Tuesday, April 21, 2026
Home Blog Page 82

ভারতে ধর্ষণের দায়ে সিলেটের ৪ আ’লীগ নেতা গ্রেফতার

এবার ভারতে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষনেতাসহ ৪ দলীয় নেতাকর্মী। রোববার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা থেকে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তিসহ ৪ দলীয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে মেঘালয় রাজ্যের শিলং পুলিশ। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন- সিলেট মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি রিপন ও সদস্য জুয়েল।

গতকাল রোববার দুপুরের দিকে কলকাতার নিউটাউন এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে কলকাতা পুলিশের সহায়তায় তাদেরকে আটক করে শিলং পুলিশ। এরপর রোববার রাতেই তাদেরকে মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে আনা হয়েছে।

শিলং পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতারা সিলেট থেকে পালিয়ে শিলংয়ে অবস্থান করার সময় তাদের অবাসস্থলে একটি ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে শিলং থানায় ৬ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হলেও আরো দুইজন আসামী পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফসর আজিজ ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাশ মিটু।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, কলকাতার এই ফ্ল্যাট থেকে নাসির, মুক্তি, রিপন ও জুয়েল ছাড়াও সুনামগঞ্জের এক ইউপি চেয়ারম্যানকেও গ্রেফতার করেছিল শিলং পুলিশ। পরে সেখানে অবস্থানরত আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গির কবির নানক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল তাদেরকে ছাড়াতে তদবির শুরু করেন। এরপর মামলার এজহারে নাম না থাকায় সেই ইউপি চেয়ারম্যানকে ছেড়ে দেয়া হয়। অন্যদের মুক্ত করতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন নানক ও নাদেল।

কলকাতায় বসবাসরত সিলেট আওয়ামী লীগের একাধিক দলীয় নেতা এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে একটি সূত্র বলেছে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ছিলেন মূলত সিলেট মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি রিপন ও সদস্য জুয়েল। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতা নাসির ও যুবলীগ সভাপতি মুক্তিসহ সবাই এক ফ্ল্যাটে অবস্থান করায় তাদেরকেও মামলার আসামী করা হয়েছে। তাই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে।

ইউরোপের আট দেশের ভিসা দেবে ঢাকার সুইডিশ দূতাবাস

ঢাকায় সুইডিশ দূতাবাসের সহযোগিতায় বহুজাতিক ভিসা প্রসেসিং সার্ভিস সংস্থা ভিএফএস গ্লোবাল আগামী মঙ্গলবার থেকে বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, লাটভিয়া, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, স্লোভেনিয়া বা সুইডেনে যাওয়ার জন্য শেনজেন ভিসা আবেদনের জন্য একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম চালু করবে। আজ রবিবার ঢাকার সুইডিশ দূতাবাস থেকে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে সব আবেদনকারীকে অবশ্যই ঢাকায় ভিএফএস গ্লোবাল সুইডেনের সঙ্গে শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে আগাম একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে। ‘ওয়াক-ইন’ আবেদন আর গ্রহণ করা হবে না।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লটটি আবেদনকারীর ব্যক্তিগত। তাই স্লটটি আবেদনকারীকেই বুক করতে হবে।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার সময় ভিএফএস গ্লোবাল একটি পরিষেবা ফি ধার্য করবে। আবেদনকারী যদি অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য উপস্থিত না হন বা নির্ধারিত সময়ের সস্নটের ২৪ ঘণ্টা আগে এটি বাতিল করেন তবে ফি ফেরত দেওয়া হবে না বলে ওই বার্তায় বলা হয়েছে।

ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য যদি বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, লাটভিয়া, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, স্লোভেনিয়া বা সুইডেন ভ্রমণ করা হয় তাহলে অনুগ্রহ করে শুধু ঢাকায় ভিএফএস গ্লোবাল সুইডেনের সঙ্গে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে বলা হয়েছে।

