Wednesday, April 15, 2026
Home Blog Page 96

যেভাবে পালিত হলো ‘স্বৈরাচারের চল্লিশা’

কেউ মারা যাওয়ার ৪০ দিন পূর্ণ হলে দোয়া ও মেজবানের আয়োজন করা হয়। এরকম আয়োজনকে বলা হয় ‘চল্লিশা’। রীতি অনুযায়ী এটা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পালন করা হয়। মুসলিম অনুসারীদের মধ্যে এই রেওয়াজটি বেশ পুরনো।

চল্লিশা মূলত মৃত ব্যক্তির স্মরণে পালন করা হলেও এবার ব্যতিক্রমী চল্লিশা ‘উদযাপন’ করল মিরপুরবাসী ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এবারের চল্লিশা কোনো মৃত ব্যক্তির জন্য নয়, গত ৫ আগস্ট ক্ষমতার মসনদ ছেড়ে ভারত পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের চল্লিশ পূর্ণ হওয়ায় পালন করা হয়েছে ‘স্বৈরাচারের চল্লিশা’।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে আজমল হাসপাতালের গলিতে এই চল্লিশার আয়োজন করে মিরপুরবাসী। অপরদিকে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নৈশভোজের আয়োজন করেন।

স্বৈরাচারের চল্লিশা উপলক্ষে গরু জবাই ও বিরিয়ানি রান্না করা হয়। একই সঙ্গে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

রাজধানীর মিরপুরে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। আরও উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরিচিত মুখ মো. নাহী, মাসুদুর রহমান, ফারদিন হাসানসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষার্থী, শ্রমিক, দিনমজুর ও এলাকাবাসী।

বাংলাদেশের আলু, পেঁয়াজ, ডিম ও ইলিশ নিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায়

এবারের দুর্গাপুজোর সময়ে ভারতে যাবে না ইলিশ। এই বিষয়টি বাংলাদেশ অনেক আগেই নিশ্চিত করেছে। ড.মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইলিশের জোগান কম থাকায় রফতানি বন্ধ করে দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। তবে আনন্দবাজর পত্রিকা বলছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এ বার পদ্মার ইলিশ ঢুকছে না পশ্চিমবঙ্গে।

গণমাধ্যমটির দাবি ভারত থেকে ডিম আমদানি করে আমিষের চাহিদা পূরণ করেছে বাংলাদেশ। ভিত্তিহীনভাবে কোন প্রমাণ ছাড়াই আনন্দবাজার পত্রিকায় বলা হচ্ছে ভারত ডিম রপ্তানি করায় বাংলাদেশে ডিমের দাম নেমে এসেছে অর্ধেকে।

ভারতীয় গণমাধ্যমটিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বাজারে প্রতি কেজি আলুর বর্তমান মূল্য কমবেশি ৭০ টাকা। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে আলুর দাম ছিল ৪০-৪৫ টাকার আশপাশে। এই তথ্যটিও ভিত্তিহীন। বাংলা এডিশনকে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারী বাজারে আলুর দাম এখনো ৪৫ টাকা।

পেঁয়াজ নিয়েও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার করেছে আনন্দবাজার। পত্রিকাটিতে বলা হয়, হাসিনা সরকারের আমলে চেয়ে বর্তমানে পেঁয়াজের দাম দেড় গুন বেশি।

পত্রিকাটিতে মুলত ইলিশ না পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। একই সঙ্গে বলা হচ্ছে হাসিনা সরকার না থাকায়,ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের অবণতি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যে।

‘সৈকতে নারীকে হেনস্থা করা ফারুকুলের সঙ্গে শিবিরের দূরতম সম্পর্ক নেই’

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নারীকে কান ধরিয়ে ওঠবস ও হেনস্থা করা ফারুকুল ইসলামের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের দূরতম সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

গণমাধ্যমে পাঠানো ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সাদেক আব্দুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন স্থানে কিছু যুবককে নারীদের গায়ে হাত তোলাসহ অসম্মানজনক আচরণ করতে দেখা গেছে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কাজে ফারুকুল ইসলাম নামে এক যুবককে বিশেষভাবে সক্রিয় দেখা গেছে এবং তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ফারুকুল ইসলাম সরাসরি নিজেকে ছাত্রশিবির বলে পরিচয় না দিলেও তার ফেসবুক ওয়ালে কিছু পোস্ট শেয়ারের কারণে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে যে, সে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত। এই বিভ্রান্তির ফলে ছাত্রশিবিরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো যাচ্ছে যে, ফারুকুল ইসলাম বা তার এই ধরনের আচরণের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের দূরতম কোনো সম্পর্কও নেই। ছাত্রশিবির সব সময় নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং নারীদের অসম্মান, অশ্রদ্ধা বা যেকোনো ধরনের অপমানজনক আচরণের তীব্র বিরোধিতা করে থাকে। ফারুকুল ইসলামের আচরণ ছাত্রশিবিরের আদর্শ ও নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা নারীদের সম্মানহানিকর যেকোনো কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয় নারী বা পুরুষ, যে কেউ অপরাধ করলে আইনগত সহায়তা বা ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা কারও বিরুদ্ধে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়। সকলের উচিত সর্বদা আইন ও ন্যায়বিচারের পথে চলা।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এক তরুণীকে কান ধরিয়ে উঠবস এবং মারধর করা হচ্ছে; এ রকম একটি ভিডিও শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, রাতে সৈকতে এক তরুণীকে কান ধরিয়ে ওঠবস করানো এবং লাঠি দিয়ে পেটানো হচ্ছে এবং তা পাশে দাঁড়িয়ে দেখছেন একদল অতিউৎসাহী জনতা।

