Tuesday, April 7, 2026
Home Blog Page 35

সিলেটে রবিবার সবাইকে রিকশা ও হকার উচ্ছেদ অভিযানে রাজপথে নামার আহ্বান আরিফের

সিলেট নগরীতে চলমান ব্যাটারিচালিত রিকশা ও হকার উচ্ছেদ অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর চৌহাট্টা ও জিন্দাবাজার এলাকায় হকার উচ্ছেদ কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

অভিযান চলাকালে তিনি ঘোষণা দেন, ‘নগরবাসীর শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করতে হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। ‘হকার ও ব্যাটারিচালিত রিকশা’ এই দুই-ই নগরজীবনের বড় প্রতিবন্ধক।’

তিনি জানান, আগামীকাল রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় নগরবাসীকে সাথে নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে গণ-পদযাত্রা শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হবে।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘নগরীর মানুষ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে বসবাস করতে চায়। এ দাবির বিপরীতে যে কোনো রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী শক্তি কাজ করলে তার দাঁতভাঙা জবাব নগরবাসীকে দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হকার ও অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আসবে না। নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা রাস্তায় থাকব। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

এদিকে, হকার উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে নগরীতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে স্বাগত জানালেও অনেকেই মানবিক দিক বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

৮ তারিখ থেকে সিলেটে কোন গাড়ি চলবেনা : সিলেটে ব্যাটারি রিকশা বন্ধের দাবি

সিলেট জেলা বাস মিনি বাস কোচ ঐক্য পরিষদের সভাপতি মইনুল ইসলাম বলেছেন, ‘আগামী ৭ তারিখের মধ্যে যদি ব্যাটারিচালিত গাড়ি রিকশা বা টমটম যদি বন্ধ না হয়, আর যারা ইন্ধন দিয়েছে, যারা আমাদের শ্রমিকের গায়ে হাত দিয়েছে, যারা আমাদের গাড়ি ভাংচুর করেছে, তাদেরকে যদি আইনের আওতায় না নেয়া হয়, তাহলে ৮ তারিখ থেকে আমরা রাজপথের সর্বস্তরের পরিবহণ বন্ধ করে দেবো।’

আজ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট নগরীর বন্দরবাজারে ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধের দাবিতে এবং সিএনজি অটোরিকশা, ট্রাক লেগুনার উপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সমাবেশে এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রতিবাদ সমাবেশে সিলেটের পরিবহণ সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সংগঠন অংশ নেয়।

সমাবেশে মইনুল ইসলাম আরো বলেন, ‘ব্যাটারি চালিত রিকশা ও টমটম উচ্ছেদে নেমেছে প্রশাসন। এটা নিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে, কারো ইন্ধনে গত বুধবার উপশহরে আমাদের মাইক্রো স্ট্যান্ডে হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা মামলাও করেছি। পাশাপাশি কোর্ট পয়েন্টে অনেক সিএনজি অটোরিকশার উপর হামলা চালানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাটারি চালিত রিকশা বিদ্যুতের ক্ষতি করছে। তাই এই দেশ বাঁচাতে গিয়ে পরিবহণ মালিক শ্রমিক আন্দোলনে থাকবে।’

সিলেটে ব্যাটারি রিকশা: নগর জীবনের অদৃশ্য মৃত্যুঘণ্টা

ভূমিকা

সিলেট—একটি ঐতিহ্যমণ্ডিত, প্রবাসী অধ্যুষিত, প্রকৃতিসমৃদ্ধ নগর। এই শহরের প্রাণশক্তি হলো নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাপন, কর্মচাঞ্চল্য ও নিরাপদ চলাচল। কিন্তু আজ সেই জীবনযাত্রা প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে ফেলছে একটি নতুন অশুভ উপাদান—ব্যাটারি চালিত রিকশা।

একদিকে সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অগণিত পরিবার অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, অন্যদিকে এটি আমাদের বিদ্যুৎ সংকট, যানজট ও পরিবেশ দূষণের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশ্ন হলো—আমরা কি আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষাক্ত চাকায় পিষে যেতে দেবো?

