Sunday, April 19, 2026
Home Blog Page 85

কানাডায় ওয়ার্ক পারমিটের নতুন নিয়ম, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক সংস্থা (আইআরসিসি) গত ১ নভেম্বর থেকে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের (পিজিডব্লিউপি) সংশোধিত নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে। এই নিয়মে বিদেশি শিক্ষার্থী, বিশেষ করে কলেজ স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।

নতুন এই নিয়মে পড়াশোনা শেষে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কানাডার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি, বাড়ি ভাড়াসহ জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় কানাডার সরকার একের পর এক অভিবাসন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন।

দ্য টরন্টো স্টারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ১ লাখ ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭০০০ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নির্ধারিত ক্ষেত্রের বাইরে পড়াশোনা করলে নতুন নিয়মের অধীনে যোগ্যতা অর্জন করবে না।

প্রসঙ্গত, এক লাখ ৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে কলেজ প্রোগ্রামের স্নাতকদের ৬৪ শতাংশ এই সুযোগ পেয়েছেন। শুধু বিজনেস স্টাডিজের ৪২ শতাংশ স্নাতক এই সুযোগ পেয়েছেন ৪২ শতাংশ আর স্টেমের সবগুলো ক্ষেত্র থেকে এই সুযোগ পেয়েছেন ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। এবার নতুন নিয়মের আওতায় এই স্নাতকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, বিশেষ করে যারা বিজনেস স্টাডিজ ও তালিকার বাইরে থাকা ক্ষেত্রগুলোতে পড়াশোনা করছেন, তারা ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে না।

যেসব শিক্ষার্থী ১ নভেম্বরের আগে স্টাডি পারমিটের জন্য আবেদন করেছেন বা পেয়েছেন, তারা বিদ্যমান নিয়মের অধীনে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য হবেন। আর যারা এই সময়ের সময়ে বা তার পরে আবেদন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। নতুন এই নিয়মে কলেজ ও নন-ডিগ্রি প্রোগ্রাম থেকে স্নাতকদের জন্য সুযোগ থাকবে।

কানাডা সরকারের আইআরসিসি নিশ্চিত করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ডিগ্রিধারীরা পড়াশোনার ক্ষেত্রের ওপর ভিত্তি করে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই তিন বছর পর্যন্ত পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য থাকবেন। আর কলেজ স্নাতকদের জন্য কিছু প্রোগ্রামে নতুন নিয়মের অধীনে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

আইআরসিসি নির্ধারিত ৯৬৬টি প্রোগ্রাম তালিকাভুক্ত করেছে। এর মধ্যে কৃষি ও কৃষিখাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স (স্টেম), স্কিলড ট্রেড এবং ট্রান্সপোর্টেশন—এই পাঁচ বিষয় তালিকাভুক্ত প্রোগ্রামগুলোকে কভার করবে।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ঐতিহ্যগতভাবে জনপ্রিয় ক্ষেত্র যেমন ট্যুরিজম, হসপিটালিটি ও বিজনেস স্টাডিজ বিষয়গুলো এই তালিকায় রাখা হয়নি। এতে কানাডায় কাজের সুযোগ খুঁজছেন, এমন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্যতা সীমিত করার সিদ্ধান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বিদেশি শিক্ষার্থী, যারা এখন পড়াশোনার বিষয়গত কারণে অযোগ্য বলে বিবেচিত, তারা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের মধ্যে আছেন।

সিলেটে এক ঘন্টার ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তার ও কিশোরের মৃত্যু

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের গ্যাসফিল্ড ১০নং কূপের সামনে বাঘেরসড়ক সংলগ্ন স্থানে গেইটলক সিটিং সার্ভিস বাস ও মোটরসাইলের সংঘর্ষে সাইকেলআরোহীর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৩ই নভেম্বর ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বাঘের সড়কসংলগ্ন স্থানে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড ১০নং কূপের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।সিলেটের রেস্তোরাঁ

নিহত সাদিকুর রহমান (৪২) বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কানাইঘাট শাখার কর্মকর্তা ও জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের ঠাকুরের মাঠি গ্রামের মৃত হাজী রমজান আলীর ছেলে ।

