Tuesday, April 7, 2026
Home Blog Page 32

সিলেটে নদী থেকে বালু উত্তোলন : ৪ বারকি নৌকাসহ আটক ১

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ধলাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে অভিযান চালিয়ে পুলিশ। এসময় ৪টি বারকি নৌকাসহ আটক করা হয়েছে ১ জনকে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে এই অভিযান চালানো হয়।

জানা যায়, ধলাই নদী থেকে দীর্ঘদিন থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। ফলে ঝুঁকির মুখে পড়েছে ধলাই ব্রীজ। নদী, পরিবেশ ও ব্রীজ রক্ষায় পুলিশ বারবার অভিযান চালাচ্ছে লুটেরাদের ধরতে। প্রায়ই রাতের বেলাতেও নদীর পাশে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নজরদারি করতে দেখা যায়। কিন্তু কিছুতেই থামানো যাচ্ছেনা এই চক্রকে।

সোমবার নদী থেকে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় ৪টি বারকি নৌকা জব্দ এবং একজনকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তির নাম সিরাজী (৪৫)। তিনি কোম্পানীগঞ্জ গ্রামের আচদর আলীর ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি রতন শেখ।

বদলে গেছে সিলেটের ফুটপাতের দৃশ্য

বছরের পর বছর ধরে সিলেট নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নানা উদ্যোগের পর এবার সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ মাঠে নেমেছে। রোববার থেকে ফুটপাতে দোকানপাট বসানো নিষিদ্ধ ঘোষনা করে মাঠে নামেন সংশ্লিষ্টরা। ঘোষনার পর প্রথম রোববার ও সোমবার কোনো হকার ফুটপাতে বসেন নি। যারা বসেছেন তারা অভিযান দেখে সরে যান।

সরেজমিন বিভিন্ন সড়কের ফুটপাতে দেখা গেছে কোনো হকার বসেন নি। স্বাচ্ছন্দে ফুটপাত দিয়ে হাটতে পারছেন শিক্ষার্থীসহ পথচারিরা। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সোমবার নগরের বিভিন্ন সড়কে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সড়ক ও ফুটপাত যাতে হকারমুক্ত থাকে এভাবে দিনভর তৎপর ছিলো পুলিশ। সন্ধ্যায় পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসক আম্বরখানা এলাকায় অভিযান চালান।

নগরীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এলাকায় প্রথমদিন অভিযান পরিচালনা করা হয়। সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে এসব অভিযানে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য অংশ নেয়। সিটি করপোরেশেনের লোকজনও ছিলেন।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাতে আগে প্রতিদিন বেলা ২টার পর থেকে হকাররা পসরা সাজিয়ে বসতেন। এই দুদিন ধরে ব্যতিক্রম। গুরৃত্বপূর্ণ সড়কে হকারদের দেখা যায়নি। নগরীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা জিন্দাবাজার, লামাবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, বন্দরবাজার, পুলের মুখ, তালতলা, শেখঘাট পয়েন্ট এলাকায় দেখা গেছে হকারমুক্ত ফুটপাতের দৃশ্য।

শুক্রবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার থেকে নগরীর কোনো সড়ক বা ফুটপাতে হকার বসতে দেওয়া হবে না। এ নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে পুলিশ, নগর ভবন ও জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন। এছাড়া সম্প্রতি সিলেটের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যা নিয়ে আন্দোলন শুরু হলে ফুটপাতের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বিকেল ৫টার দিকে সরকারি অগ্রগামি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ ছুটির পর দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের অনেকে হকারমুক্ত ফুটপাত দিয়ে হেটে যাচ্ছেন স্বাচ্ছন্দ্যে।

এদিকে হকারদের পুনর্বাসনে লালদিঘীরপারস্থ হকার মার্কেটের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। এ তথ্য নিশ্চিত করেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার পথে নিখোঁজ সিলেটি ৩৫ যুবক

