Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 102

সিলেটে ছয় মামলায় সাবেক তিনমন্ত্রী-এমপি, মেয়রসহ আসামি ৬৪০৪

সিলেটের চারটি থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র জনতার মিছিলে হামলা, গুলি বর্ষণ, হত্যা ও হত্যা প্রচেষ্টা এবং ভাচঙুর, লুটপাটের ঘটনায় পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইটি করে সিলেট নগরীর কোতোয়ালি ও কোম্পানীগঞ্জ থানায় এবং ফেঞ্চুগঞ্জে এবং অপরটি গোলাপগঞ্জ থানায় (হত্যা) মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় সাবেক তিনমন্ত্রী-এমপি, সিলেট সিটি মেয়র ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের ৬ হাজার ৪০৪ জনকে আসামি করা হয়।

এমপি-মেয়রসহ ৪০১ জনের বিরুদ্ধে মামলা:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় (৪ই আগস্ট) সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলা ও গুলির ঘটনায় মামলা হয়েছে। সাবেক এক সংসদ সদস্য ও তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১০১জনের র নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ফেঞ্জুগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের আব্দুছ ছালামের ছেলে মো. আব্দুর রহমান।

এ মামলায় এজারনামীয় অন্য আসামিরা হলেন সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, এসএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ, অতিরিক্তি পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম উত্তর) মো. সাদেক দস্তগীর কাউছার, বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এসআই কল্লোল গোস্বামী, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খান, সিটি করপোরেশনের ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান, মুহিবুর রহমান উরফে বম কামাল, ফরহাদ বক্স, সুব্রত পুরকায়স্ত, আব্দুল হাই মামুন, আশফাকুল ইসলাম সাব্বির, পান্না দাস, পলাশ দাস, মো. নুরুল ইসলাম খাঁন, দক্ষিণ কাজল শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাহিদ আহমদ বাবলু, শরিফ মিয়া, মুজিবুর রহমান মুজিব, জেলা ছাত্রলীগ নেতা মৃনাল কান্দি দাস, মো. ছায়েদ আলী, মো. আমীর আলী, তারেক, আব্দুল হাই মামুন, শেখ সুয়েব আহমদ মজনু, শেখ হেলাল আহমদ, আছমত আলী আমীর, আশফাকুল ইসলাম ছাব্বির, আল মাহমুদ মলয়, বাবু আহমদ, বিমান দেব নাথ, যুবলীগ নেতা রাহিন আহমদ, নাহিদ চৌধুরী, সম্ভু শাহ, ১নং জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মানিক মিয়া, হারুন মিয়া, মনি লাল ভৌমিক, রাসেল আহমদ, বিষ্ণু দেব নাথ, সেলিম আহমদ জুবেল, ছালেদ আহমদ ডালিম, ফলিক আহমদ, হারুন আহমদ, জুবায়ের আহমদ জুবা, রুহুল আমিন রনি, চমক লাল দেব, জাবেদুর রহমান ডেনেস, হাবিবুর রহমান নিজু, মাসার আহমদ শাহ, মাহবুবুল ইসলাম চৌধুরী মিছলু, রয়েল আহমদ, জয়নাল আবেদীন, ফখরুল ইসলাম, দিদারুল আলম, ফরিদ উদ্দিন, মো. শাকিল চৌধুরী জুবেল, কুরুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বুরহান উদ্দিন রাজন, জালাল আহমদ, ফরহাদ বক্স, সুব্রত পুরকায়স্ত, পান্না দাস, পলাশ দাস, মো. নুরুল ইসলাম, টিপু সুলতান, আব্দুল মুমিন, সিপার আহমদ, দেবাসিশ দেবু, সাইফুর রহমান, হোসেন মিয়া, কামাল হোসেন, ইকবাল হোসেন, আকবর হোসেন (মেম্বার), দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল আলী, সাইদ আহমদ, রোমন আহমদ, ছারোয়ান আহমদ, হোসাইন আহমদ, শহিদুল আলম, বেলাল মিয়া, আব্দুল বাছিত, জুনেদ আহমদ, ফারহান সাদিক, মেহরাব হোসেন জুনেল, পারভেজ আহমদ, নাহিদ সুলতান পাশা, সুয়েব মিয়া, মো. সেকুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম জয়নাল, গবিন্দ দাস, রিফাত ইসলাম, আকিবুল রহমান রাসেল, ফয়ছল আহমদ, আওয়াল মাছুম রিদয়, শেখ টিটু আহমদ, মাহফুজুর রহমান জাহাঙ্গীর, মাশার আহমদ শাহ, আশরাফুল হক এমাদ, আব্দুল আওয়াল কয়েছ, বিজন কুমার দেবনাথ, ডি.এম ফয়ছল, জাবের আহমদ।

