Sunday, April 19, 2026
Home Blog Page 87

ট্রাম্পের পোস্টের জবাব দিলেন রাষ্ট্রদূত মুশফিক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইট পোস্টের জবাব দিয়েছেন সদ্য রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী।

বাংলাদেশ সময় গতকাল শুক্রবার টুইটে মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্য, তা সংখ্যালঘুরা বিশ্বের যেখানেই হোন কিংবা যে ধর্মেরই। তবে প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে সঠিক তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। আজই সুইডেন-ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা @NetraNews একটি ফ্যাক্ট-চেক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, যা বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রচারিত তথ্যের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছে।

ওই পোস্টে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী নেত্র নিউজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের লিংক জুড়ে দেন। আক্রান্তদের যথাযথ সহায়তা প্রদান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় আলোচিত সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারীকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২১ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

সৌদি আরবে ৪ হাজার বছরের পুরোনো শহরের সন্ধান

আধুনিক সৌদি আরবের একটি মরুদ্যানে লুকানো ৪ হাজার বছরের পুরোনো শহরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সৌদি ও ফ্রান্সের একদল প্রত্নতাত্ত্বিকের যৌথ প্রচেষ্টায় সম্প্রতি আবিষ্কৃত শহরটির নাম রাখা হয়েছে আল-নাতাহ। এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম টিআরটি নিউজ এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার, প্রত্নতাত্ত্বিকরা এই লুকানো শহরটি খুঁজে পান। শহরটি দেখলে বোঝা যায়, তখনকার সময়ে কীভাবে মানুষ যাযাবর জীবন থেকে শহুরে বসবাস শুরু করে।

আল-নাতাহ নামের শহরটির অবশিষ্টাংশগুলো দীর্ঘকাল ধরে খায়বারের প্রাচীর ঘেরা মরূদ্যান দ্বারা লুকিয়ে ছিলো, যা আরব উপদ্বীপের উত্তর-পশ্চিমে মরুভূমি দ্বারা বেষ্টিত একটি সবুজি এলাকা।

সৌদি আরবে ৪ হাজার বছরের পুরোনো শহরের সন্ধান
সৌদি আরবে ৪ হাজার বছরের পুরোনো শহরের সন্ধান

প্রত্নতাত্ত্বিকের দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন ফ্রান্সের বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ গিলাম শালোঁ। আন্তর্জাতিক সাময়িকী পিএলওএস ওয়ানে তাদের গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিতও হয়েছে।

শহরটিতে একটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ, ব্রোঞ্জের তৈরি কুঠার ও ছোরা, তৈজসপত্র, চীনামাটির তৈরি পাত্র এবং মূল্যবান রত্নপাথর পাওয়া গেছে। ২ দশমিক ৬ হেক্টর আয়তনের আল-নাতাহকে ঘিরে রয়েছে ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি প্রাচীরের ধ্বংসাবশেষ। প্রাচীরটির বয়সও শহরটির সমান।

প্রায় ৫০০ বাড়িঘর পাওয়া গেছে আল-নাতাহে। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বলছে, পত্তনের এক হাজার বছর পর, অর্থাৎ যিশুখ্রিষ্টের জন্মের ১ হাজার ৪শ’ বছর আগে জনশূন্য হয়ে পড়ে আল নাতাহ।

কানাডার নায়াগ্রা জলপ্রপাত থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে লাফ দিলেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের এক নারী তার ছোট দুটি সন্তানকে নিয়ে কানাডার নায়াগ্রা জলপ্রপাত দেখতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে লাফ দিলেন তিনি। দুটি সন্তানের মধ্যে একটি শিশুর বয়স ৫ মাস ছিলো। শুক্রবার (১ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি নিউজ এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৩ বছর বয়সী ওই নারীর নাম চিয়ান্টি মানেস। তদন্তকারীদের একটি টিম তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তার দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে বিপজ্জনক সীমানায় গিয়ে অবস্থান নেন। তারপর হঠাৎ করে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে লাফ দেন।
কানাডার নায়াগ্রা জলপ্রপাত থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে লাফ দিলেন মা
চিয়্যান্টি মানেস, স্থানীয় সময় সোমবার রাতে, লুনা দ্বীপের গার্ডেলের ওপর বয়ে চলা জলপ্রপাতটির ২০০ ফুট উচ্চতা থেকে ঝাঁপ দেন। তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন ওই নারী ইচ্ছাকৃতভাবে ঝাঁপ দিয়েছেন। তবে বুধবার পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা তাদের মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি।

