Wednesday, April 8, 2026
Home Blog Page 99

রেজিস্ট্রেশন ছাড়া যাওয়া যাবে না সেন্টমার্টিন

সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যটক সীমিত করার পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশন বা অনুমতি ছাড়া কোনো পর্যটক দ্বীপটিতে যেতে পারবে না। বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে কনসালটেশন’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল হামিদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনে পর্যটক সীমিত করে পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সেখানকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করা হবে। কক্সবাজার শহরকে গুরুত্ব দিয়ে প্লাস্টিক মুক্ত করার জন্য খুব দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সাগরকে প্লাস্টিক মুক্ত রাখতে সকলের সহযোগিতা চেয়ে তিনি আরো বলেন, পাহাড় কাটা ও জলাশয় ভরাটের বিষয়ে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এটার জন্য জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে। দেশের নদীগুলোর দূষণ নিয়ে আমরা কাজ করছি। নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য ইতিমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ইউনিডোর সহযোগিতায় পরিবেশ অধিদপ্তর আয়োজিত সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ইউনিডোর বাংলাদেশ প্রধান ড. জাকি উজ্জামান, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল গনি ওসমানী, বাংলাদেশে টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার এবং সামুদ্রিক লিটার প্রতিরোধের দিকে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির জাতীয় প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. সোলেমান হায়দার, পরিচালক (এনভি. ক্লিয়ারেন্স) মাসুদ ইকবাল মো. শামীম, পরিবেশবাদী সংগঠন ধরার কক্সবাজার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সারোয়ার আলম, ইউএনডিপির হেড অব এক্সপেরিমেন্টেশন রমিজ উদ্দিন, বাপার কক্সবাজার সভাপতি এইচ এম এরশাদ, বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু, ইয়েস কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন, কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জমির উদ্দিন প্রমুখ।

‘বিচার না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী দল কার্যক্রম চালাতে পারবে না’

ফ্যাসিবাদী দলকে পাবলিক প্রোগ্রাম করার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হবে। সম্পূর্ণ বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ নেই। তাদের বিচারের ব্যবস্থা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

তিনি জানান, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহতদের তালিকা তৈরি করা হবে। আহতদের চিকিৎসার দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় সরকার বহন করবে। আন্দোলনে নিহতদের জন্য একটি ফাউন্ডেশন তৈরির কাজ চলছে। শহীদ পরিবারদের নিয়ে একটি সম্মেলন করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনকে জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। জুলাইয়ে গণহত্যার স্মৃতি সংরক্ষণে এই জাদুঘর তৈরি করা হবে। এরপর তা জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

শ্রমিক অসন্তোষ ইস্যুতে তিনি বলেন, এই অসন্তোষ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পের সমস্যা নিরসনে রিভিউ কমিটি করা হয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে। এছাড়া, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

‘মুজিব’ সিনেমায় অভিনয় করে পাওয়া শুভর প্লট বাতিল

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প থেকে সংরক্ষিত কোটায় প্লট বরাদ্দ পেয়েছিলেন অভিনেতা আরিফিন শুভ। তাকে বরাদ্দ দেওয়া ১০ কাঠা আয়তনের প্লটটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজউক।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পাশাপাশি প্রযোজক লিটন হায়দারের প্লটও বাতিল হচ্ছে বলে জানা গেছে।

শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন সময়ে সংরক্ষিত কোটায় বরাদ্দ দেওয়া সব প্লট বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এরই অংশ হিসেবে এ অভিনেতাকে সংরক্ষিত কোটায় পূর্বাচলে বরাদ্দ দেওয়া রাজউকের প্লটটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্লটগুলোর তালিকা করতে শুরু করেছি। রাজনৈতিক বিবেচনার দেওয়া প্লটগুলোর বরাদ্দ বাতিল করা হবে।

গত বছরের ২৭ নভেম্বর রাজউকের বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজউক পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প থেকে সংরক্ষিত কোটায় প্লট বরাদ্দ পান অভিনেতা আরিফিন শুভ ও প্রযোজক লিটন হায়দার। এর মধ্যে শুভকে ১০ কাঠা এবং প্রযোজককে একটি ৩ কাঠার প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত বছর মুক্তি পাওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমার মুজিব চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন আরিফিন শুভ। এছাড়া ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া ‘চিরঞ্জীব মুজিব’সহ নির্মাণাধীন আরও পাঁচ সিনেমার প্রযোজক লিটন হায়দার।

সিলেট দিয়ে পালিয়ে গেলেন নায়িকা নিপুণ!