কোম্পানীগঞ্জে দুই মামলায় আসামি ৫৪৩
কোম্পানীগঞ্জে আবু তাহের মুমিনের অপহরণের ঘটনায় ১০ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) কোম্পানীগঞ্জ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন উপজেলার পাড়ুয়া মাঝপাড়া গ্রামের মো. শওকত আলী বাবুল (৬০)।

মামলায় আসামি হলেন সিলেট-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেকমন্ত্রী ইমরান আহমদ (৭০), গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক (৫৫), অকিল বিশ্বাস (৪৭), তামান্না নাজমুন হেনা (৪১), ফারুকুজ্জামান রানা (৩২), আহমদ রেজা রুবেল (২৭), আব্দুর রহমান (৩৫), শাহ আলম স্বাধীন (৩০), কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী, কোম্পানীগঞ্জ থানা এসআই জাহাঙ্গীর আলম।

বাদি এজাহারে উল্লেখ করেন আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী হিসেবে কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় ১২০ ব্যাগ ত্রাণ নিয়া বিতরণের জন্য যান ইমরান আহমদ। বাদি তার ফেইসবুক আইডিতে একটি পোষ্টে মত প্রকাশের অধিকার হিসেবে পোষ্টে উল্লেখ করি যে, রাতের ভোটের অবৈধ কর্মহীন মন্ত্রী কোম্পানীগঞ্জের ক্ষুর্ধাত মানুষের সাথে ত্রাণ দেওয়ার নামে মশকরা করতে এসেছিলেন। শুধুমাত্র ফাটোসেশনের জন্য’। উল্লেখিত পোষ্টগুলোর কারণে বাদির ছোট ভাই ‘আবু তাহের মুমিন’ ভিকটিমকে ৯ ও ১০ নং আসামির নেতৃত্বে সাদা পোষাকে আরো ১২জন অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী আসামিরা বাদির ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করেন। কালো কাপড়ে চোঁখ বেধে হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে কালো গ্লাসযুক্ত একটি মাইক্রোতে করে তুলে নিয়ে যায়। অতপর বাদির আত্মীয়স্বজন পরদিন কোম্পানীগঞ্জ থানায় গিয়ে মুমিনের সন্ধান করলে ৯ ও ১০ নং আসামীসহ থানা কর্তৃপক্ষ ভিকটিমের ব্যাপারে কিছু জানে না বলে বিদায় করে দেয়। ফেইসবুক পোষ্টের কারণে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য অপহরণপূর্বক হত্যা করে লাশ গুম করতে চেয়েছিল। ২৫ জুলাই রাতে বাদির ভাইকে অজ্ঞাতনামা আসামীরা কোম্পানীগঞ্জ ধলাই ব্রীজের পশ্চিমে চোখ ও হাত বাধা অবস্থায় ফেলে যায়।

অপরদিকে কোম্পানীগঞ্জে আরেকটি মামলা দায়ের হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ মামলায় ৩৩ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইয়াকুব আলী (৫৭), যুগ্ম সম্পাদক অখিল চন্দ্র বিশ্বাস (৫৫), কোম্পানীগঞ্জ থানা যুব লীগের সভাপতি হাজী আলা উদ্দিন (৫০), কোম্পানীগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি উমর আলী (২৮), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম স্বাধীন (২৭), কোম্পানীগঞ্জ যুবলীগের সদস্য জাফর মিয়া (৩৭), আজিম উদ্দিন (৩০),জাকির হোসেন (৩৮), ফারুকুজ্জামান রানা (৩৫), আতাউর রহমান (৪৫) ও মজনু মিয়া (৫৫), সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী দুলাল (৬০), কোম্পানীগঞ্জ থানা যুবলীগের সদস্য জাকির হোসেন (৩৫), আনোয়ার হোসেন (৫০), ইকবাল হোসেন (৫০), শরীফ আহমদ (২০), ইকবাল হোসেন (২৬), নাঈম আহমদ অনন্ত (৩০), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেলাল আহমদ (৫৫), আলাম উদ্দিন (৫০), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তামান্না আক্তার হেনা, আজমল হোসেন সেলিম (৫২), আনোয়ার সেলিম, জুনাইদ ইভান (২৮), জীবন মিয়া (৩৬), আব্দুর রহমান, ফরিদ মিয়া (৩৬), সাতাই (৩৭), নাজমুল ইসলাম, ছালেক আহমদ, সিরাজ উদ্দিন, রাসেল মিয়া (২৫), ৬নং দক্ষিণ রনিখাই ইউ/পি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন এমাদ।