সড়ক দুর্ঘটনা: প্রাণ যাচ্ছে প্রতিদিন

বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা ফাউন্ডেশনের (২০২৪) তথ্যমতে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ব্যাটারিচালিত রিকশা।

চালকদের নেই প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্স, নেই সড়ক নিয়ম সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা, যানবাহনে নেই মানসম্মত ব্রেক, সিগন্যাল বা ফিটনেস।

ফলাফল—শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী কেউই রক্ষা পাচ্ছে না। প্রতিটি দুর্ঘটনা মানে একটি পরিবারে শোক, একটি মায়ের বুক খালি হয়ে যাওয়া, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়া।

‌‘একটি রিকশার বেপরোয়া চালনা মানে এক পুরো পরিবারের চোখের পানি।’

অসহনীয় যানজট: শহরের গতি স্তব্ধ

সিলেটের রাস্তায় সংকট নতুন নয়। কিন্তু ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

অফিসগামী মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন, স্কুলগামী শিশুরা সময়মতো পৌঁছাতে পারে না, রোগীকে হাসপাতালে নিতে দেরি হয়, অর্থনীতির উৎপাদনশীল সময় নষ্ট হয়।

বিশ্বব্যাংকের (২০২৩) গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় যানজটে প্রতিদিন ৩.২ মিলিয়ন কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। সিলেটও সেই একই পথে হাঁটছে।

বিদ্যুৎ সংকট: অন্ধকারে ডুবে থাকা ঘরবাড়ি

সিলেট শহরে যেখানে ৩ লাখ পরিবার বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, সেখানে ৪০ হাজার ব্যাটারি রিকশা প্রতিদিন ২ লাখ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ করছে। একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দিতে লাগে গড়ে ৪–৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ। এই বিদ্যুৎ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার পরিবার আলো জ্বালাতে পারত। আমাদের সন্তানেরা যখন পড়ার টেবিলে অন্ধকারে বসে থাকে, তখন সেই বিদ্যুৎ রিকশার চাকায় পুড়ে যাচ্ছে।

বিষাক্ত সীসা: অদৃশ্য ঘাতক

প্রতিটি ব্যাটারির ভেতরে থাকে সীসা (Lead)—যা পৃথিবীর অন্যতম মারাত্মক বিষ।

WHO (২০২২): সীসা মানুষের স্নায়ুতন্ত্র ধ্বংস করে

শিশুদের মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, গর্ভবতী নারীর গর্ভস্থ শিশুর বিকাশে ভয়াবহ প্রভাব ফেলে, নষ্ট ব্যাটারি ডোবা-খালে ফেলে দিলে মাটি ও পানির মারাত্মক দূষণ হয়, অর্থাৎ, আমাদের খাদ্য, মাটি ও পানি প্রতিদিন বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে।

মানসিক চাপ: অশান্ত নগরজীবন

ব্যাটারি রিকশা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।

যানজটে দীর্ঘ সময় আটকে থেকে মানুষ হতাশাগ্রস্ত হচ্ছে, অগোছালো চলাচলে বিরক্তি বাড়ছে, সামাজিক অশান্তি তৈরি হচ্ছে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর গবেষণা অনুযায়ী, দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা মানুষের মধ্যে ডিপ্রেশনের হার ৪০% বেশি।

গর্ভাবস্থা ও পরবর্তী প্রজন্ম

American College of Obstetricians and Gynecologists (২০২১) জানিয়েছে—

সীসা রক্তের মাধ্যমে ভ্রূণের শরীরে প্রবেশ করে, জন্মগত ত্রুটি ও মৃত সন্তান জন্মের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

আমরা কি চাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জন্মের আগেই ধ্বংস হয়ে যাক?

