Sunday, April 19, 2026
Home Blog Page 88

বিয়ানীবাজারে যৌ’ন’কর্মী ও ডাকাত সহ আটক ৪

বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডাকাতি মামলার আসামীসহ মোট ৪ জন আসামী গ্রেফতার। রবিবার (২৭ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

রবিবার গনমাধ্যমে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিয়ানীবাজার থানা এই তথ্য জানায়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রবিবার ভোররাতে বিয়ানীবাজার থানার এসআই/শহিদুল ইসলামের নের্তৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের আভঙ্গী গ্রামের জনৈক হেলাল উদ্দিনের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ডাকাতি মামলার এজাহার নামীয় আসামী ছাদিক আহমদ (২২) কে আটক করে। আটক ছাদিক উপজেলার পৌর এলাকার শ্রীধরা গ্রামের মৃত আজির উদ্দিনের পুত্র।

এসময় অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীসহ আরও তিনজনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন, মুড়িয়া ইউনিয়নের আভঙ্গী গ্রামের মৃত কুতুব আলীর পুত্র হেলাল উদ্দিন (৭০), একই ইউনিয়নের আষ্টগরি গ্রামের আইনুল হকের পুত্র আলীম উদ্দিন (৩২), বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার শ্রীধরা গ্রামের মৃত আজির উদ্দিনের পুত্র ছাদিক আহমদ (২২), এবং ব্রাক্ষনবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার স্থায়ী বাসিন্দা বর্তমানে সিলেটে বসবাসরত যৌনকর্মী তামান্না বেগম।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক চৌধুরী জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ২৯০ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে আসামীদের সোপর্দ করা হয়েছে।

কানাডায় বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের সমাহার, প্রবাসেও দিচ্ছে চেনা স্বাদ

কানাডার ব্যস্ততম প্রবাস জীবনের সময়টা একটু ভিন্ন ধরনের। এসময়ে গাছের পাতা ঝরে হলুদ বর্ণ ধারণ করছে। সম্পূর্ণ নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশ। না শীত না গরম। কিন্তু শিশু-কিশোরদের স্কুল শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অনেকে বেড়াতে যেতে পারেন না।

তাই তো ঋতু বৈচিত্র্যের আবাহনে এসময়ে ছুটির দিনগুলোতে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বের হয়ে যান প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকনে। কেউ আবার ছোটেন পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার সদাই করতে।

কর্ম ব্যস্ততাময় প্রবাস জীবনে সপ্তাহ শেষে স্বামী অথবা স্ত্রী কারো না কারো কাজ থেকেই যায়। তবে অনেকেই পরিবারকে সময় দেওয়া ও সংসারের গ্রোসারি কেনাকাটা সম্পন্ন করতে রোববার ছুটি নিয়ে থাকেন।

কানাডার ক্যালগেরির বাংলাদেশি স্টোরগুলোতে শনি বা রোববারে তুলনামূলক বেশি ভিড় দেখা যায়। গ্রোসারি স্টোরের মালিকরাও অপেক্ষায় থাকেন শনি বা রোববারের জন্য। কারণ, এই দিন দুটিতেই ক্রেতাদের সমাগম বেশি ঘটে।

সরেজমিনে কানাডার বিভিন্ন গ্রোসারি স্টোর ঘুরে দেখা গেছে, রয়েছে বাংলাদেশি পণ্যের বিশাল সমাহার। প্রবাসী বাঙালিরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী সব ধরনের পণ্যই এসব গ্রোসারি স্টোরে পাচ্ছে। এর মধ্যে দেশীয় পরোটা, বিভিন্ন ধরনের রান্নার মসলা, প্যাকেটজাত ফ্রোজেন সিঙ্গারা, আলুপুরি, ডালপুরি, বিভিন্ন ধরনের চিনিগুড়া, কালিজিরা চাল, আটা, ময়দা, দই ও মিষ্টি থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্যই এখন প্রবাসী বাঙালিদের হাতের নাগালে।
কানাডায় বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের সমাহার, প্রবাসেও দিচ্ছে চেনা স্বাদ
শুধু তাই নয়, বহু সংস্কৃতির দেশ কানাডায় বাংলাদেশিদের পাশাপাশি অন্য কমিউনিটির ক্রেতারাও বাংলাদেশি পণ্য কিনছেন। এর অন্যতম একটি কারণ, বাংলাদেশি গ্রোসারি স্টোর ছাড়াও কানাডার বিভিন্ন গ্রোসারি স্টোর বাংলাদেশি পণ্যে সয়লাব।

বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানি যেমন– প্রিমিয়াম, প্রাণ, রাঁধুনী কোম্পানিও প্রবাসীদের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন ধরনের পণ্য কানাডায় রপ্তানি করছে।

ক্যালগেরির বাংলাবাজার গ্রোসারি স্টোরে এ প্রতিবেদকের কথা হয় প্রবাসী বাংলাদেশি আশরাফুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রথম প্রথম বাংলাদেশ থেকে আসার পর খুব খারাপ লাগত বাংলাদেশি পণ্যের জন্য। আর এখন বাংলাদেশি গ্রোসারি স্টোরে প্রবেশ করলে মনে হয় যেন বাংলাদেশেই আছি। প্রিমিয়ামের কালিজিরা, চিনিগুড়া চাল ও তাদের বিভিন্ন ধরনের রান্নার মসলা এবং নাস্তা করার জন্য দেশি পরোটা অতুলনীয়। আর সন্ধ্যায় নাস্তার জন্য সিঙ্গারা, ডালপুরি আর আলুপুরির কথা না বললেই নয়। প্রিমিয়ামের এ পণ্যগুলো যেন দেশে না থাকার অভাব পূরণ করে।

ছুটির দিনে বাজার করতে আসা আরেক প্রবাসী বাঙালি শাকিল তায়েব বলেন, আমি পরিবার নিয়ে কানাডায় নতুন এসেছি। কিন্তু গ্রোসারি স্টোরগুলোতে এলে মনে হয় না যে, আমরা কানাডায় এসেছি। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি এসব পণ্য দেখে আমরা রীতিমতো অভিভূত।