কান ধরে ওঠবস করানোর ওই ভিডিও ছাড়াও ফেসবুকে আরও দু’টি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এর একটিতে দেখা যায়, সৈকতে চেয়ারে বসা এক নারীকে একদল যুবক গিয়ে চলে যেতে বলছেন। এক পর্যায়ে তাকে পেটানোর ভয় দেখিয়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। সেখানেও লাঠি হাতে ফারুকুলকে দেখা যায়।

এ ধরনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় ওঠে। পরে শুক্রবার রাতে কক্সবাজার শহরের ভোলা বাবুর পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে ফারুকুলকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। অভিযুক্ত ফারুকুলের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস, বাড়তে পারে দেশেও

বিশ্ববাজারে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববাজারে প্রথমবারের মতো এক আউন্স স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৫৫০ ডলার ছাড়িয়েছে। সেই হিসেবে দেশের বাজারেও যেকোনো সময় দামি এই ধাতুটির দাম বেড়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে।

জানা গেছে, গত সপ্তাহের শুরুতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ২ হাজার ৪৮৬ দশমিক ৯৬ ডলার। সেখান থেকে বেড়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৫৭৮ দশমিক ৪৮ ডলারে থিতু হয় সপ্তাহ শেষে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৯১ দশমিক ৫২ ডলার বা ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এর মধ্যে সপ্তাহে শেষ কার্যদিবসেই প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২০ দশমিক শূন্য ৩ ডলার বা দশমিক ৭৮ শতাংশ।

এর আগে এক আউন্স স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫২৯ দশমিক ৯০ ডলারে উঠেছিল। চলতি বছরের ২০ আগস্ট স্বর্ণের এই দাম হয়। বিশ্ববাজারে এই দাম বাড়ার প্রেক্ষিতে দেশের বাজারেও সে সময় স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৪২ টাকা। এটিই দেশের বাজারে এখনো পর্যন্ত স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে থাকে। সংগঠনটির সবশেষ দেওয়া দাম অনুযায়ী, সর্বশেষ সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬২১ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৪০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৫৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৩২৯ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩ হাজার ৩৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৯৭ টাকা কমিয়ে ৮৫ হাজার ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর এই দাম নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে এই দামেই দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

সংগঠনটির পক্ষে স্বর্ণের দাম বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি। এই কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ১০০ ডলার বেড়ে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে স্বর্ণের আউন্স ২ হাজার ৬০০ ডলার হয়ে যেতে পারে। বিশ্ববাজারে যে হারে স্বর্ণের দাম বাড়ছে, তাতে দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো লাগবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, আমার স্বর্ণের দাম বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারের ওপর ভিত্তি করে। স্থানীয় বাজারে পাকা স্বর্ণের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আবার পাকা স্বর্ণের দাম কমলে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববাজারের দামের চিত্র পাকা স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলে।

সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল হকের বিছানায় টাকার বান্ডিলের ছবি ভাইরাল

সাবেক রেলমন্ত্রী ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের বিছানায় টাকার বান্ডিল ছড়িয়ে থাকার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে ফেসবুক, টুইটার ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে ছবিটি।

ছবিতে দেখা যায়, মুজিবুল হক বিছানায় বসে সন্তানদের নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। তার স্ত্রী হনুফা আক্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বিছানায় ৫০০ ও ১০০০ টাকার বান্ডিল পড়ে আছে। একটি শিশু শপিং ব্যাগ থেকে টাকা বের করে খেলছে।

ছবিটি মুজিবুল হকের সন্তানের জন্মদিনের বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেটিজেনরা মন্তব্য করছেন, জন্মদিনে আনন্দ উদযাপন করতেই বিছানায় টাকার বান্ডিল ছড়িয়ে দেন মজিবুল। তবে ছবিটি কবে তোলা হয়েছে, তা নিশ্চিত করা যায়নি।