চিয়্যান্টি মানেস পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে পরামর্শ দিতেন। তার মৃত্যুতে তার বন্ধু কায়শাওনা মরগান সোশ্যালে লিখেছেন, এ ঘটনা শোনার পর আমি বাকরুদ্ধ হয়ে কাঁদছি। সারারাত ঘুমাতে পারিনি।

দুই সন্তানের মধ্যে আরেকটি সন্তানের বয়স ছিলো ৯ বছর। কেন তিনি শিশুদের নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন, সেই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে নিউ ইয়র্ক স্টেট পার্ক পুলিশ।

ব্রিটেনে ন্যূনতম মজুরি বাড়াল সরকার

সর্বনিম্ন মজুরির পরিমাণ বাড়িয়েছে ব্রিটিশ সরকার। আগামী বছরের এপ্রিল থেকে এই নতুন সর্বনিম্ন মজুরি কার্যকর হবে। ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী বা চ্যান্সেলর অব এক্সচেকার র‍্যাচেল রিভস আজ বুধবার এ ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটিশ সরকারের ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নতুন ঘোষণা অনুসারে, আগামী বছরের এপ্রিল থেকে ব্রিটেনে সর্বনিম্ন মজুরি আগের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ১২ দশমিক ২১ পাউন্ডে, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৯০০ টাকা। এর ফলে ব্রিটেনে কর্মীদের বছরে আয় বাড়বে প্রায় ১ হাজার ৪০০ পাউন্ড বা ২ লাখ ১৭ হাজার টাকার বেশি।

অর্থমন্ত্রী রিভস ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেছেন, এই পদক্ষেপ ব্রিটিশ কর্মীদের জন্য ‘বাস্তবিক জীবনযাত্রার মানসম্মত মজুরি’ প্রদানে লেবার পার্টির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেছেন যে, ব্রিটেনে ১৮–২০ বছর বয়সী যারা কাজ করেন তাঁদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১০ পাউন্ড বা ১ হাজার ৫৫০ টাকা।

ব্রিটিশ সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার এ বিষয়ে বলেছেন, ‘কোনো একটি দিনে একজন লোক যথাযথভাবে যে কাজ করেন, তার জন্য তিনি সেই অনুসারে যথাযথ মজুরি পাওয়ার যোগ্য। আমাদের এসব পরিবর্তন নিম্ন আয়ের মানুষের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে সহায়তা করবে।’

এ ছাড়া, ব্রিটিশ সরকারের নতুন এই ঘোষণা অনুসারে, আগামী বছরের এপ্রিল থেকে শিক্ষানবিশ এবং ১৬-১৭ বছর বয়সীরা কাজের জন্য ঘণ্টায় সর্বনিম্ন মজুরি পাবে ৭ দশমিক ৫৫ পাউন্ড বা ১ হাজার ১৭১ টাকা। আগামী বছরের এপ্রিল থেকে মোট ৩৫ লাখ ব্রিটিশ মজুরি বৃদ্ধির সুফল ভোগ করবে।

তুরস্কে কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের মুয়াজ

তুরস্কে অনুষ্ঠিত নবম আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের হাফেজ মুয়াজ মাহমুদ। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের হাত থেকে মুয়াজ মাহমুদ সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার গ্রহণ করেন।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বাদ জোহর পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। ২০১৬ সালের পর তুরস্কের এই প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

গত ২৮ মার্চ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধায়নে এ প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বে দেশের শতশত মেধাবী হাফেজদের পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করে তুরস্ক আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত হন মুয়াজ মাহমুদ।

এছাড়াও চলতি বছরের ২১ আগস্ট মক্কায় ৪৪তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ১২৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথমস্থান অর্জন করে। সে সময় হাফেজ মুয়াজ মাহমুদ ১৫ পারা গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