বহুল বিতর্কিত ও সমালোচিত নায়িকা নিপুণ আক্তার। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন ও হার-জিত নিয়ে নানা নাটকের জন্ম দিয়েছিলেন ঢাকাই সিনেমার এই ‘ফ্লপ’ নায়িকা। সেই নিপুণ পালিয়েছেন সিলেট হয়ে। খবর একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের।

জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন নিপুণ আক্তার। এদিন সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন তিনি। বর্তমানে বৈধ ভিসা নিয়ে সেখানেই অবস্থান করছেন নিপুণ।

নিপুণের পার্লারে যাতায়াত ছিল বেশ কয়েকজন নায়িকার। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তার প্যানেল থেকে শিল্পী সমিতির নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিল। এফডিসিতে প্রভাব বিস্তারে নিপুণকে সহযোগিতা করতেন প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু, চিত্রনায়ক ফেরদৌস, রিয়াজ আহমেদ, জেসমিন, মোহাম্মদ হোসেন প্রমুখ। প্রথমদিকে চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক সহযোগিতা করলেও পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হলে সরে আসেন তিনি। এরপর থেকে নিপুণের সঙ্গে সাইমনের দূরত্ব বাড়তে থাকে।

বাবার বন্ধু শেখ সেলিমের সঙ্গে নিপুণের দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে অবৈধ সম্পর্ক। বনানীর এফ ব্লকের চার নম্বর রোডের আট নম্বর বাসায় নিয়মিত শেখ সেলিমের সঙ্গে দেখা করতেন নিপুণ। মাঝে মধ্যেই সেই বাড়িতে নিপুণ রাত যাপন করতেন বলেও খবর রয়েছে। আর যেদিন থাকতেন না সেদিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা কাটিয়ে বেরিয়ে আসতেন তিনি। সরকার পতনের দিনও রাত ৮টা ২৬ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে শেখ সেলিমের সঙ্গে কথা বলেন নিপুণ। সম্পর্কের খাতিরে এই শেখ সেলিমকে দিয়ে বিভিন্ন টেন্ডার পাস করাতেন নিপুণ। এফডিসির কমপ্লেক্স নির্মাণেও রাজউক থেকে মোটা অংকের কমিশন নেওয়ার কথা জানা গেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের কোনো টেন্ডার বা চুক্তি নিপুণের ইশারা ছাড়া পাস হতো না। প্রতিদিনই এই নায়িকার রাজউক ভবনে যাতায়াত ছিল।

নিপুণের ক্যারিয়ারে সেভাবে ব্যবসা সফল সিনেমা না থাকলেও করছেন রাজকীয় জীবন-যাপন। মূলত শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছত্রছায়ায় নিপুণ হয়ে উঠেন অপ্রতিরোধ্য। বাবার বন্ধু পরিচয় দিলেও শেখ সেলিমের সঙ্গে রয়েছে অনৈতিক সম্পর্ক। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে করেছেন গাড়ি, বাড়িসহ অনেক সম্পদ। শেখ সেলিমের টাকা দিয়েই মেয়ে তানিশাকে বিদেশে পড়াশোনা করাচ্ছেন নিপুণ।

নিপুণ আক্তার দীর্ঘদিন ধরেই স্বপ্ন দেখছিলেন সংসদ সদস্য হওয়ার। শেখ সেলিমও চেয়েছিলেন ‘প্রিয়তমা’ নিপুণকে এমপি করতে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচয় না থাকার কারণে নিজেকে জানান দিতে শেখ সেলিমের পরামর্শে নিপুণ অংশ নেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে। ২০২২ সালের নির্বাচনে বিগত দুইবারের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের কাছে হেরে যান নিপুণ। তার বেশকিছু ভোট বাতিল হলে পুনরায় গণনার জন্য আপিল করেন। সেখানেও হেরে যান তিনি। হেরেও হারেন না নিপুণ।