স্থানীয় জানা যায়, সাদিকুর রহমান তার মোটরসাইকেল (সিলেট-হ-১৫-০০৫৪) নিয়ে চিকনাগুল নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে ১০নং গ্যাস কূপের সামনে আসলে জাফলংগামী পান্না এন্টার প্রাইজ গেইটলক সিটিং সার্ভিস বাসের (সিলেট মেট্রে- ব-১১-০০০৩) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই সাদিক মারা যান।

মোটরসাইকেলে সাদিকুর রহমানের সঙ্গে থাকা আরোহী আহত হয়েছেন এ দুর্ঘটনায়।
সিলেটে এক ঘন্টার ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তার ও কিশোরের মৃত্যু
আরেকটি দুর্ঘটনা সিলেটের এয়াপোর্ট সড়কে একসঙ্গে ৩ গাড়ির সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক এক কিশোর নিহত হয়েছে। বুধবার (১৩ নভেম্বর) রাত মালনিছড়া চা বাগানের সামনে এয়ারপোর্ট সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সিলেটের রেস্তোরাঁ

নিহত তানজিল করিম (১৮) সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কুচাই গ্রামের রেজাউল করিম রাজনের ছেলে।সিলেটের রেস্তোরাঁ

এ দুর্ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, মোটরসাইকেল চালিয়ে এয়ারপোর্টের দিকে যাচ্ছিলেন তানজিল করিম। মালনিছড়া চা বাগানের সামনে তার পাশাপাশি চলছিলো একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এসময় বিপরীত দিক থেকে একটি ট্রাকের সঙ্গে প্রথমে মোটরসাইকেলের এবং পরে অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকের চাকার নিচে পড়ে যান তানজিল এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এ দুর্ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আনিসুর রহমান সিলেটভিউ-কে বলেন- আরিফ নামের ট্রাকচালককে আটক করা হয়েছে। ট্রাক, অটোকিরশা ও মোটরসাইকেল আমাদের হেফাজতে রয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ইতালির সড়কে ঝরলো সিলেটের নাঈমের স্বপ্ন

সংসারের হাল ধরতে প্রায় ৪ মাস আগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পাড়ি জমিয়েছিলেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মিসপাউর রহমান নাঈম (২২) নামে এক যুবক। ইতালি পৌছার মাত্র ৪ মাসের মাথায় স্বপ্নবাজ তরুণ নাঈমের মৃত্যুর সংবাদ পেল তার পরিবার।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাঈমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহত নাঈমের স্বজনরা। এর আগে ইতালির ট্রাইসেস স্পেসিয়া প্রাদেশিক সড়কে এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান উপজেলার ৭নং করগাঁও ইউনিয়নের মিল্লিক গ্রামের সাঈদুর মিয়ার পুত্র মিসপাউর রহমান নাঈম।

জানা যায়, ওই সময় নাঈম স্কুটারযোগে কাজে যাচ্ছিলো। ট্রাইসেস স্পেসিয়া প্রাদেশিক সড়ক লুকুগনানো ক্রীড়া মাঠের কাছে পৌছামাত্র একটি কারের ধাক্কায় একটি বাইসাইকেল ও স্কুটার আরোহী নাঈমসহ দুই বাংলাদেশী তরুণ ছিটকে পড়েন।

মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মিসপাউর রহমান নাঈম (২২) মৃত্যুবরণ করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর যুবককে ট্রাইকেস পানিকো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাৎক্ষণিক ঘাতক গাড়ি চালককে আটক করে তার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

নাঈমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার চাচা মশিউর রহমান টিটু জানান, প্রায় ৪ মাস আগে নাঈম ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌছায়। ইতালিতে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় সে মারা গেছে। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি আমার ভাতিজার লাশ যাতে বাড়িতে এনে দাফন করতে পারি। দুই ভাইয়ের মধ্যে নাঈম সবার ছোট। পরিবারকে ভালো রাখার জন্য গিয়েছিল ইতালি।

কানাডার সড়কে কুলাউড়া লেখা নাম্বার প্লেটের গাড়ি!