আইনগত বাস্তবতা

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮: অবৈধ যানবাহন চলতে পারে না

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন: সীসা দূষণ দণ্ডনীয় অপরাধ

বিদ্যুৎ আইন: অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ

অতএব, ব্যাটারি রিকশা কেবল সামাজিক ক্ষতি নয়, আইনগতভাবেও অবৈধ।

সমাধানের পথ

সমাধানহীন কোনো সমস্যা নেই।

পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালু

শহরে সাইকেল ও পদচারী-বান্ধব উদ্যোগ, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট আধুনিকীকরণ,

মানবিক আবেদন

আজ আমি পুলিশ কমিশনার হিসেবে নয়, একজন বাবা, একজন নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে আবেদন করছি, আপনার সন্তানকে ভালোবাসলে, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে দাঁড়ান। আপনার সাময়িক সুবিধা হয়তো কমবে, কিন্তু শহর বাঁচবে, পরিবেশ বাঁচবে, প্রজন্ম বাঁচবে।

উপসংহার

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ইতিমধ্যেই ব্যাটারি রিকশা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি কেবল প্রশাসনিক নয়, মানবিক সিদ্ধান্ত। আমরা কোনোভাবেই চাই না, সিলেটের মানুষ ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষাক্ত চাকায় পিষ্ট হোক।

এই আন্দোলন আমাদের সবার। আসুন শপথ করি—

ব্যাটারি রিকশা আর নয়, নিরাপদ সড়ক চাই, সুস্থ পরিবেশ চাই, আলোকিত প্রজন্ম চাই।

সিলেট হোক শান্তির, সৌন্দর্যের, নিরাপত্তার নগর।

লেখক: পুলিশ কমিশনার, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।

সিলেটের ৬ পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে মহাপরিকল্পনা, যা আছে পরিকল্পনায়

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথ ও গোয়াইনঘাটের জাফলংসহ ছয়টি পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

দেশের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনা এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যেই সরকার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, সিলেটের জাফলং, সাদাপাথর, বিছনাকান্দি, উৎমাছড়াসহ ছয়টি পর্যটনকেন্দ্রের পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যেমন উন্নত সড়ক যোগাযোগ, পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং তথ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার সুস্পষ্ট রূপরেখা রয়েছে।

এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন কমিটির সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার ‘সিলেট পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান কমিটি’র সদস্যরা বিভিন্ন পর্যটন এলাকা পরিদর্শন করেন। কমিটির সভাপতি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. বজলুর রশিদের নেতৃত্বে কমিটিতে পরিবেশ বিজ্ঞান, স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা, পর্যটন ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।

কমিটির সদস্যরা বৃহস্পতিবার দুপুরে সাদাপাথর ও বিকেলে জাফলং পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখেন। তারা পর্যটনকেন্দ্রগুলোর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রাসহ মাঠপর্যায়ে নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।

সাদাপাথর ঘুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কমিটির সভাপতি ড. বজলুর রশিদ। এ সময় তিনি বলেন, সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন, পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। পরিকল্পনায় জলাভূমি, নদী, পাহাড় ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিদর্শন টিমের সঙ্গে থাকা সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, সৌন্দর্যে ঘেরা সিলেটকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার মহাপরিকল্পনা নিয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র এলাকা ঘুরে দেখছেন। কমিটিতে চারটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

সিলেটে এবার অটোরিকশার গ্যারেজে অভিযান : বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সিলেট নগরীর রাস্তাঘাটে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। চলমান এ অভিযানের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং মিটার খুলে নেওয়া হয়।

প্রশাসনের সূত্র জানায়, সিলেটে দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধনবিহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় যানজট, দুর্ঘটনা ও জনভোগান্তি বেড়ে যায়। এ অবস্থায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার্জিং পয়েন্ট শনাক্ত করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, ধাপে ধাপে পুরো নগর জুড়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং নিয়ম ভেঙে অবৈধভাবে যান চালালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নগরবাসীর নিরাপদ যাতায়াত ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী ৩৮টি চার্জিং পয়েন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের কার্যক্রম চলছে। এর বাইরেও যদি কোথাও সংযোগ থাকে, সেগুলোও বিচ্ছিন্ন করা হবে।

এদিকে, নগরে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে এসএমপির বিশেষ অভিযানও চলছে। বুধবার অভিযানের তৃতীয় দিনে প্রথম পালে ৪৫টি যান আটক করা হয়। এর মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ৩২টি, সিএনজি অটোরিকশা ২টি, মোটরসাইকেল ১০টি এবং একটি পিকআপ রয়েছে।

