Wednesday, April 22, 2026
Home Blog Page 75

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ দিল কানাডা

টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ২০২৫ সালেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রবেশে লাগাম টানার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কানাডা। আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য পরিষেবার ওপর চাপ কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দেশটির সরকার জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।

স্থানীয় সময় শুক্রবার দেশটির অভিবাসন-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি বছর ৪ লাখ ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য পারমিট জারি করবে কানাডা, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১০ শতাংশ কম।

গত কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিক কানাডায় পাড়ি জমিয়েছেন। এর ফলে দেশটিতে ব্যাপক আবাসন সংকট তৈরি হয়েছে। যে কারণে দেশটির সরকার জনসংখ্যায় লাগাম টানতে ২০২৪ সালে বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্টাডি পারমিটের সংখ্যা হ্রাস করে।

আগামী মার্চে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাস্টিন ট্রুডো। দেশটিতে অভিবাসনের হার কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন জরিপে দেশটিতে নতুন করে আসা অভিবাসীদের প্রতি জনসমর্থন প্রচুর কমতে দেখা গেছে।

এর আগে, ২০২৩ সালে সাড়ে ৬ লাখের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীকে দেশটিতে পড়াশোনার অনুমতি দিয়েছিল কানাডা। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ বিশ্বের উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর শিক্ষার্থী ও অভিবাসন প্রত্যাশীদের কাছে শীর্ষ পছন্দের দেশ কানাডা।

দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কানাডায় সক্রিয় ভিসাধারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে পৌঁছায়। ১০ বছর আগে, ২০১২ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার।

অভিবাসনের কারণে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটিতে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো বিভিন্ন পরিষেবায় ব্যাপক চাপ তৈরি এবং আবাসন ব্যয় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। অভিবাসীদের আশ্রয় এবং কাজের সুযোগ দেওয়ার জন্য কানাডার সুখ্যাতি আছে। কিন্তু আবাসনের ব্যয় বাড়ার কারণে চাপের মুখে পড়েছে দেশটির সরকার।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমাতে কানাডার সরকারের গত বছরের নেয়া পদক্ষেপের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে এখন থেকে স্টাডি পারমিট আবেদনকারীদের কানাডার যেকোনও একটি প্রাদেশিক বা টেরিটোরিয়ায় প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। চলতি বছরে যারা দেশটিতে মাস্টার্স এবং পোস্ট-ডক্টরাল করার জন্য যাবেন, সেই শিক্ষার্থীদেরও এই প্রত্যয়নপত্র জমা দেয়ার প্রয়োজন হবে।

বিয়ানীবাজারে কলেজছাত্রী ৫ দিন থেকে নিখোঁজ— সন্ধান চায় পরিবার

বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের এক ছাত্রী বিগত ৫ দিন ধরে নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন তার পিতা মিছবাহ উদ্দিন। তিনি জানান, গত সোমবার তার অনার্স পড়ুয়া মেয়ে সকালে বাড়ি থেকে কলেজের উদ্দ্যেশ্যে বেরিয়ে আর বাড়িতে ফিরেনি।

কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি জানান, কেউ যদি উল্লেখিত সংবাদে দেয়া ছবির মেয়েকে দেখে থাকেন তবে সংবাদে থাকা নাম্বার অথবা বিয়ানীবাজার থানায় যোগাযোগ অনুরোধ করেন সেই পিতা।

বিয়ানীবাজারে কলেজছাত্রী ৫ দিন থেকে নিখোঁজ— সন্ধান চায় পরিবার
বিয়ানীবাজারে কলেজছাত্রী ৫ দিন থেকে নিখোঁজ— সন্ধান চায় পরিবার

নিখোঁজ হওয়া ছাত্রীর নাম মারুফা আক্তার মাহিমা, সে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের দাসগ্রামের মিছবাহ উদ্দিনের মেয়ে, এবং বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