অবৈধ পথে লিবিয়ার সমুদ্রযোগে ইতালির উদ্দেশে রওনা দেওয়া একটি নৌকা নিখোঁজ হওয়ার ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও হবিগঞ্জের ৩৫ তরুণের কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় নিখোঁজদের পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

নিখোঁজ যুবকদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা এখনও অজানা। তারা আদৌ বেঁচে আছেন কি না মারা গেছেন তারও সঠিক কোন তথ্য নেই কারও কাছে। তবে এতকিছুর পর এখনো হবিগঞ্জ জেলায় সক্রিয় রয়েছে মানবপাচার সিন্ডিকেট চক্র। চক্রের সদস্যরা গ্রামের সহজ সরজল মানুষদের কথার মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর নামে দিয়ে যাচ্ছে নানা প্রলোভন। যদিও এরই মধ্যে সাগরপথে অনেক যুবকই পাড়ি দিয়েছে স্বপ্নের দেশ ইতালিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লিবিয়া থেকে ইতালি পাড়ি দিতে গিয়ে ১৬ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন হবিগঞ্জের ৩৫ তরুণ। তারা গত ৩০ অক্টোবর লিবিয়া প্রবাসী জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমভাগ গ্রামের চিহ্নিত দালাল হাসান আশরাফ ওরফে সামায়ূন মোল্লার মাধ্যমে একটি নৌকায় করে লিবিয়ার ত্রিপলি থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এরপর থেকে তাদের আর খোঁজ মিলছে না।

নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বানিয়াচং উপজেলার যাত্রাপাশা তলাবপাড়া মহল্লার আলফাজ মিয়া রনি, মোজাক্কির আহমেদ, সিয়াম জমাদার, মিজান আহমেদ। একই উপজেলার শ্রীমঙ্গলকান্দি গ্রামের সাইফুল ইসলাম বাবু ও জুবাঈদ মিয়া। আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশার ইমন ও পারভেজ, পশ্চিমভাগের রফিকুল ইসলাম পবলু, হাবিবুর রহমান, সাব্বির, মাহি ওরফে রাহুল, উজ্জ্বল ও পিন্টু এবং নোয়াগড় গ্রামের মো. মোক্তাকির ও রবিউল।

এছাড়া জেলা সদরের উমেদনগর, বানিয়াচংয়ের উত্তর সাঙ্গরসহ বিভিন্ন এলাকার যুবক রয়েছেন। এর মধ্যে নিখোঁজের তালিকায় শুধু পশ্চিমভাগ গ্রামের ৬ যুবক রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৭-২০ লাখ টাকা নিয়ে ইতালি পাঠানোর কথা দালাল হাসান আশরাফ ওরফে সামায়ূন মোল্লার।

পরিশ্চমভাগ গ্রামের সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নিখোঁজ যুবকদের পরিবারের বুকফাটা আর্তনাদ। প্রিয় সন্তান ও ভাইয়ের ছবি বুকে নিয়ে কান্না করে বার বার মুর্চা যাচ্ছেন বাবা-মা স্বজনরা। তাদের একটাই কথা তাদের বুকে যেন ফিরে আসে তাদের প্রিয় সন্তান। নিখোঁজ যুবক সাব্বিরের বাবা আব্দুল ওয়াহেদ ও তার মায়ের চোখের পানি ও কান্না যেন হৃদয় ছুয়ে যাচ্ছে প্রতিবেশিদের মাঝেও। তারা শোকে মর্মমাহত।

আব্দুল ওয়াহেদ জানান, প্রায় ৩ মাস আগে সন্তানকে দালাল হাসান মোল্লা ওরফে সামায়ূন মোল্লার মাধ্যমে লিবিয়া পাঠান। পরে তার কথা অনুযায়ী সাব্বিরকে ইতালি পাঠানোর উদ্যোগ নেন। এক পর্যায়ে কষ্টের জমানো টাকা, এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ, বাড়ির জায়গা-জমি ও গরু ছাগল বিক্রি করে হাসান মোল্লাকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা দিয়েছেন।