প্রিমিয়াম কোম্পানির স্বত্বাধিকারী শেখ আতিকুল ইসলাম কলিন্স বলেন, আমাদের প্রিমিয়াম কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে কানাডার বিভিন্ন শহরে পণ্য সরবরাহ করে চলেছি। আমরা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত চেষ্টা করে চলেছি কীভাবে গুণগতমান বজায় রেখে ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে তাদের সেবা দেওয়া যায়। ক্রেতা সন্তুষ্টিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রবাসী বাঙালিদের ভালোবাসায় আমরা সিক্ত।

গ্রোসারি স্টোরগুলোতে বাজার করতে আসা প্রবাসী বাঙালিরা বাংলাদেশি কোম্পানির ও পণ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

কানাডায় শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিটের নতুন নিয়ম

পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের (পিজিডব্লিউপি) সংশোধিত নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক সংস্থা (আইআরসিসি)। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। এই নিয়মে বিদেশি শিক্ষার্থী, বিশেষ করে কলেজ স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।

যেসব শিক্ষার্থী ১ নভেম্বরের আগে স্টাডি পারমিটের জন্য আবেদন করেছেন বা পেয়েছেন, তাঁরা বিদ্যমান নিয়মের অধীনে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য হবেন। আর যাঁরা এই সময়ের সময়ে বা তার পরে আবেদন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। নতুন এই নিয়মে কলেজ ও নন-ডিগ্রি প্রোগ্রাম থেকে স্নাতকদের জন্য সুযোগ থাকবে।

আইআরসিসি নিশ্চিত করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ডিগ্রিধারীরা পড়াশোনার ক্ষেত্রের ওপর ভিত্তি করে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই তিন বছর পর্যন্ত পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য থাকবেন। আর কলেজ স্নাতকদের জন্য কিছু প্রোগ্রামে নতুন নিয়মের অধীনে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

১ নভেম্বর থেকে কলেজ প্রোগ্রামের স্নাতকদের অবশ্যই পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্যতা অর্জনের জন্য নির্ধারিত বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করতে হবে। আইআরসিসি নির্ধারিত ৯৬৬টি প্রোগ্রাম তালিকাভুক্ত করেছে। এর মধ্যে কৃষি ও কৃষিখাদ্য; স্বাস্থ্যসেবা; সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স (স্টেম); স্কিলড ট্রেড এবং ট্রান্সপোর্টেশন—এই পাঁচ বিষয় তালিকাভুক্ত প্রোগ্রামগুলোকে কভার করবে।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ঐতিহ্যগতভাবে জনপ্রিয় ক্ষেত্র যেমন ট্যুরিজম, হসপিটালিটি ও বিজনেস স্টাডিজ বিষয়গুলো এই তালিকায় রাখা হয়নি। এতে কানাডায় কাজের সুযোগ খুঁজছেন, এমন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্যতা সীমিত করার সিদ্ধান্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বিদেশি শিক্ষার্থী, যারা এখন পড়াশোনার বিষয়গত কারণে অযোগ্য বলে বিবেচিত, তারা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের মধ্যে আছে।

ওল্ডস কলেজের রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনালের ডিরেক্টর কারেন ড্যান্সি লিংকডইনে বলেন, তালিকায় হসপিটালিটি বিশেষভাবে অনুপস্থিত। এটি গ্রামীণ, প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ স্থানীয়দের জন্য বিপর্যয়কর হবে। বিশেষ করে সেই সব বিদেশি শিক্ষার্থী, যাঁরা এই কলেজে পড়াশোনা করছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পড়াশোনা ও স্টুডেন্ট ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স রিসোর্স আইসিইএফ মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, কলেজ অন্টারিওর প্রেসিডেন্ট ও সিইও মার্কেটা ইভান্সও গত সেপ্টেম্বর আইআরসিসি মন্ত্রী মার্ক মিলারের কাছে একটি খোলাচিঠিতে একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আঞ্চলিক শ্রম চাহিদা নিশ্চিতে সরকারকে প্রদেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে চিঠিতে মার্ক মিলার লিখেছেন, ‘প্রদেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শের অভাব এবং স্থানীয় নিয়োগকর্তাদের কী প্রয়োজন, তা জানাতে জাতীয় শ্রমবাজারের তথ্যের ব্যবহার সম্পর্কে আমরা খুব উদ্বিগ্ন।’

পড়াশোনার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদনকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবশ্যই নির্দিষ্ট ভাষার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীদের অনুমোদিত ভাষা পরীক্ষার মাধ্যমে ইংরেজি বা ফরাসি ভাষায় তাঁদের দক্ষতার প্রমাণ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের জন্য ইংরেজিতে কানাডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ বেঞ্চমার্কস (সিএলবি) ৭ বা ফরাসি ভাষায় তার সমমান নিভেক্স দ্য কমপিটেন্স লিঙ্গুইস্টিকস কানাডিয়ান (এনসিএলসি) স্কোর ৭ থাকতে হবে। কলেজ স্নাতকদের চারটি ভাষার ক্ষেত্রে (পড়া, লেখা, শোনা এবং কথা বলা) অবশ্যই সিএলবি স্কোর ৫ বা এনসিএলসি স্কোর ৫–এর যেকোনো একটি পূরণ করতে হবে।

নতুন এই নিয়মে পড়াশোনা শেষে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্য টরন্টো স্টারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ১ লাখ ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ প্রোগ্রামের স্নাতকদের ৬৪ শতাংশ এই সুযোগ পেয়েছেন। শুধু বিজনেস স্টাডিজের ৪২ শতাংশ স্নাতক এই সুযোগ পেয়েছেন ৪২ শতাংশ আর স্টেমের সবগুলো ক্ষেত্র থেকে এই সুযোগ পেছেন ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। এবার নতুন নিয়মের আওতায় এই স্নাতকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, বিশেষ করে যাঁরা বিজনেস স্টাডিজ ও তালিকার বাইরে থাকা ক্ষেত্রগুলোতে পড়াশোনা করছেন, তাঁরা ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন না।