যোগাযোগের নাম্বার ০১৮১৯ ৭২৯২৬৭

যুক্তরাষ্ট্রে আতঙ্কে অবৈধ বাংলাদেশিরা, গ্রেপ্তার ৪

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড় অভিযান শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে নিউইয়র্কের ব্রুকলিন বরোর ফুলটন এলাকা থেকে চার বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস ইনফোর্সমেন্ট (আইস)।

ট্রাম্প শপথ গ্রহণের পর থেকে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের ধরতে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। ফলে দেশটিতে নথিপত্রহীন বাংলাদেশিরাও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

শপথ গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত অভিবাসন–সংক্রান্ত শতাধিক নির্বাহী আদেশে সই করেছেন ট্রাম্প। জো বাইডেন আমলের ৭৮টি নির্বাহী আদেশ বাতিলসহ নতুন ৪৭টিতে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। নথিপত্রহীন সন্দেহভাজন অভিবাসীদের ব্যাপক মাত্রায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিউইয়র্কে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা আইন কর্মকর্তা খাদিজা মুনতাহা রুবা বলেন, নিউইয়র্কের ব্রুকলিন বরোর ফুলটন এলাকা থেকে আড্ডা দেওয়া অবস্থায় নথিপত্রহীন চার বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে আইস। এ সময় তারা সাদাপোশাকে ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী এক বাংলাদেশি বলেন, ‘নিউইয়র্কের ফুলটন এলাকায় আমরা আড্ডা দিচ্ছিলাম। অতর্কিতে সাদাপোশাকে কয়েকজন কর্মকর্তা এসে আমাদের পরিচয়পত্র দেখাতে বলেন। একজন প্রতিবাদী হয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী তিনি তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য নন। তিনি এ কথা বলায় তাকে গ্রেফতার করে অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কিছুটা দূরে একই এলাকায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অ্যাটর্নি রাজু মহাজন বলেন, ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। যারা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ দক্ষিণ আমেরিকার পথ ধরে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে ঢুকতেন, সেই পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, নির্বাহী আদেশ জারি করে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের একটি বিধানও বাতিল করেছেন ট্রাম্প। এতে এখন থেকে ৩০ দিন পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানেরা দেশটির নাগরিকত্ব পাবে না। এরই মধ্যে এই নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে ২৪টি রাজ্য ও শহরে মামলা হয়েছে। যেহেতু এটা মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনের বিরুদ্ধে যায়, সে কারণে হাইকোর্ট এটি বাতিল করে দিতে পারে।

খাদিজা মুনতাহা বাংলাদেশিদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আইন প্রয়োগকারী কোনো সংস্থার সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। অন্যের ওয়ার্ক পারমিট দিয়ে কাজ করা বন্ধ করতে হবে। এই কঠিন সময়ে অহেতুক পুলিশি অথবা অন্য কোনো বিবাদ অথবা ঝামেলায় জড়ানো যাবে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঙালি–অধ্যুষিত এলাকার সড়ক ও রেস্তোরাঁয় যেখানে অসংখ্য মানুষের ভিড় দেখা যেত, এখন সেখানে লোকজনের ভিড় নেই বললেই চলে। এরই মধ্যে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত কার্যকরের আগেই মা হওয়ার দৌড়ে ভারতীয়রা

জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি এই ঘোষণা কার্যকর হতে পারে। এ কারণে ওই সময়ের আগেই বাচ্চা জন্ম দিতে চাইছে ভারতীয়রা। এ জন্য তারা বেছে নিচ্ছে প্রিটার্ম সি­-সেকশন (আগাম প্রসব) পদ্ধতি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস ও ইন্ডিয়া টুডে বলছে, শপথ নেওয়ার দিনই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত আদেশে সই করেন ট্রাম্প। এতে বলা হয়, অবৈধভাবে কিংবা শিক্ষা ও পর্যটনসহ সাময়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দিলে শিশু মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে না। তবে মা-বাবার কেউ মার্কিন নাগরিক হলে সন্তান জন্মের পরই মার্কিন নাগরিক বলে স্বীকৃতি পাবে।