গত ৩০ অক্টোবর সাব্বিরকে নৌকাযোগে ইতালি পাঠিয়েছে বলে হাসান মোল্লা তাকে জানিয়েছে। কিন্তু তার পর থেকেই তার সঙ্গে আর কোন যোগাযোগ নেই পরিবারের। তিনি বলেন ‘আমি আমার ছেলেটাকে জীবিত দেখতে চাই, তাকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই।’

এদিকে, ৩৫ জন যুবকের নিখোঁজ হওয়ার পরও চিহ্নিত দালাল হাসান আশরাফ ওরফে সামায়ূন মোল্লার কার্যক্রম যেন থেমে নেই। তার গড়ে তোলা মানব পাচার চক্রের সিন্ডিকেট চক্র এখনও রয়েছে সক্রিয়। তারা এলাকায় সাধারণ মানুষদের ভুলভাল বুঝিয়ে ইতালি নেওয়ার নামে দিয়ে যাচ্ছেন নানা প্রলোভন।

স্থানীয়রা বলছেন সেই চক্রের প্রধান এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন পশ্চিমভাগ গ্রামের আব্দুল মুকিত মাস্টার। তারা কাছেই আমানত হিসেবে রাখা হয় কোটি কোটি টাকা। এলাকাবাসির অভিযোগ কম টাকা দিলে ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেয়া হয় যুবকদের। আর চাহিদানুযায়ী টাকা দিলে তাদের সহজেই পৌছে দেন ইতালিতে। মুকিত মাস্টার একাই নন তার সঙ্গে মিজানুর রহমানসহ রয়েছে আরও অনেকে।

নিখোঁজ আলফাজ মিয়া রনির বড় ভাই মনির মিয়া বলেন, ‘গত ৩০ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার ত্রিপলি থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে চারটি নৌকা ছেড়ে যায়। এর মধ্যে একটি নৌকায় হবিগঞ্জের ৩৫ জন ৭০ ছিলেন। সেই নৌকাটিই নিখোঁজ হয়েছে। বাকি তিনটি নৌকা ইতালিতে পৌঁছেছে।

তিনি আরও জানান, আজমিরীগঞ্জের পশ্চিমভাগ গ্রামের লিবিয়া প্রবাসী হাসান আশরাফের মাধ্যমে ওই ৩৫ জন ১৭ থেকে ২০ লাখ টাকা করে দিয়ে ইতালি যাওয়ার উদ্যোগ নেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মুকিত মাস্টার দালাল সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিবিড় রঞ্জন তালুকদার বলেন, ‘অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে বেশ কয়েকজন যুবক নিখোঁজ হয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে জানতে পেরেছি। যদিও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ সদস্যদের পরিবার থেকে কোন ধরনের লিখিত অভিযোগ পাইনি। পরিবারের লোকজন যদি আমাদের কাছে আসে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করব।’

কুলাউড়ায় টানা ৪০ দিন নামাজ আদায়কারী ৬০ শিশু-কিশোরকে পুরস্কার

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করায় ৬০ শিশু-কিশোরকে পুরস্কৃত করেছে কাদিপুর ইউনিয়নের মনসুর ইসলামীক সোসাইটি। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে মনসুর মোহাম্মদিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে দুইজনকে বাইসাইকেল, তিনজনকে টেবিল ফ্যান ও বাকিদের বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।

সোসাইটির পরিচালক সোহেল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সমাজে ভালো মানুষ গড়তে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

ওয়ারিয়র্স অফ জুলাই মৌলভীবাজারের জেলা সদস্য সচিব জাহিদ আল ফেরদৌসের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মুহিত বাবলু, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মোক্তার, জামায়াতের ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল করিম, হোসেনপুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, খতিব মাওলানা তরিকুল ইসলাম খান, মনসুর মোহাম্মদিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি মো.সাইফুর রহমান, সাংবাদিক মহি উদ্দিন রিপন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি নাহিদুর রহমান প্রমুখ।