বিয়ানীবাজারে পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

সিলেটের বিয়ানীবাজারে পুকুরে ডুবে মতিউর রহমান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

আজ শনিবার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের বিবিরাই গ্রামের নির্জন স্থানের এক পুকুর থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। মতিউর দেবারাই মেইনবাড়ি গ্রামের মৃত মিছির আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় পোস্ট অফিসে দায়িত্বরত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানীর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন এলে জানা যাবে তিনি কিভাবে মারা গেছেন।

কানাডা সফরে ভিসা সহজীকরণ-প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় জোর সেনাপ্রধানের

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কানাডা সফরে শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য ভিসা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) কানাডার বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

কানাডা হাইকমিশন জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সরকারি সফরের অংশ হিসেবে স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় পৌঁছেছেন।

কানাডার রাজধানী অটোয়ায় পৌঁছালে সেনাপ্রধানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। কানাডার প্রিভি কাউন্সিল অফিসের পরিচালক ও বাংলাদেশে কানাডার মনোনীত হাইকমিশনার অজিত সিং এ অভ্যর্থনার আয়োজন করেন।

জেনারেল ওয়াকারের এ সফরটি বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্কের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বৈঠকে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা সমস্যা সমাধানে উভয় পক্ষের আন্তরিক আগ্রহ প্রকাশ পায়।

সফরে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান কানাডার ভাইস চিফ অব দ্য ডিফেন্স স্টাফ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্টিফেন আর কেলসি ও কানাডা-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের ভাইস-চেয়ার সালমা জাহিদ এমপির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। আলোচনায় জেনারেল ওয়াকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা সহজীকরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি যুব উন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন এবং উভয় দেশের পারস্পরিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে আরও বেশি স্টুডেন্ট ভিসা দেওয়ার মাধ্যমে কানাডার সহায়তা কামনা করেন।

সালমা জাহিদ কানাডার বিদ্যমান আবাসন সংকটের প্রেক্ষাপটে চ্যালেঞ্জগুলোর কথা স্বীকার করেন। তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য কানাডার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে উৎসাহিত করেন এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির সীমাবদ্ধতাগুলো মোকাবিলায় সমাধান খোঁজার জন্য প্রতিশ্রুতি দেন।

বৈঠকে কানাডিয়ান ও বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার সুযোগ খোঁজার জন্য সম্মত হন।

জেনারেল ওয়াকার কানাডার আবাসন সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশি সহায়তার প্রস্তাব দেন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কানাডাকে সহায়তার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেলসির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে জেনারেল ওয়াকার কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বাংলাদেশি সামরিক কর্মীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সহজ করার পক্ষে কথা বলেন।

এছাড়া বৈঠকে সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে উভয় দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের পেশাগত উন্নয়ন বাড়ানো যায়।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সফরটি দুদেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে আরও সম্প্রসারিত করার এবং বিশেষ করে ছাত্র ভিসা সুবিধা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

এ সময় কানাডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাহিদা সোবহান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম আসাদুল হক ও মেজর মো. শোয়েব রিফাত আউমি উপস্থিত ছিলেন।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ‘মারকুটে’ নেত্রীরা কে কোথায়?

পদ-পদবির সঙ্গে সঙ্গে এক সময় ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন ছাত্রলীগের নেতারা। পিছিয়ে ছিলেন না সংগঠনটির নেত্রীরাও। শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, হলে সিট-বাণিজ‍্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাণিজ‍্য, ব্ল‍্যাকমেইলসহ কোনো কিছুতেই পিছিয়ে ছিলেন না তাঁরা। এমনকি জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের সময় বৈষ্যম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের ওপর গরম পানি নিক্ষেপের মতো ন‍্যক্কারজন‍ক ঘটনাও তাঁরা ঘটিয়েছেন, হুমকি দিয়েছিলেন ‘৭ মিনিটে ঢাকা খালি’ করার। এ সবই করেছেন তারা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে।

তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না দাপুটে, মারমুখী এসব নেত্রীদের। বেশিরভাগই চলে গেছেন আত্মগোপনে, কয়েকজন পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে, কেউ বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন। গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন দল ও সংগঠনের নেতা-নেত্রীরা। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ক্ষমতাধর কাউকে। একাধিক সূত্রে খবর নিয়ে জানা গেছে, বেশ কয়েকজনের বর্তমান অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে।

৭ মিনিটে ঢাকা ক্লিয়ারের ‘ঘোষক’ আতিকা আত্মগোপনে

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল শাখার সভাপতি আতিকা বিনতে হোসাইনের হয়রানিতে অতিষ্ঠ ছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মিছিলে যেতে বাধ‍্য করা, অন‍্যথায় মারধরের শিকার হওয়ার ভয়ে আতিকা ছিলেন শিক্ষার্থীদের এক আতঙ্কের নাম। বগুড়ার মেয়ে আতিকা ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের খুব ঘনিষ্ঠজন। এর সুবাদে ক‍্যাম্পাসে তাঁর ছিল সীমাহীন ক্ষমতা। কমিটি বাণিজ্য, সচিবালয়ে তদবিরসহ নানা অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। সাদ্দাম-ইনান যে কয়টি কমিটি ঘোষণা করেছেন, সেখানে লেনদেন বাণিজ‍্যের অভিযোগ রয়েছে আতিকার বিরুদ্ধে।