অনুসন্ধানের জন্য অনুগ্রহ করে ভিএফএস হেল্প ডেস্কে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। সর্বজনীন ছুটি ছাড়া রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (+৮৮) ০৯৬০৬৭৭৭৩৩৩ বা (+৮৮) ০৯৬৬৬৯১১৩৮২ নম্বরে ভিএফএস হেল্প ডেস্কে যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়াও https://vfsforms.mioot.com/forms/CFNC/-এ যোগাযোগ ফর্মের মাধ্যমে ভিএফএস গ্লোবালের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।

হাসিনার মতো বিমানের সংকেত অদৃশ্য করে পালিয়েছেন আসাদ

রাজধানী দামেস্ক দখলে নেওয়ার বিদ্রোহীদের ঘোষণার মুখে সিরিয়া ছেড়ে পালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। আসাদ সিরিয়া ছাড়ার পর সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দামেস্ক বিমানবন্দর এবং প্রেসিডেন্টের বাসভবন ত্যাগ করে সরে যায়।

গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বিমানের সংকেত গোপন করে ভারতে পালিয়ে যান, বাশার আল আসাদও সংকেত অদৃশ্য করে দেশ ছেড়েছেন।

বিদ্রোহীরা দামেস্ক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কিছুক্ষণ আগে ওপেন সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকাররা সিরিয়ার আকাশসীমায় একটি বিমান উড্ডয়নের রেকর্ড করে।

এতে দেখা যায়, ইলিউশিন ৭৬ বিমানটির ফ্লাইট নম্বর সিরিয়ান এয়ার ৯২১৮। দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে উড়ে যাওয়া শেষ ফ্লাইট ছিল এটি। ওই ব্যক্তিগত উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের পর বিমানবন্দর থেকে সরকারি সেনারা সরে যায়।

ধারণা করা হচ্ছে, দামেস্ক থেকে ছেড়ে যাওয়া শেষ ফ্লাইটে অবস্থান করছিলেন আসাদ। তবে তার গন্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকারদের দাবি, এটি পূর্বদিকে উড়েছিল। তারপরে এটি উত্তরে ঘুরছিল। কয়েক মিনিট পরে, এটি হোমস শহর প্রদক্ষিণ করার সঙ্গে সঙ্গে এর সংকেত অদৃশ্য হয়ে যায়।

গত ৫ আগস্ট তীব্র প্রাণঘাতি গনআন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ দেখে গণভবন থেকে কড়া নিরাপত্তা প্রহরায় হাবিমানবাহিনীর উড়োজাহাজে দেশ ছেড়ে পালান হাসিনা। হাসিনার পলায়নের পরপরই গণভবণ দখল নেয় লাখো বিক্ষু ছাত্র-জনতা।

হাসিনার ফ্লাইটপথ ও অবস্থান অন্যদের না জানাতে ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ওই সময়। একটি উড়োজাহাজের অবস্থান, নাম, উচ্চতা, গতি এবং স্বয়ংক্রিয় জিওলোকেটার সিস্টেম জানাতে থাকে ট্রান্সপন্ডার। হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ভারতীয় আকাশসীমার কাছাকাছি প্রবেশের আগে এর ট্রান্সপন্ডার চালু করা হয়নি।

হাসিনার নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিতের পর গণভবন ছেড়েছিলেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ঠিক একইভাবে আসাদ উড়োজাহাজে চেপে বসার পর বিমানবন্দর ছেড়ে যায় সরকারি বাহিনী।

৫ আগস্ট কারফিউ চলাকালীন আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল সেনাবাহিনী। ঠিক একইভাবে সিরিয়ার জেনারেলরা আসাদের সাথে কথা না বলেই হোমস থেকে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। আরব দেশ ও পশ্চিমাশক্তির সঙ্গে কথা বলে তারা এ সিদ্ধান্ত নেয়।
হাসিনার মতো বিমানের সংকেত অদৃশ্য করে পালিয়েছেন আসাদ
সিরিয়ান সংবাদসংস্থা সাউত আল আসিমার সূত্র বলছে, আরব দেশগুলো গত দুই দিন আসাদকে পদত্যাগের আহ্বান জানালেও উপস্থাপিত সব উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান হয়। আসাদ একটি দীর্ঘ ক্রান্তিকালীন পর্যায়ে জোর দিয়ে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে একটি সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন করা হবে।

সামাজিকমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক ব্যবহারকারী এমন খবরে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে জালিয়াতি করে নির্বাচন করার পর, অবশেষে তিনি (আসাদ) বৈধ নির্বাচন করতে চান?

