁও তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী কুলাউড়া উপজেলার মনু কটারকোণা কওমী মাদ্রাসায় বোর্ড পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে গিয়েছিল। শুক্রবার সকালে ৮ জন সহপাঠীদের সাথে মাদ্রাসা সংলগ্ন মনু নদীতে গোসল করতে গিয়ে নদীতে ডুবে নিখোঁজ হয়। পরে মাদ্রাসায় খবর দেয়া হলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষসহ সহপাঠীরা প্রায় দু’ঘন্টা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায় তাকে পাওয়া গেলেও তার শরীর ছিল নিস্তেজ।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা খালেদ বীন শাওকী জানান, নাঈমকে উদ্ধার করে পরিক্ষা-নিরিক্ষার জন্য কটারকোণা মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাকে দ্রুত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈমকে মৃত ঘোষনা করেন ।

নিহত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর পিতা হোসেন আলী বলেন,আমার ছেলে নাঈম নোওয়াগাঁও তালিমুল কোরআন মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত, এক সপ্তাহ আগে পরিক্ষা দিতে কটারকোণা মাদ্রাসায় গেছে। আজ নদীতে গোসলে গিয়ে সে পানিতে ডুবে মারা গেছে, আমার ছেলে সাঁতার কাটা জানত না। আল্লাহর মাল আল্লাহর নিয়ে গেছেন, আমি এ বিষয়ে কাউকে দোষারোপ করছি না কোন অভিযোগও নেই আমার।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, আমি বিষয়টি জেনেছি, নিহতের পরিবার তাদের কোন অভিযোগ নেই তারা ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ গ্রহণের আবেদন করেছেন। আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

সিলেটে প্রবাস থেকে স্বামী দেশে ফেরার পরদিনই গৃহবধুর লা*শ উদ্ধার

সিলেটের গোলাপগঞ্জের লক্ষিপাশায় হোছনা বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করেছে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।

শুক্রবার সকালে ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ভাগ বাউসি গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হোছনা বেগম ওই গ্রামের শামীম আহমদের স্ত্রী এবং ৩ মেয়ে ও এক ছেলের জনক।

জানা যায়, শামীম আহমদ সৌদি আরব প্রবাসী। ৬ মাস পর বৃহস্পতিবার সৌদি থেকে দেশে ফিরেন তিনি। তবে হোছনা কেগমের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ওই গৃহবধু হোছনা বেগমকে ফ্যানের সাথে ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান তার স্বামী শামীম আহমদ। এরপর তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে থাকা চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে তাকে আবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর পুলিশে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।

মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

সিলেটে বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় শাবির ভিসি-প্রোভিসি, চলছে সমালোচনা

সিলেটে বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের উপস্থিতি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে থেকে সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে আয়োজিত বিএনপির এক নির্বাচনি জনসভায় শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম এবং রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহামদ আব্দুল কাদিরকে মঞ্চে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৮৭-এ স্পষ্ট উলে¬খ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা তার রাজনৈতিক মতামত প্রচার করতে পারবেন না এবং নিজেকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত করতে পারবেন না। তবে আইনের তোয়াক্কা না করেই বাঁশের ব্যারিকেড ডিঙিয়ে মঞ্চে বসতে দেখা যায় তাদেরকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

এ আর আনিস নামে একজন শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা অবস্থায় রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় যাওয়া কতটা যৌক্তিক?’
এস. এইচ. প্রান্ত নামের একজন লেখেন, ‘সাস্টের প্রতিটা স্টুডেন্টের ফ্যামিলি কার্ড নিশ্চিত করতে ভিসি, প্রোভিসি স্যারের দৌড়ঝাঁপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখাই ভালো।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রোভিসিসহ যারা তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় গেছেন এ ধরনের কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিরোধী। আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিরোধী কাজে সরাসরি জড়িত থাকার কারণে তারা নৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীরা এই কর্মকান্ডের কারণে বাকরুদ্ধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অন্যায় হলে বিচার চাওয়ার কথা সেখানে তারা নিজেরাই আইনবিরোধী কার্যক্রম করছেন শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, ‘এর আগেও আমাকে বহুল প্রতিক‚ল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনও আমি পড়েছি। আমরা সেখানে নির্বাচনি প্রচারণায় যাইনি। আমরা গিয়েছি শ্রুতা হিসেবে।’

এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীকে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল ধরেননি।

‘ম্যাচ ফিক্সিং ছিল, সিলেটের সাথে বেইমানি করা হয়েছে’

ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন ফাহিম আল চৌধুরি। সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন কান্নাভেজা কণ্ঠে। তবে রাতেই সামাজিক মাধ্যমে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। ম্যাচের ভেতরে থাকা একজন ব্যক্তি নিজেকে বিক্রি করেছে এবং সিলেট দলের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ তার। পাশাপাশি বিপিএলকেও তিনি বলঠেন জুয়ার ব্যবসা।

বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচটিতে বুধবার হেরে যায় সিলেট টাইটান্স। ১২ রানে জিতে ফাইনালে পৌঁছে যায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

সিলেট দলটির উপদেষ্টা হিসেবে টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে যোগ দেন ফাহিম। এরপর থেকেই বেশ কিছু মন্তব্য করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। নানা কথা ও কাজে সামাজিক মাধ্যমেও তিনি মোটামুটি তোলপাড় ফেলে দেন। এলিমিনেটর ম্যাচে জয়ের পর তার আবেগময় উদযাপনও আলোচনার খোরাক জোগায় অনেক।

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা করে তিনি মাঠ ছেড়ে যান। পরে গাড়ি ভেতর থেকে ফেইসবুক লাইভে ভয়ঙ্কর কিছু অভিযোগ তিনি করেন।

ফেইসবুক লাইভে বলা তার কথাগুলি এখানে তুলে দেওয়া হলো —

“প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় সিলেটবাসী, আমি আপনাদেরকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাচ্ছি। আজকের ম্যাচটি ভীষণভাবে কলুষিত হয়েছে। আমার কাছে নির্ভরযোগ্য ও প্রমাণাতীত তথ্য এসেছে, ম্যাচের ভেতরে থাকা একজন ব্যক্তি নিজেকে বিক্রি করেছে। সে আমাদের সঙ্গে মিথ্যা বলেছে, সিলেটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সিলেটের মানুষের আবেগের সঙ্গে সে নিষ্ঠুরভাবে বেইমানি করেছে।”

“এর কোনো দরকারই ছিল না। সে চাইলে আমাকে বলতেই পারত, তার কত টাকা প্রয়োজন। তা দেওয়া হয়ে যেত। এই সত্য আমাকে সত্যিকারের ভেঙে দিয়েছে। এই ঘটনা আমি এখানেই থামতে দেব না, বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হবে এবং দায়ীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

“আজকের হারটা ছিল পুরো একটা বেইমানির সঙ্গে হার। যারা ম্যাচটা দেখেছেন, আমি আপনাদেরকে আবারও বলব, আপনারা অনেকে বুঝে গেছেন, আমি কী বলতে চাচ্ছি। আপনারা সবাই ভালো থাকেন। এতটুকু আপনাদেরকে জানালাম, এই হারটা আমাদের হার ছিল না, এই হারটা হচ্ছে সম্পূর্ণ কম্প্রোমাইজড। এটা ফিক্সিং ছিল, বেইমানি করা হয়েছে সিলেটের সঙ্গে।

“তবে মানুষটা ভুল করে ফেলছে, সে ভুল জায়গায় হাত দিয়েছে। সে আমাদের সিলেটের আবেগের সঙ্গে হাত দিয়ে দিয়েছে। এই বিপিএল–টিপিএল সবকিছুই যে একটা বেইমানি, একটা জুয়ার ব্যবসা, এটা আমি আগে থেকে জানতাম। কিন্তু আমাদের সঙ্গে, আমাদের খেলোয়াড়রা সবাই আজকে ডিমোরালাইজড হয়ে গেছে। পুরো সিলেটের মানুষকে কান্না করানো হয়েছে বেইমানের কারণে। আমি কিন্তু তাকে এত সহজভাবে ছাড় দেব না। ভালো থাকেন আপনারা।”