হাফেজ মুয়াজ মাহমুদ ২০২৩ সালে ৪৬তম কেন্দ্রীয় বেফাক পরীক্ষায় নাহবেমির জামাতে অংশগ্রহণ করে মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, হাফেজ মুয়াজ ঢাকার মিরপুর-১ এ অবস্থিত মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামী, ঢাকার কিতাব বিভাগের ছাত্র। তিনি এই মাদরাসা থেকে হাফেজ হয়েছেন। এখন কিতাব বিভাগে পড়াশোনা করছেন।

কানাডায় অভিবাসীদের জন্য দুঃসংবাদ

অভিবাসন খাতে উদারনীতির জন্য বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে কানাডা। কিন্তু এবার সেই অবস্থান থেকে অনেকটা দূরে সরে আসছে কানাডিয়ান সরকার। আশঙ্কাজনকভাবে বেকারত্ব বেড়ে যাওয়া অভিবাসন নীতিতে কঠোর হতে যাচ্ছে তারা।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) নিজেদের ইতিহাসে এ যাবতকালের সবচেয়ে কঠোর অভিবাসন কাটব্যাক উপস্থাপন করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং অভিবাসনমন্ত্রী মার্ক মিলার। নতুন সিদ্ধান্তে ২০২৫ সাল নাগাদ দেশটিতে স্থায়ীভাবে বাস করতে আসা মানুষের হার ২১ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ এতদিন স্থায়ী বাসিন্দাদের লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ লাখ থাকলেও ২০২৫ সালে তা তিন লাখ ৯৫ হাজারে নামিয়ে আনা হবে। খবর বিবিসির।

শুধু স্থায়ী অভিবাসন নয়, অস্থায়ী অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডার সরকার। এক্ষেত্রে অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের পাশাপাশি বিপাকে পড়ে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও। মূলত, জনসংখ্যা বৃদ্ধি থামানোর প্রচেষ্টা হিসেবেই অভিবাসন নীতিতে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ট্রুডো সরকার।

১৯৭৭ সাল থেকে দেশে অভিবাসনের প্রতি কানাডিয়ানদের মনোভাব কেমন, তা পর্যবেক্ষণ করে আসছে এনভায়রনিক্স ইন্সটিটিউট নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সবশেষ চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের জরিপ থেকে জানা যায়, গত ২৫ বছরে প্রথমবারের মতো ৫৮ শতাংশ মানুষ বলেছে যে দেশটিতে অভিবাসনের সংখ্যা এখন অনেক বেড়ে গেছে। এর অন্যতম কারণ আবাসন সংকট।

অভিবাসনের তুলনায় আবাসন সীমিত হয়ে পড়ায় স্থানীয় কানাডিয়ানরা বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন। একই সময়ে কানাডার বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ শতাংশ।

এসবের পাশাপাশি অর্থনীতি, অতিরিক্ত জনসংখ্যা এবং অভিবাসন ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেটাও মানুষের মনোভাব পরিবর্তনের বড় কারণ।

ট্রুডো এবং তার সরকার জনসেবা বা আবাসন নির্মাণ না করেই অভিবাসনের হার বাড়ানোয় সমালোচিত হয়েছে এবং অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে কানাডার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো জনসেবা খাতগুলোর উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করবে।

২০১৫ সালে জাস্টিন ট্রুডো কানাডার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার সরকার বার্ষিক স্থায়ী বাসিন্দার লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৭২ হাজার থেকে বাড়িয়ে চার লাখ ৮৫ হাজারে উন্নীত করে। তবে কোভিড-১৯ মহামারির পরে ২০২১ সালে অভিবাসনের হার সবচেয়ে বেশি বাড়তে দেখা গেছে।

কানাডিয়ান ব্যুরো ফর ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অনুসারে, ২০২২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে, সরকারি তথ্য অনুযায়ী কানাডায় অস্থায়ী বিদেশি কর্মীর সংখ্যা গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। অভিবাসন নিয়ে কানাডিয়ানদের নেতিবাচক ধারণার আরেকটি বড় কারণ, তারা মনে করে কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা তার সততার জায়গা হারিয়েছে।

ব্রিটেনে ৪২০ পাউন্ড সুবিধা পাবে ১০ লাখ পরিবার!