একই দিনে বিভিন্ন আইন অমান্যের দায়ে ১২টি মামলা দায়ের করা হয়। সোমবার অভিযানের প্রথম দিনে ৮৭টি যান আটক ও ১৭টি মামলা দায়ের করা হয় এবং মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে আটক হয় ১০৫টি যান ও মামলা হয় ৩২টি।

আখতারকে ডিম নিক্ষেপকারী সিলেটের সেই যুবলীগ নেতা জামিনে মুক্ত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পা রাখার পর প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রতিনিধি দলে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে ডিম নিক্ষেপ করা যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মিজান সিলেট জেলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় জামিনে মুক্তি পান তিনি। ওয়াশিংটন যুবলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে স্থানীয় সময় সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্যাকসন হাইটস নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে নিউইয়র্ক পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের এক নেতা মিজানের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের হুমকির অভিযোগ করলে পুলিশ তাকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করে নিয়ে যায়।

সোমবার ড. ইউনূসের প্রতিনিধি দলে থাকা নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে ডিম মেরে লাঞ্ছিত করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

এদিন প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। কিছুটা বিলম্বে বিমানবন্দর থেকে বের হলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারাকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা।

শাহজালালে সাড়ে সাত হাজার ইয়াবাসহ মা-মেয়ে আটক

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়াবা পাচারের সময় দুই নারী যাত্রীকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএন।

আটক দুইজন হলেন রোজিনা (৪০) এবং তার মেয়ে ফাহমিদা ইয়াসমিন (২০)।

তাদের সঙ্গে থাকা দুটি ট্রলি ব্যাগের হাতলের স্টিলের ভিতরে এবং শরীরে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় সাত হাজার ৫৮০টি ইয়াবা পাওয়ার কথা জানিয়েছে এপিবিএন।

মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এপিবিএন বলেছে, রোজিনা ও ইয়াসমিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুপুর দেড়টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসেন।

এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এপিবিএন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক বহনের কথা স্বীকার করলে তাদের সঙ্গে থাকা দুটি ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করে হাতলের স্টিলের ভিতরে ৫ হাজার ৮০০টি এবং দেহ তল্লাশি করে আরও ১ হাজার ৭৮০টি ইয়াবা পাওয়া যায়।

এপিবিএন বলছে, তারা জানতে পেরেছে, ওই দুজন ‘দীর্ঘদিন ধরে’ মাদক বিক্রি ও পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

সিলেটের সাবেক শিবির নেতা মারুফ নিউইয়র্কে মির্জা ফখরুলের ঢাল হলেন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে গেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। তবে এই সফরের শুরুর দিনেই নিউ ইয়র্কে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখে পড়েন বিএনপি ও এনসিপির নেতারা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর জামায়াত-শিবিরের নেতারা তাদের চারপাশে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে গাড়ির দিকে নিরাপদে এগিয়ে দেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা মারুফ হোসেন নেতৃত্ব দেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মারুফ হোসেন। তিনি নিউইয়র্কে থাকা দলীয় কর্মীদের নেতৃত্ব দেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতাদের ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন।

এই শিবির নেতা মারুফ হোসেনকে ভালোবাসা জানিয়েছেন লেখক, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার ফেসবুক পোস্টে তিনি এ ভালোবাসা জানান।

পিনাকী লেখেন, ‘গতকাল মির্জা ফখরুলকে বুক দিয়ে আগলে রাখা শিবিরের সাবেক নেতা মারুফ। অভিবাদন আর ভালোবাসা, প্রিয় ভাই আমার।’

https://www.facebook.com/share/v/1CVypTk8jF/

 

নিউইয়র্কে আখতারকে ডিম ছুঁড়ে সিলেটের মিজান আটক

যুুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনের উপর ডিম ছুঁড়ে মারার ঘটনায় মিজানুর রহমান চৌধুরী নামের এক যুবলীগ নেতাকে আটক করেছে সেদেশের পুলিশ।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২৮ মিনিটে জ্যাকসন হাইটস থেকে নিউইয়র্ক পুলিশ তাকে আটক করে।