আতিকার ঔদ্ধত‍্য ছিল ১৫ জুলাই রাতেও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘৭ মিনিটে ঢাকা ক্লিয়ার’-এর হুমকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ‍্যে আতঙ্ক তৈরির অপচেষ্টা করেন তিনি। এরপর আর শেষ রক্ষা হয়নি। ১৭ জুলাই রাতে ‘ভুয়া ভুয়া’ দুয়োধ্বনি ও হালকা উত্তম-মধ‍্যম দিয়ে আতিকাসহ ছাত্রলীগের সাত নেত্রীকে রোকেয়া হল থেকে বের করে দেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর পরই আত্মগোপনে চলে যান তিনি। তাঁকে আর দেখা যায়নি জনসম্মুখে।

ইডেনে গরম পানি নিক্ষেপকারী নেত্রীদের খোঁজ মিলছে না

ছাত্র-জনতার আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন ইডেন কলেজের বকুলতলায় আন্দোলনকারী ছাত্রীদের ওপর গরম পানি নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি নুজহাত ফারিয়া রোকসানা, আয়েশা সিদ্দিকা মীম, সুষ্মিতা বাড়ৈ, রুনা আক্তার সুপ্তি, আর্নিকা তাবাসসুম স্বর্ণা, লিমা ফেরদৌস, আশরাফ লুবনা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুন নাহার জ্যোতি ও ফারজানা ইয়াসমীন (লুবনা নীলা)। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হয়ে ৩ আগস্ট গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। শেখ হাসিনার পালানোর পর তাঁরাও গা-ঢাকা দেন।

ইডেনের হলে ৩৮ কক্ষের ‘দখলদার’ রিভা ভারতে

ইডেন মহিলা কলেজের ছয়টি হলের ৩৮টি কক্ষের অঘোষিত মালিক ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ইডেন কলেজ শাখার সভাপতি রিভা। এসব কক্ষের প্রতিটিতে আটজন করে শিক্ষার্থী থাকতেন। অভিযোগ আছে, তিনি প্রতি মাসে প্রতিটি সিট থেকে দুই হাজার টাকা করে ‘ভাড়া’ নিতেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। সে হিসাবে প্রতি মাসেই তার ছয় লাখ টাকা সিট-বাণিজ‍্য থেকে অবৈধ আয় হতো।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, রিভা সব সময় থাকতেন মারমুখী অবস্থানে। পান থেকে চুন খসলেই সাধারণ শিক্ষার্থী বটেই, রক্ষা পেতেন না নিজ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও।

১৬ জুলাই মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে রিভাকে হল ছেড়ে পালাতে দেখেছেন শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিভার ঘনিষ্ঠ আরেক নেত্রী এনটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন, বর্তমানে রিভা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন।

গ্রিল চুরি করে তদন্তের মুখে পড়া প্রভাতী বিয়ের পিঁড়িতে

ঘরকন্নায় মন দিয়েছেন রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স (হোম ইকোনমিক্স) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকলিমা আক্তার প্রভাতী। গত সেপ্টেম্বর বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তিনি। বর্তমানে সংসারে মনোযোগী হতে চান তিনি বলে এই প্রতিবেদকে সম্প্রতি জানিয়েছেন তিনি। তবে ‘বিপদে আছি’ উল্লেখ করে তদন্ত নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

গ্রিল চুরির ঘটনায় কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শারমিন সুলতানা সনিও জড়িত ছিলেন, কলেজে তদন্তও চলছে তার বিরুদ্ধে। কলেজের দরজা-জানালা ও দেয়ালের ওপরের জন্য সংরক্ষিত গ্রিল চুরি করে বেচে দেওয়ার অভিযোগে গঠিত হয় তদন্ত কমিটি।

সনি-প্রভাতী ক‍্যাম্পাসে এতেটাই দাপুটে ছিলেন যে, চাঁদা না পেয়ে ক‍্যাম্পাসে এক সময় শেখ হাসিনা হলের উন্নয়ন কাজও বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে তাদের দুজনের সঙ্গে আপসরফা করে কাজ শুরু করেন ঠিকাদাররা। হলে সিট বাণিজ্য, কেন্টিন থেকে নিয়মিত মাসোহারা এবং হলে ব্রডব্র‍্যান্ড লাইন সরবরাহে আইএসপি কোম্পানিও তাঁদের মাসিক চাঁদা দিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফেরারি আসামি হয়ে যুক্তরাজ্যে শান্তা

নিজ সংগঠনের কর্মীদের মারধর করে হাসপাতালে পাঠিয়ে আলোচনায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শামসুন নাহার হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জেসমিন শান্তা। মারধরে আহত রোকেয়া হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী দাস তন্বী এ ঘটনায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব‍্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শান্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

এর আগে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে গিয়ে সামনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে শান্তার মারধরের শিকার হন তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আসাদুজ্জামান সোহেল। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয় এলাকায় ভাসমান দোকান বসিয়ে মাসোহারা তুলতেন তিনি। ২০২১ সালে ১২ অক্টোবর প্রক্টরিয়াল টিম এসব ভাসমান দোকান তুলতে গেলে বাধা দেন তিনি। তখন পিছু হটে বিশ্ববিদ‍্যালয় প্রশাসন।

শান্তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গিয়ে দেখা যায়, তিনি এখন যুক্তরাজ‍্য থেকে নিজের ছবি পোস্ট করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে সরব রয়েছেন।

ছাত্রলীগের কমিটি বাণিজ‍্যের ‘ক‍্যাশিয়ার’ নিশি ফেসবুকে সরব

ছাত্রলীগের ক্ষমতাধর নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন বেনজির হোসেন নিশি। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ছাত্রলীগের সভাপতি। ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্যের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে নিশির ক্ষমতা ছিল অসীম। অভিযোগ আছে, লেখক ভট্টাচার্য্যের কমিটি বাণিজ‍্যসহ চাঁদাবাজি থেকে প্রাপ্ত অর্থের চার ক্যাশিয়ারের একজন ছিলেন তিনি।