আয়োজকরা জানান, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৪০ দিন নামাজ আদায়ের এ কর্মসূচি নেওয়া হয়। শিশু-কিশোরদের মসজিদমুখী ও নামাজে আগ্রহী করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের মূল্যায়নে বাংলাদেশের সেরা বিমানবন্দর ওসমানী

যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগ (ডিএফটি) পরিচালিত বিমানবন্দর মূল্যায়নে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলো উচ্চ স্কোর অর্জন করেছে। সামগ্রিক মূল্যায়নে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ ও ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৩ শতাংশ নম্বর পেয়েছে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত আগস্ট মাসে দেশের বিমানবন্দরগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ডিএফটি। এর মধ্যে শাহজালাল সামগ্রিক মূল্যায়নে ৯৩ শতাংশ এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা (কার্গো) মূল্যায়নে ১০০ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছে। একইভাবে ওসমানী সামগ্রিকভাবে ৯৪ শতাংশ এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা (কার্গো) মূল্যায়নে ১০০ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। ডিএফটি মূল্যায়ন দল বেবিচকের প্রস্তুতি ও কার্যক্রমে গভীরভাবে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিএফটির বিমানবন্দর মূল্যায়ন হলো যুক্তরাজ্য সরকারের একটি আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন ব্যবস্থা। যার মাধ্যমে বিদেশি বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী ও কার্গো নিরাপত্তার মানদণ্ড যাচাই এবং যুক্তরাজ্যের চাওয়া অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোর বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা হয়। এ পরিদর্শনগুলো পরিচালনা করেন ডিএফটির অনুমোদিত পরিদর্শক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। যারা সরেজমিনে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, নীতিমালা পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ব্যবস্থাগুলো যাচাই করেন। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে বিমানবন্দর মূল্যায়ন কার্যক্রম ২০১৭ সাল থেকে শুরু হয়। পরবর্তীতে, অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো যাচাইয়ের জন্য ডিএফটি পরিদর্শক দল নিয়মিতভাবে এ মূল্যায়ন অব্যাহত রাখে।

বেবিচক জানায়, ডিএফটি থেকে প্রাপ্ত ভালো মূল্যায়ন জাতীয় স্বার্থে গভীর তাৎপর্য বহন করে। এটি বাংলাদেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃঢ়তা ও সক্ষমতার প্রতিফলন, যা সামগ্রিকভাবে জাতীয় নিরাপত্তার উন্নয়নে সহায়তা করে। এ ফলাফল বিদেশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও এয়ারলাইন্সগুলোকে আশ্বস্ত করে যে যাত্রী ও কার্গো ব্যবস্থাপনায় টেকসই এবং উচ্চমানের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৬ সালে কার্গো স্ক্রিনিং নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য সরাসরি ঢাকাগামী কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ফলে বাংলাদেশের সব রপ্তানি কার্গোকে তৃতীয় দেশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে পাঠাতে হতো, যা রপ্তানিকারকদের জন্য বিলম্ব ও অতিরিক্ত খরচ সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে বেবিচক ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের বিধিনিষেধের সঙ্গে নিজেদের সামঞ্জস্য গড়ে তোলে। ২০১৭ সাল থেকে ইডিএসের মতো আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম যোগ এবং ইডিডি ইউনিটকে রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিং ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের কার্গো অপারেশনে একটি মাইলফলক অর্জন।

বেবিচক জানায়, তারা ধারাবাহিকভাবে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ এবং প্রক্রিয়াগুলোর উন্নয়ন করে এসেছে, যাতে বাংলাদেশের বিমান নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছেছে। এ ভালো মূল্যায়ন ভবিষ্যতে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঝুঁকি কমাবে এবং অন্য দেশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্ক্রিনিং করার প্রয়োজন হ্রাস করবে। এটি বাণিজ্য সহায়ক হবে, বিদেশি এয়ারলাইন ও হ্যান্ডলার অংশীদারিত্বকে আকৃষ্ট করবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। যা সরাসরি জাতীয় অর্থনীতি ও উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সিলেটে নামলো ঢাকার ফ্লাইট : শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট চলাচল। ফলে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে ছেড়ে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