এরপর মামলা করে অবৈধভাবে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ার দখল করেন তিনি। এই অনিয়ম মুখ বুঝে সহ্য করেছিলেন সমিতির সাবেক সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন। কারণ, প্রতিটি মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার জন্য নিপুণের থেকে তার ৫ হাজার টাকা কনভেন্স নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শিল্পী সমিতি থেকেই নিজের ব্যক্তিগত মিটিং সারতেন নিপুণ। এ সময় অনিয়মকে নিয়ম আর নিয়মকে অনিয়মের খেলায় মাতেন তিনি। দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদকের পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মনোয়ার হোসেন ডিপজলের কাছে নিপুণের ভরাডুবি হয়। কিন্তু দমে যাননি নিপুণ। ফের আদালতে মামলা করে ডিপজলের দায়িত্ব পালনে বাধা প্রয়োগ করেন। যদিও পুনরায় ডিপজল চেয়ার ফিরে পান। তার কিছুদিন না যেতেই হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর থেকেই লাপাত্তা নিপুণ। বিপাকে তার পার্লারের কর্মচারীরা। জানা গেছে, কর্মচারীদের বেশ কয়েক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।

কে এই নিপুণ?
নাসরিন আক্তার নিপুণ উচ্চমাধ্যমিকের পর ১৯৯৯ সালে রাশিয়া চলে যান। সেখানে মস্কো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত নিপুণ তার স্বামী এবং এক মেয়ে তানিশার সাথে লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকতেন। অনেকে আগেই স্বামীকে ডির্ভোসে দিয়েছিলেন তিনি। নায়িকার প্রাক্তন স্বামী মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন অপু গত আগস্টে অভিযোগ করেন নিপুণ ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের রক্ষিতা। শেখ সেলিমের ভয় দেখিয়ে তাকে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেন না নিপুণ।

নিপুণ অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘রত্নগর্ভা মা’। কিন্তু সিনেমাটি আজও আলোর মুখ দেখেনি। ২০০৬ সালে এফ আই মানিক পরিচালিত ‘পিতার আসন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখেন নিপুণ। এরপর বেশকিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। তবে অধিকাংশ সিনেমায় দ্বিতীয় সারির নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। দ্বিতীয় সারির নায়িকা হলেও নিপুণ বিলাসী জীবনযাপন করছেন দীর্ঘদিন থেকে। সেলিমের সঙ্গে সম্পর্কে করে গড়েছেন ক্ষমতা এবং সম্পদ। তবে হাসিনা সরকার পতনের পর এখন থাকতে হচ্ছে তাকে পালিয়ে।

ভারতের বিমান মহড়ায় অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ

ভারতের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাজস্থানের যোধপুরে শুরু হয়েছে বিভিন্ন দেশের বিমান মহড়ার বার্ষিক কার্যক্রম ‘তরঙ্গ শক্তি’। ২৯ আগস্ট শুরু হওয়া এই মহড়া ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। তবে, বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে না। খবর দ্য প্রিন্ট।

প্রথমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সি-১৩০ পরিবহন বিমান মহড়ায় অংশ নেবে বলে পরিকল্পনা ছিল। তবে মহড়ায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পরও বাংলাদেশ কিছু উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে ভারতে পাঠাবে।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের কারণে তারা ভারতের প্রথম বড় বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’র দ্বিতীয় পর্বের জন্য সি-১৩০ বিমানের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে।

তবে, মহড়ায় বাংলাদেশ অংশ না নিলেও তিনজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থার বেশ কিছু সূত্র জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ এই মহড়া বয়কট করছে না।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশ মহড়ায় অংশ না নেওয়ায় শ্রীলঙ্কা দুটি বি-২০০ সুপার কিং সামুদ্রিক নজরদারি বিমান নিয়ে এতে অংশগ্রহণ করবে, যদিও আগে এ ধরনের পরিকল্পনা ছিল না।

ভারতে দুটি দফায় বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দফার মহড়া ৬ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত হয়েছিল, এবং এতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী অংশ নিয়েছিল। তবে, দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশ আর অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লিকে।

যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), জাপানসহ কয়েকটি দেশ এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, বাংলাদেশ শাসন ক্ষমতায় পরিবর্তনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ছাত্র-জনতার ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এর ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ভালোভাবে নেয়নি। উপরন্তু, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার কারণে ভারতের দিকে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ভারতে বিমান মহড়া এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দ্য প্রিন্ট জানিয়েছে, শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৫ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ঢাকায় প্রত্যর্পণের জন্য আহ্বান বাড়ানো হচ্ছে এবং নতুন সরকার দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়ে হাসিনার সিদ্ধান্তের প্রকাশ্যে সমালোচনা করছে।

সাদিয়া আয়মানের কাছে ক্ষমা চাইলেন ‘আলো আসবেই’ সদস্য মিলন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে কৌশল অবলম্বন করেছিলেন অভিনয় শিল্পীদের একটি দল। তারা প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগ মতাদর্শী। ‘আলো আসবেই’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যকার কথাবার্তা সেরে নিতেন তারা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দমনে ছক কষায় মেতেছিলেন ওই গ্রুপের সদস্যরা। তবে মঙ্গলবার সেই গ্রুপের কিছু স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হয়। এতে ওই গ্রুপের অভিনয়শিল্পীদের ওপর ফুঁসে ওঠে সাধারণ জনতা।

আলো আসবেই গ্রুপে বর্তমানের ছোট পর্দার অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানকে নিয়ে অভিনেতা মিলন ভট্টাচার্যের একটি মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, সাদিয়া আয়মানকে ‘তথাকথিত জনপ্রিয় অভিনেত্রী’ বলে মন্তব্য করেছেন মিলন। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি অভিনেত্রী সাদিয়া। গ্রুপের স্ক্রিনশট ফাঁস হতেই মিলনের মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন তিনি।

আন্দোলন চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিটিভি। তখন একদল অভিনয়শিল্পী শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা না বলে উল্টো বিটিভি প্রাঙ্গণে গিয়ে টেলিভিশনটির ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আওয়াজ তোলেন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলেন তারা। বিটিভি প্রাঙ্গণে গিয়ে যারা কান্নায় ভেঙে পড়েন তাদের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। সাদিয়ার সেই প্রতিক্রিয়া ‘আলো আসবেই’ গ্রুপে তুলে ধরেন মিলন ভট্টাচার্য। তখন গ্রুপের আরেক সদস্য অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস জানতে চান কে এই সাদিয়া? জবাবে মিলন ভট্টাচার্য বলেন, এই সময়ের তথাকথিত জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
সাদিয়া আয়মান
সম্প্রতি মিলন ভট্টাচার্যের উদ্দেশে সাদিয়া ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন, আপনাকে ধন্যবাদ মিলন ভট্টাচার্য দাদা, মানুষের মতো দেখতে, শিল্পী নামে শয়তান বেশধারীদের কাছে আমার মতো ‘এই সময়ের তথাকথিত জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে চিনিয়েছেন, যে ভুলকে ভুল বলতে জানে, সত্যকে সত্য বলতে জানে। গ্রুপের নাম দিয়েছেন ‘আলো আসবেই’, তা বেশ ভালো, তবে আপনারা জানেন আপনাদের নিজেদের জীবনে, মস্তিষ্কে সত্যিকারের আলোর যে ভীষণ প্রয়োজন?

সাদিয়ার ওই পোস্টে মন্তব্য করেছেন অভিনেতা মিলন। ক্ষমা চেয়ে এই অভিনেতা লিখেছেন, আমি খুবই দুঃখিত। যদি সম্ভব হয়, ক্ষমা করে দিও। আমার এমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আমি এভাবে বিষয়টা বোঝাতে চাইনি। এটা একটা কথার সিরিয়ালে আসছে। যাই হোক, আমি লজ্জিত এমন শব্দ ব্যবহারের জন্য।