সাবেক সংসদ সদস্য ও শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) সাইফুজ্জামান শিখরের জেলার বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে সংগঠনের তৃণমূলেও তিনি প্রভাব বিস্তার করতেন। নিজ সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তিনি ও তাঁর সহযোগীরা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. এহসানুল হক ইয়াসিরকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পিটিয়ে আহত করেছিলেন। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়।

এখানেই শেষ নয়। নিশির হামলার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ছিলেন রোকেয়া হলের নেত্রী ফাল্গুনী দাস তন্বী। তন্বীর মামলায় এখনও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঝুলছে নিশির বিরুদ্ধে।

আত্মগোপনে থাকা নিশি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে সক্রিয়, অজ্ঞাত স্থান থেকে দিয়ে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারবিরোধী নানা পোস্ট। সম্প্রতি আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে ব্যঙ্গ করে এক পোস্টে তিনি লিখেন ‘হায় আল্লাহ, আমি যদি কোনোদিন প্রেমিক হওয়ার সুযোগ পেতাম, আমি জানি না কখনও হতে পারব কি না! যদি হতাম, জীবন দিয়ে প্রেম করতাম, খালি মেয়েদের হৃদয় জয় করার জন্য।—জনৈক ছাত্রীবান্ধব শিক্ষক, ট্রিপল বিয়ে।’

ব্ল্যাকমেইলার-খ্যাত সুপ্তি ভ্রমণে কাটাচ্ছেন সময়

ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি রুনা আক্তার সুপ্তি একই কলেজের সাংগঠনিক সম্পাদক আর্নিকা তাবাসসুম স্বর্ণাকে নিয়ে এক ‘ব্ল‍্যাকমেইলিং’ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। অভিযোগ আছে, তারা ব্যাংকার, আওয়ামী লীগের মাঝারি শ্রেণির নেতা, প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য করে পরে তাদের ব্ল‍্যাকমেইল করতেন।

মাস ছয়েক আগে একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে ব্ল‍্যাকমেইল করে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ আছে সুপ্তি-স্বর্ণার বিরুদ্ধে। এ ব‍্যাপারে ফোনে এনটিভি অনলাইনের কাছে নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তবে তিনি তাঁর সহযোগী স্বর্ণাকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, আমি শুনেছি স্বর্ণা এটা করেছে, টাকাও নিয়েছে।’

সুপ্তি এখন ঘোরাঘুরিতে সময় কাটাচ্ছেন, ছবি পোস্ট করছেন ফেসবুকে। তিনি এনটিভি অনলাইনকে জানান, নওগাঁয় নিজের বাড়িতেই আছেন তিনি।

সরকারবিরোধী পোস্টে সরব পলাতক স্বর্ণা

সুপ্তির মতো একই অভিযোগ ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আর্নিকা তাবাসসুম স্বর্ণার বিরুদ্ধে। তাঁর মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ থাকলেও সক্রিয় আছেন ফেসবুকে। সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারবিরোধী নানা পোস্ট দিচ্ছেন স্বর্ণা। সম্প্রতি এক পোস্টে তিনি লেখেন ‘পাকিস্তানের ইয়াহিয়া খান বলেছিলেন-দেশ দিয়ে গেছি কিন্তু এই দেশে যেই বীজ ছেড়ে দিয়ে গেছি, তারা ৫০ বছর পরে হলেও পাকিস্তানের হয়ে আওয়াজ দেবে! রক্ত কথা বলে, রক্ত কথা বলছে!’

হলে ফাও খাওয়া ফরিদা পারভীন আত্মগোপনে

ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয় কুয়েত মৈত্রী হল’ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফরিদা পারভীন। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতির পদ পান। সর্বশেষ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হতে দৌড়ঝাঁপ করছিলেন তিনি। তবে সেই আশা পূরণ হয়নি। শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতার সুপারিশে ঢাকা সিটি কলেজে প্রভাষক হয়েছিলেন তিনি। তবে ৫ আগস্টের পর তিনি সেই চাকরি হারান, চলে যান আত্মগোপনে।

কুয়েত মৈত্রী হলের সাবেক এই দাপুটে নেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগের যেন শেষ নেই। হলের ক‍্যান্টিন থেকে ফাও খাওয়া, হলের পার্লার থেকে চাঁদাবাজি ও রূপচর্চা করে টাকা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, তাঁকে চাঁদা না দিয়ে হলের কোনো উন্নয়নকাজ হতো না, আইএসপি পারত না হলে ইন্টারনেট সেবা দিতে। প্রতি মাসে হলের ডাইনিং থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নিতেন বলেও অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে।

নিয়োগ বাণিজ্যের হোতাদের খবর নেই স্বজনদের কাছেও!

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রাজিয়া সুলতানা কথা, কোহিনুর আক্তার রাখি ও খাদিজা আক্তার উর্মি, উপমুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক রনক জাহান রাইন ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন আওয়ামী লীগের শক্তিতে। তাঁদের নাম ভাঙিয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে নিতেন সুবিধাও। করতেন টেন্ডারবাজি ও নিয়োগবাণিজ্য। ৫ আগস্টের পর তাঁরা সবাই আত্মগোপনে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা রিপা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ জুয়েলকে তুরি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে ভাইরাল হন। তিনি এখন কোথায়—বলতে পারেন না তাঁর স্বজন ও পরিচিতজনরাও।

শেলীর শাসনে চলত বদরুন্নেছা কলেজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় উপপরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সেলিনা আক্তার শেলী ছিলেন কলেজের অঘোসিত শাসক। তাঁর কথায় যেন চলত ক্যাম্পাসের সব কিছু। কেউ কথা না শুনলেই নেমে আসত নির্যাতন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মিছিল-মিটিংয়ে যেতে বাধ্য করা, কেউ যেতে না চাইলে নির্যাতন করা ছিল তাঁর নিয়মিত কাজ। ক্যান্টিনে খাবারের প‍্যাকেজের নির্ধারিত মূল‍্য ৮০০ টাকা থাকলেও শেলীর কথায় নেওয়া হতো এক হাজার টাকা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত ২০০ টাকা আত্মসাৎ করতেন তিনি। হলের সিট বাণিজ‍্যেও নেতৃত্ব দিতেন তিনি। নতুন শিক্ষার্থীদের হলে উঠাতে সিটপ্রতি নিতেন ৭ থেকে ১৩ হাজার টাকা। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা কেউ জানে না।