গোলাপগঞ্জে হত্যা মামলায় আসামি ৪৮
গোলাপগঞ্জে আরেক হত্যা মামলায় এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেকমন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ ২৮ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৫/২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন উপজেলার বারকোট গ্রামের মৃত তাজ উদ্দিনের স্ত্রী রুলী বেগম।

মামলায় নুরুল ইসলাম নাহিদ ছাড়াও্ এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান, (৬০), কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরওয়ার হোসেন (৫৫), উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আলী আকবর ফখর (৪৫), কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম সুয়েব (৫৫), আওয়ামী লীগ নেতা গুলজার হোসেন (৪৫), দক্ষিণ সুরমার সাইদুল ইসলাম (৩৮) ও সাহেদ আহমদ (৩২), লিটন আহমদ (৩৫), আমুড়ার কামাল মিয়া (৪৫), উপজেলার শেরপুরের হাবিবুর রহমান (৪৫) ও শাকিল আহমদ (৩৫), বাঘা সোনাপুরের সুরমান আলী (৫৫), হাজিপুরের বদরুল ইসলাম (৪৫), কায়স্তগ্রামের মনসুর আহমদ (৩৭), জকিগঞ্জের কসকনকপুরের নজরুল হক তফাদার (৪৫), বুধবারিবাজরের আবজাল হোসেন (৪০), চন্দরপুরের হাসান আহমদ (৩৪), কায়স্তগ্রামের কবির আহমদ মেম্বার (৪০), হাবিবুর রহমান শোভন (৩০), শরীফগঞ্জের দুলাল আহমদ (৪০), ইসলামপুরের রাসেল আহমদ (৩৫), খাটকাইয়ের এনামুল হক এনাম (৩৫), জইন খান (৩০), জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), জসিম উদ্দিন (৪০),আজিজুর রহমান (৫০), নাহিদ আহমদ (৩০)।

নগরীতে দুই মামলায় আসামি ৫৪১১
সিলেট নগরীর কোতেয়ালি থানায় দুইটি মামলা হয়েছে। এর একটিতে পুলিশ। অন্যটির বাদি ব্যবসায়ী।
৫ আগস্ট বিকেলে কোতোয়ালি থানায় হামলা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত ৪/৫ হাজার জনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) মামলাটি দায়ের করেন কোতোয়ালি থানার থানার এসআই রমাকান্ত দাস।

ওইদিন সিলেট নগরীর নয়াসড়ক পয়েন্টে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করেন সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার নিজগাও গ্রামের মৃত ছুরত আলীর ছেলে নগরীর নয়াসড়ক নান্না বিরিয়ানির স্বত্ত্বাধিকারী মো. আক্কাছ আলী।
মামলায় সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদসহ (৩৬) ১১১ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২৫০/৩০০ জনকে আসামি করা হয়।

এ মামলায় অপর আসামিরা হলেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ (৩০), মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি কিশোর জাহান সৌরভ (৩২), জেলার সভাপতি নাজমুল ইসলাম (৩৫), ২৪নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি আকবর হোসেন অপু (২৯), একই ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা হাবিব আহমদ সাফাত (২৫), আতিকুর রহমান মুন্না (২৭), এসএম. আলী হোসেন (৫০), তৌসিফ নিমাদ (২৪), মিসবাউল ইসলাম কয়েছ (৪৫), সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ (৪০), তুষার আহমদ (২৮), জাবেদ আহমদ (৪০), হুমায়ুন রশিদ সুমন (৩৭), বেলাল আহমদ (৪২), রায়হান খান রুহান (২৮), জামাল উদ্দিন (৩৮), নজরুল ইসলাম (৪৫), আব্দুল বাছিত রুম্মান (৩৫), হায়দর (৩৪) আব্দুস সালাম রাহাত (৩০), সাহিদুর রহমান (৩৫), জুয়েল আহমদ (৩৬) প্রমুখ।
তথ্যসূত্র: শ্যামল সিলেট