কানাডার মতো উন্নত দেশের শহরে দেখা মিললো কুলাউড়া লেখা নাম্বার প্লেটের গাড়ি।

কুলাউড়ার নাম কানাডায় ছড়িয়ে দেয়ার চিন্তা থেকেই শখ করে সারোয়ার হোসেন চৌধুরী মুন্নার প্রায় ৩ লক্ষ টাকা খরচ করে নিজ গাড়ির নাম্বার প্লেটে নিজ উপজেলা কুলাউড়ার নাম জুড়ে দিয়েছেন।

সারোয়ার হোসেন চৌধুরী মুন্না কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের চৌধুরী বাজার এলাকার আব্দুস শহিদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি বিগত ১ বছর আগে কানাডায় পাড়ি জমান।

কানাডা প্রবাসী তানিম ইকবাল চৌধুরী জানান, কানাডার বুকে কুলাউড়াকে ভালোবেসে মুন্না প্রায় ৩ লক্ষ টাকা কানাডা সরকারকে প্রদান করে গাড়ির নাম্বার প্লেট হিসেবে কুলাউড়া লিখিয়েছে। গাড়িতে নাম্বার প্লেট হিসেবে কুলাউড়া দেখে কানাডায় অবস্থানরত কুলাউড়ার সকল মানুষের কাছে আলাদা একটি আবেগ কাজ করছে নিজ উপজেলার প্রতি।

কঠোর হচ্ছে ব্রিটেন, বিপাকে বাংলাদেশিরাও

ক্ষমতায় আসার পর থেকে লেবার পার্টির সরকার অবৈধ মাইগ্রেশনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এবার হোম সেক্রেটারি ইভেট কুপার জানালেন, যেসব অভিবাসী ডিপোর্টেশন এড়াতে তাদের পাসপোর্ট ফেলে দেয় তাদের ব্যাপারে অন্য যে কোনো সময়ের চাইতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে জানান, হোম অফিস অ্যাসাইলাম আবেদনগুলোর ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে একটি ফার্স্ট ট্র্যাক সিস্টেম তৈরি করতে চাইছে।

এ ছাড়া সরকার আরও একটি নতুন স্কিমের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে। এর আওতায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে যেসব অভিবাসী আসবে তাদের মাইগ্রেশন প্রসেসিং আলবেনিয়ায় সম্পন্ন করা হবে। এই ডিলের অধীনে বছরে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষের অ্যাসাইলাম ক্লেইম মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

ধারণা করা হয়, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আসা বেশির ভাগ অভিবাসী কথিত সেফ কান্ট্রি থেকে আসে। অ্যাসাইলাম প্রসেসিংয়ে সফল হলে এসব অভিবাসীকে ইতালিতে থাকার সুযোগ থাকবে। ব্যর্থ হলে আলবেনিয়া থেকেই নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। জানা গেছে, আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানা থেকে ৪৫ মাইল দূরে শিনজেন পোর্টে অভিবাসীদের রেখে তাদের এই মাইগ্রেশন প্রসেসিং করা হবে।

জানা গেছে, মিসর, বাংলাদেশ, আইভরি কোস্ট এবং তিউনিসিয়াসহ আরও কিছু নিরাপদ দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অভিবাসী ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আসে।

নিরাপদ দেশ থেকে আসায় বিপুল পরিমাণ অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ব্রিটিশ সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিলেও ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে অভিবাসীদের আসা অব্যাহত রয়েছে। এই বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২ হাজার মানুষ ছোট নৌকায় চ্যানেল পার হয়েছেন। নতুন সরকার ক্রসিংয়ের সংখ্যা কমাতে নাটকীয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে চাইছে।

হোম সেক্রেটারি মিসেস কুপার বিবিসিকে বলেন, ইতালি-আলবেনিয়ায় একটি নতুন সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। ফার্স্ট ট্রাক সিস্টেমের মাধ্যমে অ্যাসাইলাম আবেদন দ্রুত নিষ্পন্ন করা হবে। আবেদনে ব্যর্থ হওয়া অভিবাসীদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এই সামারে মামলায় ব্যর্থ হয়ে ডিপোর্টেশনে যাওয়ার হার ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাসপোর্ট ফেলে দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, মানুষকে শুধু পাসপোর্ট নয় আরও অনেক বিষয় দেখে ন্যাশনালিটি চিহ্নিত করা যায়। আমরাও এসব সিস্টেম ব্যবহার করে অভিবাসীদের শনাক্ত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠাব।

