Thursday, April 16, 2026
Home Blog Page 59

বিয়ানীবাজারে ট্রাক চাপায় কলেজ ছাত্রী নিহত

বিয়ানীবাজার পৌরশহরের দক্ষিন বাজারে মোটরসাইকেল ও সিমেন্টবাহি কাভার্ড ভ্যানের মাঝে পড়ে কলেজ ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকালে দক্ষিন বাজার সিএনজি স্ট্যান্ডের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত কলেজ ছাত্রীর নাম সুহেনা আক্তার (২২)।

সে পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর এলাকার আলিমপুর গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে। সে বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

জানা যায়, স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো ছাত্রী মোটরসাইকেলের ধাক্কায় কাভার্ড ভ্যানের সাথে ধাক্কা খেয়ে সড়কে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

বিয়ানীবাজার থানার ওসি তদন্ত ছবেদ আলী জানান, দুর্ঘটনায় এক কলেজ ছাত্রীর মৃত্যুর খবর শুনেছি, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে।

মাটি খাওয়া ‘শাহী বাবা’ আসলে প্রতারক! দিরাইয়ে কোরবানির টাকা লুট!

সুনামগঞ্জের দিরাই পৌর শহরের মধ্যবাজারে পচা বালু ও কাদা মাটি খাওয়া এক অদ্ভুত বয়স্ক ব্যক্তিকে ঘিরে সম্প্রতি সৃষ্টি হয়েছিল চাঞ্চল্য। নিজেকে ‘শাহী বাবা’ পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি দাবি করেন- তিনি সারা দেশে ঘুরে বেড়ান এবং আত্মিক শক্তি অর্জনের জন্য মাটি খান। তবে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই প্রকাশ পেলো তার প্রতারণার এক ভয়ানক কাহিনী।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শ্যামল দাস জানান, ২৭ মে রাতে মধ্যবাজারে হঠাৎ এক বয়স্ক ব্যক্তি ‘ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্ট’—এর সামনে ড্রেনের পাশে বসে ময়লা, বালু ও কাদা মাটি খেতে শুরু করেন। দৃশ্যটি দেখে উপস্থিত জনতার মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তার আচরণ ছিল অস্বাভাবিক এবং রহস্যজনক।

শ্যামল জানান, ওই ঘটনার পর বিক্রম নামে একজন ব্যক্তি তাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। তখন শাহী বাবা নামে ওই বয়স্ক ব্যক্তি উপস্থিত সদস্যদের যে খাবারই দিয়েছে তারা তাতে অকল্পনীয় স্বাদ পেয়েছে। শ্যামল বলেন, এরপর শাহী বাবাকে আমার দোকানে নিয়ে আসলে আমিও তার কথাবার্তা ও আচরণে মুগ্ধ হই। সাধু, সুফিদের প্রতি আমি এমনিতে একটু দুর্বল।তিনি বলেন, তখন ‘শাহী বাবা’ নামের লোকটি সিলেট শাহজালাল (রঃ) মাজারে যাবার জন্য তাগিদ দিতে থাকে। আমরা তাকে বলি আপনি অবশ্যই যাবেন, প্রয়োজনে আমরা আপনাকে পৌঁছে দিব।সিলেট ভ্রমণ প্যাকেজ

তারপর কথামত রাত ১১ টায় মোটরসাইকেল করে আমি লোকটিকে নিয়ে যেতে চাইলে সেই সময় আমার এক বন্ধুও যেতে চায়। ভাবলাম আরেকজন সাথে গেলে ভালই হবে। তিনজন মোটরসাইকেল করে রওনা দেই। গভীর রাতে হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজারে পৌঁছে ‘শাহী বাবা’ সিগারেট আনতে বলেন। আমি সিগারেট আনতে যাই তখন আমার বন্ধু একা ‘শাহী বাবা’র সঙ্গে ছিলেন।

পরদিন ২৯ মে বন্ধু জানায়, সেই সময় ‘শাহী বাবা’ তার নাকের কাছে কিছু একটা ধরেন এবং তারপর তার কাছ থেকে মানিব্যাগসহ ৮২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। ওই টাকা ঈদের কুরবানির গরু কেনার জন্য এক ব্যক্তি তাকে দিয়েছিলেন।

শ্যামল বলেন, আমি কখনও ভাবতে পারিনি সকালে দেওয়া টাকাটা রাতেও তার সাথে ছিল। জানলে কখনও সাথে নিয়ে যেতে দিতাম না বলে তিনি জানান।প্রতারণার ধরন ছিল এতটাই চতুর, যে শ্যামলের বন্ধুকে ‘শাহী বাবা’ এমনভাবে প্রভাবিত করেন যে, সে কিছুতেই ঘটনার কথা জানাতে পারেননি। তার মন—মস্তিষ্কে তখনও ঘুরপাক খাচ্ছিল শাহী বাবার দেওয়া কথাগুলো।