নায়িকা মাহিকে দেড় ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। সেজন্য বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই নিরাপত্তা বেষ্টনীর মুখে পড়লেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি।

সম্প্রতি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন এ অভিনেত্রী। সেখানে তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছেন মাহি নিজেই। এ সময় খোঁজ করা হয় নথিপত্রে।

সম্প্রতি ফেসবুকে এক ভিডিওবার্তায় অভিনেত্রী জানান, বিমানবন্দরে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে তার নাম আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়েছে।

মাহি বলেন, এক থেকে দেড় ঘণ্টা হবে, আমি জাস্ট বসেছিলাম। কারণ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে চাইছিল আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কিনা। ডিজিএফআই, এনএসআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ভালোভাবে চেক করার পরই ফ্লাই করতে পেরেছি।

পুরো বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা মন্দ কিছু নয়।

প্রসঙ্গত, মাহিয়া মাহি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। দলটির থেকে মনোনয়ন না পেয়ে গত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়েছেন তিনি।

সাকিব তো বাংলাদেশকে কিছু এনে দেয়নি: আসিফ নজরুল

গত সপ্তাহে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে পাকিস্তানকে হারিয়ে ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ। সে টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ে অবদান রেখেছেন সাকিব আল হাসান। অথচ, এর আগেই একটি হত্যা মামলায় নাম উঠেছে তাঁর।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণ আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুর এলাকায় এক গার্মেন্টস শ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় রাজধানীর আদাবর থানায় সাকিবের নামে একটি মামলা হয়। এরপর সাকিবকে জাতীয় দল থেকে অপসারণ করে তদন্তের স্বার্থে দেশে ফেরাতে লিগ্যাল নোটিশও পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

বোর্ডের পক্ষ থেকে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দলের সঙ্গেই থাকবেন সাকিব। খেলবেন পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেও। সিরিজ শেষে সেখান থেকে কাউন্টি খেলতে যাবেন ইংল্যান্ডে। পরবর্তী সিরিজ খেলতে সেখান থেকেই দলের সঙ্গে ভারতে যোগ দেবেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার।

এরপরও সাকিবকে নিয়ে জল্পনা থামছে না। অনেকের মনেই প্রশ্ন, দেশে ফিরলে সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হবে কিনা। আজ বুধবার সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টার কাছেও সাকিব ইস্যুতে প্রশ্ন গেলে উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, সাকিবের বিরুদ্ধে কেবল মামলা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, সাকিব গ্রেপ্তার হবেন না।

সাকিবের ইস্যুতে উত্তর দিতে গিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলামের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন আইন উপদেষ্টা। গত বছর পুলিশকে আক্রমণ, ধংসযজ্ঞ চালানো ও নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জাতীয় দলের সাবেক গোলকিপার।

সেটি মনে করিয়ে দিয়ে সাংবাদিকদের আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘এটা (মামলা) তো আওয়ামী লীগই শুরু করেছিল। ঠিক না? আমিনুল যিনি ফুটবলার… সাকিব তো আর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য কিছু আনেনি। সাকিব নিজে অনেক কিছু অর্জন করেছে। আমিনুল তো বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য পুরস্কার বয়ে এনেছিল। এনেছিল না? জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিল। আমিনুলকে যেভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল, তখন কি আপনারা প্রশ্ন করেছিলেন? আমিনুলকে তো জেলে ভরা হয়েছিল। সাকিবের বিরুদ্ধে (এখনো) শুধু মামলা হয়েছে।’

আমিনুলকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, ভবিষ্যতে সাকিবকেও তেমন কিছুর মধ্য দিয়ে যেতে হবে কিনা, সে সম্পর্কে আইন উপদেষ্টা বলেছেন, ‘এটা পুলিশ-প্রশাসনের ব্যাপার। তারপরেও আমরা যতটুকু বলার দরকার, বলার চেষ্টা করেছি। মামলা হওয়া বা এফআইআর হওয়া মানে তো গ্রেপ্তার না। আমার বিশ্বাস, আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে অতিউৎসাহী হয়ে কেউ গ্রেপ্তার করতে না যায়।’