মুনতাহার হাতে থাকা আপেলটিও খেতে দেয়নি তারা

ছয় বছরের শিশু মুনতাহা আক্তার জেরিন। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন তারই সাবেক গৃহশিক্ষিকা শামীমা বেগম মার্জিয়া (২৫)। মুনতাহার মরদেহ উদ্ধারের পর ঘাতক মার্জিয়ার ঘর মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ঘরের জিনিসপত্র এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

তবে সবার নজর তাদের ঘরের পাশে মরদেহ গুমের পার্শ্ববর্তী স্থানে পড়ে থাকা একটি আপেলকে কেন্দ্র করে। পুকুরের পাড়ে পড়ে থাকা আপেলের দিকে তাকিয়ে অনেকে আফসোস করছিলেন আর মুনতাহাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছিলেন।

সোমবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বীরদল ভাড়ারীফৌদ গ্রামে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। গত ৩ নভেম্বর নির্মমভাবে খুন করা হয় শিশু মুনতাহাকে। সে কানাইঘাট থানার বীরদল ভাড়ারীফৌদ গ্রামের শামীম আহমদের মেয়ে।

মুনতাহাকে হত্যার পর প্রায় ১ সপ্তাহ মরদেহ গুম করে রেখেছিল ঘাতকরা। এরপর রোববার (১০ নভেম্বর) ভোররাতে মুনতাহার বাড়ি থেকে মাত্র ১০ গজের মধ্যে পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার হলে তোলপাড় শুরু হয় দেশজুড়ে।সিলেটের রেস্তোরাঁ

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নিখোঁজ হওয়ার আগে বাবা শামীম আহমদের সঙ্গে শেষবারের মতো গ্রামের একটি ওয়াজ মাহফিলে গিয়েছিল শিশু মুনতাহা। জোহরের ওয়াক্ত হওয়ায় মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফিরে আসেন শামীম আহমদ। বাসায় মেয়েকে রেখে তিনি চলে যান মসজিদে। পরে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দুটি সবুজ রঙয়ের আপেল হাতে নিয়ে বের হয়েছিল মুনতাহা। এরপর থেকেই আর তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। শেষমেষ মরদেহ উদ্ধারের পর ঘাতক মার্জিয়ার ঘর ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেন স্থানীয়রা।

মুনতাহার কথা বলতে গিয়ে প্রতিবেশী আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, মুনতাহার স্মৃতি আমার চোখ থেকে সরছে না। সে প্রতিদিনই আমার বাসায় আসতো। আমার নাতি ছিলো তার খেলার সাথী। সে অনেক মিষ্টি কথা বলতো। অনেক মায়াবী একজন মানুষকে এভাবে কেউ মেরে ফেলবে এইটা আমি কল্পনা করতে পারিনি। মেয়েটা দুইটা আপেল খাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়েছিল। একটি আপেলে কিছুটা অংশ খেয়েছিল। আরেকটা আপেল আস্ত ছিল। দুইটি আপেলই ঘাতকদের ঘরে ছিল। এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আমার বাড়ির পুকুরে মরদেহ ফেলার পাঁয়তারা করেছিল ঘাতকরা। আল্লাহর মেহেরবানিতে খুনি মরদেহসহ গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়ে। আমি এই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি চাই।

মুনতাহার বাবা শামীম আহমদ বলেন, আমি এক হতভাগ্য বাবা। আমার মেয়েকে এভাবে মেরে ফেলবে এইটা আমার চিন্তায় আসেনি। যে মেয়েটি মুনতাহাকে খুন করেছে সে মুনতাহাকে কয়েকমাস পড়িয়েছিল। সে যে এই রকম করবে এইটা জানতাম না। আমার মেয়েটা আপেল নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছিল। সেইটাও আমার মেয়ে খেতে পারেনি।

