Tuesday, April 7, 2026
Home Blog Page 36

সিলেটে সড়কে পুলিশের অভিযান: প্রথমদিনে ৮৭ গাড়ি আটক, ১৭ মামলা

সিলেট নগরে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। সোমবার সকাল ৮টা থেকে নগরের পাঁচটি পয়েন্টে একযোগে এই অভিযান শুরু হয়।

অভিযানের প্রথমদিন শেষে ৮৭টি অবৈধ গাড়ি আটক করা হয়েছে এবং কাগজপত্র না থাকায় ১৭টি মামলা করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় এসব তথ্য জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

তিনি জানান, আটক করা ৮৭টি যানবাহনের মধ্যে রয়েছে- ব্যাটারিচালিক রিকশা ৬৫টি, সিএনজি অটোরিকশা ৫টি, লেগুনা ১টি, মোটর সাইকেল ১৪টি, ট্রাক ১টি ও পিকআপ ১টি।

তিনি জানান, প্রথমদিনের অভিযানে ১৭টি মামলা বরা হয়। এরমধ্যে সিএনজি অটোরিকশার বিরুদ্ধে ২টি, মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে ১১টি, প্রাইভেটকারের বিরুদ্ধে ২টি, পিকআপের বিরুদ্ধে ১টি ও ট্রাকের বিরুদ্ধে ১টি।

এর আগে সকাল থেকে নগরের মেন্দিবাগ, নাইওরপুল, জিতু মিয়ার পয়েন্ট, রিকাবীবাজার এবং পাঠানটুলা এলাকায় পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়ে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেন। এসময় সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের কাগজপত্র চেক করা হয়। অভিযানের কারণে সোমবার সড়কে যানবহান ছিলো অনেকটা কম। ফলে চিরচেনা যানজটও ছিলো না।

সকালে সিলেট মহানগর পুৃলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীও বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে অভিযান তদারকি করেন।

এসময় গণমাধ্যেমের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, অবৈধ যানবাহনগুলো নগর থেকে সরিয়ে নিতে আমরা সময় দিয়েছিলাম। কালকে নগরীতে মাইকিংও করিয়েছি। আজকে সকাল থেকে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি।

তিনি বলেন, সিলেট নগরে কোন অবৈধ যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না।

পুলিশ কমিশনার বলেন, নগরের অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ডগুলো সরানোর ব্যাপারেও আমরা চিন্তা করছি। সিএনজিগুলো পার্কিংয়ের জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

এর আগে গত সপ্তাহে এসএমপি সড়ক শৃঙ্খলা ফেরাতে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়, নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা, রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও ভুয়া নাম্বার প্লেটযুক্ত যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। অনুমোদিত স্ট্যান্ড ছাড়া অন্য কোথাও অটোরিকশা পার্কিং করা যাবে না। এছাড়া মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তারও আগে এসএমপি কমিশনার জানান, নগরীর সম্মানিত নাগরিকদের ভোগান্তি কমানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। কোনোভাবেই নগরীতে অনুমোদনবিহীন, কাগজপত্র ছাড়া বা নিয়ম অমান্যকারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।

সিলেটে ৪০ হাজার অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা, নগরে ৫০ অবৈধ স্ট্যান্ড

সিলেট নগরের আম্বরখানা থেকে চৌকিদিখি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক। এই সড়কের দুই পাশজুড়েই এলোপাতাড়িভাবে সিএনজি অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখা। ফলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে সড়ক। এতে করে ওসমানী বিমানবন্দরগামী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের আম্বরখানা এলাকায় সবসময় লেগে থাকে যানজট। দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।

কেবল এই একটি সড়ক নয়, সিলেট নগরের অন্তত ৫০ টি এলাকায় এভাবে সড়ক দখল করে গড়ে ওঠেছে অভেধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড।

অপরদিকে, সিলেটে সব মিলিয়ে বৈধ সিএনজি-অটোরিকশার সংখ্যা ১৯ হাজার ২০০। বিআরটিএ থেকে অনুমোদন নিয়ে এসব অটোরিকশা সিলেটে বৈধভাবে চলছে। কিন্তু বাস্তবে নগরে চলাচল করছে ৫০-৬০ হাজার সিএনজি-অটোরিকশা। শ্রমিক ও পুলিশের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে এসব অটোরিকশা চলাচল করছে। এগুলোই এখন সিলেট নগরে যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ।

