Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 17

২১ বছর পর সিলেটের মাটিতে স্ত্রীকে নিয়ে তারেক রহমান

রাজনৈতিক নানা নাটকিয়তা আর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২১ বছর পর সিলেটের মাটিতে পা রাখলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সিলেট সফরে তাঁর সাথে রয়েছেন সিলেটেরই মেয়ে ডা. জুবাইদা রহমান। সিলেটি জামাইয়ের এ আগমনে উচ্ছ্বাসিত সিলেটবাসী।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৮টায় বিজি-২২৭ বিমানযোগে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারেক রহমান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৪ সালের বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে সিলেটে এসেছিলেন তারেক রহমান।

জানা যায়, দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর সিলেট হয়ে দেশের মাটিতে পা রাখেন তিনি। সিলেটে আসার পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আলিয়া মাদরাসা মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবে বিএনপি। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে সিলেটবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। এর আগে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন তারেক রহমান।

মাজার জিয়ারতের পর সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। এর আগে বুধবারয় সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে তিনি গুলশানের বাসভবন থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

এদিন রাতে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন তারেক রহমান। আগামীকাল সকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেবেন।

সিলেট সফরে তারেক রহমান পর্যায়ক্রমে মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠ, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত উপজেলা মাঠ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া খেলার মাঠ, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব স্টেডিয়াম, নরসিংদীর পৌর এলাকা সংলগ্ন এলাকা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার রূপগঞ্জের গাউসিয়ায় সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

সিলেটে মাঠ ছাড়েননি বিএনপির ৫ বিদ্রোহী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিলো মঙ্গলবার। সিলেট বিভাগের ১৯ টি আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী এদিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির ৫ বিদ্রোহী শেষ দিনেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি।

শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন তারা। এই ৫ প্রার্থী হলেন- সিলেট-৫ আসনে জেলা বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), হবিগঞ্জ-১ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি শেখ সুজাত, মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন এবং সুনামগগঞ্জ-৪ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে এই পাঁচ আসনে বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীদের বিপাকে পড়তে হতে পারে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সিলেট জেলার মধ্যে একমাত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ। যিনি চাকসু মামুন নামে পরিচিত। তিনি সিলেট-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় মামুনকে দল থেকে সম্প্রতি বহিস্কার করা হয়েছে।

এই আসনটি জোটসঙ্গী জমিয়ত ইসলামকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এখানে প্রার্থী হয়েছেন জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপি নেতা শ্রীমঙ্গল পৌরসভার চেয়ারম্যান মো. মহসিন মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য কয়ছর এম আহমদ। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।

সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুরুল। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।

তবে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া।

সিলেট-৩: জোটের ‘বলি’ জামায়াতের জনপ্রিয় নেতা লোকমান!

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী কে এনিয়ে সোমবার রাত থেকে চলছে নানা আলোচনা।

জানা গেছে, জামায়াত নেতা মাওলানা লোকমান আহমদকে গতরাতেই প্রার্থীতা করতে ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মুসলেহ উদ্দীন রাজুকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে।

এর ফলে জোটের বলি হতে যাচ্ছেন মাওলানা লোকমান আহমদ। যিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

তবে জোটের এমন সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ জামায়াতের নেতাকর্মীরা। লোকমান আহমদকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের চিঠি দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার দুপুর থেকে দলটির নেতাকর্মীরা লেঅকমানের দক্ষিণ সুরমার বাসায় জড়ো হতে থাকেন। তারা লোকমান আহমদের বাসার গেইটে তালা দিয়ে বাইরে বিক্ষোভ করছেন। এ আসনে লোকমানকেই জোটের প্রার্থী দেওয়ার দাবি তাদের।

লোকমান আহমদের বাসার সামনে জড়ো হওয়া জামায়াতের একাধিক নেতাকর্মী জানান, গত রাতে জোটের পক্ষ থেকে লোকমান আহমদকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আশার প্রতিফলন ঘটেনি।

তাদের মত, এ আসনে যাকে জোটের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি জনবিচ্ছিন্ন আলেম। লোকমান আহমদ ছাড়া এ সেনে অন্য কাউকে জোটের প্রার্থী কেলে এই আসনটি হাতছাড়া হয়ে যাবে।

জোটের এমন সিদ্ধান্ত পূনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এরআগে গত ১৫ জানুয়ারি ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনের পর জানা যায়, সিলেটের ১০ টি আসনে জামায়াত নেতারাই জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যার মধ্যে সিলেট-৩ আসনও রয়েছে।

তবে ওই সংবাদ সম্মেলনে আসেনি এইর জোটের অন্যতম উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন। পরদিন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেয় দলটি। ফলে ১১ দলীয় জোট পরিণত হয় ১০ দলীয় জোটে।