শনিবার বিকেল ৩টা ৩১ মিনিটে বিজি-৩৪০ নম্বর ফ্লাইটটি ৩৯৬ জন যাত্রী নিয়ে সিলেটের আকাশে অবতরণ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ। ফ্লাইটটির গন্তব্য ছিল ঢাকা, কিন্তু বিমানবন্দরের জরুরি পরিস্থিতির কারণে বিকল্প এয়ারপোর্ট হিসেবে সিলেট বেছে নেয়া হয়।

এর আগে দুপুর সোয়া ২টার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট সংলগ্ন কার্গো ভিলেজে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, আগুন নেভাতে প্রথমে ২৮টি ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে আরও ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়।

আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ফায়ার ইউনিটসহ দুই প্লাটুন বিজিবি-ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথভাবে কাজ করছে বলে নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকায় সব ধরনের ফ্লাইট অপারেশন বন্ধ থাকবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের অনেক ফ্লাইট ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে এবং যাত্রীদের অপেক্ষায় রাখা হয়েছে টার্মিনালে। অন্যদিকে, বিদেশফেরত বেশ কয়েকটি ফ্লাইটকে বিকল্প এয়ারপোর্টে অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রিয়াদ থেকে আসা বিমানটি অবতরণ করে সিলেটে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইট চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এদিকে, শাহজালাল বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ওপরও উঠছে নানা প্রশ্ন।

সন্ধ্যা নাগাদ আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে আরও সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের নিরাপদে রাখার পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

বিলেতের স্বপ্ন ফিকে, নেই কর্মসংস্থান : চতুর্মুখী সংকটে সিলেটের তরুণরা

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সিলেটের তরুণদের চোখে একটাই স্বপ্ন—বিলেত বা প্রবাস। স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের অভাবে এই স্বপ্নই তাদের একমাত্র অবলম্বন। উচ্চশিক্ষাকে মাধ্যম বানিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর সেই স্বপ্নে এবার বড় ধাক্কা দিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফল। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে বিগত ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার তরুণদের মধ্যে তীব্র হতাশা সৃষ্টি করেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, আমেরিকার মতো দেশগুলোর কঠোর ভিসা নীতি, যা তাদের ভবিষ্যৎকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার মাত্র ৫১.৮৬ শতাংশ, যা গত এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর এই হার ছিল ৮৫.৩৯ শতাংশ। শুধু তাই নয়, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও কমে ১,৬০২ জনে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের সকল বোর্ডের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই ফল বিপর্যয়ে হাজারো শিক্ষার্থীর বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সিলেট শহর ও বিভিন্ন উপজেলার অনেক শিক্ষার্থী ফলাফলের আগেই বিদেশে ভর্তির প্রস্তুতি হিসেবে আইইএলটিএস কোচিং শুরু করেছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল, এইচএসসির ফল হাতে পেলেই স্বপ্নের দেশে পাড়ি জমানো। কিন্তু অপ্রত্যাশিত এই ফল তাদের সব পরিকল্পনা এলোমেলো করে দিয়েছে।

কানাইঘাটের শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমার ইংরেজিতে ‘এ’ গ্রেড এসেছে, কিন্তু অন্য একটি বিষয়ে ফেল করেছি। পরীক্ষার পর পরই আইইএলটিএস কোচিংয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম রেজাল্টের পর পরীক্ষা দিয়ে জানুয়ারির সেশনে আবেদন করবো। এখন সব অনিশ্চিত। আমি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

একইভাবে গোলাপগঞ্জের শিক্ষার্থী সালমা আক্তার বলেন, “আমার দুটি বিষয়ে খারাপ হয়েছে। বাড়িতে সবাই আশা করেছিল আমি ভালো ফল করে লন্ডনে পড়তে যাব। এখন কী হবে জানি না। এখানে তো ভালো কোনো চাকরির সুযোগ নেই, আর বিদেশে যাওয়ার রাস্তাও বন্ধ হয়ে গেল।”