সাকিবের ক্ষেত্রে সবাই যেমন সরব, আমিনুল ইস্যুতে সবাই (সংবাদমাধ্যম) চুপ ছিলেন কেন? এ প্রশ্ন তুলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা তো জানেন, এভরি অ্যাকশন হ্যাজ সাম রিয়্যাকশন। ইকুয়েল রিয়্যাকশন বলে। কিছু রিয়্যাকশন তো হয়। সেটা আমরা পছন্দ করি না। কিন্তু এই রিয়্যালিটিটা তো বুঝতে হয়। আউট অব দ্য ব্লু তো আসে নাই। আমিনুলকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, দিনের পর দিন জামিন দিচ্ছিল না। আমি নিজে শুধু প্রথম আলোতে কলাম লিখেছি। আপনাদের কাউকে কলাম লিখতে দেখি নাই আপনাদের পত্রিকায়।’

বাংলাদেশের ফুটবলে সবচেয়ে বড় সাফল্যটা এসেছে আমিনুলের হাত ধরেই। ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। ফাইনালে টাইব্রেকারে দুটি শট ঠেকিয়ে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন আমিনুল।

তবে আমিনুল যেমন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, প্রধান উপদেষ্টার আশা, সাকিব গ্রেপ্তার হবেন না। আসিফ নজরুলের ভাষায়, ‘বাংলাদেশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তাঁর (আমিনুলের) নেতৃত্বে। তাঁকে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করেছে। দিনের পর দিন তাঁর জামিন নাকচ করেছে। সাকিবের বিরুদ্ধে শুধু মামলা হয়েছে। আমি আশা করি, সাকিব গ্রেপ্তার হবে না। আমি যতদূর জানি, আমাদের পুলিশ বাহিনীকে এ রকম একটা নির্দেশনা দেওয়া আছে যে, স্পষ্টত খুব অবিশ্বাস্য কিছু না হলে যতটা পারা যায় আইনগত সীমার মধ্যে থেকে ধৈর্য দেখানোর জন্য।’

ছুরিকাঘাতে গর্ভের সন্তানসহ মায়ের মৃত্যু

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ছুরিকাঘাতে আহত সীমা আক্তার (২২) নামে এক নারী ও তার গর্ভে থাকা সাত মাসের সন্তান মারা গেছে।

গত মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) আহত হওয়ার পর রাতেই সীমার গর্ভের সন্তান মারা যায়, আর বুধবার (২৮ আগস্ট) মারা যান তিনিও।

যাত্রাবাড়ী শহিদ জিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনে একটি বাসায় মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা মাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনেরা। সীমার বয়স ছিল ২২ বছর।

নিহতের বাবা ও ভাই জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর বাবার বাড়ি গিয়েছিলেন সীমা। সেখানে বাসায় ঢোকার এক ব্যক্তি ভিতরে প্রবেশ করে এবং কোনও কিছু বুঝে উঠার আগেই সীমাকে ছুরিকাঘাত করে। তখন সে বলতে ছিল- আমি অন্তঃসত্ত্বা আমাকে মাইরেন না। কিন্তু ঘাতক তার কোনও কথা না শুনে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেই দ্রুত পালিয়ে যায়।

তারা জানান, ছুরিকাতের পর সীমা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছটফট করছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ভর্তির পর গাইনি বিভাগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে অস্ত্রোপচার করে গর্ভের সন্তান (পুত্র) বের করা হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই শিশুটি মারা যায়। গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন সীমা। বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তিনিও মারা যান।

তবে ঘাতক ব্যক্তিটি কে এবং কেন তাকে ছুরিকাঘাত করল সে ব্যাপারে কিছুই বলতে পারেননি সীমা।

ঘটনার সময় সীমার স্বামী ও তারা বাবা বাসায় ছিলেন না বলে নিহতের ভাই নাসির ও চাচাতো ভাই মোশাররফ জানান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, নিহত নবজাতক ও তার মায়ের মরদেহ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।

নায়িকা হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন দীপ্তি চৌধুরী

একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে টক শো ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এ সঞ্চালনা করে আলোচনায় উঠে আসেন অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক দীপ্তি চৌধুরী। মূলত, একটি পর্বে সাবেক বিচারপতি মানিকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিপরীতে ধৈর্য ও ভদ্রোচিত আচরণের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সবার নজর কাড়েন তিনি।