আটক মিজানুর রহমান সিলেট জেলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা। মিজানের গ্রামের বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায়।

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ওপর ডিম ছুঁড়ে মারার ঘটনাটি নিজে ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা।

পোস্টে তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘আজ যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর আমাদের দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ওপর হামলা হয়েছে। তাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছে, গালিগালাজ করা হয়েছে।’

তিনি লিখেছেন, ‘এটি ব্যক্তি আখতার হোসেনের ওপর আক্রমণ নয়, তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে করা হয়েছে। কারণ তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন সেই দলকে, যে দল ফ্যাসিবাদের কাঠামো ভেঙে দিতে প্রতিনিয়ত কাজ করছে।’

হামলার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আখতার বলেছেন, ‘আমরা সেই প্রজন্ম যারা হাসিনার গুলির সামনে দাঁড়াতে ভয় পায়নি। অতএব, কারও ভাঙা ডিমে আমাদের কিছু যায়-আসে না।’

সিলেটে সড়কে পুলিশের অভিযান: প্রথমদিনে ৮৭ গাড়ি আটক, ১৭ মামলা

সিলেট নগরে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। সোমবার সকাল ৮টা থেকে নগরের পাঁচটি পয়েন্টে একযোগে এই অভিযান শুরু হয়।

অভিযানের প্রথমদিন শেষে ৮৭টি অবৈধ গাড়ি আটক করা হয়েছে এবং কাগজপত্র না থাকায় ১৭টি মামলা করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় এসব তথ্য জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

তিনি জানান, আটক করা ৮৭টি যানবাহনের মধ্যে রয়েছে- ব্যাটারিচালিক রিকশা ৬৫টি, সিএনজি অটোরিকশা ৫টি, লেগুনা ১টি, মোটর সাইকেল ১৪টি, ট্রাক ১টি ও পিকআপ ১টি।

তিনি জানান, প্রথমদিনের অভিযানে ১৭টি মামলা বরা হয়। এরমধ্যে সিএনজি অটোরিকশার বিরুদ্ধে ২টি, মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে ১১টি, প্রাইভেটকারের বিরুদ্ধে ২টি, পিকআপের বিরুদ্ধে ১টি ও ট্রাকের বিরুদ্ধে ১টি।

এর আগে সকাল থেকে নগরের মেন্দিবাগ, নাইওরপুল, জিতু মিয়ার পয়েন্ট, রিকাবীবাজার এবং পাঠানটুলা এলাকায় পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়ে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেন। এসময় সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের কাগজপত্র চেক করা হয়। অভিযানের কারণে সোমবার সড়কে যানবহান ছিলো অনেকটা কম। ফলে চিরচেনা যানজটও ছিলো না।

সকালে সিলেট মহানগর পুৃলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীও বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে অভিযান তদারকি করেন।

এসময় গণমাধ্যেমের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, অবৈধ যানবাহনগুলো নগর থেকে সরিয়ে নিতে আমরা সময় দিয়েছিলাম। কালকে নগরীতে মাইকিংও করিয়েছি। আজকে সকাল থেকে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি।

তিনি বলেন, সিলেট নগরে কোন অবৈধ যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না।

পুলিশ কমিশনার বলেন, নগরের অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ডগুলো সরানোর ব্যাপারেও আমরা চিন্তা করছি। সিএনজিগুলো পার্কিংয়ের জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

এর আগে গত সপ্তাহে এসএমপি সড়ক শৃঙ্খলা ফেরাতে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়, নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা, রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও ভুয়া নাম্বার প্লেটযুক্ত যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। অনুমোদিত স্ট্যান্ড ছাড়া অন্য কোথাও অটোরিকশা পার্কিং করা যাবে না। এছাড়া মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তারও আগে এসএমপি কমিশনার জানান, নগরীর সম্মানিত নাগরিকদের ভোগান্তি কমানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। কোনোভাবেই নগরীতে অনুমোদনবিহীন, কাগজপত্র ছাড়া বা নিয়ম অমান্যকারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।