সিলেট প্রবাসী-অধ্যুষিত অঞ্চল হলেও এখানে শিল্পায়নের চিত্র হতাশাজনক। হাতেগোনা কয়েকটি শিল্প-কারখানা থাকলেও সেখানে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান নগণ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী আয়ে সিলেট জেলা শীর্ষে থাকলেও সেই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স মূলত জমি কেনা, বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি এবং ভোগ-বিলাসে ব্যয় হচ্ছে। অনেক প্রবাসী কোটি টাকা খরচ করে বিশাল বাড়ি তৈরি করলেও সেগুলো খালি পড়ে থাকে। এই অলস অর্থ সঠিক পথে বিনিয়োগ না হওয়ায় স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। ফলে তরুণদের মধ্যে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সিলেটের গ্রামগুলোতে গেলে ২০ বছরের বেশি বয়সী তরুণদের খুঁজে পাওয়া মুশকিল, কারণ তাদের বড় একটি অংশ বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে বা যাওয়ার চেষ্টায় আছে।

যে সময়টাতে তরুণরা দেশীয় কর্মসংস্থানের অভাবে বিদেশে যাওয়ার দিকে ঝুঁকছে, ঠিক সেই সময়েই উন্নত দেশগুলো তাদের দরজা সংকুচিত করছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ স্টুডেন্ট ভিসার নিয়মকানুন কঠোর করেছে। টিউশন ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্ভরশীলদের (ডিপেন্ডেন্টস) ভিসা বন্ধ এবং আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণপত্র আরও কঠিন করায় মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। সব মিলিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সুযোগের অভাব এবং বিদেশে যাওয়ার পথে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা সিলেটের তরুণদের এক গভীর হতাশায় নিমজ্জিত করছে। অনেকে উপায়ন্তর না দেখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

সিলেটে এবার যাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে নামছে পুলিশ

আবার রাজপথে নামছে পুলিশ, শুরু হচ্ছে অ্যাকশন। এবার সিলেটের রাজপথ দখলমুক্ত করতে আটঘাট বেঁধে নামছে তারা। রবিবার থেকেই শুরু হচ্ছে এই অ্যাকশন।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) সাইফুল ইসলাম সিলেটভিউকে এসব তথ্য জানান।

সিলেটের রাজপথ ও ফুটপাত দখল একটা পুরানো সমস্যা। এ নিয়ে জলঘোলা হয়েছে অনেক। একটা সময় এমন ছিল যে, ফুটপাততো বটে, রাজপথের অর্ধেক দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যেতেন ভাসমান ব্যবসায়ীরা। এমনকি, ফুটপাতে পলিথিন, কাঠ ইত্যাদি দিয়ে ঘর বানিয়ে দখল করে রাখতেন বছরের পর বছর।

তারপর সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সময়ে আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হতো। সেও ছিল এক নাটক। একদিকে তিনি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে গিয়েছেন, আম্বরখানা থেকে ফিরে এসে দেখেছেন আবারও উচ্ছেদকৃত ব্যবসায়ীরা বসে পড়েছেন নিজেদের পুরানো স্থানে।

এরপর এলো লালদিঘীরপার হকার্স মার্কেটে হকার্সদের পূণর্বাসন প্রকল্প। হবে হচ্ছে করে কিছুদিন সিলেটের ফুটপাত ও রাজপথ হকার্সমুক্ত ছিল বটে, তবে গত ৫ আগস্টের পর থেকে আর কিছুই বাগে নেই। যথারীতি লালদিঘীরপার হকার্স মার্কেট প্রায় শূণ্য অবস্থায় ফেলে রেখে হকাররা আবারও নেমে পড়েন ফুটপাত ও রাজপথ দখলে। এ অবস্থা চলছেই।