সাদিয়া আয়মান
সাদিয়া আয়মান

মিলন আরও বলেন, তোমার বিরুদ্ধে আমি নই, বিশ্বাস করো। দুঃখিত, সে সময়ে দেশের অস্থির পরিস্থিতির জন্য। কী যে কথা বলেছি, সত্যিই বলছি—মাথা ঠিক ছিল না। বিশ্বাস করো, আমি চাই তুমি বিষয়টা বোঝো, তোমার বিরোধী নই আমি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার এই আন্দোলনের বিপক্ষে ছিলেন ঢাকা-১০ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ ও চিত্রনায়ক রিয়াজও। সেই তালিকায় ছিলেন—সোহানা সাবা, জ্যোতিকা জ্যোতি, অরুণা বিশ্বাস, সুবর্ণা মুস্তাফা, আজিজুল হাকিম, স্বাগতা, বদরুল আনাম সৌদ, শমী কায়সার, তানভীন সুইটি, আশনা হাবীব ভাবনা, শামীমা তুষ্টি, জামশেদ শামীম, ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর, সাজু খাদেম, হৃদি হক, ফজলুর রহমান বাবু, দীপান্বিতা মার্টিন, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, লিয়াকত আলী লাকী, নূনা আফরোজ, রোকেয়া প্রাচী, রওনক হাসান, আহসানুল হক মিনু, গুলজার, এস এ হক অলীকসহ অনেকে।

সাবেক আইজিপি শহিদুল হক ও আবদুল্লাহ আল মামুন গ্রেফতার

পুলিশের সাবেক আইজিপি শহিদুল হক ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে আবদুল্লাহ আল মামুনকে ঢাকা ও শহিদুল হককে উত্তরা ১৬ নং সেক্টর থেকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বরাতে জানা গেছে, ঢাকা থেকে তাদেরকে আটকের পর ডিবি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ডিএমপি জানায়, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় সেনা হেফাজতে থাকা অবস্থায় আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করায় আজ রাতে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।

শহিদুল হক ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে ১৯৮৬ সালে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। পুলিশ সুপার হিসেবে তিনি চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম ও সিরাজগঞ্জ জেলায় কার্যভার পালন করেছেন। ডিআইজি হিসেবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, রাজশাহী রেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও পুলিশের ভিন্ন ভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ২০১৪ সালের শেষদিন আইজিপির দায়িত্ব পান এবং ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি অবসরে যান।

শহীদুল হকের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নরবালাখানা গ্রামে। তার ছোট ভাই ইসমাইল হক জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। আরেক ভাই নুরুল হক ব্যাপারী নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বাংলাদেশ পুলিশের ৩১তম মহাপরিদর্শক ছিলেন। ২০২২ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর থেকে তাকে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসাবে নিযুক্ত করা হয়। এরপূর্বে তিনি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র‍্যাব) মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ছিলেন।

আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতিকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. ইউনূসের চিঠি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ৫৭ বাংলাদেশিকে ক্ষমা করে দেওয়ায় দেশটির রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাকে একটি চিঠি দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সম্প্রতি ছাত্র-গণবিপ্লবের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশকারী ৫৭ জন বাংলাদেশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ করেছেন। তাদেরকে ক্ষমা করার আপনার উদার সিদ্ধান্তের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানানোর সুযোগ আমি উপভোগ করছি। আমাদের টেলিফোন কথোপকথনের পর এই ক্ষমাশীলতার কাজটি শুধু সহানুভূতিশীল নেতৃত্বের উদাহরণই দেয় না বরং আমাদের দুই দেশের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের স্থায়ী বন্ধনকে শক্তিশালী করার জন্য একটি বাহক হিসেবে কাজ করে।

তিনি বলেন, সাজা বাতিল করার জন্য আপনার উদার সিদ্ধান্ত বিশেষ করে জড়িতদের পরিবার এবং বাংলাদেশের বৃহত্তর দেশবাসী সংযুক্ত আরব আমিরাতের আমাদের দেশের নাগরিকরা স্বস্তি পেয়েছে। আমরা সত্যিই, আপনার সহানুভূতি গভীরভাবে স্পর্শ করেছি। আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনের প্রতি আমাদের পূর্ণ সম্মান প্রকাশ করছি। আমাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে প্রস্থান করার আগে তাদের স্বাগতিক দেশগুলোর স্থানীয় আইন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ও শিক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি করছি।

তিনি আরও বলেন, আপনার সদয় সিদ্ধান্তের জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। যা আমাদের জাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে। আমরা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে এবং আমাদের জনগণের পারস্পরিক সুবিধার জন্য একসঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ। আমি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের জন্য আপনার সুস্বাস্থ্য, সুখ, দীর্ঘ জীবন এবং অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করছি।