মুনতাহার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আমার মেয়েটা অনেক আদরের ছিল। সে মোবাইলে ইউটিউব, হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহার করতো। আমার বিদেশে থাকা ছেলেদের ভয়েস মেসেজ পাঠাতো, কল দিত। প্রায়ই সে আমার কাছে আবদার করে বলতো বাবা আমাকে ৫ টাকা দাও, নাহলে মোবাইল দাও। আজ আমার মেয়েটা আর দুনিয়াতে নাই। আমি আমার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার দেশবাসীর কাছে দিলাম। তারা যেটি ভাললো মনে করবেন আমি সেটির ওপর বিশ্বাস রাখব। তারা যে বিচার চাইবেন সেটি আমারও চাওয়া থাকবে। আমার মেয়েকে আমি জন্ম দিয়েছি ঠিক, কিন্তু যেভাবে সারাদেশের মানুষ আমার মেয়ের জন্য কেঁদেছেন তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।

প্রসঙ্গত, গত ৩ নভেম্বর সকালে বাবার সঙ্গে স্থানীয় একটি ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফেরে শিশু মুনতাহা। দুপুরের দিকে বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে যায়। কিন্তু বিকেলে বাড়ি না ফিরলে তার পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও তাকে পাননি। পরবর্তীতে গত শনিবার (৯ নভেম্বর) কানাইঘাট থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ মামলা করা হয়। এরপর রোববার ভোররাতে বাড়ির পাশে খাল থেকে মুনতাহার মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ সেটাকে হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে চারজনকে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- কানাইঘাট থানার বীরদল ভাড়ারীফৌদ গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার স্ত্রী আলিফজান (৫৫) ও মেয়ে শামীমা বেগম মার্জিয়া (২৫), একই এলাকায় ইসলাম উদ্দিন (৪০) ও নাজমা বেগম (৩৫)। সোমবার (১১ নভেম্বর) তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

কানাডার ভিজিটর ভিসা নীতি বদলে গেল

২০২৪ সালের নভেম্বরে কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস এবং সিটিজেনশিপ (IRCC) ভিজিটর ভিসা প্রদান নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। আগের তুলনায় এবার মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হবে না। এর পরিবর্তে আবেদনকারীর প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে, ভিসা প্রদান করা হবে। এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো আরও সুনির্দিষ্ট এবং কাস্টমাইজড নীতিমালা তৈরি করা, যা ভ্রমণকারীর উদ্দেশ্য এবং আর্থিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। আসুন জেনে নিই, এই নতুন নীতির বিশদ বিবরণ।

মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসার মূল ধারণা:
কানাডার মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রযোজ্য থাকে এবং এই ভিসা থাকলে একজন ভ্রমণকারী সেই সময়ে একাধিকবার কানাডায় প্রবেশ করতে পারেন। এটি সাধারণত ১০ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে, অথবা পাসপোর্ট বা বায়োমেট্রিক তথ্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর্যন্ত কার্যকর থাকে। তবে, নতুন নীতির অধীনে ভিসা কর্মকর্তারা নির্ধারণ করবেন, আদৌ মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হবে কিনা।

মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসার পরিবর্তন:
আগের নিয়ম অনুযায়ী, যদি একজন ভ্রমণকারীর ভিসা অনুমোদিত হতো তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাল্টিপল-এন্ট্রি হিসেবে অনুমোদিত হতো। এখন থেকে মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা পেতে হলে আবেদনকারীর প্রয়োজন, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং আর্থিক সামর্থ্য যাচাই করা হবে।

ভ্রমণের উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীলতা:
নতুন নীতিতে ভিসা প্রদান প্রক্রিয়ায় ভ্রমণের উদ্দেশ্য বড় ভূমিকা পালন করবে। ভিসা কর্মকর্তারা ভ্রমণের উদ্দেশ্য দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন, একক-প্রবেশ (সিঙ্গেল এন্ট্রি) বা মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা প্রয়োজন কিনা।

যদি ভ্রমণটি একটি নির্দিষ্ট ইভেন্টের জন্য হয়, যেমন কনফারেন্স, প্রশিক্ষণ, বা অন্য কোনও এককালীন কার্যক্রম, তবে একক-প্রবেশ ভিসা প্রদান করা হতে পারে। এটি মূলত স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণকারীদের জন্য প্রযোজ্য, যারা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কানাডা ত্যাগ করবেন।