ট্রাম্পের এই অভিবাসনবিরোধী পরিকল্পনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অনেকেই সংকটে পড়েছেন। বিশেষ করে, যাদের সন্তান গর্ভে রয়েছে, তারা বেশ বিপাকে পড়েছেন। এ তালিকায় রয়েছেন অনেক ভারতীয়ও। তবে, এই সংকট কাটাতে নতুন এক সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছেন তারা।

জানা গেছে, যেসব ভারতীয়ের সন্তান আগামী ২০ ফেব্রুয়ারির পরের কিছুদিন জন্ম নেওয়ার কথা, সেসব মায়েদের প্রিটার্ম সি­-সেকশন করে সন্তান ওই তারিখের আগেই জন্মানোর পথে হাঁটছেন তারা।

সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন বলছে, যারা প্রিটার্ম সি­-সেকশন করছেন, সেসব নারী ৮ বা ৯ মাসের গর্ভবতী। নিউজার্সির একটি ম্যাটারনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. এসডি রামা বলছেন, সম্প্রতি এমন অনেক অপারেশনের অনুরোধ পেয়েছেন তিনি।

এই চিকিৎসক টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, সাত মাসের গর্ভবতী নারীরা তাদের স্বামীর সঙ্গে আগাম প্রসবের সময়সূচী ঠিক করতে আসছেন। মার্চে এসব সন্তান প্রসব হওয়ার কথা।

তবে এভাবে আগাম প্রসব পদ্ধতি বেছে নেওয়ার কারণে বাচ্চা ও মায়ের ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। টেক্সাসের চিকিৎসক ডা. এসজি মুক্কালা বলছেন, এমন হলে শিশুলের ফুসফুস ছোট হয়ে যেতে পারে, ওজন কম হতে পারে। এছাড়া শিশুর স্নায়বিক সংকটও হতে পারে।

হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের ঘোষণা অভিবাসন নীতিতে একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে ও অস্থায়ী ভিসায় দেশটিতে বসবাসরত লাখো ভারতীয়র জীবনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েও দুশ্চিন্তায় মাজেদুল

দরিদ্র পরিবারের সন্তান মাজেদুল মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেও ভর্তি খরচ ও পড়াশোনা এগিয়ে নিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তার পরিবার। মাজেদুলের বাবা আবুল হোসেন পেশায় কাঠমিস্ত্রি। মা মর্জিনা বেগম কখনও কখনও অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। ভর্তির বিষয়ে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন মেধাবী মাজেদুল ও তার পরিবার।

মাজেদুলের বাড়ি কুড়িগ্রাম শহরের পৌর এলাকার ভরসার মোড় সংলগ্ন করিমের খামার গ্রামে। দুই ভাইয়ের মধ্যে মাজেদুল ছোট। বড় ভাই কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে অনার্স পড়ছেন। মাজেদুল মাগুরা মেডিকেল কলেজে সুযোগ পেয়েছে। মেধা তালিকায় তার স্থান ৫০৩২।

মাজেদুল কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০২২ সালে গোল্ডেন এ প্লাস নিয়ে এসএসসি পাস করেন। এরপর কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে ২০২৪ সালে গোল্ডেন এ প্লাস নিয়ে এইচএসসি পাস করেন।

মাজেদুলের মা মর্জিনা বেগম জানান, মাজেদুল ছোট থেকেই পড়াশোনায় ভালো। এরপর থেকে শিক্ষকরা তাকে সহযোগিতা করেছেন। এভাবেই চলছে তার পড়ালেখা।

তিনি বলেন, তার বাবা কাঠমিস্ত্রি। তিনি কাজ করে সংসার চালান। আর আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করে চলছি। অভাবের সংসারে এখন ছেলের পড়ালেখার খরচ দেওয়া খুব কষ্ট হবে। এখন কেউ যদি সহযোগিতা করে তাহলে ছেলেটা ভালোভাবে পড়ালেখা শেষ করতে পারবে।