অবশেষে এসব অবৈধ অটোরিকশা ও অটোরিকশা স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নগরে কোন অবৈধ অটোরিকশা চলতে পারবে না এবং অবৈধ স্ট্যান্ড থাকবে না বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার ও সিলেটের জেলা প্রশাসক।

সাম্প্রতিক সময়ে নগরে যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এদিকে, নগরের সড়কে দিন দিন সিএনজি-অটোরিকশার দাপট বাড়ছে। অথচ বিআরটিএ থেকে দেয়া হচ্ছে না চলাচলের কোনো অনুমোদন।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সিলেট নগর ও জেলায় এখন চোরাই সিএনজি-অটোরিকশা দ্বিগুণ বেড়েছে। শুধুমাত্র ‘টোকেন’ ব্যবহার করে এগুলো সড়কে চলছে। এ ছাড়া, অবৈধ স্ট্যান্ডেরও ছড়াছড়ি। সিলেট সিটি করপোরেশন কিংবা প্রশাসনের তরফ থেকে এসব স্ট্যান্ডের কোনো অনুমোদন নেয়া হয়নি। গায়ের জোরে শ্রমিক নেতারা নিজেদের ইচ্ছেমতো স্ট্যান্ড বসিয়েছে।

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরে বর্তমানে এভাবে ৫০টি’র মতো অবৈধ স্ট্যান্ড রয়েছে। অবৈধভাবে চলাচলকারী ৪০ হাজার সিএনজি-অটোরিকশাকে টোকেন দিয়ে চালানো হচ্ছে। এরমধ্যে অর্ধেক অটোরিকশা রয়েছে অনটেস্ট। যেগুলো বিভিন্ন শোরুম থেকে কেনা হয়। অনটেস্ট নামে বছরে পর বছর এসব সিএনজি-অটোরিকশা সড়কে চালানো হচ্ছে। এর বাইরে অর্ধেক গাড়িই হচ্ছে চোরাই। এর সংখ্যা হবে প্রায় ১৫ হাজার। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি করে আনা এসব সিএনজি-অটোরিকশা অনটেস্টের নামেই নগরে চলছে। টোকেন থাকায় ট্রাফিক পুলিশও তাদের ধরে না।

সিএনজি-অটোরিকশা মালিকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিত সময়ে আরও ভয়াবহ কাজ হচ্ছে ভুয়া অকশনের কাগজ ব্যবহার করে সিএনজি-অটোরিকশা চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া শ্রমিক নেতাদের শেল্টারে অবৈধ অটোরিকশা চলাচল করছে। তারা টোকেন দিয়ে পুলিশ ম্যানেজ করে অটোরিকশা চলাচল করাচ্ছে। পাশাপাশি একটি বৈধ নাম্বার দিয়ে ৮-১০টি সিএনজি-অটোরিকশা নগরে চলাচল করে। এই অবস্থায় বৈধ অটোরিকশার মালিকরা হচ্ছেন হয়রানির শিকার। পুলিশ ও শ্রমিক নেতাদের টাকা না দেয়ার কারণে নানাভাবে বৈধ সিএনজি-অটোরিকশার শ্রমিক ও মালিকদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।

সিলেট জেলা সিএনজি-অটোরিকশা, অটোটেম্পু, টেক্সি, টেক্সিকার মালিক সমিতির সভাপতি শাহ মো. দিলওয়ার জানিয়েছেন, নগরে চলাচলকারী অবৈধ অটোরিকশার কারণে যানজট হচ্ছে। বাড়ছে অপরাধও।

এদিকে, সিলেট নগরে অবৈধভাবে চলাচল করা সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এসময়ের মধ্যে এসব অটোরিকশা নগর থেকে না সরালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত মঙ্গলবার সিলেট কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, সিলেট নগরে সিএনজিচালিত বৈধ অটোরিকশা আছে ১৯ হাজার। তবে অবৈধ অটোরিকশা আছে তারচেয়েও বেশি। এগুলোকে নগরে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