যারা নিয়মিত কানাডা ভ্রমণ করেন, যেমন পরিবারের সাথে দেখা করতে বা ব্যবসার কাজে যান, তারা মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসার জন্য বিবেচিত হতে পারেন। তবে, এটি আর আগের মতো স্বয়ংক্রিয় নয়, এবং নিয়মিত ভ্রমণের প্রমাণ থাকতে হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আর্থিক স্থিতিশীলতা ভিসা অনুমোদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আবেদনকারীর আর্থিক স্থিতি নিশ্চিত করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে।

আবেদনকারীর নিজস্ব অর্থায়নের প্রমাণ থাকতে হবে, যাতে বারংবার ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়া যায়। যদি পরিবারের কোনো সদস্য কানাডায় অবস্থান করে এবং ভ্রমণের খরচ বহন করতে ইচ্ছুক হন, তবে তাদের মধ্যে সম্পর্কের প্রমাণ এবং ওই ব্যক্তির আর্থিক সামর্থ্য নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে, নিয়োগকর্তার কাছ থেকে ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং অর্থায়নের প্রমাণ হিসেবে একটি চিঠি থাকা প্রয়োজন।

এছাড়াও, কানাডায় ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কিছু বিষয় বিবেচনা করা হয়, যা ভিসা অনুমোদনে সাহায্য করে।

যদি আবেদনকারীর নিজ দেশে একটি স্থায়ী চাকরি বা পরিবার থাকে, তবে তা মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসার অনুমোদনে সহায়ক হতে পারে। এটি প্রমাণ করে যে আবেদনকারী কানাডায় অবস্থানের চেয়ে নিজ দেশেই থাকতে বেশি ইচ্ছুক।

আগে ভ্রমণকারীরা ভিসা শর্তাবলী মেনে চলেছেন কিনা এবং কোনো ভিসা প্রত্যাখ্যানের ইতিহাস আছে কিনা তা যাচাই করা হবে।

যদি আবেদনকারীর নিজ দেশে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়, তবে তার জন্য ভিসার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়া হতে পারে।

২০২৪ সালের এই পরিবর্তনগুলো কানাডার ভিসা নীতির আরও কঠোর এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে। আগের তুলনায় এখন আবেদনকারীর ভিসা অনুমোদনের জন্য আরও বেশি প্রমাণ এবং তথ্য প্রদান করতে হবে। নতুন নীতি অনুযায়ী, আবেদনকারীকে তার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, আর্থিক স্থিতি এবং দেশের সাথে সম্পর্ক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

১৪ দেশের শিক্ষার্থীদের দুঃসংবাদ দিল কানাডা

আবাসন ও সম্পদ সংকট দেখিয়ে ১৪ দেশের শিক্ষার্থীদের বিশেষ ভিসা কর্মসূচি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা।

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) এই স্কিম বন্ধ করার কথা জানিয়েছে দেশটির সরকার। খবর এনডিটিভির।

ভারত, পাকিস্তান, এন্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, ব্রাজিল, চীন, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, মরক্কো, পেরু, ফিলিপাইন, সেনেগাল, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড গ্রানাডা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো ও ভিয়েতনামের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ভিসা কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে কানাডা।

২০১৮ সালে এসব দেশের শিক্ষার্থীদের সহজ এবং দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য স্টুডেন্ট ডিরেক্ট স্ট্রিম ভিসা প্রোগ্রাম চালু করা হয়।

কানাডা সরকারের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আবাসন ও সম্পদের সংকটের কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সব দেশের শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ দেওয়ায় বিশ্বাসী বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম কানাডা। প্রায় সব মৌসুমে কানাডাতে শিক্ষা অর্জনে যাওয়ার হিড়িক থাকে দেশের বাইরে পড়ালেখা করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের।

এসব শিক্ষার্থীদের বাড়তি সুবিধা দিতে নানা উদ্যোও গ্রহণ করে থাকে কানাডা। তবে এবার শিক্ষার্থীদের বিশেষ ভিসা কর্মসূচি বন্ধের ঘোষণা দিল ট্রুডো সরকার।