মাজেদুল ইসলাম বলেন, ছোট বেলা থেকে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছি। অনেক বাধা পেরিয়ে এই পর্যন্ত এসেছি। আমার বাবা কাঠ মিস্ত্রির কাজ করেন আর মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। আমার বড় ভাই কুড়িগ্রাম কলেজে পড়ে। সে আবার প্রাইভেট পড়িয়ে চলে।

মাজেদুল বলেন, আমি নিজে এলাকায় দুটো টিউশনি করে এতদিন নিজের খরচ চালিয়েছি। কিন্তু মেডিকেলে পড়ার খরচ জুটবে কীভাবে? আমার সাথে বাবা-মা দুশ্চিন্তায় আছেন।

মাজেদুলের সাফল্যে প্রতিবেশী, আলামিন ও আব্দুল জলিল বলেন, মাজেদুল ছোট থেকেই কষ্ট করে পড়ালেখা করছে। সে সুযোগ পেয়েছে এজন্য আমাদের এলাকারও সুনাম হচ্ছে। আমরা চাই সে আরও ভালো করুক সামনে।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মীর্জা নাসির উদ্দিন বলেন, মাজেদুল মেধাবী শিক্ষার্থী। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সে তার মেধার প্রমাণ দিয়েছে। কিন্তু তার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। সমাজের সামর্থবানরা এগিয়ে আসলে মাজেদুল তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে। একদিন চিকিৎসক হয়ে দেশের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারবে।

কানাডায় থাকার আশা ভঙ্গ! ফিরে যেতে হবে

গানের কথার সঙ্গে মিল রেখে দিয়ে যদি শুরু করি তাহলে বলা যায় “এ কানাডা এখন তো আর সে কানাডা নেই”

হ্যাঁ, এটাই সত্যি। একটা সময় ছিল মানুষ নানাভাবে কানাডায় এসেছেন। বিশেষ করে বৈধভাবে আসার একটা মাধ্যম ছিল স্টুডেন্ট ভিসা। স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে এসেছেন সারা বিশ্বের স্টুডেন্টরা। তারমধ্যে বাংলাদেশ থেকে আসা স্টুডেন্টের সংখ্যাও কম নয়।

এই স্টুডেন্টরা আগে যারা এসেছেন তাদের জন্য সমস্ত প্রক্রিয়াটা সহজ ছিল। ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া সহজ ছিল। তারপর পিআরও পেয়ে যেতেন সহজে। তারপর সিটিজেন হয়ে যেতেন নির্দিষ্ট সময়ে। তারপর তাদের বাবা-মা স্পন্সর ভিসায় এসে এখানে নাগরিকত্ব পেয়ে যেতেন। কিন্তু এখন উল্টে গেছে পাশার দান। বলতে পারেন এখন প্রায় সবকিছুর রুলস কঠিন হওয়া বা পাল্টে যাওয়া, CRS পয়েন্টস বেশি হওয়া, PGWP এ কড়াকড়ি সব মিলিয়ে গোন্ডগোল বেঁধে গেছে। এখন আর পিআর পাওয়া সহজ হচ্ছে না। আবার স্টুডেন্টদের বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব আবেদনের সুযোগও স্থগিত করা হয়েছে।

এসব অসুবিধার আওতায় পড়েছেন অসংখ্য স্টুডেন্ট। যারা এখানে এসে পড়ালেখা শেষ করেছেন ডিপ্লোমা বা পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টুডেন্টদের কথা বলছি তারা CRS পয়েন্টস মিট না হওয়া ও ওয়ার্ক পারমিট শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন আর কানাডায় থাকা সম্ভব হচ্ছে না। চলে যেতে হবে বাড়িতে। এমন সংখ্যা অসংখ্য। এ বছরেই দেশে ফিরে যেতে হবে বারো লক্ষ বা তার বেশি স্টুডেন্টকে। আর যারা বর্তমানে পড়াশোনায় চালু আছেন তাদের তো আরো সমস্যা। তাদের তো ওয়ার্ক পারমিট পাওয়াতেই নানা বাঁধা হবে নতুন রুলসে। সবার জন্য ইজি হবে না।