পেটুয়া সাইমুনের খবর জানেন না কেউই

বদরুন্নেসায় সেলিনা আক্তার শেলীর আরেক সহযোগী সাধারণ সম্পাদক হাবীবা আক্তার সাইমুনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ পাহাড়সম। হলে সিট-বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, শিক্ষার্থীদের মিছিল-মিটিংয়ে যেতে বাধ্য করা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। নিজের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে চাঁদা না দেওয়া ও কেক কাটার সময় উপস্থিত না হওয়ায় কয়েক শিক্ষার্থীর কক্ষে ভাঙচুর চালিয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর ও পরে সেই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে গণমাধ‍্যমের নজরে পড়েন সাইমুন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ‍্য হন তিনিসহ ছাত্রলীগের নেত্রীরা। বদরুন্নেছায় ছাত্রলীগের নেত্রীদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এতটাই ক্ষোভ ছিল যে তাদের না পেয়ে তাদের দুই সহযোগীকে ক‍্যাম্পাসে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন আন্দোলনকারীরা।

ধরা পড়ে কারাগারে আরিয়ানা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলফি শাহরিন আরিয়ানা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নানাভাবে নির্যাতন করেছেন। শুধু তাই নয়, আন্দোলনকারীদের তালিকা করে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে পাঠাতেন। গত ১৭ অক্টোবর ক‍্যাম্পাসে পরীক্ষা দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন তিনি।

বিশ্ববিদ‍্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান সংবাদিকদের বলেছেন, আরিয়ানা পরীক্ষা দিতে গেলে শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁর সঙ্গে একই হলে বসে পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ঘটনায় যেন ‘মব জাস্টিস’ না হয়, সেজন্য পুলিশের হাতে তাঁকে সোপর্দ করা হয়।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মালেক এনটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন, আরিয়ানার বিরুদ্ধে থানায় মামলা আছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দুদক: প্রবাসী ভাই ও বন্ধুর মাধ্যমে ‘বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন’ নাহিদ!

অর্থ পাচারের অভিযোগে সাবেক দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে একজন সিলেট-৬ আসনের সাবেক এমপি ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। অপরজন হলেন সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। খবর ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’র।

নাহিদ ও মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনেরও অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশন থেকে তাদের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।

দুদক সূত্র জানায়, সিলেট-৬ আসনের সাবেক এমপি নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কমিশন গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। দুদক বলছে- নিজ নামে উত্তরা আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাটসহ ৫ কাঠা জমি, নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকায় ৩ কাঠা জমি, তার একক ও যৌথ মালিকানায় সিলেট বিয়ানীবাজারে অকৃষি জমি, তার নামে বিভিন্ন ব্যাংকে জমা ও অন্যান্য বিনিয়োগ, স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন ব্যাংকে জমা; গাড়ি ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৮-৪৪০০ রয়েছে।

নাহিদ তার যুক্তরাজ্য প্রবাসী ভাই ডা. নজরুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বন্ধু কামাল আহমদের মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। মন্ত্রী থাকাকালে ঠিকাদারদের থেকে কোটি কোটি টাকা কমিশনের বিনিময়ে হাতিয়েছেন। তার নিজ নামে, স্ত্রী ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের নামে-বেনামে অর্জন করেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ।

ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করলো সরকার

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগকে হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এর ১৮ (১) ধারার অধীনে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিশেষ করে গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হত্যা, নির্যাতন, গণরুমকেন্দ্রিক নিপীড়ন, ছাত্রাবাসে সিট বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নসহ নানা ধরনের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং এ সম্পর্কিত প্রামাণ্য তথ্য দেশের সব প্রধান গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং কিছু সন্ত্রাসী ঘটনায় সংগঠনটির নেতাকর্মীদের অপরাধ আদালতেও প্রমাণিত হয়েছে।

গত ১৫ জুলাই থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ জনগণকে উন্মত্ত ও বেপরোয়া সশস্ত্র আক্রমণ করে শতশত নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও ব্যক্তিকে হত্যা করেছে এবং আরও অসংখ্য মানুষের জীবন বিপন্ন করেছে।

সরকারের কাছে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে যে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক, ধ্বংসাত্মক ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কাজে জড়িত আছে।

এই অবস্থায় সরকার “সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯” এর ধারা ১৮ এর উপ-ধারা (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ”কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল এবং ওই আইনের তফসিল-২ এ “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ” নামীয় ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ সত্ত্বা হিসেবে তালিকাভুক্ত করল বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

স্থায়ী হওয়ার আশায় কানাডায় পাড়ি দিয়ে হতাশায় ডুবছেন বাংলাদেশিরা

সুমিত আহমদ। সিলেট থেকে কানাডার টরন্টোতে গেছেন পাঁচ মাস হলো। এখনও কোনো কাজ পাননি। প্রতিদিন হন্যে হয়ে কাজ খুঁজছেন। কিন্তু কোথাও তিনি ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন না।

প্রতিদিন দুবেলা করে বাংলাদেশি এলাকাখ্যাত ড্যানফোর্থে আসেন, যদি কারো মাধ্যমে কোনও কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। এ অবস্থায় কীভাবে চলছেন জানতে চাইলে সুমিত আহমেদ বলেন, সরকার যে টাকা (রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলে প্রতি ব্যক্তিকে মাসে ৭০০ ডলারের মতো) দেয়, আপতত সেটা দিয়েই চলছি।