তিনি এলন, আমরা অবৈধ অটোরিকশা চালকদের ১৫ দিনের সময় দিয়েছি। ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যেসব সিএনজি শহরে চলাচলের লাইসেন্স নাই সেগুলো শহরের বাইরে সরিয়ে নিতে হবে। এগুলো বিভিন্ন উপজেলায় চলে যাবে। এই সময়ের মধ্যে না সরালে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করা হবে। প্রয়োজনে ডাম্পিং করা হবে।

নগরজুড়ে সিএনজি অটোরিকশার অভেধ পার্কিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের জন্য পার্কিংয়ের নির্দিস্ট স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। পার্কিংয়ের জন্য কোথায় কোথায় ব্যবস্থা করা যায় তা আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে সিএনজি চালকরা অনেক সময় পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে সড়কে চলে আসে। এতে যানজট সৃষ্টি হয়। এখন আমরা তাদের সতর্ক করছি। তারপরও তারা নিয়ম না মানলে আইনগত ববস্থা নেওয়া হবে।

আর ২২ সেপ্টেম্বর হতে নগরীতে কোন অবৈধ যানবাহন চলাচল করবে না, অবৈধ স্ট্যান্ড থাকবে না বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।

মঙ্গলবার দুপুরে মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরের সভাকক্ষে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।
সত্যসূত্র: সিলেট টুডে ২৪ নিউজ

সিলেটে সেতুর পাশ থেকে বালু তোলায় দু’জন কারাগারে

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই সেতুর পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের এক বছর করে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

তারা হলেন উপজেলার ডাকঘর গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর ছেলে শফিক আহমেদ (৪০) ও মো. বাবুল মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ কুদ্দুস (৩০)।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়ার নেতৃত্বে টাস্কফোর্স অভিযানে তাদের দন্ডাদেশ দেওয়া হয়।

জানা যায় ধলাই সেতুর নিচ থেকে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ২ জন বালু উত্তোলনকারী যারা নিজেদের জায়গা দাবি করে বালু উত্তোলন করাচ্ছিল তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের ১ বছর করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদন্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, ধলাই সেতুর পাশ থেকে নিজের জায়গা দাবি করে বালু উত্তোলন করায় ২ জনকে ১ বছর করে জেল দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সেতুর পাশ থেকে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

সিলেটের সাদাপাথরে পর্যটকবাহী ছাড়া সবধরণের নৌকা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

সিলেটের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে পর্যটকবাহী ছাড়া বাকি সবধরণের নৌকা চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। বালু ও পাথর লুট ঠেকাতে এই উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার বিকেলে মাইকিং করে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ধলাই সেতুর ৫০০ মিটার নিচ থেকে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র পর্যন্ত শুধুমাত্র পর্যটকবাহী নৌকা চলাচল করতে পারবে। এই এলাকায় অন্য কোনো নৌকা চলাচল করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সূত্র জানায়, ধলাই সেতুর আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে বালু লুট হচ্ছিল। এছাড়া সাদাপাথর এলাকা থেকে পাথর লুটও করছিল দুবর্ৃৃত্তরা। বালু ও পাথর লুট বন্ধে প্রশান নতুন এ নির্দেশনা জারি করেছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি রতন শেখ তার ফেসবুক পেজে এই নির্দেশনার ভিডিও শেয়ার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্দেশনা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে। যারা এই আদেশ অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধি ৪০জন পেলেন সেলিম উদ্দিনের উপহার

সিলেটের গোলাপগঞ্জ ৪০ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ নারী-পুরুষের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ করেছেন সিলেট-৬ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর উত্তরে আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটরিয়ামে বিয়ানীবাজার উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে স্থানীয় প্রতিবন্ধীদের মাঝে এই হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘জামায়াতের রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো আর্ত-মানবতার কল্যাণ ও সমাজে সার্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা। মানুষের সব সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইল চেয়ার বিতরণ করছি। এতে কেউ ন্যূনতম উপকৃত হলে আমাদের শ্রম সার্থক হয়েছে বলে মনে করব। গণমানুষের ন্যায্য অধিকার আদায় ও সার্বিক সমস্যা সমাধানে জমায়েত সব সময়ই আপোষহীন।’