ঘটনার পর বাজারের অনেকে ধারণা করছেন, ‘শাহী বাবা’ আসলে একজন প্রতারক যিনি অলৌকিকতার ছদ্মবেশে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে তাদের ঠকিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন তিনি ৭০ বছর ধরে মাটি খাচ্ছেন এবং তার বয়স ৮৫ বছর। কেউ কেউ একে মানসিক ভারসাম্যহীনতা বললেও এখন বোঝা যাচ্ছে এটি ছিল একটি অভিনব প্রতারণার কৌশল। স্থানীয়রা অনুরোধ করেছেন, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের উচিত ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জনগণকে সতর্ক করা।

টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী নৌকায় আগুন

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটকবাহী হাউজবোটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৩০ মে) রাত ৮টায় উপজেলার অন্যতম পর্যটনস্পট ট্যাকেরঘাট নিলাদ্রী লেকের পাড়ে রাহবার লাক্সারি হাউজবোটের একটি বোটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তবে এ ঘটনায় কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেন ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাব-ইন্সপেক্টর আবির দাস।

আবির দাস বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হাউজবোটের জেনারেটর সিস্টেম থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। এ হাউজবোটে ১২ যাত্রী ছিল বলেও জানা গেছে। তবে বোট মালিক বা মাঝিদের সঙ্গে কথা বলে আরও বিস্তারিত বলতে পারব।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ নিলাদ্রী লেক পাড় থেকে একটু দূরে পাড়ে রাখা হাউজবোটে আগুন দেখে সবাই এগিয়ে যায়। এরই মধ্যে হাউজবোটটি পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। আগুন অনেক ভয়াবহ ছিল, এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

হাউজবোর্ট অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর ইসতি বলেন, রাহবার লাক্সারি হাউজবোটটি আমাদের রেজিস্ট্রেশনভুক্ত নয়। তারা অন্য এলাকা থেকে এসেছে।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আসেনি। পুলিশসহ স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

সিলেট সীমান্তে মহিষ ও গরুর মাংসের সাথে যা আটক করলো বিজিবি

ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাই মালামাল ও মদ জব্দ করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)। শুকবার (৩০ মে) বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকায় শ্রীপুর, তামাবিল, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, পান্থুমাই এবং সোনারহাট এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে আসা এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত মালালালের মধ্যে রয়েছে- বিপুল পরিমান ভারতীয় সুপারি, মহিষ, স্কিন সানরাইজ ক্রিম, গরুর মাংস, পন্ডস্ ফেইসওয়াশ, বিভিন্ন প্রকার পুরাতন মোবাইল, মদ। এই সময় অবৈধ মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও আটক করা হয়। আটককৃত মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ১ কেটি ১০ লাখ ৭২ হাজার ৬শ’ ৯৯ টাকা।

সিলেট ৪৮ ব্যাটালিয়ন বিজিব’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাই মালামাল ও মদ জব্দ করা হয়েছে। এই সময় অবৈধ মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও আটক করা হয়। যার আনুমানিক সিজার মূল্য- ১ কেটি ১০ লাখ ৭২ হাজার ৬শ’ ৯৯ টাকা। জব্দকৃত চোরাই মালামালের বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সিলেট বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সীমান্তে চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকার অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমানে চোরাচালানী মালামাল জব্দ করা হয়। আটককৃত চোরাচালানী মালামাল সমূহের বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ, তিনি পূর্ণিমাকে আমার জীবনসঙ্গী হিসেবে দিয়েছেন’

দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমা ও আশফাকুর রহমান রবিনের বিয়ের তৃতীয় বিবাহবার্ষিকী আজ। ২০২৩ সালের ২৭ মে ভালোবেসে ঘর বাঁধে এই জুটি। এরপর কেটে গেছে তিন বছর। এই সময়ে একে অন্যের পাশে ছায়ার মতো ছিলেন দুজন।

তৃর্তীয় বিবাহবার্ষিকীতে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন পূর্ণিমার স্বামী আশফাকুর রহমান রবিন।

যেখান পূর্ণিমার সঙ্গে একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করে বৈবাহিক জীবনের তিন বছর পূর্ণ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তিনি।

রবিন লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আজ আমাদের বৈবাহিক জীবনের তিন বছর পূর্ণ হলো — যা ছিল ভালোবাসা, ধৈর্য আর অগণিত স্মৃতির এক অসাধারণ যাত্রা।’