আমার ফেসবুকের মেইন আইডিতে ফ্রেন্ডলিস্টের একজন ছোট ভাই আছে। ২০২০ সালে সে এসেছিল টরন্টোতে। সে আমাকে মাঝেমাঝে মেসেজ দিত। তার একটা কথা আমার মনে আছে। একদিন আমার এক খাবারের পোস্ট দেখে সে বলেছিল “আপু, আমাকে খাওয়াবেন?” তখন আমি তাকে চিকেন বিরিয়ানি ও অন্যান্য অনেক কিছু রান্না করে দিয়ে এসেছিলাম। তখন সে বলেছিল “আপু, আপনি আমার জন্য যা করেছেন, আমার আপন বোনও সেটা করত না।”

যাই হোক, সেই ছেলে তো পড়া শেষ করে তিন বছরের ওয়ার্ক পারমিটে ছিল। টরন্টোতে একটা ইন্টারন্যাশনাল রেস্টুরেন্টে কাজ করত। তারপর সে অন্টারিও থেকে অন্য প্রভিন্সে মুভ হয়েছিল যদি ভিসা পেতে সুবিধা হয় সেইজন্য। সেখানে গিয়েও সে একটা রেস্টুরেন্টে কাজ নিয়েছিল।

অনেক দিন তার খবর জানতাম না। ফেসবুকে তার ছবি দেখে তাকে মেসেজ দিয়ে বললাম, তুমি কি পিআর পেয়েছ?
সে বলল ” না আপু। আমার হবে না মনে হচ্ছে। আমার ফিরে যেতে হবে।”

তারপর তার কাছে তো অনেক কিছু শুনলাম। সে বলল, টরন্টো থেকে অন্য প্রভিন্সে গিয়ে তার সবচেয়ে বড়ো ভুল হয়েছে। ওখানের রেস্টুরেন্ট তাকে কোনো রকম হেল্প করে নি। তারপর সেখানে একটা কার না হলে চলাই যায় না। একটা কার কিনতে হয়েছে। যার জন্য তার খরচ হয়েছে মাসে $600 cad করে। যেটা টরন্টোয় থাকলে তার খরচ হতো না।

আমি জিজ্ঞেস করলাম তার কতো খরচ হয়েছিল সেটা উঠেছে কিনা আর কিছু জমাতে পেরেছে কিনা।

সে বলল, তার পড়ার টিউশন ফি বাবদ খরচ হয়েছে $39 cad. যার অর্ধেক সে আসার আগে ও বাড়ি থেকে শোধ করেছে। আর বাকিটা চাকরি করে দিয়েছে। পড়া+অন্যান্য খরচ সবকিছু মিলিয়ে সে চাকরি করে ওঠাতে পেরেছে।
আমি জানতে চাইলাম কিছু কি জমাতে পেরেছ? সে বলল, “জি আপু। $30 cad জমাতে পেরেছি সব খরচের বাইরে।

তারমানে ধরেন ২৫ লাখ টাকার মতো হবে। খারাপ কী! আমি তো মনে করি এই অর্থ দিয়ে সে দেশে একটা বিদেশি রেস্টুরেন্ট চালু করতেও পারবে। আরো অনেক স্টুডেন্ট আছে যাদের থাকার সম্ভাবনা নেই, তারা এখন শুধু ইনকাম করে টাকা জমানোর চেষ্টা করছে। তবে কেউ কেউ হয়তো এতোটা পারছে না।

সেই ছেলে বলছে, “আপু, কানাডায় এসে অনেক কিছু শিখেছি। এতেই আমি হ্যাপি। দেশে থাকলে তা পারতাম না।” এখন তার ভবিষ্যৎ ভাবনায় অন্য পরিকল্পনা। সে জানাল, সে জার্মানির দিকে মুভ হবে। সেখানে ব্যাচেলর ডিগ্রি করে মাস্টার্সও করবে। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ব্যাংকে জমা রাখলে জার্মানিতে টিউশন ফি লাগে না বলে সে জানাল।