গুনি ইয়াজার নামে আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, আসাদের একগুয়েমি ব্যক্তিত্ব দুঃখ ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনেনি। এটা কোনো নেতৃত্ব নয়; তার অহংকার বন্যপশুর হয়ে গেছে, তাকে বুঝতে হবে তার পতন ঘটতে যাচ্ছে।

২০১১ সালে আরব বসন্তের জের ধরে সিরিয়ার বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্রমে তা রুপ নেয় গৃহযুদ্ধে। রাশিয়া আর ইরানের সমর্থনপুষ্ট বাশার আল আসাদ নিজের ক্ষমতা অনেকটা সংহত করে রাখতে পেরেছিলেন। কিন্তু ১৩ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের চূড়ান্ত আক্রমণ হাতে গত সপ্তাহ থেকে। নতুন লড়াইয়ে একের পর এক বড় বড় শহরের নিয়ন্ত্রণ হারায় সরকারি বাহিনী।

রোববার বিদ্রোহী দলগুলো টেলিগ্রাম বার্তায় জানায়, ‘বাথ শাসনের অধীনে ৫০ বছরের নিপীড়নের পরে, এবং ১৩ বছরের অপরাধ ও অত্যাচার এবং (জোর করে) বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর… আমরা আজ এই অন্ধকার সময়ের অবসান এবং সিরিয়ার জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা ঘোষণা করছি।’

১৯৭০ সালে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সামরিক বাহিনীর জেনারেল হাফিজ আল আসাদ সিরিয়ায় ক্ষমতা দখল করেন। তিনি ছিলেন আরব সোশ্যালিস্ট বাথ পার্টির নেতা। হাফিজ শক্ত হাতে তিন দশকের বেশি সময় সিরিয়া শাসন করেন। তিনি সিরিয়াকে ক্রমেই মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে নিতে থাকেন।

নিজের গোত্র আলাওয়াতিদের হাতে দেশের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন। গোটা দেশে নিজের ধ্যান ধারণা আর ব্যক্তিগত ক্যারিশমা প্রচার করার পাশাপাশি নিজের ক্ষমতাও অনেক বাড়িয়ে নেন। ২০০০ সালে তার মৃত্যু হয়। এরপর ওই বছরই মাত্র ৩৪ বছর বয়সে ক্ষমতা গ্রহণ করেন তার কনিষ্ঠ ছেলে বাশার আল-আসাদ। বাশার প্রায় দু যুগ ধরে স্বৈরাাচারি কায়দায় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখেন। টানা ১৩ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সিরিয়ায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নিহত এবং বহু মানুষ বাস্তচ্যুত হয়েছে।

৫ আগস্ট, আওয়ামী সরকারের পতনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে আন্দােলনরত ছাত্র-জনতা। ঠিক একইভাবে বাশার আল-আসাদের প্রয়াত পিতা ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হাফিজ আল-আসাদের একটি মূর্তি ভেঙে ফেলেছে বিক্ষোভকারী জনতা। দামেস্কের শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে জারমানা এলাকার একটি বড় মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাফিজ আল-আসাদের মূর্তি ভেঙে ফেলার ছবিও ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এছাড়া হোমস শহর থেকে হাফিজ আল-আসাদের মূর্তি ভেঙে টেনে হিঁচড়ে নেওয়া যাওয়া হয়।

যুক্তরাজ্যে প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়, গাছচাপায় সিলেটির মৃত্যু

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম শহরে প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গাছ উপড়ে পড়ে কাহের হোসেন শাহিন (৫৫) নামের এক সিলেটির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বার্মিংহাম শহরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে- ওই সময় শাহিন নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে গাড়ি করে ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। তখন প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় শুরু হয় এবং রাস্তার পাশের একটি গাছ ভেঙে তার গাড়ির উপর পড়লে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