তবে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসাবে মো. সারোয়ার আলম ও পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম যোগ দেওয়ার পর শুরু হয় নতুন তোড়জোড়। তারা দু’জনেই সিলেটের বিভিন্ন পর্যায়ের সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এসব মতবিনিময় থেকে উঠে আসে প্রধান দুটি সমস্যার কথা। একটা হচ্ছে যানজট। অপরটি ফুটপাত ও রাজপথ অবৈধ দখল হয়ে যাওয়া।

মূলত: এ দুটি সমস্যাই সিলেটের নাগারিক দুর্ভোগের প্রধান কারণ। তারা চিহ্নিত দুটি সমস্যা নিয়ে কাজও শুরু করেন। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ থেকে সিলেট মহানগরীতে অবৈধ যানবাহন বিরোধী অভিযান শুরু হয়, যা এখনো চলছে।

আর ফুটপাত ও রাজপথ দখল করে থাকা হকার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রায় একমাস সময় দেওয়া হয়। এরমধ্যে লালদিঘীরপার হকার্স মার্কেট প্রস্তুত করা হয়েছে। সব হকারদের সেখানে যেতেই হবে। তারা রাজপথে বা ফুটপাতে বসতে পারবেন না কিছুতেই। এমনটাই জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে গত একমাস ধরে।

এখন লালদিঘীরপার হকার্স মার্কেট প্রস্তুত। সময় এসেছে হকার্সদের সেখানে সরে যাওয়ার। বিষয়টিকে সামনে রেখে প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ। তারা ১৮ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়ে রেখেছে। মানে এরমধ্যে সবাইকে সরে যেতে লালদিঘীরপার হকার্স মার্কেটে। আর তা না হলে?

সোজা কথা, আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সিলেট মহানগর পুলিশ। আইনী পদক্ষেপ কি? উচ্ছেদ অভিযান। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা, গাড়ি পার্কিং বা যেকোনো ধরনের স্থাপনা পাওয়া গেলে সেটি উচ্ছেদ করা হবে।

এ ক্ষেত্রে আর কোনো কিছুই বিবেচনার সুযোগ থাকবেনা বলেও জানালেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. সাইফুল ইসলাম।

সিলেটে আবাসিক হোটেল থেকে চার তরুণ-তরুণী আটক

সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ একটি আবাসিক হোটেল থেকে চার তরুণ-তরুণীকে আটক করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে শিবগঞ্জ ‘গ্র্যান্ড সাওদা’ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলো- জুনেদ আহমদ (২৩), সৌমিত্র দত্ত (২৭), নীলা আক্তার (১৮) ও রূপান্তি বিশ্বাস (২০)।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত উপকমিশনার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে হোটেলে অবস্থান করে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসএমপি অ্যাক্টের ৭৭ ধারা মোতাবেক আটক দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সিলেটে ১২ বছর ধরে চলছে ১১ কিলোমিটার সড়কের কাজ!

সড়কটির দৈর্ঘ্য মাত্র ১১ কিলোমিটার। ওসমানী বিমানবন্দর থেকে বাদাঘাট হয়ে কুমারগাঁও পর্যন্ত চারলেন হবে সড়কটি। সিলেটের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে ছোট দৈর্ঘ্যরে সড়কটির গুরুত্ব অনেক বেশি। সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে কমবে সিলেট নগরের যানজট। ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পর্যটনে। সিলেট নগরের যানজট এড়িয়ে বিভাগের বাকি ৩ জেলার যাত্রীরা সহজে পৌঁছে যাবেন ওসমানী বিমানবন্দরে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় ১২ বছর আগে। একযুগে সড়কটির কাজ হয়েছে ৬০ ভাগ। কাজ শেষ হওয়া অংশের জমি অধিগ্রহণ এখনো শেষ হয়নি। জায়গা নিয়ে মামলা হওয়ায় সড়কের নকশায় আনতে হয়েছে পরিবর্তন। নানা জটিলতায় এখন সীমিত পরিসরে চলছে কাজ। কবে নাগাদ সড়কটির কাজ শেষ হবে তা বলতে পারছেন না কেউই।