আগামী ৩০ অক্টোবর ব্রিটেনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি তাদের প্রথম বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এই বাজেটে অনেক নতুন পরিবর্তন আসবে। এতে ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের কিছু পরিবর্তন আনা হবে।

জানা গেছে, ইউনিভার্সাল ক্রেডিট সেটে পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ প্রতি বছর গড়ে ৪২০ পাউন্ড বেশি সুবিধা পাবে। এই সুবিধা প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোকে সাহায্য করার জন্য সেট করা হয়েছে।

এর আগে পেনশনভোগীদের জন্য উইন্টার ফুয়েল পেমেন্ট বাতিল এবং দুই সন্তানের বেনিফিট ক্যাপ বহাল রাখা হলে মন্ত্রীদের নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের মাধ্যমে এই বর্ধিত সুবিধা সমালোচনা বন্ধ করার একটি উপায় হিসেবে কাজ করবে।

হোয়াইট হলের একটি সূত্র স্থানীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’কে জানিয়েছে, এটি দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য একটি ডাউনপেমেন্ট। মানুষ এখনও ব্যাপকভাবে দারিদ্র্যের মধ্যে আটকে আছে।

ইউনিভার্সাল ক্রেডিট বৃদ্ধি কম আয়ের মানুষের জন্য একটি ছোট বিজয়। আগামী এপ্রিল থেকে এই বর্ধিত সুবিধা দেওয়া শুরু হবে।

এদিকে, স্বল্পমেয়াদী ঋণ পরিশোধের জন্য প্রতি মাসে বেনিফিট (সুবিধা) পেমেন্ট থেকে যে পরিমাণ কাটা হয় সেটা ক্যাপ করা হবে। বর্তমানে পারসোনাল লোন পরিশোধ হিসেবে প্রতি মাসে মোট ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের ২৫ শতাংশ কেটে রাখা হয়। এবার এটি কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হবে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে লোন পরিশোধ করার সুযোগ পাওয়া যাবে। চ্যারিটি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন ইউকে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেন ইউকে-এর পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি অ্যাডভাইজার রুথ ট্যালবট বলেন, এটি মন্ত্রীদের একটি সাহসী সিদ্ধান্ত। এই পরিবর্তন পরিবারগুলোর ওপর একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এদিকে, সেভ দ্য চিলড্রেন ধারণা করছে, ইউনিভার্সাল ক্রেডিট পরিবর্তনের কারণে সিঙ্গেল পিতামাতারা প্রতি মাসে তাদের ক্রেডিট এনটাইটেলমেন্ট ৩৯ পাউন্ড বেশি পেতে পারেন। টু প্যারেন্ট ফ্যামিলির জন্য এটি ৬২ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।

ট্রাসেল ট্রাস্টের পলিসি ডিরেক্টর হেলেন বার্নার্ড বলেন, আমাদের ফুড ব্যাংক কমিউনিটি প্রতিদিন যে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করছে সেগুলোর জন্য এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এতে বেঁচে থাকার জন্য ফুড ব্যাংকে যেতে বাধ্য হওয়া লোকের সংখ্যা কমবে না। ইউনিভার্সাল ক্রেডিট সুবিধা পাওয়া কম আয়ের অনেক পরিবারের জীবন ধারণের জন্য প্রতিদিন মাত্র ৪ পাউন্ড বরাদ্দ থাকে। অনেক পরিবারের অর্থ মাস শেষ হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখনও কস্ট অব লিভিং (জীবন ব্যয়) সংকটের কারণে সংগ্রাম করছে পরিবারগুলো।