যাই হোক, এটাই হলো জীবনের মান বোঝার উপযুক্ত পরিকল্পনা। কোনো বাঁধাতেই জীবনকে কোনো এক নির্দিষ্ট আঙ্গিকে আটকে রাখতে হয় না। মুভ অন হতে হয়। যেটা চাওয়া হয় সেটা না পেলে খুশি হয় না মন। তাই বলে হতাশায় যেন মন আচ্ছাদিত না হয় তাই ঐ ছেলের মতো বলতে হবে আমি যা পেয়েছি বা শিখেছি তাতেই আমি খুশি। চেষ্টা তো সবাই করেছে।

অসংখ্য স্টুডেন্ট এখন মেন্টালি রেডি। ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টের সংখ্যা বেশি। এমনকি আমার বেসমেন্টে থাকা স্টুডেন্টদের সবার হয়তো হচ্ছে না। তাতে তারা মোটেও বিচলিত না। বরং বলেছে, আমরা দেশে ফিরে যাব। পিআর হলেও থাকতাম না। তারা রেডি টু গো ব্যাক টু দ্যা কান্ট্রি। আমি বলব, সবাই ব্যাকে না, সামনে এগিয়ে যেতে হবে। হয়তো সামনের কিছু জীবনের জন্য আরো ভালো, আরো মসৃণ হবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ আপনাদের সুস্থ রাখুন।
কাজী হালিমা আফরীন
টরন্টো, কানাডা।

‘স্বপ্নের’ নির্দেশে দাফনের ৭ দিন পর বাবার কবরের পাশে ভাইকে ফের দাফন!

স্বপ্নে মৃত বাবার দেওয়া নির্দেশে এলাকার কবরস্থানে দাফন করা ভাইয়ের লাশ উত্তোলন করে বাবার কবরের পাশে আবারো কবরস্থ করলেন ভাই। সোমবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে এমন ঘটনা ঘটেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক সপ্তাহ আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন আবু আলী (৪০) নামের এক ব্যক্তি। পরে তাকে এনে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। দাফনের এক সপ্তাহ পর মৃত আবু আলীর ভাই মাহমুদ আলী তার ছেলেকে নিয়ে গোপনে লাশ উত্তোলন করে নিয়ে যান।

পরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ভোরে এলাকায় লাশ চুরির অপবাদ তোলেন। এ ঘটনার পর গ্রামের লোকজন খুঁজাখুঁজি করে মাহমুদ আলীর বাড়ির পাশ থেকে নতুন কবরের সন্ধান পান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ ময়মুরুব্বি এসে বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন।সিলেট পর্যটন প্যাকেজ

এ বিষয়ে মাহমুদ আলী বলেন, ভাই মারা যাওয়ার পর সবাই বলেন, বাবার কবরের পাশে নিয়ে দাফন করার জন্য। তবে আমি গ্রামের কবরস্থানে দাফন করি। পরে স্বপ্নে দেখি আমার আব্বা বলছেন, ভাইকে যেখানে দাফন করেছি সেখানে তিনি একা ভয় পাচ্ছেন। উনাকে ওই জায়গা থেকে সরিয়ে এনে বাবার কাছে কবরস্থ করতে বলেন। তাই লাশ তুলে স্থানান্তর করেছি।

শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জিয়া মো. মোস্তাফিজ বলেন, বিষয়টি ধর্মীয় তাই স্থানীয় আলেম ওলামাদের মাধ্যমে বর্তমানে যেখানে লাশ স্থানান্তর করা হয়েছে সেখানে রাখা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে গেলেন বিয়ানীবাজারের এম এ বাতিন আহমদ

ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথির মধ্যে বাংলাদেশীদের একজন হয়ে উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজারের সন্তান কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পাদক এম এ বাতিন আহমদ। তার বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপারা ইউনিয়নের দাসউরা গ্রামে।