এরপর থেকেই এই উপস্থাপিকাকে নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয় চারপাশে। যার রেশ ধরে সিনেমায় নায়িকা হওয়ারও প্রস্তাব পান দীপ্তি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার নতুন ছবিতে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয় তাকে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ। নতুন সিনেমার জন্য আজিজের পছন্দের তালিকায় প্রথম ছিলেন দীপ্তি চৌধুরী। তবে নায়িকা হওয়ার সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। এই মুহুর্তে কোনো সিনেমায় অভিনয় করতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন দীপ্তি।

দীপ্তি চৌধুরী
দীপ্তি চৌধুরী

বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে আব্দুল আজিজ বলেন, ‘নতুন একটি সিনেমার কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে গল্প-স্ক্রিপ্ট লেখার কাজ শেষ। সিনেমাটির জন্য নতুন একজন মুখ খুঁজছি। প্রথমে দীপ্তি চৌধুরীকে নায়িকা হিসেবে চেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু এই মুহুর্তে সিনেমায় অভিনয় করতে চাচ্ছেন না তিনি। সিনেমাটির গল্পে সমাজের বাস্তবচিত্র ফুটে উঠবে। আশা করছি, দর্শকদের ভালো লাগবে।’

প্রসঙ্গত, টক শো ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এ আলোচক হিসেবে অংশ নেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। কিন্তু আলোচনার একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে তিনি সঞ্চালক দীপ্তি চৌধুরীর ওপর ক্ষিপ্ত হন। পুরো অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকবার উপস্থাপিকার ওপর নিজের ক্ষোভ ঝাড়েন এবং উচ্চবাচ্য করেন। শুধু তা-ই নয়, অনুষ্ঠান শেষে স্টুডিও ছাড়ার আগে উপস্থাপিকাকে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলেও মন্তব্য করেন।

এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে যায়। যেখানে ধৈর্য ও ভদ্রোচিত আচরণের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সবার নজর কাড়েন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী।

খালের বাঁধ কাটতে এসে ফেনীতে বিজিবির বাধায় পিছু হটলো বিএসএফ

ফেনীর পরশুরামের মির্জানগর ইউনিয়নের নিজ কালিকাপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় বল্লামুখার বাঁধ কেটে দেওয়ার চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ সময় বিএসএফের সদস্যরা পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে সেখান থেকে সরে যান বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাতে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের চাপে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিলোনিয়া শহর প্লাবিত হয়। পরে বল্লামুখা খালের মুখে ভারতীয় অংশে বিএসএফ সদস্যদের সহযোগিতায় বাঁধ কেটে দেয় ভারতীয়রা। এতে সিলোনিয়া নদীর পানি বেড়ে বহু গ্রাম প্লাবিত হয়।

একপর্যায়ে তারা বাংলাদেশ অংশে বাঁধটিও কেটে দেওয়ার জোর চেষ্টা চালায়। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে তা ব্যর্থ হয়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ও নেটওয়ার্ক না থাকায় বিষয়টি এতদিন জানাজানি না হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

এ ব্যাপারে মো. মোস্তফা, দেলোয়ার হোসেন, মো. ইসমাইল হোসেনসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা বলেন, গত ২০ আগস্ট সকালে বিভিন্ন মসজিদে মাইকিং করে বল্লামুখার খালের বাঁধের ব্যাপারে গ্রামবাসীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়। ওইদিন রাত ৮টার দিকে বাংলাদেশ অংশের বাঁধ কাটতে চেষ্টা করে বিএসএফ।

তাদের সহযোগিতায় ভারতীয় নাগরিকরাও এগিয়ে আসেন। বাঁধে অবস্থান নেওয়া বাংলাদেশি বাসিন্দাদের ছত্রভঙ্গ করতে বিএসএফ পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে নিজ কালিকাপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা। তাদের বাধার মুখে খালের বাঁধটি কাটতে পারেনি ভারতীয়রা। এতে বন্যায় আরও বেশি দুর্ভোগের হাত রক্ষা পেয়েছে মির্জানগর ইউনিয়নসহ পরশুরামের নিম্নাঞ্চল।

ইউনুছ মিয়া নামে বয়োবৃদ্ধ আরেক বাসিন্দা বলেন, বাঁধটি কেটে দেওয়া হলে মির্জানগর ইউনিয়নসহ পরশুরামে আরও বেশি পানি প্রবেশ করত। ১৯৮৩ সালের বন্যার সময়ও এ বাঁধটি কেটে দেওয়ায় পরশুরামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