জোটে ইসলামী আন্দোলনের জন্য বরাদ্ধ রাখা ৫০টি আসন বন্টন নিয়েও দেখা দেয় নতুন করে টানাপোড়েন। এরফলে অনেক আসনেই প্রার্থী ওলটপালট হচ্ছে। সিলেট-৩ আসনে জোটের প্রার্থী বদল করা হয়।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফেসবুক পেজ থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে, সিলেট-৩ আসনে জোটের প্রার্থী মুসলেহ উদ্দীন রাজু।

লোকমান আহমদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান। সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। সিলেটের যেসব আসনে জামায়াত প্রার্থীরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন তার মধ্যে সিলেট-৩ আসন অন্যতম।

অপরদিকে, মুসলেহ উদ্দীন রাজু সিলেটের প্রখ্যাত আলেম শায়খুল হাদীস নুরউদ্দিন আহমদ গহরপুরীর ছেলে। বালাগঞ্জের গহরপুর মাদ্রাসার সাবেক এই প্রিন্সিপাল কওমী মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানও ছিলেন। রাজুও এই বোর্ডের কর্মকর্তা। ফলে কওমী ঘরণায় রাজুর বড় প্রভাব ও ভোটব্যাংক রয়েছে।

প্রবাসীকে অপহরণের ঘটনায় বিয়ানীবাজারের যুবক গ্রেফতার

লিবিয়ায় সুমন মিয়া নামের এক যুবককে অপহরণ করে টাকা আদায়ের ঘটনায় সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে ছাদেক আহমদকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জালালাবাদ থানা পুলিশ তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

এরআগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে র‌্যাবের একটি দল অপহরক ছাদেককে বিয়ানীবাজার থানাধীন বৈরাগীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে।গ্রেফতারকৃত ছাদেক আহমদ বিয়ানীবাজারের খশির গ্রামের শাহ আলমের ছেলে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, ভিকটিম সুমন মিয়া নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন চর কিশোরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। গত ৮ বছর পূর্বে লিবিয়ায় যায় এবং সেখানেই অবস্থান করে আসছে সুমন। লিবিয়ায় থাকা অবস্থায় সুমনের সাথে আবু বক্কর নামের একজনের পরিচয় হয়। ঘটনার প্রায় ৩ মাস পূর্বে সুমনের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি আবু বক্করের নিকট পাসপোর্ট এর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য দেন।

এজন্য ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর লিবিয়া প্রবাসী সুমন বাংলাদেশে থাকা তার পরিবারকে ফোন দিয়ে জানান যে আবু বক্করসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন ব্যক্তি তাকে অপহরণ করে টাকা দাবী করছে। টাকা না দিলে তারা তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে। পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন ভিকটিমের দেওয়া তিনটি নাম্বারে বিভিন্ন সময় বিকাশের মাধ্যমে সর্বমোট ৩ লাখ ১৭ সতেরো হাজার টাকা পাঠায়। টাকা পাঠানোর পর থেকে ভিকটিমের পরিবার ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর সকালে অজ্ঞাত ব্যক্তি একটি নাম্বার থেকে ভিকটিমের ভাই রিয়াদ হোসেনের মোবাইল নাম্বারে ফোন করে আরও ৩/৪ লক্ষ টাকা চায় এবং উক্ত টাকা না দিলে সে আবু বক্করের মাধ্যমে ভিকটিমকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় প্রবাসী সুমনের ভাই জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

লন্ডনে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের শাকিলের মৃত্যু

উচ্চ শিক্ষার আশায় স্বপ্নের দেশ যুক্তরাজ্য এসেছিলেন সিলেটের নাফিউল হক শাকিল। কিন্তু ঘাতক লরি তার স্বপ্ন কেড়ে নিলো। পূর্ব লন্ডনের কমার্শিয়াল রোডে গত বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) ২টার দিকে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। টানা ৫ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৯ জানুয়ারী) রাত সাড়ে ৯ টার সময় না ফেরার দেশে চলে যান শাকিল।

নিহত শাকিল সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছ বাড়ি এলাকায় ব্রাহ্মণ গ্রামের ব্যবসায়ী ফয়জুল করিমের ছেলে ।

চিকিৎসকদের বরাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাফিজ সোহেল আহমেদ।