গত ২০ জানুয়ারি সোমবার ২০২৫ ইং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।

ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি বাংলাদেশ এবং বিয়ানীবাজারের মানুষের জন্য সম্মানজনক বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশীরা।

এম এ বাতিন দীর্ঘদিন থেকে যুক্তরাষ্ট্র এ বসবাস করে আসছেন। দেশে থাকাকালী সময় ছাত্র রাজনীতি ও ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন।

তিনি বাংলাদেশ ছাত্রদল বিয়ানীবাজার বাজার রাখার যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন,পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় যুবদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন। রাজনিতির পাশাপাশি মানুষের জন্য তিনি কাজ করতে চান।

সিলেটে যাত্রীবেশে সর্বস্ব কেড়ে নিতে বেপরোয়া তারা

নিকটাত্মীয় এক রোগীকে দেখতে সিলেট মহানগরের পাঠানটুলা রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিএনজি অটোরিকশা যোগে যাচ্ছিলেন মা-মেয়ে। তারা নগরীর ব্যস্ততম এলাকা আম্বরখানা থেকে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। সিএনজি চলাকালে পথিমধ্যে আরও দুজন যাত্রী উঠেন। কিন্তু হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন মা-মেয়ে।জ্ঞান ফিরলে দেখেন স্বর্ণ ও সাথে থাকা টাকা কিছুই নেই। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে অটোরিকশাটি আটক করেন। পরে স্থানীয় জনতা যাত্রী বেশে উঠা একজন ও সিএনজি অটোরিকশা চালকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এসময় কৌশলে পালিয়ে যায় একজন।সিলেট পর্যটন প্যাকেজ

শুধু এই মা-মেয়েই নয়, দিনে-দুপরে সিলেট মহানগরে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইকারীরা আরও যেন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সর্বস্ব কেড়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠছে ছিনতাইকারীরা। সর্বশেষ গত সোমবার (২০ জানুয়ারি) পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় জব্দ করা হয়েছে দুটি সিএনজি অটোরিকশা।

ভুক্তভোগী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহানগরের টিলাগড়, শিবগঞ্জ, বন্দরবাজার, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, টুকেরবাজার, আম্বরখানাসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। মূলত দুপুর ও সন্ধ্যা নামার পর ছিনতাই আতঙ্ক বাড়ছে বেপরোয়া ছিনতাই চক্রের অপ-তৎপরতায়। ভুক্তভোগীরা প্রশ্ন তুলছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয়তা নিয়ে।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক সিলেটভিউ বলেন, ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। বেশীরভাগ সময়ে তারা যাত্রীবেশে সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে তারা। স্বর্ণ, টাকা, মোবাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ দাবি জিনিষ তাদের প্রধান লক্ষ। আমরা ছিনতাই রোধে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছি। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে।

সূত্র জানিয়েছে, সিলেটে সিএনজি অটোরিকশা দিয়ে ভয়ঙ্কর ফাঁদ পাতে ছিনতাইকারী চক্র। যাত্রীবেশে তারা অটোরিকশায় আগে থেকেই ওৎ পেতে বসে থাকে। সাধারণ যাত্রী তার গন্তব্যে যাওয়ার জন্য অটোরিকশায় উঠলেই সুবিধা মতো জায়গায় নিয়ে ওই যাত্রীর সর্বস্ব কেড়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। ভয়ঙ্কর এ চক্র কতিপয় অটোরিকশা চালকের সঙ্গে আঁতাত করে এমন অপকর্ম ঘটাচ্ছে নগরী ও শহরতলিতে।

এদিকে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ২০ জানুয়ারি রাতে মহানগরীর দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪ ছিনতাইকারীকেস গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার রাতে মিরাবাজার এলাকায় ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে একটি চক্র। এসময় তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শাহপরান থানার বালুরচ এলাকার কাদির মিয়ার ছেলে বিল্লাল আহমদ এবং জালালাবাদ থানার টুকেরবাজার ভাইয়ারপাড় গ্রামের নূর মিয়ার ছেলে আক্তার আহমদ। এসময় তাদের ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়।