একই অবস্থা এক সময়ের কাতার প্রবাসী হাসমত শিকদারের। তার বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে। উন্নত জীবনের আশায় তিন মাস আগে সুমিত আহমেদের মতো তিনিও টরন্টোতে এসেছেন ভ্রমণ ভিসায়। তবে স্থায়ী হওয়ার জন্য নিজেকে রিফিউজি দাবি করেছেন। তবে এখনও ওয়ার্ক পারমিট পাননি। তাই বৈধ কোনো কাজের সন্ধান করতে পারছেন না। ক্যাশে কোথাও কাজ পাওয়া যায় কি না তাই আপতত খুঁজছেন। কিন্তু সেটাও পাচ্ছেন না। একদিকে ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বাড়ি ভাড়া আর খাওয়া খরচের চিন্তায় রীতিমতো দিশেহারা তিনি। কারণ যে টাকা সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন তা প্রায় শেষের পথে।

সুমিত ও হাসমতের মতো প্রতিদিন অনেক বাংলাদেশির দেখা মেলে টরন্টোর ড্যানফোর্থ এলাকায় গেলে। সকাল থেকে রাত, যখনই যাবেন, কিছু মানুষকে পাওয়া যাবে যাদের আলোচনার মূল বিষয়ই কীভাবে, কোথায় একটা কাজ পাওয়া যাবে। এর মধ্যে আবার বড় একটা অংশ আছেন, যারা ভ্রমণ ভিসায় এসেছেন, কিন্তু স্থায়ীভাবে থেকে যেতে চান।

মোট কথা দেশ ছেড়ে কানাডায় আসা নতুন বাংলাদেশিরা কেমন আছেন, তার খানিকটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়, টরন্টোর ড্যানফোর্থ এলাকায় গেলে। ভিসার ক্যাটাগরির ভিন্নতা থাকলেও সবার সমস্যা এক এবং অভিন্ন; কাজ না পাওয়া।

কথা হয় ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে টরন্টোতে আসা বাংলাদেশি তরুণ সুলাইমান সাহিদের সঙ্গে। তিনি এবং তার স্ত্রী দু’জনই ঢাকায় বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানে মোটামুটি ভালো বেতনে চাকরি করতেন। এক্সপ্রেস এন্ট্রির দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষ করে তারা টরন্টোতে এসেছেন গত বছরের অক্টোবরে। স্ত্রী একটা এনজিওতে চাকরি শুরু করলেও, এখনও নিজের পছন্দের কোন কাজ খুঁজে পাননি সুলাইমান। তিনি বলছিলেন, দেশ হিসেবে ইমিগ্র্যান্টদের জন্য কানাডা অবশ্যই ভালো, কিন্তু সবার জন্য নয়। বিশেষ করে, কেউ এসেই চাকরি পেয়ে যাবে; ব্যাপারটা তেমন নয়। ন্যূনতম ছয় মাস থেকে এক বছর অপেক্ষা করতে হবে একটা মোটামুটি মানের চাকরির জন্য। ফলে মাঝের সময়টায় টিকে থাকার জন্য হাতে টাকা থাকতে হবে। না থাকলে কঠিন হয়ে যাবে।

সুলাইমান বলছিলেন, গত কয়েক মাসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দরখাস্ত করেছি, কিন্তু কোথাও থেকে সেভাবে সাড়া পাচ্ছি না। আমার মতো নতুনদের নিয়ে কানাডার সরকারের অনেক ভালো ভালো প্রোগ্রাম আছে, কিন্তু সেগুলো সবই অনেক সময়সাপেক্ষ।

বাংলাদেশের শক্তিশালী কমিউনিটি না থাকাও নতুন এসে তাড়াতাড়ি চাকরি না পাওয়ার একটা কারণ বলে মনে করেন সুলাইমান। তার মতে, ভারতীয়, কিংবা পাকিস্তানিরা নতুন এসে তাদের কমিউনিটির কাছ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা পেয়ে থাকেন, সেটা বাংলাদেশিরা পায় না। আবার দক্ষতারও অভাব আছে বলে মনে করেন সুলাইমান। বিশেষ করে এখানে কাজ করার জন্য ন্যূনতম যে ইংরেজি জানা দরকার, বেশিরভাগেরই সেটা জানা নেই।

বাংলাদেশিদের কাজ না পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সাংবাদিক গাজী সালাউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, কানাডার মেইনস্ট্রিম যে জব মার্কেট, সেখানে কিন্তু কোনও ঘাটতি নেই। কারণ সরকার এটা নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ এই দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ লোকবল প্রয়োজন, সেই পরিমাণ ইমিগ্র্যান্ট আনে। সালাউদ্দিন মাহমুদের মতে, মেইনস্ট্রিম জব মার্কেটের বাইরে চাকরির সমস্যা আছে। কিন্তু সেটা বুঝতে দুটি বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। এক, দক্ষতা, দুই, কানাডায় আসার ভিসার ধরন। তিনি বলেন, গত দুই বছরে অনেক বাংলাদেশি এসেছে ভ্রমণ ভিসা নিয়ে।

আর এই ভিসা দিয়ে বৈধভাবে কাজ পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবে, ভিন্নভাবে আয়-রোজগারের পথ আছে। সেটা হলো, নগদ পারিশ্রমিকে কাজ করা। আর এই নগদ টাকার কাজগুলো সাধারণত হয় কমিউনিটি-বেজ। অর্থাৎ একজন বাংলাদেশি আরেকজন বাংলাদেশিকে ক্যাশে কাজ দিয়ে সহযোগিতা করে, বিনিময়ে অবশ্য অনেক সস্তায় শ্রম কেনা হয়। কাজ দিতে পারেন এমন বাংলাদেশির সংখ্যা খুব বেশি না হওয়ায় গত দুই বছরে ভ্রমণ ভিসায় আসা মানুষের সংখ্যা যত বেড়েছে, সে তুলনায় কাজের ক্ষেত্র বাড়েনি। ফলে এই শ্রেণির মানুষ যে কাজের সংকটে ভুগছে, তাতে সন্দেহ নেই।