নিজ কালিকাপুর বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক রুম্মান শরীফ বলেন, বাঁধটি যেন কোনোভাবে কাটতে না পারে সেজন্য আমরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে সেদিন বাঁধের ওপরে অবস্থান নিয়েছিলাম। বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ওই এলাকায় সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতের অংশে বাঁধ কাটার চেষ্টা করা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা এতে বাধা দেন। পরে বিজিবি সদস্যরা গেলে তারা সরে যান।

প্রসঙ্গত, উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের নিজ কালিকাপুরে ভারত সীমান্তে মুহুরী নদী-সংলগ্ন চরের পশ্চিমে-দক্ষিণে রয়েছে একটি মরা নদী। সেটি বল্লামুখার খাল নামে পরিচিত। বল্লামুখার খাল নিজ কালিকাপুর থেকে শুরু হয়ে রাঙ্গামাটিয়া, ফকিরের খিল, উত্তর কাউতলী, বাইন্যা গ্রাম, ডিএম সাহেবনগর, মেলাঘর, মির্জানগর, গদানগর, পূর্ব সাহেবনগর, কালীকৃষ্ণনগর গ্রাম দিয়ে সিলোনিয়া নদীতে মিলিত হয়েছে।

সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণেরবারসহ একজন আটক

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণে স্বর্ণেরবারসহ একজনকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ আগস্ট) সকালে দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটে তল্লাশি চালিয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও কাস্টম হাউজের কর্মকর্তারা স্বর্ণের এই চালান জব্দ করেন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৮টা ২১ মিনিটে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট (বিজি- ২৫২) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

পরে সেই বিমানে থাকা যাত্রী হোসাইন আহমদ গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করে কনকোর্স হল অতিক্রম করার সময় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এন এস আই) ও শুল্ক গোয়েন্দাদের সন্দেহ হলে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ জব্দ করা হয়।

ফোনে কেউ আড়ি পাতছে কি না, যেভাবে বুঝবেন

আপনার ব্যবহৃত স্মার্টফোনে কেউ আড়ি পাতছে কি না বা কেউ আপনার অবস্থান শনাক্ত করছে কি না, তা বোঝা যায় ফোনের কিছু আচরণে। অসাধু চক্র দ্বারা আপনি ট্র্যাক বা ট্যাপড হচ্ছেন, এমন সন্দেহ হলে বেশ কিছু বিষয়ে কড়া সতর্ক থাকতে হবে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকলে ঝুঁকির পরিমাণও কমিয়ে আনা সম্ভব।

ফোন একা একা বন্ধ হয়ে ফের চালু হওয়া
যদি আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোনের অপারেটিং সিস্টেম হালনাগাদ (অটোমেটিক আপডেট) করার কোনো সেটআপ না করে থাকেন, তাহলে ফোন নিজে নিজে বন্ধ হয়ে আবার চালু হওয়ার (রিবুট) বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হোন। কেউ যদি দূর থেকে আপনার ফোনে প্রবেশের চেষ্টা করে, সে ক্ষেত্রে এমনটা হতে পারে।

অস্বাভাবিক শব্দ
কথা বলার সময় যদি ফোনে ক্লিক করা বা ট্যাপ করার মতো শব্দ শোনা যায়, এটি হতে পারে এটি আড়ি পাতার সংকেত। যদি শুধু একবার একটি কলে এমন শব্দ শোনেন, তাহলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। যদি প্রতিটি কলে কথা বলার সময় এমন শব্দ হয়, তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

অকারণে স্ক্রিনে আলো জ্বলা
অকারণেই ফোনের স্ক্রিনের আলো জ্বলছে, এ ধরনের লক্ষণও দুশ্চিন্তার। যদি অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি না থাকে, তাহলে এ ধরনের সমস্যার মানে হলো আপনার ফোনে অন্য কেউ কিছু করছে, যা আপনার ফোন ধরতে পেরেছে।

দ্রুত চার্জ শেষ হওয়া
ফোন যদি ট্র্যাক করা হয়, অর্থাৎ আপনার মুঠোফোনের অবস্থান কেউ যদি অনুসরণ করে, তাহলে ব্যাটারির চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যাবে। যেহেতু ফোনের নেপথ্যে স্পাইওয়্যার সব সময় সক্রিয় থাকে, তাই এটি দ্রুত ব্যাটারির চার্জ খেয়ে ফেলে।