একই রাতে পাঠানটুলা এলাকায় ছিনতাই করতে সময় আরো ২ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হচ্ছে, মোগলাবাজার থানার পশ্চিমপাড়ার হাসামপুর গ্রামের মো. ছিদ্দিক আলীর ছেলৈ মো. হামিদুর রহমান এবং নগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোড এলাকার মৃত আজমল হোসেনের ছেলে আজহার। ছিনতাইকাজে তাদের ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করে পুলিশ। তাদেরকে মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

এরআগে ১২ ডিসেম্বর ছিনতাই অভিযোগে মহানগরের কিং ব্রিজ এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। এসময় তাদের কাছে থেকে ছিনতাইকৃত টাকা ও মালামাল উদ্ধার করা হয়।

এদিকে গত নভেম্বর মাসে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধকান্ড নিয়ন্ত্রণে ‘হোন্ডা টহল ডিউটি’ নামে বিশেষ একটি টিম গঠন করে সিলেট মহানগর পুলিশ। রাতে ও দিনে মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকা টহল দেন এই টিমের সদস্যরা।

অপরদিকে সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বলছেন, মানুষের মধ্যে একটা ভুল ধারণা তৈরী হয়েছে চালকরা এসবের সাথে জড়িত। কিন্তু তা সত্য নয়। অনেক সময় যাত্রীবেশে এই কাজ তারা করছে। আবার কেউ কেউ মালিকদের বেশী ভাড়া দিবেন বলে গাড়ি নিয়ে ভাসমানভাবে যাত্রী তুলে এসব অপর্কম করে যাচ্ছে। আমরা সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি অনুসন্ধান করছি। ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করে পুলিশের হাতে সোর্পদ করেছি।

চালকদের গাড়ি দেওয়ার আগে তাদের এনআইডিসহ সব যাচাই-বাছাই করে দিতে সকল মালিকদের আহবান জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

সিলেটে আবাসিক হোটেলে অ’সা’মা’জিকতা : ৭ যুবক-যুবতী গ্রে’ফ’তার

দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের অভিযানে অ’সা’মাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অপরাধে ৭ যুবক-যুবতীকে গ্রে’ফ’তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১টার দিকে নগরীর দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বর এলাকায় ঢাকা প্যালেস আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রে’ফ’তার করা হয়।

গ্রে’ফতা’রকৃত যুবকরা হলেন, সিলেটের শাহপরাণ (রহ:) থানার দত্তগ্রাম এলাকার সেলিম আহমদের ছেলে জিবান আহমদ (২২), মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানার নোয়াগাঁও এলাকার আজর আলীর ছেলে রুহুল আমিন (২৪), সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার বাঘরখলা এলাকার সিরাজ উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলাম পাপ্পু (২৪), ব্রাক্ষণবাড়ীয়া জেলার আখাউড়া থানার টানপাড়া এলাকার মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে স্বপন মিয়া (৪৫)।

গ্রে’ফ’তার’কৃত যুবতীরা হলেন, সিলেটের শাহপরাণ(রহ:) থানার বেলগ্রাম এলাকার ইমন চৌধুরীর মেয়ে এনি বেগম (১৯), সিলেটের বালাগঞ্জ থানার মইশাসি এলাকার মিজানুর রহমানের মেয়ে মেহের জাবিন নামিয়া (১৯), সিলেটের শাহপরাণ(রহ:) থানার মুরাদপুর এলাকার সাহাব উদ্দিনের মেয়ে নিপা আক্তার তানিয়া (১৯)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মোঃ মিজানুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ সুরমা থানার নন এফআইআর নং-১৬, তারিখ- ২১/০১/২০২৫ খ্রিঃ, এস.এম.পিএ্যাক্ট-৭৭/১০৪ ধারা মোতাবেক প্রসিকিউশন দাখিল করে বিধি মোতাবেক আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।