জানা যায়, মাত্র এক বছর আগে যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় এসেছিলেন নাফিউল হক শাকিল। তিনি লন্ডনের সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সাইন্স বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু দিন ধরে লন্ডনে ফুড ডেলিভারি কাজ করতেন শাকিল। কিন্তু পূর্ব লন্ডনের কমার্শিয়াল রোডে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতে হয় ২৩ বছরের যুবক শাকিলকে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারী) তিনি সাইকেল চালিয়ে ডেলিভারির কাজ করার সময় পূর্ব লন্ডনের কমার্শিয়াল রোডে একটি কালো রংয়ের কার দাঁড়ানো ছিলো। কারের সামনে সে আসা মাত্র কার থেকে দরজা খুলে দেওয়া হয়। তখন কারের দরজার সাথে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে যায় সাকিল।

এসময় একটি লরি তার উপর দিয়ে চলে যায়।এরপর পুলিশ ও এম্বুলেন্স এসে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবশেষে ৫ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে সোমবার তিনি মারা যান।

একই এলাকার বাসিন্দা নিহত শাকিলের স্বজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাফিজ সোহেল আহমেদ জানান, শাকিলের মৃত্যুর সংবাদে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় গ্রহণ করা হবে। তিনি নিহতের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রতি আহ্বান জানান।

ফয়সল নয়, সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী

ফয়সল আহমদ চৌধুরী ও এমরান আহমেদ চৌধুরী দুজনই বিএনপির হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে শেষ সিলেট-৬ আসনে (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) দলীয় প্রার্থী হিসেবে জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেছে বিএনপি।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি সিলেট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরে গত ১৭ জানুয়ারি ইস্যু করা হয়েছে।

এমরান আহমদ চৌধুরী মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনীত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেছেন- আমি আবারও মহান আল্লাহ তা’লার শুকরিয়া আদায় করছি। আবারও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি আমার অভিভাবক জনাব তারেক রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রতি। আমি আমার এ প্রাপ্তিকে উৎসর্গ করছি গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের সম্মানিত সকল ভোটার ও সর্বস্তরের জনগণকে।

তিনি আরও বলেন- এ আসনে যারা দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন; তাঁরা সবাই যোগ্য এবং তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। দলের জন্য তাঁদের ত্যাগ, শ্রম ও অবদান কোনো অংশেই কম নয়। তাঁরা মনোনয়ন না পেলেও আমরা সবাই একই মঞ্চের। আজ থেকে আমরা সবাই নবোদ্যমে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়বো, ইনশাআল্লাহ ঘরে ফিরবো ধানের শীষের জয় সুনিশ্চিত করেই। আগামী দিনে সবাই মিলেই আমরা গড়বো উন্নত ও সমৃদ্ধ গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার।

উল্লেখ্য, সিলেট-৬ আসনে প্রথম ধাপে মনোনয়ন পান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। পরে জেলা বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরীকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়।

এমরান আহমদ চৌধুরী এবারই প্রথম নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। অপরদিকে, ফয়সল আহমদ ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। সে নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সাথে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেন।

বাঁচানো গেল না সিলেটে ট্রেনের ধাক্কায় আহত হাতিটিকে

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ট্রেনের ধাক্কায় আহত হাতিটিকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ট্রেনের আঘাতে হাতিটির পেছনের দুই পা ও লেজসহ মেরুদণ্ডে আঘাত লাগে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে হাতিটি মারা যায় বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান। তিনি জানান, আহত হাতিটি গুরুরত আহত হয়েছিলো। চিকিৎসা দেয়ার পর কিছুটা উন্নতি হলেও সার্বিক কোন উন্নতি হয়নি।

প্রাণীটির চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের অধ্যাপক সুলতান আহমদ জানান, মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়ায় হাতিটির পেছনের অংশ অসাড় হয়ে গেছে। খুবই গুরুতর আগত ছিলো তার শরীরের একাধিক স্থানে। চিকিৎসা দিয়েও বাঁচানো যায়নি হাতিটিকে।

এর আগে গত শনিবার রাতে সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় আহত হয়ে রেললাইন-সংলগ্ন একটি ডোবায় পড়ে ছিল হাতিটি। পরে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসক, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দলের প্রচেষ্টায় হাতিটি উদ্ধার করে ডাঙায় তোলা হয়। হাতির মালিক মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কামরুল ইসলাম।

কয়েক দিন আগে হাতিটি সিলেটের একটি অনুষ্ঠানে নিয়ে আসা হয়েছিল। গত শনিবার রাত ১০টার দিকে হাতিটি নিয়ে মাহুত দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় রেললাইন পার হতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় আহত হয়ে ডোবায় পড়ে যায়। এ সময় হাতির মাহুতও আহত হন। হাতিটির পেছনের পায়ে আঘাত পাওয়ায় ডোবা থেকে উঠতে পারছিল না।