পূর্ণিমার স্বামী আরও লেখেন, ‘আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা যে তিনি আমাকে দিলারা হানিফ পূর্ণিমার মতো একজন জীবনসঙ্গী দিয়েছেন।
‘আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ, তিনি পূর্ণিমাকে আমার জীবনসঙ্গী হিসেবে দিয়েছেন’
যে আমাকে বোঝে, সমর্থন দেয়, আর সবসময় আমার পাশে থাকে। তুমি আমাদের এই পথচলাকে এতটা বিশেষ করে তুলেছো, আমি এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়া কল্পনাও করিনি।’

আমাদের বন্ধন আরও গভীর হোক উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার প্রিয় স্ত্রী, তুমি আমার শান্তি, শক্তি। আমি দোয়া করি, আমাদের বন্ধন দিনে দিনে আরও গভীর হোক এবং আল্লাহ আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে বরকত দান করুন।’

পূর্ণিমা ২০০৭ সালের ৪ নভেম্বর পারিবারিকভাবে আহমেদ জামাল ফাহাদকে বিয়ে করেন। ২০১৪ সালের ১৩ এপ্রিল তিনি প্রথম কন্যাসন্তানের মা হন। তার মেয়ের নাম আরশিয়া উমাইজা।

তবে ২০২২ সালে এসে নিজের বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। এরপরই আবারও বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন আশফাকুর রহমান রবিনের সঙ্গে।

ইতালি যাওয়ার জন্য বের হওয়ার আট মাস পর লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন

ইতালি যাওয়ার জন্য বের হওয়ার আট মাস পর লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন সজিব সরদার (২৮)। বুধবার (২৮ মে) মরদেহ বাড়ি পৌঁছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পরেন।

সজিব সরদার মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাগমারা এলাকার চান মিয়া সরদারের ছেলে। আট মাস আগে ইতালি যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইতালির যাওয়ার জন্য লিবিয়ায় পৌঁছান সজিব সরদার। সদর উপজেলার শিরখাড়া এলাকার বোরহান ব্যাপারীর মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা চুক্তিতে সেখানে যান তিনি। সেখান থেকে সরাসরি ইতালি নেওয়ার কথা বলে মাফিয়াদের কাছে বিক্রি করে দেন। দুই দফা বিক্রি করে সজিবকে। মারধর করে দফায় দফায় ৪৬ লাখ টাকা আদায় করে দালাল চক্র। তাদের মারধরে ১৯ মার্চ মারা যায় সজিব। লিবিয়ার এক হাসপাতালের মর্গে ছিল সজিবের মরদেহ। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সকালে মরদেহ দেশে আসে।

নিহতের চাচাতো ভাই মইনুল হক বলেন, ‘আদালতে মামলা করা হয়েছে। মরদেহ বাড়ি আসার পর পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। আমাদের দাবি মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে দালাল চক্র লিবিয়ায় আটকে রেখে সজিবকে মেরে ফেলেছে। আমরা দালালের শাস্তি চাই।’

নিহতের বাবা চাঁন মিয়া সরদার বলেন, ‘ছেলেকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে বোরহান দালাল লিবিয়া নিয়ে বিক্রি করে দেয়। দফায় দফায় ৪৬ লাখ টাকা নিয়েছে তারা। আমার সহায় সম্পত্তিও গেলো, ছেলেও গেলো। বুধবার ছেলে মরদেহ আসলো। দালালের বিচার চাই।’

ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না,যদি ধৈর্যের বাঁধ খুলে যায়, তাহলে কাউকেই শান্তিতে থাকতে দেবো না : ছাত্রদল সভাপতি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব শিবির ও গুপ্ত হামলাকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ছাত্রদলের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। আমাদের যদি ধৈর্যের বাঁধ খুলে যায়, কাউকেই শান্তিতে থাকতে দেবো না।”

বুধবার (২৮ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত তারুণ্যের সমাবেশে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাকিব বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের মেধাবী শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহরিয়ার আলম সাম্যকে হত্যা করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার বলছেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন হয়েছে, কিন্তু আমরা সেই বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই, আমাদের ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।”

তিনি আরও বলেন, “ঢাকা শহরে আমরা দুইজন ভাইকে হারিয়েছি। শুধু হত্যা নয়, তিতুমীর কলেজে গুপ্ত সংগঠনের হামলা, কুয়েটে ছাত্রদলের ওপর হামলা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলছি, আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না।