মুজিবুল হক টানা তিনবারসহ মোট চারবার সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০১৪ সালে ৬৭ বছর বয়সে দীর্ঘ কুমার জীবনের ইতি টেনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মজিবুল। তার এই বিয়ে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয় তখন। বর্তমানে এই দম্পতির ঘরে তিনটি সন্তান রয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ৮৭৫; শিক্ষার্থী ৫২ শতাংশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৭৫ জন নিহত এবং ৩০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)’।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরে এইচআরএসএস। ১২টি জাতীয় দৈনিক, এইচআরএসএসের তথ্য অনুসন্ধানী ইউনিট ও সারাদেশ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ৭৭ শতাংশই গুলিতে মারা গেছেন। এছাড়া অভ্যুত্থানে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোট ৭৭২ জনের মৃত্যুর ধরন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৯৯ জন বা ৭৭ শতাংশ গুলিতে নিহত হয়েছেন। ৬১ জন (৮ শতাংশ) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। ৮৫ জনকে (১১ শতাংশ) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যান্য কারণে মারা গেছেন ২৭ জন (৪ শতাংশ)।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ৮৭৫; শিক্ষার্থী ৫২ শতাংশ
এইচআরএসএস জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের একাংশের বয়স, পেশা, মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ১৬ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ৩২৭ জন এবং ৪ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (অনেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে মারা যান) ৫৪৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ৭৭ শতাংশ গুলিতে মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ১৯ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার ৫৩ শতাংশ। আর ৩০ বছরের মধ্যে বয়স ধরলে, নিহতের হার দাঁড়ায় ৭০ শতাংশে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী এবং এ হার ৫২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছেন গুলিতে এবং পুলিশের হামলায়।

এইচআরএসএস আরও জানিয়েছে, ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জন্য আদেশ দেওয়া হয়। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, আনসার, সোয়াট, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে গুলির বেআইনি ব্যবহার, কাঁদানে গ্যাসের শেল, এ কে অ্যাসল্ট রাইফেলের মতো প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সিলেটে জুমার নামাজের খুতবা দেওয়ার সময় ইমামের মৃত্যু

সিলেটের গোলাপগঞ্জে জুমার নামাজের খুতবা দেওয়ার সময় মাওলানা মুহিবুল হক নামে এক ইমামের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থতার কারণে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর ইমামতি থেকে তিনি বিদায় নিতে চেয়েছিলেন। জুমার নামাজের পরই এলাকাবাসীর উদ্যোগে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের আয়োজন করার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই তিনি চিরদিনের জন্য বিদায় নেন।

সিলেটের গোলাপগঞ্জে জুমার নামাজের খুতবা দেওয়ার সময় মাওলানা মুহিবুল হক নামে এক ইমামের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থতার কারণে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর ইমামতি থেকে তিনি বিদায় নিতে চেয়েছিলেন। জুমার নামাজের পরই এলাকাবাসীর উদ্যোগে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের আয়োজন করার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই তিনি চিরদিনের জন্য বিদায় নেন।

মাওলানা মুহিবুল হক কানাইঘাট পৌরসভার লালারচক গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গোলাপগঞ্জের সদর ইউনিয়নের ফাজিলপুর খোরাসানি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর ধরে ফাজিলপুর খোরাসানি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মাওলানা মুহিবুল হক।

আজ শেষ জুমার নামাজ ওই মসজিদে পড়ার জন্য খুতবা পাঠ করছিলেন। প্রথম খুতবা পাঠ শেষে দ্বিতীয় খুতবার সময় অসুস্থ হয়ে মাটিতে ঢলে পড়েন। এলাকাবাসী তখন তাকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রবীণ এই আলেমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফাজিলপুর গ্রামের ইউপি সদস্য সুলতান আহমদ মজনু। তিনি জানান, তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আ.লীগের হামলায় বিএনপির নেতা নিহত, আহত অর্ধশত

গোপালগঞ্জ সদরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় এক নেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ঘোনাপাড়া মোড়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানীর গাড়িবহরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। কমপক্ষে ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

নিহত শওকত আলী দিদার (৪০) স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। তিনি আরও জানান, হামলার প্রতিবাদে শনিবার সারাদেশে স্বেচ্ছাসেবক দল বিক্ষোভ কর্মসূচি করবে।

গাড়িবহরে থাকা গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিক উজ্জামান জানান, শুক্রবার বিকেলে গোপালগঞ্জ সদরের বেদগ্রাম মোড়ে বিএনপির পথসভা হয়। সভা শেষে এস এম জিলানী গাড়িবহর নিয়ে গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছিলেন। পথে ঘোনাপাড়া মোড়ে পৌঁছলে মাইকিং করে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২০০-৩০০ নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ব্যারিকেড দেন। এক পর্যায়ে তারা গাড়ি ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের কুপিয়ে জখম করেন। ঘটনাস্থলেই শওকত আলী দিদার মারা যান এবং বহু নেতাকর্মী আহত হন।

সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম লেলিন জানান, ঘোনাপাড়া মোড়ে গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমিন মোল্লা, গোবরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিকরুল ফকির, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলিমুজ্জামান ও হাসান মোল্লার নেতৃত্ব হামলা করা হয়।

হামলার কথা স্বীকার করে ঘোনাপাড়ার আওয়ামী লীগ নেতা আলীমুজ্জামান বলেন, ‘এস এম জিলানীর গাড়িবহর ঘোনাপাড়া অতিক্রমের সময় বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ব্যানার ছিঁড়ে পদদলিত করে। বিষয়টি আমরা মাইকিং করে সবাইকে জানালে, স্থানীয়রা সংগঠিত হয়ে তাদের প্রতিরোধ করেন। তখনই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।’

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আনিচুর রহমান জানান, বিএনপির নেতাকর্মী গাড়িবহর নিয়ে টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছিলেন। কেন এমন হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে শুনেছি, ব্যানার টানাটানি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। পরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ঘোনাপাড়ার অদূরে দোলা পাম্পের বিপরীত পাশ থেকে শওকত আলী দিদার নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানান তিনি।

আহতদের মধ্যে এস এম জিলানী, তাঁর স্ত্রী গোপালগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সভাপতি রওশন আরা রত্না, রাজু বিশ্বাস, মাহাবুব খান মুরাদ, লিন্টু মুন্সী, গোপালগঞ্জের সালমান সিকদার, সুজন সিকদার, সবুজ সিকদার, ঢাকার মতিঝিল এলাকার নাসির আহমেদ মোল্লা, বাদশা মোল্লা, নিশান, হাসান, মাতুয়াইলের আলাউদ্দিনসহ ১৬ জনকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এবং তিনজনকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। পরে জিলানী, তার স্ত্রী রত্না ও বাদশার অবস্থার অবনতি হলে, তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া সময় সময় টিভির গোপালগঞ্জের ক্যামেরা পারসন এইচ এম মানিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. ফারুক আহমেদ জানান, এস এম জিলানীসহ ১৬ জনকে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেশির ভাগেরই মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের জখম রয়েছে। তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ৭২ ঘণ্টা না গেলে চিকিৎসাধীনদের শঙ্কামুক্ত বলা যাবে না।

দল আর মার্কা দেখার সময় শেষ, এখন সময় যোগ্যতা দেখার: সারজিস আলম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, যিনি আপনাদের কথা শুনবেন, প্রশ্নের উত্তর ও জবাবদিহির জন্য প্রস্তুত থাকবেন তাকে সংসদে আপনার প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করুন। দল আর মার্কা দেখার সময় শেষ। এখন সময় যোগ্যতা দেখার।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ মাঠে ছাত্র-নাগরিক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এ দেশের মানুষকে মরতে হয়। এসব হত্যার কোনো বিচার শেখ হাসিনা করতে পারেননি। যারা এ বিচার করতে দেয়নি তারা ভারতের সেবাদাস হিসেবে ছিল। এবার তাদের বিচার করতে হবে।

তিনি বলেন, হাজার ছাত্র-জনতার রক্তে যে স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি সেটিতে যেন কোনো কালো শকুন থাবা দেওয়ার চেষ্টা করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সেই শকুনকে ছাত্র-জনতার ছিড়ে ফেলতে হবে।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সারজিস বলেন, যদি পঞ্চগড়ে আজকের পর থেকে বৈষম্য হয় তাহলে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান এই চার দেশের যে সীমান্ত, এই চার দেশের যে হৃদপিণ্ড তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা আমরা চিরতরে বন্ধ করে দিব।

মতবিনিময় সভায় কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এসআই শাহীন, রাকিবুল রানা মাসুদ, জহির রায়হান, তরিকুল ইসলাম, আবু সাঈদ লিওন বক্তব্য দেন। এতে জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফজলে রাব্বি, মোকাদ্দেছুর রহমান সান, আতিকুর রহমান আতিক উপস্থিত ছিলেন।

থানার সামনে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় আরাফাত হোসেন গ্রেফতার

গত ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় ইন্সপেক্টর আরাফাত হোসেনকে রাজধানীর আফতাবনগর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) তাকে গ্রেফতার করেছে করেছে র‍্যাব-৩।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার ওপর একটি ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়- গুলিবিদ্ধ লাশ ভ্যানে তুলছেন পুলিশ সদস্যরা। পরে একটি পরিত্যক্ত ব্যানার দিয়ে সেগুলো ঢেকে দেয়া হচ্ছে।

ভিডিওতে পুলিশের ভেস্ট আর হেলমেট পরা যাদের দেখা গেছে, তাদের একজন ঢাকা উত্তরের গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রাজধানীর আফতাবনগর থেকে আজ ইনসপেক্টর আরাফাত হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।