সিলেটে চেকপোস্টে মোটরসাইকেল আটকে মিলল ১০টি আগ্নে*য়াস্ত্র

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুরে চেকপোস্টে তল্লাশিকালে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ৪টি ক্যামো রংয়ের নতুন এয়ারগান ও ৬টি কালো রংয়ের নতুন এয়ারগান।

সোমবার ভোরে জৈন্তাপুরের ফতেপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত পাখিটেকি করিচার ব্রীজের উত্তর পাশে চেকপোষ্ট স্থাপন করে তল্লাশীকালে এগুলো উদ্ধার করা হয়।

সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়ে বলা হয়, ভোরে ১টি রেজিস্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল যোগে দু’জন লোক চেকপোষ্টের সামনে আসলে এ গাড়িটি থামানোর জন্য সংকেত প্রদান করে পুলিশ। এসময় মোটরসাইকেলসহ ১টি সাদা প্লাষ্টিকের বস্তা ফেলে আরোহীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। বস্তা তল্লাশি করে ভারতীয় ৪টি ক্যামো রংয়ের নতুন এয়ারগান ও ৬টি কালো রংয়ের নতুন এয়ারগান এবং ১টি পুরাতন সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

এ সংক্রান্তে জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা রুজুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিলেটে বিয়েতে এসে হাতি খাদে, উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস

সিলেটে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে খাদে পড়ে যায় হাতিকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। খাদে পড়ে আহত হাতিকে চিকিৎসা প্রধান করে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

চিকিৎসা শেষে হাতিটিকে মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হ বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

রোববার দুুপরে ফায়ার সার্ভিসের সিলেটের আলমপুর স্টেশনের একটি দল খাদ থেকে হাতিটিকে উদ্ধার করে। এরআগে শনিবার রাতের কোন এক সময় হাতিটি দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার একটি খাদে পড়ে যায়।

ব্যক্তি মালিকানাধীন এই হাতিটিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে সিলেটে ভাড়ায় পাঠিয়েছিলেন তার মালিক।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাত ১২ টার দিকে ঢাকা থেকে আসা ট্রেনের ধাক্কায় হাতিটি খাদে পড়ে যায়। যদিও ট্রেনের সাথে হাতির ধাক্কা লাগার ব্যাপারে নিশ্চিত নয় রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

সকালে স্থানীয়রা হাতিটিকে খাদে দেখতে পান। এরপর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বন বিভাগ ঘটনাস্থলে গিয়ে বলা ৩টার দিকে হাতিটিকে খাদ থেকে উদ্ধার করে।

দুর্ঘটনার ফলে হাতিটির পেছনের দুই পা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ খাদের কাদাজলে থাকায় হাতিটি নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাণিসম্পদ অধিপ্তরের কর্মকর্তারা।

হাতির চিকিৎসায় যুক্ত থাকা সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োজলি বিভাগের অধ্যাপক ড. সুলতান আহমদ বলেন, খাদ থেকে তোলার পর হাতিটি একেবারে নিস্তেজ ছিলো। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর এখন নড়াছড়া করছে। আমরা কিছু ওষুধ ও স্যালাইন দিয়েছি। তবে আঘাত লেগে হাতিটির পেছনের দুটি পা বড় ধরণের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পুরো সুস্থ হতে আরও অনেক সময় লাগবে।

তিনি বলেন, আঘাতের ধরণ দেখে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জেনেছি, ট্রেনের ধাক্কায়ই হাতিটি খাদে পড়ে যায়।

তবে সিলেট রেল স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম বলেন, হাতিটি ট্রেনের ধাক্কায়ই খাদে পড়েছে কী না তা নিশ্চিত নই। আমরা এরকম কোন আলামত পাইনি। ওই এলাকায় পাশপাশি বাস ও ট্রেনের লাইন রয়েছে।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাতিটিকে তার মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে জানিয়ে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, হাতিটিকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরপর এর মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এই হাতিটি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কামরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির। তিনি সিলেটে একটি বিয়ে অনুষ্ঠানের জন্য হাতিটিকে গত রাতে ভাড়ায় সিলেট পাঠিয়েছিলেন।

সিলেট – জকিগঞ্জ সড়কে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের শাহগলী বাজারের পূর্ব পাশে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম জুবায়ের আহমদ (৯)। সে বারহাল ইউনিয়নের বোরহানপুর গ্রামের তকু মিয়া কবিরের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদরাসা ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল জুবায়েরকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেল আরোহী তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশ ফোনটি উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ঘাতক মোটরসাইকেল আরোহীকে শনাক্ত ও আটক করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় জুবায়েরের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। নিহত জুবায়েরের পরিবার ও স্বজনরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত ঘাতককে আটক ও সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।