গুলিতে নিহত সিলেটের কিশোরীর মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত স্বর্ণা দাসের (১৬) মরদেহ ফেরত দিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চালতাপুর চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশের কাছে স্বর্ণার মরদেহ হস্তান্তর করে।

এর আগে, রোববার রাতে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের লালারচক সীমান্ত এলাকায় ঘটনাটি ঘটলেও একদিন পর সোমবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়।

নিহত স্বর্ণা জেলার জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের কালনীগড় গ্রামের বাসিন্দা পরেন্দ্র দাসের মেয়ে। স্বর্ণা অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল।

স্বর্ণার বাবা পরেন্দ্র দাস জানান, ভারতের ত্রিপুরায় তার বড় ছেলে থাকেন। তাকে দেখতে স্বর্ণা ও তার মা রোববার রাতে স্থানীয় দুই দালালের সহযোগিতায় লালারচক সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। রাত ৯টার দিকে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে পৌঁছালে বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে স্বর্ণা ঘটনাস্থলে মারা গেলেও ভাগ্যক্রমে স্বর্ণার মা বেঁচে যান।

তিনি জানান, সোমবার রাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি দল বাড়িতে এসে খবরটি জানায়।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভূষন রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে চালতাপুর চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশের কাছে স্বর্ণার মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে স্বর্ণার পরিবারের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

আন্দোলনে নিহত রিকশাচালক পরিবারকে পুরস্কারের অর্থ দিলেন মিরাজ

সিরিজ সেরা হিসেবে স্মারক ট্রফির সঙ্গে তিনি পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি

রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টে ৬ উইকেটে জিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচেই অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়ে সিরিজ সেরা হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। স্মারক ট্রফির সঙ্গে তিনি পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন হয়েছে ৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি ।

পুরস্কার হিসেবে পাওয়া অর্থ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রাণ হারানো এক রিকশাচালকের পরিবারকে উপহার হিসেবে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

পুরস্কার বিতরণ মঞ্চে আনুষ্ঠানিক প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে সময় চেয়ে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিছুটা ধরে আসা কণ্ঠে তিনি জানান, সিরিজ সেরার স্বীকৃতি ও অর্থ পুরস্কার তিনি উৎসর্গ করছেন গত জুলাই-অগাস্টে দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত হওয়া এক রিকশাচালককে।

মিরাজ বলেন, “দেশের বাইরে প্রথমবার সিরিজ সেরা হয়ে ভালো লাগছে। আমাদের দেশে গত কিছু দিন ধরে সমস্যা ছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হয়েছে। সেখানে একজন রিকশাচালক মারা গেছেন। আমি তার পরিবারকে আমার এই পুরস্কার উৎসর্গ করছি।”

ডানহাতি এই অলরাউন্ডার দুই টেস্টে দুটি হাফ সেঞ্চুরিসহ ৭৭.৫০ গড়ে ১৫৫ রান করেছেন। চার ইনিংসে উইকেট নিয়েছেন ১০টি, যা দুই দলের মধ্যে সর্বোচ্চ।

প্রায় ৮ বছর ও ৪৫ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার সিরিজ সেরার স্বীকৃতি পেলেন ২৬ বছর বয়সী স্পিন অলরাউন্ডার। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক সিরিজের দুই ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়ে পেয়েছিলেন প্রথমবার।

এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ১৫৫ রানের সঙ্গে বল হাতে ১০ উইকেট নেন মিরাজ। দুই ম্যাচেই ব্যাট হাতে খেলেন মহাগুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। প্রথম টেস্টে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ১৯৬ রানের রেকর্ড জুটি গড়ার পথে তার ব্যাট থেকে আসে ৭৮ রান।

এবারের পাকিস্তান সফরে দুই হাত ভরে পেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রথম টেস্ট জয়ের পর পরের টেস্টেও চলে বাংলাদেশের দাপট। রেকর্ডের মালা গেঁথে দ্বিতীয় টেস্টে ৬ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে তারা। প্রথমবারের মতো টেস্টে পাকিস্তানকে হারানোর অধ্যায়ে তাদের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে সিরিজও জিতেছে বাংলাদেশ, মিলেছে হোয়াইটওয়াশ করার তৃপ্তি।