শাহিনের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার সিকন্দরপুর গ্রামে। তিনি ছয় মে‌য়ে ও এক ছে‌লের জনক। তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও নিজ এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে সবসময় বেশ ভূমিকা রাখতেন। শাহিন ছিলেন বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর গরিব কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি।

এদিকে, তাঁর হৃদয়বিদারক এ মৃত্যুতে যুক্তরাজ্যে বাঙালি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শাহাজালাল বিমানবন্দরে ৪ কেজির বেশি পাখির নখ নিয়ে আগমন, ভারতীয় যুবক আটক

ঢাকার শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভারতীয় নাগরিকের সন্দেহজনক চলাফেরা চোখে পড়ে নিরাপত্তারক্ষীদের। সন্দেহ হওয়ায় তার ব্যাগ তল্লাশী করে পাওয়া যায় হাজার হাজার পাখির নখ। মেপে যার ওজন পাওয়া যায় ৪ কেজির বেশি। যা আইন লঙ্ঘন করে গোপনে বহন করছিলেন তিনি।

শুক্রবার দিবাগত রাতে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে পাখির নখ নিয়ে আসেন ভারতীয় নাগরিক জাকির হোসাইন। কেন পাখির নখ নিয়ে এসেছে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তবে মিরপুরের একজন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিতে এই নখগুলো এনেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় জাকির হোসাইনকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছে বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।

এ বিষয়ে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট পরিদর্শক অসীম মল্লিক বাংলাভিশনকে বলেন, তাকে সন্দেহ হলে কাস্টমস আমাদের খবর দেয়। আমরা এসে প্রথমে জানতে চাইলে সে তথ্য দেয় এগুলো আর্টিফিশিয়াল। কিন্তু, চেক করে আমরা দেখতে পাই পাখির নক। তখন সে জানায় এগুলো স্যুপ হিসেবে খাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু পাখির নখ খাবার হিসেবে গ্রহণের কোন নজির নেই জানিয়ে আমরা পুনরায় জবাবদিহীতা করলে সে জানায়, এই নখগুলোর ব্যাপারে সে কিছুই জানে না, শুধু সে বহন করেছে।

তিনি আরও বলেন, জাকির হোসাইনের কথায় কোন মিল না থাকায় আমরা তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে থানায় হস্তান্তর করেছি এবং অধিকতর তদন্তের জন্য আমাদের ল্যাবে নখের নমুনা পাঠিয়েছি। সে মিরপুরের একজন ব্যক্তির কাছে আসার কথা জানিয়েছে। সে আসলে কার কাছে এসেছে, কেন এগুলো এনেছে সেটি নিয়ে গভীর তদন্ত প্রয়োজন। আশা করি পুলিশ কাজ শুরু করবে। নিশ্চয়ই পুরো চক্র ধরা পড়বে বলে আমরা আশাবাদী।

এদিকে চলতি সপ্তাহে ঢাকা বিমানবন্দর হয়ে পাচারের সময় কাছিমেরও একটি চালান জব্দ করেছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। সংস্থাটি বলছে, একটি এই বন্যপ্রাণী ও প্রাণীর অংশগুলো চীনে পাচারের জন্য বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে তারা।

উল্লেখ্য, বন্যপ্রাণী বা প্রাণীর শরীরের কোনো অংশ আমদানি, রফতানি ও বহন আন্তর্জাতিকভাবেই নিয়ন্ত্রিত। এটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধ। বৈধ কোন কারণে এটি আমদানি রফতানি করতে হলে প্রয়োজন হয় আমদানিকারক ও রফতানিকারী উভয় দেশের লিখিত অনুমতি। কিন্ত, এই নিয়ম না মেনে সম্পূর্ণ গোপনে পাখির নখগুলো বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন জাকির।

ভারতকে হারাতে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন অধিনায়ক তামিম

অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। তাই শিরোপা ধরে রাখার লড়াইটা কঠিনই হবে জুনিয়র টাইগারদের জন্য। তবে ভারতকে হারিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলতে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম। সেই সঙ্গে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ফাইনালে আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমরা সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবো ইনশাআল্লাহ। সবাই আমাদের জন্য দোয়া ও সমর্থন করবেন।