সওজ জানায়, ২০১২ সালে সিলেট বিমানবন্দর-বাদাঘাট-কুমারগাঁও বাইপাস দুই লেন সড়কের কাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর পর সড়কটি চারলেনে উন্নিতকরণের দাবি ওঠে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভোলাগঞ্জ কোয়ারির পাথর ও বালু পরিবহনের জন্য প্রতিদিন ওই সড়ক দিয়ে শত শত ট্রাক চলবে।

ভোলাগঞ্জ দিয়ে আমদানিকৃত পাথরবোঝাই ট্রাক, আইসিটি পার্কের যানবাহনও ও সিলেটের বাইরের পর্যটক ও বিমানবন্দর যাত্রীদেরও চাপ বাড়বে এই সড়কে। ফলে দুই লেনের পরিবর্তে সড়কটি চারলেনে উন্নীত করা প্রয়োজন। এই দাবির প্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন বন্ধ থেকে শুরু হয় চারলেনের কাজ। কিন্তু এক যুগেও সড়কটির কাজ শেষ হয়নি।

সওজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ১১ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কুমারগাঁও থেকে বাদাঘাট কারাগার পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার জায়গা অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকি অংশের ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত কাজ শেষ হলেও অধিগ্রহণকৃত জায়গার মালিকরা টাকা পাননি। আর ধুপনিগুল মৌজার মালিকরা জায়গা দিতে রাজি হননি।

সওজ সূত্র জানায়, বাদাঘাট থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৩ কিলোমিটারের কাজ এখনো বাকি আছে। ধুপনিগুল মৌজার অন্তভর্‚ক্ত ওই এলাকায় সওজের ৪০ ফুট প্রশস্ত জায়গা ছিল। কিন্তু স্থানীয়রা ওই ৪০ ফুটে নিজেদের মালিকানাধীন জায়গা রয়েছে দাবি করে আদালতে ৪টি মামলা দায়ের করেন। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় সওজ বাধ্য হয়ে সড়কের এলাইনমেন্ট ও নকশা পরিবর্তন করে। বর্তমানে ওই অংশের কাজ প্রায় বন্ধ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কটি চালু হলে পাথরবাহী ট্রাক শহরের মধ্যে না ঢুকে ওই বাইপাস দিয়ে বেরিয়ে টুকেরবাজার তেমুখী সেতু পার হয়ে মহাসড়কে গিয়ে ওঠতে পারবে। এছাড়া, ওসমানী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন কাজ শেষ হলে বাড়বে ফ্লাইটের সংখ্যা। এতে বিমানবন্দরগামী যাত্রী বাড়বে, বাড়বে যানবাহনের চাপও। তখন সিলেট শহরে না ঢুকে বাইপাস সড়কটি ব্যবহার করে সিলেট বিভাগের তিন জেলার যাত্রীরা সহজে বিমানবন্দরে যেতে পারবেন। এছাড়া সাদাপাথর, উৎমাছড়া, বিছনাকান্দি ও রাতারগুলের পর্যটকরাও ওই সড়ক ব্যবহার করে গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, ‘ভোলাগঞ্জ দিয়ে আমদানিকৃত পাথর ও চুনাপাথর স্থানীয় ক্রাসার মেশিনে ভেঙে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। বাইপাস সড়কটির কাজ শেষ হলে পাথরবোঝাই ট্রাক শহরে প্রবেশ না করে চলে যেতে পারবে। বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক পর্যটক বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যান। ট্রাকের দীর্ঘ সারি ও যানজটের কারণে পর্যটকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এতে সিলেটের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমির হোসেন জানান, জমি অধিগ্রহণের জন্য ৭৭ কোটি টাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া আছে। শিগগিরই মালিকরা তাদের জমির মূল্য পেয়ে যাবেন। ধুপনিগুল মৌজার লোকজন জমি দিতে রাজি হননি। সওজের জায়গার একাংশ তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন দাবি করে আদালতে ৪টি মামলা করেছেন। মামলাগুলো চলমান। বর্তমানে সীমিত পরিসরে সড়কটির কাজ চলছে।