আর যারা স্টুডেন্ট ভিসায় আসছেন, তাদের একটা অংশের দক্ষতার বিরাট অভাব রয়েছে বলে মনে করেন সালাউদ্দিন মাহমুদ। তার মতে, ভারতীয় ছেলে-মেয়েরা যত দ্রুত যে কোনো পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে, বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা সেটা পারে না। ফলে যারা চাকরি দিচ্ছে, তারা বেটার পার্সনকে বেছে নিচ্ছে। আর সেখানেই পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশিরা।

গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ থেকে যারা কানাডায় এসেছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ ভিসা নিয়ে। তাদের একটা অংশ স্থায়ী হতে চান কানাডায়। তাদের এই স্থায়ী হওয়ার প্রক্রিয়াটা মোটেও সহজ না। কারণ প্রথমত, ভ্রমণ ভিসা নিয়ে বৈধভাবে কোথাও কোন কাজ পাওয়া সম্ভব নয়। কাজ পেতে তাদেরকে জব অফার ম্যানেজ করতে হবে। এবং সেটাও হতে হবে কানাডার সরকারের তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান। বিশেষ কাজে বিশেষভাবে দক্ষ না হলে, কোনো প্রতিষ্ঠানই সাধারণত ভ্রমণ ভিসায় আসা কাউকে চাকরির জন্য বিবেচনা করে না।

ফলে ভিজিটর ভিসায় বাংলাদেশ থেকে আসা বেশিরভাগ মানুষ রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রার্থনা করে। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটাও যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি সময়সাপেক্ষ। যে কোনও একজন ভালো মানের আইনজীবীর মাধ্যমে অ্যাসাইলামের আবেদন করলে, পারিশ্রমিক হিসেবে তাকে দিতে হয় ১০ থেকে ১২ হাজার কানাডার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা। আর এই রাজনৈতিক আশ্রয়ের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগ লাগে ন্যূনতম ৫ বছর।

তারপরও কানাডায় এসে বাংলাদেশের অনেক মানুষ বেছে নিচ্ছেন এই পথ।এমনই দুজনের সঙ্গে কথা হলো টরন্টোর স্কারবরো এলাকায়। এরমধ্যে একজন শাহ ফরহাদ, আরেকজন আবুল আহসান। দুজনই এসেছেন সিলেট থেকে। সেখানে দুজনই ব্যবসা করতেন। এরমধ্যে আইনজীবীর মাধ্যমে আবুল আহসান শরণার্থী হওয়ার আবেদন করলেও আরো কিছুদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চান শাহ ফরহাদ। তারপর তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন কানাডায় থেকে যাবেন নাকি দেশে ফিরে যাবেন।

তবে অল্প দিনের মধ্যেই তারা বুঝতে পারছেন স্বপ্ন আর বাস্তবতার ফারাক অনেক। একদিকে ওয়ার্ক পারমিট না থাকায় কোথাও কোনও কাজ পাচ্ছেন না, অন্যদিকে প্রতিমাসে গুণতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের বাড়িভাড়া আর খাওয়ার খরচ। সঙ্গে আইনজীবীর খরচ তো আছেই।

এমন পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে যাবেন কি না জানতে চাইলে সিলেটের আবুল আহসান বলেন, ফিরে যাওয়ার আর কোনও পথ নাই। যেহেতু অনেক টাকা খরচ করে এখানে এসেছি, যত কষ্টই হোক না কেন এখানেই থাকতে হবে।

চাকরি না থাকা বিভিন্ন দেশের এমন মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে কানাডার কিছু প্রতিষ্ঠান।বিভিন্ন এলাকায় তারা সপ্তাহে তিন দিন বিনামূল্যে নানারকম খাবার দিয়ে সহযোগিতা করছে।তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান ফিড স্কারবোরো। মাইনাস ১০-১২ ডিগ্রি ঠান্ডার মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায় অনেক বাংলাদেশিকে। এই লাইনে অবশ্য অন্য অনেক দেশের মানুষকেই দেখা যায়।

বিয়ানীবাজারে পুলিশের অভিযানে ৫ জন গ্রেফতার

বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভূক্ত ২, নিয়মিত মামলার ১ জন ও মোবাইল কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত ৩ জনসহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- দুবাগ ইউনিয়নের বাঙ্গালহুদা গ্রামের আইছ আলীর পুত্র জুয়েল আহমদ, দক্ষিণ পাড়িয়াবহরের আনছার আলীর পুত্র আফতাব আলী, ঘুঙ্গাদিয়া নয়াগাঁওয়ের সিরাজ উদ্দিনের পুত্র রুহুল আমিন মিছবাহ, নয়াগামের মৃত আতর আলীর পুত্র দিলকদর ও বড়লেখা চান্দগ্রামের আব্দুল আজিজের পুত্র হোসেন আহমদ।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে পারিঃ জারী-২৫২/২৩ মামলার বিজ্ঞ আদালতের পরোয়ানাভূক্ত আসামী জুয়েল আহমদ, জিআর-১২১/২৩ মামলার বিজ্ঞ আদালতের পরোয়ানাভূক্ত আসামী আফতাব আলী, বিয়ানীবাজার থানার মামলা এজাহার নামীয় আসামী রুহুল আমিন মিছবাহ (৩০) কে গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়াও সহকারী কমিশনার ভূমি কাজী শারমিন নেওয়াজ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে গাঁজা সেবনের অভিযোগে লাউতা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়িয়াবহর মৃত আনছার আলীর ছেলে আফতাব আলী, পৌরসভার নয়াগ্রাম এলাকার মৃত আতর আলীর ছেলে দিককদর ও বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রাম এলাকার আব্দুল আজিজের পুত্র হোসেন আহমদকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৮ এর ৩৬ (৫) ধারা মোতাবেক ১৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক চৌধুরী বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।