এদিন আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে ১১৭ রানের সহজ লক্ষ্য দেয় পাকিস্তান। জবাব দিতে নেমে ১৬৭ বল এবং ৭ উইকেট হাতে থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় জুনিয়র টাইগাররা। ৪২ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান তামিম।
ভারতকে হারাতে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন অধিনায়ক তামিম
নিজের এই গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস নিয়ে তামিম বলেন, আজকে আমরা ম্যাচ জিতেছি ভালো লাগছে। আল্লাহর রহমতে সবকিছু আমাদের পক্ষে ছিল। বোলাররা সবাই অনেক ভালো করেছে। বিশেষ করে ইমন, মারুফ, আরও যারা আছে। ওরা অনেক ভালো বল করেছে। এর মাধ্যমে ১১৬ রানে অলআউট করতে পেরেছি।

‘ওদের কাছে বার্তা ছিল, আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাব। যে ভুলগুলো করে এসেছি, সেগুলো কমাবো। আমরা সেটা করে দেখিয়েছি। আজকে যে ইনিংসটা আমি খেলেছি, ভালো লাগছে। দলের জন্য জিতেছি, দেশের জন্য জিতেছি খুব ভালো লাগছে।’

পাকিস্তানকে ১১৬ রানে আটকে রাখার নায়ক ইকবাল হোসেন ইমন। ৭ ওভারে ২৪ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। এ নিয়ে রোমাঞ্চিত পেসার জানিয়েছেন, দলের জন্য পারফর্ম করতে পেরে খুশি তিনি।

ইমন বলেন, আজকের উইকেটটা আসলেই ভালো ছিল। ফ্রেন্ডলি উইকেট, পেস বোলিং উইকেট। আমি আমার জায়গায় বল করেছি, সফল হয়েছি। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়ে আমি খুবই রোমাঞ্চিত, অনেক খুশি হয়েছি। আসলে দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার পারফরম্যান্স।

শেখ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়নের’ দেখা মিলল নিউ ইয়র্কে

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে চিনতেন পানি জাহাঙ্গীর হিসেবে। নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসেবেই সব জায়গায় পরিচয় দিয়েছেন। জাহাঙ্গীর আলম ৪০০ কোটি টাকার মালিক। এ তথ্য শেখ হাসিনা নিজেই ফাঁস করেন।

সেই জাহাঙ্গীরের এবার খোঁজ মিলেছে। দেশে নয়, বিদেশে আছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট কার্যালয়ে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেনে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) ভোর ৪টা ৩৪ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

পোস্টে জুলকারনাইন লিখেছেন, বহুল আলোচিত শেখ হাসিনার ‘পিয়ন জাহাঙ্গীর আলম’কে আজ (স্থানীয় সময় বুধবার) নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট কার্যালয়ে বেশ কিছু ডকুমেন্ট পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করাতে অপেক্ষমাণ দেখা যায়।

৪০০ কোটি টাকার বেশি লোপাট করে পরিবারসহ আমেরিকা পাড়ি জমানো জাহাঙ্গীর এ সময় কখনো টুপি পরে নিজের মাথাসহ পুরো মুখ ঢাকার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু গোপন ক্যামেরায় তিনি ঠিকই ধরা পড়ে যান বলে উল্লেখ করেন জুলকারনাইন।
শেখ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়নের’ দেখা মিলল নিউ ইয়র্কে
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে পিএসসির এক গাড়িচালক কিভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হলো- জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা।

এ প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা তখন বলেন, ‘আমার বাসার একজন পিয়ন ছিল, সেও নাকি ৪০০ কোটি টাকার মালিক! হেলিকপ্টার ছাড়া নাকি চলে না। পরে তাকে ধরা হয়েছে। খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।’
এরপর আলোচনায় আসেন জাহাঙ্গীর আলম। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের এই দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে দেশজুড়ে নানা সমালোচনা হতে থাকে।

সরকার তখন তার বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। জব্দ করা হয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। পরে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম পরিবারসহ আমেরিকায় পালিয়েছেন।