বিয়ের পর হানিমুন না করে সুজানা বেছে নেন পবিত্র ওমরাহ হজ

দেশীয় শোবিজের অনিন্দ্য সুন্দরী মডেল-অভিনেত্রী সুজানা জাফর। বিজ্ঞাপন ও নাটকে একসময় টানা ব্যস্ত সময় পার করেছেন তিনি। তার অভিনীত বেশির ভাগ মিউজিক ভিডিও হয়েছে দর্শকনন্দিত। কিন্তু বর্তমানে শোবিজ থেকে দূরে রেখেছেন নিজেকে। শোবিজ থেকে দূরে থাকলেও হুট করেই নতুন খবর দিলেন তিনি। জানালেন তৃতীয়বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন তিনি।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন সুজানা। সেখানে কেকের ওপর লেখা, ‘হ্যাপি ম্যারিড লাইফ, সুজানা অ্যান্ড জায়াদ।’ ভিডিওতে এক ঝলক সুজানার স্বামীকেও দেখা যায়। মন্তব্যর ঘরে অনেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তার উত্তরও দিয়েছেন অভিনেত্রী।

এদিকে দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুজানা বলেন, প্রেম করে নয়, এটি পারিবারিক বিয়ে। তবে তাদের পরিচয় সাত বছর ধরে।

মূলত, ইসলাম ধর্মের প্রতি অনুরাগী হয়ে ঠিক ৭ বছর আগেই দেশ ও মিডিয়া ছেড়ে প্রবাসী হন তিনি। এরপর থেকে মিডিয়ার কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি তিনি। দুবাইয়ের নাগরিকত্ব পাওয়ায় সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। এবার সেখানেই শুরু করলেন সংসার জীবনের নতুন অধ্যায়।

সুজানা বলেন, আগস্টে যখন আমাদের বিয়ে হয়, তখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাজে ছিল। তখন এই বিষয়টি জানানোর মতো অবস্থা ছিল না। ইসলামে ঢাকঢোল পিটিয়ে বিয়ে করার কথা কোথাও উল্লেখ নেই। একেবারে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। বিয়েটা যেহেতু পারিবারিক ব্যাপার। আমাদের দুই পরিবার বিষয়টি অবগত।

বিয়ের পর হানিমুন না করে সুজানা বেছে নেন পবিত্র ওমরাহ হজ। সুজানা জানান, তার ইচ্ছে ছিল হানিমুনে না গিয়ে স্বামীর সঙ্গে হজ পালন করবেন। সেই ইচ্ছেও পূরণ করেছেন সম্প্রতি।

তিনি বলেন, বিয়ের দুদিন পর আমরা দুজনে ওমরাহ পালন করেছি। আল্লাহ আমাকে যে পথে রেখেছেন আমি বাকিটা জীবন এভাবে পার করতে চাই।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে ঢাকার একটি বায়িং হাউসের কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদকে প্রথম বিয়ে করেন সুজানা। কিন্তু চার মাস পরই বেজে ওঠে ভাঙনের সুর। এরপর সংগীতশিল্পী হৃদয় খানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২০১৪ সালের আগস্টে বিয়েও করেন তারা। তবে সে বিয়েও টেকেনি। এক বছর না যেতেই বিচ্ছেদ হয় তাদের।

হৃদয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরই শোবিজ থেকে নিজেকে আড়াল করতে শুরু করেন সুজানা। কয়েক বছর ধরেই একেবারেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান না। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ব্যবসা।

মূলত নিজের ফ্যাশন হাউজ ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন সুজানা। দুবাই থেকেই তার সুজানা’স ক্লোজেটের জন্য সামগ্রী নিয়ে আসেন দেশে। তবে নিজেও ডিজাইন করেন অনেক পোশাক। যদিও এখনই নিজেকে পুরাদস্তুর ফ্যাশন ডিজাইনার বলতে নারাজ সুজানা। নিছক নিজের ভালো লাগা থেকেই ডিজাইন করেন তিনি।

সিলেট বিমানবন্দরে ব্রিটিশ নাগরিক আটক

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটের এক যাত্রী ও কেবিন ক্রুদের মধ্যে কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। এক পর্যায়ে অসদাচরণের অভিযোগে এক ব্রিটিশ নাগরিককে পুলিশে দেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