সিলেটে নিখোঁজের ৭ দিন পর সেই মুনতাহার লাশ মিললো পুকুরে

নিখোঁজের ৭ দিন পর সিলেটের কানাইঘাট থেকে শিশু মুনতাহা আক্তার জেরিনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ শিশুটির প্রতিবেশী মা ও মেয়েকে আটক করেছে। রবিবার (১০ নভেম্বর) ভোরে নিজ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় তার নিথর মরদেহ পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের গলায় রশি পেঁচানো ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আওয়াল। তিনি জানান, রবিবার ভোর ৪টার দিকে মুনতাহার নিজ বাড়ির পুকুরে তার নিথর দেহের সন্ধান পাওয়া যায়। তার গলায় রশি পেঁচানো ছিল। শরীরে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। লাশ দেখে বোঝা যাচ্ছে তাকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরেই নিখোঁজ শিশুটির সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পেজে পোস্ট দেওয়া হয়। গত ৩ নভেম্বর বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু মুনতাহা। এরপর তার সন্ধান চেয়ে সন্ধানদাতাকে কয়েকজন প্রবাসী লক্ষাধিক টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।

মুনতাহার বাবার দাবি, তাকে (মুনতাহা) পরিকল্পিতভাবে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় কানাইঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।

গত ৩ নভেম্বর সকালে বাবার সঙ্গে স্থানীয় একটি ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফিরে শিশু মুনতাহা। পরে আশপাশের বাড়িতে শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে যায়। কিন্তু বিকালে বাড়ি না ফিরলে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। তারপর তাকে আর কোথাও পাওয়া যায়নি।

মুনতাহা আক্তার জেরিন কানাইঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের বীরদল গ্রামের ভাড়ারিফৌদ গ্রামের শামীম আহমদের মেয়ে।

ব্রিটেনে নতুন ভিসা সিস্টেমের পরিকল্পনা, হতাশ লাখো বাংলাদেশি

ব্রিটেনে লেবার সরকার ক্ষমতায় এলে অভিবাসনের পথ সহজ হবে, এমনটাই আশা ছিল অভিবাসী কমিউনিটিতে। লেবার অপেক্ষাকৃত অভিবাসীবান্ধব, দীর্ঘদিনের এই ধারণাটিকে ভুল প্রমাণ করে অভিবাসীদের জন্য দেশটিতে রীতিমতো নতুন ভিসা সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এতে দেশটিতে থাকা বৈধ কাগজপত্রবিহীন অসংখ্য বাংলাদেশিদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে।

জানা গেছে, এরম‌ধ্যেই অভিবাসীদের পরিবারের সদস্যরা কম সংখ্যায় যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ করছেন। কেননা, ইস্যুকৃত ভিসার সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশের বেশি কমে গেছে। একজন ছাত্র বা অভিবাসী কর্মী হিসেবে ভিসা পাওয়া এখন অতী‌তের ম‌তো সহজ নয়।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর দক্ষ অভিবাসী কর্মীদের ভিসা দেওয়া কমিয়ে দিয়েছে সরকার। গত বছর দক্ষ শিল্প শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০, যা চলতি বছর কমে ২ লাখ ৬২ হাজারে নেমে এসেছে। যুক্তরাজ্যে আসা ডিপেন্ডেন্ট বা নির্ভরশীলদের সংখ্যাও প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অভিবাসী কর্মীদের নির্ভরশীল‌দের সংখ্যা নেমে গেছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৯০০ তে।

একটি নতুন কর্মসংস্থান আইন ও বিদেশি শ্রমিকদের বিষয়ে দেওয়া বক্ত‌ব্যে ব্যবসার মালিকদের বিদেশি অভিবাসী শ্রমি‌কের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরামর্শ দিয়ে‌ছেন ব্রিটে‌নের রাজা চার্লস। এর পরিবর্তে স্থানীয় নাগরিকদের চাকরিতে প্রবেশাধিকার দিতে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নকে স্থানীয় শ্রম ব্যবস্থার অংশ করার বিষয়ে জোর দেওয়ার সুপা‌রিশ করেছে সরকার।

রাজার নির্দেশনা মতো নতুন নিয়মের অনুমোদন দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