গত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-১ আসন (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। তিনি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের নাহারখিল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদ নিয়ে গড়েছেন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ। প্রতারণার মাধ্যমে জাহাঙ্গীর ৪০০ কোটি টাকার মালিকসহ গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশিদের অভাবে শিলিগুড়িতে হাহাকার, থমকে গেছে জীবিকা

বাংলাদেশিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের শিলিগুড়িতে ব্যবসায়ীদের মাঝে হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও বাসিন্দাদের জীবিকায় দেখা দিয়েছে চরম সংকট। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অনেককে কিছুদিনের মধ্যে পথে নামতে হবে বলে জানিয়েছে শিলিগুড়ির ব্যবসায়ীরা। সংকটের সমাধানে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই বাংলাদেশিদের অভাবে শিলিগুড়ির অর্থনীতিতে দেখা দেওয়া সংকট নিয়ে সরেজমিন প্রতিবেদন করেছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ইস্যুতে এবার শিলিগুড়ির অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় শিলিগুড়ির ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে।

এএনআই বলছে, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি একটি পর্যটন গন্তব্য হিসাবে ব্যাপক জনপ্রিয় এবং পরিচিত। উত্তর-পূর্বের অন্যান্য সব রাজ্যকে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে শহরটি। শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রও শিলিগুড়ি। পশ্চিমবঙ্গে শিলিগুড়ির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। এই শিলিগুড়ির মাধ্যমে তিনটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেপাল, বাংলাদেশ এবং ভুটানে সুবিধাজনক প্রবেশাধিকার রয়েছে।

পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে বহু মানুষ এখানে বেড়াতে আসেন। দর্শনার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। শিলিগুড়ি হয়ে দার্জিলিংয়ে যান বহু বাংলাদেশি পর্যটক। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির পর ভিসা ইস্যুর জন্য ভারতে আসা বাংলাদেশিদের সংখ্যা ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে; যার প্রভাব পড়েছে শিলিগুড়ির হোটেল শিল্পে।

সেখানকার বেশির ভাগ নামিদামি হোটেল ফাঁকা। অনেক বাংলাদেশি বুকিং বাতিল করছেন। শিলিগুড়ি-ঢাকা রেগুলার বাস সার্ভিস পরিচালনাকারী বাস অপারেটরগুলোও গত সাত দিনে একজনও যাত্রী পায়নি। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন শিলিগুড়ির ব্যবসায়ীরা।

শিলিগুড়ির একটি হোটেলের ব্যবস্থাপক এএনআইকে বলেছেন, ‘‘শিলিগুড়ি সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত। শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুও এই শহর। পার্বত্য অঞ্চল হওয়ায় পর্যটকরা শিলিগুড়িতে ভিড় করেন।

শহরটির অপর হোটেল ব্যবসায়ী বিপিন কুমার গুপ্তা এএনআইকে বলেন, ‘‘প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের যে কোনও ইস্যু ভারতকেও জর্জরিত করে। বাংলাদেশিরা ভারতে আসা নিয়ে তাদের পরিকল্পনা বাতিল করায় শিলিগুড়ির শিক্ষা ও চিকিৎসা পর্যটন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে হোটেল ব্যবসায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।’’

তিনি বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশ একটি প্রতিবেশী দেশ। আশপাশে যে সমস্যা, অশান্তি বা অন্য কিছু দেখা দেবে, তার সরাসরি প্রভাব পড়বে আপনার এখানে। তাই আমাদের শিলিগুড়ি শহরে বেশি প্রভাব পড়ছে বলে মনে হচ্ছে। কারণ এর বেদনা ও অভিজ্ঞতা আমরা সরাসরি অনুভব করতে পারি। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে, আমাদের জীবিকার ওপর।’’

বিপিন কুমার বলেন, ‘‘গত আগস্ট মাস থেকে পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। আমি সরকারের কথা বলব না। কিন্তু খারাপ রাজনৈতিক পরিবেশ আমাদের ব্যবসাকে প্রভাবিত করছে। কারণ সেখান থেকে নতুন ভিসা আপডেট করা হচ্ছে না। কাউকেই নতুন ভিসা দেওয়া হচ্ছে না।’’