অদ্ভুত বার্তা
অনেক স্পাইওয়্যার অচেনা (ফোন ব্যবহারকারীর কাছে) নম্বর থেকে অদ্ভুত বার্তা পাঠায়। এই বার্তায় এলোমেলোভাবে অক্ষর ও সংখ্যা থাকে। এগুলো আসলে একটি সংকেত। এর মানে হচ্ছে, সম্ভবত এই বার্তা বা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে স্পাইওয়্যার আপনার ফোনে ঢোকার চেষ্টা করছে।

ফোন বেশি গরম
ফোন ছুঁয়ে দেখুন। স্বাভাবিকের চেয়ে কি বেশি গরম মনে হচ্ছে? তাহলে ফোনে স্পাইওয়্যার থাকতে পারে।

অচেনা অ্যাপ
নানা কাজের জন্য যেসব অ্যাপ ফোনে ব্যবহার করা হয়, ব্যবহারকারী সেই অ্যাপগুলো চেনেন। ফোনে যদি এমন অ্যাপ দেখেন যা আপনার অচেনা, তবে সচেতন হতে হবে। অপরিচিত অ্যাপ স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে ফোনে প্রবেশ করে।

স্পাইওয়্যার মুছে ফেলতে যা করণীয়:
ফোনে স্পাইওয়্যার থাকার সম্ভাবনা থাকলে প্রথমেই ফোনে অ্যান্টি-স্পাইওয়্যার অ্যাপ নামিয়ে স্ক্যান করে সেগুলো মুছে ফেলতে হবে। এর পাশাপাশি আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের হালনাগাদ সংস্করণ ব্যবহারের পাশাপাশি ফোনে থাকা অপরিচিত অ্যাপগুলো মুছে ফেলতে হবে। এরপরও স্পাইওয়্যার মুছে না গেলে ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করতে হবে। তথ্যসূত্র: উইকিহাউ

হাতিরঝিল থেকে জি-টিভির নিউজরুম এডিটরের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর হাতিরঝিলে পানিতে ডুবে সারা রাহানুমা (৩২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি জি-টিভির নিউজরুম এডিটর ছিলেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাহানুমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী সাগর বলেন, হাতিরঝিল লেকের পানিতে ভাসমান অবস্থায় ওই নারীকে দেখতে পাই। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ১০ ঘণ্টা আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের লোকেশন দিয়ে ফাহিম ফয়সালের সঙ্গে সারা তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লিখেন, আপনার মত একজন বন্ধু পেয়ে ভালো লাগলো, ঈশ্বর আপনাকে সর্বদা আশীর্বাদ করুন। আশা করি আপনি শিগগিরই আপনার সমস্ত স্বপ্ন পূরণ করবেন, আমি জানি আমরা একসঙ্গে অনেক পরিকল্পনা করেছি। দুঃখিত আমাদের পরিকল্পনা পূরণ করতে পারিনি, ঈশ্বর আশীর্বাদ করুন।
হাতিরঝিল থেকে জি-টিভির নিউজরুম এডিটরের মরদেহ উদ্ধার
এছাড়া ১১ ঘণ্টা আগে অন্য আরেকটি স্ট্যাটাসে সারা লিখেন, জীবন্মৃত হয়ে থাকার চাইতে মরে যাওয়াই ভালো।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, আমরা মরদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রেখেছি। ঘটনাটি হাতিরঝিল থানা পুলিশকে জানিয়েছি।

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২ বাংলাদেশির

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় লিয়ন ফকির (২৬) ও নাজমুল শেখ (২৫) নামে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অলিউডর রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

নিহত লিয়ন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চৌধুরীকান্দা গ্রামের জাহাঙ্গীর ফকিরের ছেলে এবং নাজমুল তুজারপুর ইউনিয়নের ভদ্রাসন গ্রামের ইউনুস শেখের ছেলে।

নিহত লিয়নের মামা মো. লেবু মিয়া জানান, ১১ মাস আগে সৌদি যান লিয়ন ফকির। শনিবার রাতে নাইট ডিউটি করে ভোর রাতে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের গাড়িতে থাকা ৭ শ্রমিকের মধ্যে ছয়জন মারা যান। এরমধ্যে আমার ভাগ্নে লিয়ন ফকির ও পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের নাজমুল শেখ রয়েছে। তাদের মরদেহ এখনো দেশে এসে পৌঁছেনি।