ম্যানচেস্টার থেকে ছেড়ে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০৮ বিমানটি সোমবার (২৮ এপ্রিল) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর ঘটনাটি জানাজানি হলে এর পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিজি-২০৮নং ফ্লাইটের যাত্রী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ফয়েজ আহমেদ খান কেবিন ক্রুদের সঙ্গে অসদাচরণ করলে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে অন্য যাত্রীরা তাকে নিভৃত করার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গেও উত্তপ্ত বাক্যবনিময় হয়। পরে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে ফ্লাইটটি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সিভিল অ্যাভিয়েশন ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করলে ওই যাত্রীকে আটক করে সিলেট এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। বিমান যাত্রী ফয়েজ আহমেদ খান সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ বলেন, বিমানে যাত্রীর সঙ্গে কেবিন ক্রু, পাইলট ও অন্য যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্রিটিশ নাগরিকের। পরে তাকে আটক করে সিলেট এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পর তাকে স্বজনদের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বিমানটির অপর এক মহিলা যাত্রীর সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ আমরা একই বিমানে ছিলাম। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে ডায়াবেটিসের রোগী দাবি করছিলেন। তিনি বারবার তার সুগার-ফল করার ফলে কেবিন ক্রুকে কিছু খাবার দিতে বলেন। তারা খুব সম্ভবত তাকে কিছু খাবার দিয়েছিলেন। পরে আরও কিছু অতিরিক্ত খাবার চাইলে কেবিন ক্রুরা তাকে পাত্তা না দেওয়ায় ঘটনার সূত্রপাত হয় ও কথা-কাটাকাটি হয়। বিমানের সেই যাত্রী ফয়েজ খানকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করেন বিমানের ক্রুরা। এরপর থেকে তিনি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন। এই ঘটনায় দায়ী হলে দুইপক্ষই দায়ী হবেন।’

এক কবরে দাফনের ইচ্ছে: দেশে প্রেমিকা, প্রবাসে প্রেমিকের আত্মহত্যা

সদ্য বিয়ে হওয়া মেয়েটি তার স্বামীর বাড়িতে ও ছেলেটি প্রবাসে একই সময়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে স্বজনরা জানায়।

একই কবরে দাফনের ইচ্ছের কথা চিরকুট লিখে সদ্য বিয়ে করা তরুণী স্বামীর বাড়িতে, প্রবাসে তরুণের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার রাত ১১টার দিকে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বেতুয়া গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয় বলে থানার ওসি মো. শাহ আলম জানান। পাশে একটি চিরকুটও পায় তারা।

অন্যদিকে, একই সময়ে ওমান প্রবাসী ২২ বছর বয়সি তরুণ সাফায়েত হোসেন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে তার বাবা জানান।

সাফায়েত কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পূর্ব জোড়কানন ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে।

তবে ঘটনা দুটির কথা জানাজানি হয় রোববার।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ১৬ বছর বয়সি খাদিজা আক্তার ওরফে উর্মি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মাটিয়ারা গ্রামের জামাল হোসেনের মেয়ে।

সে স্থানীয় চৌয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

গত ১৪ অক্টোবর লালমাই উপজেলার ভুলইন উত্তর ইউনিয়নের বেতুয়া কৃষ্ণপুর গ্রামের রং মিস্ত্রী আরিফুর রহমানের সঙ্গে ‘জোর করে’ বাল্যবিয়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানায়।

তারা জানায়, প্রশাসনের ভয়ে ওইদিন ঘরোয়াভাবে গোপনে মেয়েটির বিয়ের আয়োজন হয়েছিল।

পুলিশের উদ্ধার করা ঊর্মির চিরকুটে লেখ ছিল, “চাইছিলাম দুইজনে একসাথে বেঁচে থাকতে। বাঁচতে দিল না। এটা সত্যি, ও আমার প্রথম সাথী। ওরে আমি বিয়ে করছি। কিন্তু ওর জায়গায় আমি অন্য কাউরে দিতে পারি নাই, পারবোও না। তোমরা সুখে থেক। আমি ওকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না। ও বেঁচে থাকলেও তোমরা ওকে খুন করতে এবং ওর ফ্যামিলিকে জেলের ভাত খাওয়াইতে। তাই নিজেও দুনিয়া ছাড়লাম। ওরে আমার সাথে নিয়ে গেলাম।