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশিরা দার্জিলিং, শিলিগুড়ি বা কালিম্পংয়ে পড়াশোনা, কেনাকাটা অথবা কেবল ঘুরে বেড়ানোর জন্য আসেন। কয়েকটি বাংলাদেশি পর্যটক গ্রুপ, যারা ছয় মাস আগে হোটেলে রুম বুক করেছিলেন, তারাও তাদের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন।’’

শিলিগুড়ির একটি হোটেলের ব্যবস্থাপক বিকাশ দাস বলেন, তারা সকলেই চান দু’দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হোক। তিনি বলেন, ‘‘আমরা চাই দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুক; যাতে বাংলাদেশ থেকে আগের মতো অতিথিরা এখানে আসেন।’’

ইন্দো-বাংলাদেশ বাস অপারেটর শিবপ্রসাদ ঘোষ এএনআইকে বলেন, ‘‘আগে ঢাকা থেকে পর্যটকে পূর্ণ থাকতো বাস। কিন্তু এবার আমরা একজন যাত্রীও পাইনি।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমি পরিবহনের কাজ করি। আমরা শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের ঢাকা পর্যন্ত যাই। আমরা এখন কাজ করতে পারছি না। তারা যদি ভিসা না দেয়, তাহলে মানুষ এখানে আসবে কীভাবে? বাসগুলো এখন কাজ করছে না, লোকসান গুনছে। আমরা চাই এই সমস্যা সমাধানে দুই দেশ একযোগে কাজ করুক। তারা সংলাপ ও কূটনীতিতে ফিরে এলে সবার জন্যই মঙ্গলজনক হবে।’’

সূত্র: এএনআই।

সিলেট ওসমানী এয়ারপোর্টে বিমানের ভেতর মিললো প্রায় দেড় কোটি টাকার স্বর্ণ

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশের বিমানের একটি ফ্লাইট থেকে ১১ পিস স্বর্ণের বার জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। এ স্বর্ণের মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে দুবাই থেকে আসা বিমানের ফ্লাইট (বিজি-২৪৮)-এর ভেরে পরিত্যক্ত অবস্থায় স্বর্ণের বারগুলো জব্দ করা হয়। জব্দৃ ১১টি স্বর্ণের বারের ওজন ১ কেজি ২৮৩ গ্রাম। তবে এসময় কাউকে আটক করা হয়নি।
ওসমানী এয়ারপোর্টে বিমানের ভেতর মিললো প্রায় দেড় কোটি টাকার স্বর্ণ
স্বর্ণ জব্দের বিষয়টি সিলেটভিউ-কে নিশ্চিত করেছেন কাস্টমস বিভাগের ওসমানী বিমানবন্দর এয়ারফ্রেডের সহকারী কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) বিকাশ চন্দ্র দেবনাথ।

তিনি বলেন- স্বর্ণগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

অবৈধ প্রবাসীদের সুখবর দিল সৌদি আরব

অবৈধ প্রবাসীদের জন্য সুখবর দিয়েছে সৌদি সরকার। দেশটিতে হুরুব বা পলাতক কর্মীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী যারা কফিল (স্পন্সর) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে হুরুব বা পলাতক কর্মীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তাদের জন্য সুখবর দিয়েছে দেশটির সরকার। এখন চাইলে তারা বৈধ হতে পারবেন। এই সুযোগ থাকছে ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত।

সম্প্রতি এ বিষয়ে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মামুনুর রশিদ জানান, ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত যেসব প্রবাসী এই পরিস্থিতিতে রয়েছেন, তারা আগামী বছরের জানুয়ারির ২৯ তারিখের মধ্যে বৈধ হতে পারবেন।

তিনি বলেন, হুরুব প্রাপ্তদের বৈধ হওয়ার এই প্রক্রিয়া কেবল সৌদি সরকারের অনুমোদন পাওয়া নির্ধারিত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। আর এর জন্য প্রবাসীদের নির্ধারিত কাগজপত্র ও প্রাসঙ্গিক তথ্য জমা দিতে হবে।

সকল প্রবাসীদের এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। যারা এখনো বৈধ হওয়ার চেষ্টা করেননি, তাদেরকেও দ্রুত এই সুযোগ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।