যদি এই অন্যায়ের বিচার না হয়, তাহলে আমরা নির্দলীয় ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধেও আন্দোলন শুরু করব।”

এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রমুখ। সমাবেশ থেকে নেতারা তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার শপথ নেন।

হামজার পর এবার চমক দেখানোর অপেক্ষায় আরেক সিলেটি

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা হামজা চৌধুরীর পর এবার আরও এক হাই-প্রোফাইল প্রবাসী ফুটবলার বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর অপেক্ষায়। তিনি কানাডা জাতীয় দলে খেলা সিলেটের মৌলভীবাজারের সামিত সোম। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব ও এর আগে ভুটান ম্যাচকে সামনে রেখে প্রাথমিক দলে রাখা হয়েছে তাকে।

সামিতের পৈতৃক বাড়ি সিলেটের মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায়। মা-বাবা দুজনই বাংলাদেশি। তবে সামিতের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কানাডায়। এর পরও পরিষ্কার বাংলায় কথা বলতে পারেন সামিত। ইতমধ্যেই বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও বাংলাদেশের হয়ে খেলার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বাফুফে।

বুধবার (২৮ মে) বিকেলে ২৬ সদস্যর দল ঘোষণা করেন হেড কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা।

যেই দলে হামজা চৌধুরী, শমিত সোমসহ জায়গা হয়েছে ফাহমিদুল ইসলামের। তবে এখনো বাংলাদেশের হয়ে খেলতে অনেক প্রসেস বাকি থাকায় রাখা হয়নি কিউবা মিচেলকে।

আগামী ১০ জুন এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ফুটবল দল। তার আগে ৪ জুন একই ভেন্যুতে ভুটানের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন হামজারা।

বাংলাদেশ স্কোয়াড
গোলরক্ষক: মিতুল মারমা, মোহাম্মদ সুজন হোসাইন ও মেহেদি হাসান শ্রাবণ।

ডিফেন্ডার: মো. শাকিল আহাদ তপু, জাহিদ হাসান শান্ত, রহমত মিয়া, ইসা ফয়সাল, তাজ উদ্দিন, তারিক কাজী ও তপু বর্মণ।

মিডফিল্ডার: মো. হৃদয়, সাইয়্যেদ শাহ কাজেম কিরমানি, সোহেল রানা, মুজিবুর রহমান জনি, শেখ মোরসালিন, জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরী ও শমিত সোম।

ফরোয়ার্ড: ফাহমিদুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, রাকিব হোসাইন, ইমন শাহরিয়ার, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, আল আমিন ও সুমন রেজা।

যুক্তরাজ্যে প্রথম বাংলাদেশী মহিলা লর্ড মেয়র সিলেটিস মেয়ে শিরিন

যুক্তরাজ্যের চেস্টার সিটির লর্ড মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন সিলেটের বিশ্বনাথের মেয়ে কাউন্সিলর শিরিন আক্তার। যুক্তরাজ্যে ১ম বাংলাদেশী মহিলা লর্ড মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করার শিরিন আক্তারের সাফল্যে সেখানে বসাবাসকারী বাংলাদেশী কমিউনিটিতে বইছে আনন্দের বন্যা। এর ব্যতিক্রম নয় তার পৈত্রিক উপজেলার বিশ্বনাথ তথা সিলেটও।

প্রথম বাংলাদেশী মহিলা লর্ড মেয়র শিরিন আক্তার সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বিশ্বনাথ ইউনিয়র উত্তর ধর্মদা গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহ হুশিয়ার আলী ও পারভীন বেগম দম্পত্তির ৭ সন্তানের ৩য় কন্যা। ইংল্যান্ডের ওল্ডহাম শহরে জন্মগ্রহণকারী শিরিন আক্তার ছাত্র জীবনে দুই বছর ‘বিশ্বনাথ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ লেখাপড়া করেছেন এবং এরপর যুক্তরাজ্যের ওল্ডহাম শহরে বসবাসকালে সেখানেই মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করার পর শিরিন আক্তার চেস্টার সিটির বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী সুন্দর আলী রাজ’র সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। দাম্পত্য জীবনে শিরিন আক্তার এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তারের জননী। সংসার পরিচালনার পাশাপাশি স্যোসাল ওয়ার্কে মনোনিবেশ করা শিরিন আক্তারকে সাফল্য হাতছানি দিয়ে ডাকে। আর তাই ২০২৩-২৫’র স্বল্প সময়ে শিরিন আক্তার ‘কাউন্সিলর, ডেপুটি লর্ড মেয়র ও সর্বশেষ লর্ড মেয়র নির্বাচিত হয়ে গড়লেন এক বিরল রেকর্ড।

একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের চেস্টার সিটির বাসিন্দা বিশ্বনাথের সোনার মেয়ে শিরিন আক্তার ২০২৩ সালে লেবার পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চেস্টার সিটির ‘আপটন’ ওয়ার্ড থেকে ১ম বাংলাদেশী হিসেবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে ছিলেন। এর পরের বছরই তিনি উক্ত কাউন্সিলের ডেপুটি লর্ড মেয়র নির্বাচিত হন। আর এবছরে ২৩ মে শিরিন আক্তার কে নির্বাচিত করা হয় ‘লর্ড মেয়র’ হিসেবে।

শিরিন আক্তারের ওই বিরল সাফল্যে যুক্তরাজ্যের ওল্ডহাম মেট্টোপলিটন বরা কাউন্সিলের ইতিহাসে নির্বাচিত হওয়া ১ম বাংলাদেশী মেয়র আব্দুল জব্বার বলেন, শিরিন আক্তার গোটা যুক্তরাজ্যে ১ম বাংলাদেশী মহিলা লর্ড মেয়র এবং চেস্টার সিটির ১ম মুসলিম লর্ড মেয়র। একজন বাঙালী হিসেবে আমি তাকে বাংলাদেশী কমিউনিটির পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি শিরিন আক্তারের এই সাফল্য দেখে ব্রিটিশ বাংলাদেশী তরুণ-তরুণীরা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে আসতে আরো অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হবে।

ইতিহাস সৃষ্টিকারী শিরিন আক্তারের পিতা শাহ হুশিয়ার আলী নিজ কন্যার এই সাফল্যের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া জানিয়ে শিরিন আক্তারের ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

পর্দায় চরিত্র অনুযায়ী পোশাক পরবো, কিন্তু পাবলিক প্লেসে খোলামেলা পোশাক নয়: চিত্রনায়িকা রিপা

অভিনেত্রী রাজ রিপা আবারও আলোচনায়, তবে এবার কোনো নতুন সিনেমা নয়, বরং তাঁর পোশাক এবং নিজস্ব অবস্থান নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের পোশাক নির্বাচন, গ্ল্যামার, এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অকপটে কথা বলেন এই অভিনেত্রী।

রাজ রিপা বলেন, “আজকে আমি হিজাব পড়েছি, আমার চেহারা কি বদলে গেছে? আমার ফেস কি চেঞ্জ হয়ে গেছে?” নিজের বক্তব্যে তিনি জানান, পোশাক কখনও কারও ব্যক্তিত্ব বা প্রতিভার মানদণ্ড হতে পারে না।

তিনি বলেন, “অনেক সময় এমন হয় যে আমরা যখন কোনো নির্দিষ্ট পোশাক পরে আসি, তখন কিছু দর্শক তা পছন্দ করে না, বাজে মন্তব্য করে। আমি যখন পর্দার জন্য কাজ করি, তখন চরিত্র অনুযায়ী পোশাক ক্যারি করব। কিন্তু পাবলিক প্লেসে আমার মনে হয় খোলামেলা পোশাকের প্রয়োজন পড়ে না।”

রাজ রিপার মতে, “আমি রাজ রিপা—একটা মাটির মানুষ। আমি যদি এক লাখ টাকার ড্রেস পরি বা এক হাজার টাকার, আমি একই মানুষ। আমার চেহারাই আমার পরিচয়, বেশি শো-অফ করার বা দেখানোর কিছু নেই।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি চাই মানুষ আমার হিজাব বা শালীন পোশাক দেখে ভালো মন্তব্য করুক, অন্যরাও শিখুক যে পাবলিক প্লেসে খোলামেলা পোশাক এড়ানো উচিত। ১০ জনের বাজে মন্তব্য থেকে বাঁচতে হলেও শালীন চলাফেরা জরুরি।”

রাজ রিপা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “গ্ল্যামার দেখিয়ে নায়িকা হওয়ার দরকার নেই। বাংলাদেশে আমার থেকে অনেক সুন্দরী মেয়ে আছে, সবাই তো নায়িকা হতে পারেনি। কারণ যোগ্যতাই আসল। যোগ্যতা থাকলে আপনি যেকোনো পরিস্থিতিতে উঠে আসবেন, সেখানে রূপ বা গ্ল্যামার মুখ্য নয়।”

নিজের হিজাব পরার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমি যখন আয়নায় তাকাই, হেয়ার স্টাইলের থেকে হিজাব পড়লে নিজেকে বেশি সুন্দর লাগে। আমি এটা করি নিজের ভালো লাগার জন্য, কারও জন্য না।”