যুক্তরাজ্যে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের বার্ষিক বেতনসীমা বাড়‌ছে। এমন প‌রি‌স্থি‌তি‌তে ব্রিটে‌নে বসবাসের আশায় ক‌রোনা মহামারীর পর বি‌ভিন্ন দেশ থে‌কে আসা ক‌য়েক লাখ অ‌ভিবাসীর জী‌বনে বড় ধর‌নের অনিশ্চয়তা নে‌মে আস‌তে পা‌রে। এসব অভিবাসীর মধ্যে কয়েক লাখই বাংলাদেশি।

প্রথম আ‌লোর যুক্তরাজ‌্য প্রতি‌নি‌ধি ও ইউকে বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম ব‌লেন, ‘ব্রিটে‌নের ইতিহাসে লেবার পা‌র্টি বরাবরই অভিবাসী‌দের প্রতি সহানুভু‌তিশীল ছিল। তবে এখন ই‌মি‌গ্রেশন নি‌য়ে শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ‌দের সম‌র্থিত দল কনজার‌ভে‌টিভ পা‌র্টির সঙ্গে বাম ঘরানার লেবার পা‌র্টির দেওয়া প্রতিশ্রু‌তি ছিল কার্যত একই। তারই বাস্তবায়ন এখন আমরা দেখ‌ছি।’

উ‌ল্লেখ‌্য বহু বছর ধ‌রে বসবাস ও কাজের বৈধতা ছাড়াই ব্রিটে‌নে পাঁচ লক্ষা‌ধিক মানুষ আনডকুমেন্টেড অবস্থায় বসবাস করছেন।

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ব‌রিস জনসন লন্ডনের মেয়র থাকাকালীন ২০০৮ সালে কয়েক দফায় ব্রিটেনে বৈধ কাগজপত্র বিহীন অবস্থায় বসবাসরতদের বৈধতা দেবার আশ্বাস দেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দা‌য়িত্ব নেবার পরও সে প্রতিশ্রু‌তি পুর্নঃব‌্যক্ত করে‌ছিলেন তি‌নি। তখন বরিস বলে‌ছি‌লেন, তার সরকার ব্রিটে‌নে অ‌বৈধ অভিবাসী‌দের বৈধতা দিতে দ্রুত পথ খুজ‌ঁবে। তবে সে ল‌ক্ষ্যে কার্যত কোনও পদ‌ক্ষেপই আর নেন‌নি ব‌রিস ও তার প‌রের তিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

স‌ঠিক প‌রিসংখ্যান না থাক‌লেও প্রায় লক্ষা‌ধিক বাংলা‌দেশি বৈধ কাগজপত্রবিহীনভা‌বে ব্রি‌টে‌নে বসবাস কর‌ছেন। ব্রে‌ক্সিট পরবর্তী প‌রি‌স্থি‌তি‌তে তা‌দের বৈধতা দেওয়ার আশ্বাস মি‌লে‌ছিল। তখন অ‌নে‌কে ধারণা ক‌রে‌ছি‌লেন, নতুন জনশ‌ক্তি না এ‌নে যারা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাস ও কাজ ক‌রছেন, তা‌দের বৈধতা দিলে দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে। ব্রি‌টিশ অর্থনীতির মূল ধারায় যুক্ত ক‌রে এ‌দের কাজ থে‌কে ট্যাক্স অর্জন কর‌তে পার‌ত সরকার।

এ বিষয়ে টাওয়ার হ‌্যাম‌লেটস কাউ‌ন্সি‌লের সা‌বেক ডেপু‌টি মেয়র অ‌হিদ আহমদ বাংলা‌ ট্রিবিউন‌কে ব‌লেন, ‘অ‌বৈধ অ‌ভিবাসী‌দের বৈধতা তো দু‌রের কথা, বরং প্রতি‌দিন সরকা‌রের তরফে অ‌ভিবাসনবি‌রোধী কড়াক‌ড়ি আ‌রো‌পের কথা বলা হ‌চ্ছে। কেয়ার ভিসাসহ বি‌ভিন্ন কা‌জের ভিসায় আসা হাজার হাজার মানুষ বেকার ও কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। সব মি‌লি‌য়ে গত এক দশ‌কের ম‌ধ্যে ব্রিটে‌নে সবচে‌য়ে বড় দুঃসময় পার কর‌ছেন ইমিগ্রান্টসহ সাধারণ মানুষ।