“আপনাদের কাছে একটা শেষ ইচ্ছা থাকবে। বাবা-মা, ভাই বোনের কাছে একটা আবদার, দুনিয়াতে যেহেতু থাকতে দেয় নাই, আমাদের দাফনটা যেন একসাথে হয়। একদিন আগে-পরে হলেও একই কবরস্থানে যেন দাফন করে।”

অন্যদিকে, প্রবাসী সাফায়াত আত্মহত্যার আগে লিখে যাওয়া চিরকুটের কথা জানান তার বাবা আবদুল খালেক।

সাফায়েত তার চিঠিতে লিখেছেন, “শেষ ইচ্ছে পূরণ করার দায়িত্ব আপনাদের। আমার মৃত্যুর কারণ একমাত্র ওর ফ্যামিলি। আমার মোবাইলে সব রেকর্ড করা আছে। সব কিছু ভিডিও করা আছে। আমার মৃত্যুর জন্য কে কে দায়ী সবকিছু আমার মোবাইলে রেকর্ড করা আছে আর ভিডিও করা আছে। আমার মোবাইল তার প্রমাণ। আমার মোবাইল চেক করলে সব পাবেন। রেকর্ড অপসনে আর গ্যালারিতে সব আছে। গ্যালারিতে আমার ৮টা ভিডিও আছে। সবগুলো দেখবেন। লক খুলে রেকর্ড অপসানে ডুকবেন আর ইমুতে দুইটা আর বাকিগুলো গ্যালারিতে পাবেন। তার দেওয়া চিঠি আছে আরিফ নামের আইডিতে। আমাদের মৃত্যুর কারণ তারা। কোনোদিন ক্ষমা করবো না।”

রোববার বিকালে খাদিজার মা নুরুন্নাহার বলেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে সাফায়েত নামের একজন প্রবাসী ছেলের সম্পর্ক ছিল। গত ১৪ অক্টোবর সম্মতি নিয়েই আমাদের আত্মীয় বেতুয়ার আরিফুর রহমানের কাছে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে হাসি-খুশিতেই ছিল।

“শনিবার রাতে হঠাৎ শুনি উর্মি ও তার প্রেমিক সাফায়েত ভিডিও কলে একসাথে আত্মহত্যা করেছে। মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। প্রবাসী ছেলেটাই আমার মেয়ের মাথা খারাপ করে দিয়েছিল।”

প্রবাসী সাফায়াতের বাবা আবদুল খালেক বলেন, “একবছর আগে ছেলেকে ওমান পাঠিয়েছিলাম। কিছুদিন আগে ছেলে হঠাৎ বিদেশে কর্মস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। খবর নিয়ে শুনলাম ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারে আমার ছেলের সাথে ঊর্মি নামে এক মেয়ের পরিচয় ছিল। হঠাৎ মেয়েটির বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সে অসুস্থ হয়ে গেছে। শনিবার রাতে সেই মেয়ে চিরকুট লিখে আমার ছেলেকে ভিডিও কলে রেখে দুজনই ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে শুনেছি।”

কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, “আমার ছেলেসহ দুটি জীবনের আলো নিভে গেছে। তিনটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর জন্য আমি মেয়ের বাল্যবিয়েকে দায়ি করি। বাল্যবিয়ের সাথে জড়িত নিকাহ রেজিষ্ট্রারসহ সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবি করছি।

তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলের চিরকুট হাতে পেয়েছি। আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে মামলা করব। তাছাড়া মৃত্যুর আগে আমার ছেলের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মেয়ের মা।”

রোববার বিকালে লালমাই থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, “বিয়ের ১৩তম দিনে নববধূ প্রবাসী প্রেমিককে ভিডিও কলে রেখে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। শুনেছি, প্রবাসী প্রেমিকও একইভাবে আত্মহত্যা করেছে।”

শনিবার রাত ১১টার দিকে নববধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে রোববার ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মেয়েটির লাশের পাশে হাতে লেখা চিরকুট পাওয়ার কথা জানিয়ে ওসি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, আত্মহত্যার আগে মেয়েটি তার মা-বাবার উদ্দেশে এটি লিখেছিল।

মেয়েটির ভাই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।