স্বপ্নের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দাঁড়িপাল্লায় প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে জনগণ যদি জামায়াতের হাতে দেশ শাসনের দায়িত্ব অর্পণ করে, তাহলে মাত্র ৫ বছরের মধ্যেই আমরা দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’

সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান হওয়ার পর দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। কিন্তু এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। মূলত, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও পিআর পদ্ধতি ছাড়া দেশে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। এই দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে জনগণকে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।’

প্রবীণ সমাজসেবী আব্দুস সালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এহতেশামুল আলম জাকারিয়ার সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য, গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ নজমুল ইসলাম, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও গোলাপগঞ্জ পৌর জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির রেহান উদ্দিনে রায়হান, গোলাপগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুল্লাহ দস্তগীর, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী শাহিদুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি সেলিম আহমদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাসেল আহমদ ও শিক্ষাবিদ মাওলানা আব্দুল কাদির প্রমুখ ।

মাঝ আকাশে টার্বুলেন্স, গুরুতর আহত বিমানের কেবিন ক্রু মিথিলা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে গুরুতর আহত হয়েছেন এক কেবিন ক্রু। শুক্রবার আবুধাবি থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকাগামী বিজি-০১২৮ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে।

সূত্রমতে, মাঝ আকাশে আকস্মিক টার্বুলেন্সের (আবহাওয়াজনিত কারণে প্রবল ঝাকুঁনি) কারণে শাবামা আজমী মিথিলা নামের ওই কেবিন ক্রু বিমানের ভেতরে ছিটকে পড়েন। বিমানটি প্রায় ১৫,০০০ ফুট উচ্চতায় অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই সময়ে মিথিলা তার রুটিন দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ প্রবল টার্বুলেন্স শুরু হয়, যা প্রায় ছয় সেকেন্ড স্থায়ী হয়। সিটবেল্ট সতর্কীকরণ সংকেত তখনো চালু হয়নি। প্রচণ্ড ধাক্কায় মিথিলা ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান এবং সঙ্গে সঙ্গে হাত ভেঙে যায়। আহত অবস্থায়ও তিনি অল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বিমানকর্মীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দর মেডিকেল সেন্টার থেকে কোনো চিকিৎসক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি এবং জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্সও সরবরাহ করা হয়নি। তখন এক সহকর্মীর সহায়তায় মিথিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে মিথিলাকে দ্রুত রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের এক্স-রে পরীক্ষায় দেখা গেছে, তার বাম হাতের কনুইয়ের উপরের অংশের হাড় ভেঙে গেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহত কেবিন ক্রুর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অঙ্গহানির সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বলেন, বিমানবন্দর থেকে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

সিলেট সীমান্তে জব্দ কোটি টাকার চালানে

সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে চোরাইপথে আনা কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি। বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত ফাঁড়ি শুক্রবার ও আগের দিন বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি চালান জব্দ করে। জব্দকৃত ভারতীয় পণ্যের মধ্যে গরু থেকে শুরু করে পান পর্যন্ত রয়েছে। তবে কোটি টাকার চালান জব্দ হলেও চোরাচালানের সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি বিজিবি।

বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়ন সূত্র জানায়, গত দুই দিনে প্রতাপপুর, বিছনাকান্দি, ডিবিরহাওর, সোনারহাট, কালাসাদেক ও কালাইরাগ সীমান্ত ফাঁড়ির টহল দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এছাড়া ব্যাটালিয়ন সদরের একটি বিশেষ দল অভিযান চালায় সিলেট নগরীর নাইওরপুল এলাকায়।

অভিযানগুলোতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও পশু জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্য ও পশুর মধ্যে রয়েছে গরু, শাড়ি, কম্বল, টি-শার্ট, ট্রাউজার, পিয়াজ, টমেটো, পান, বিড়ি ও প্রসাধনী সামগ্রী। জব্দকৃত পণ্যের মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল নাজমুল হক জানান, উর্ধ্বতন সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান এবং মাদকদ্রব্য পাচাররোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার বিজিবি ১৯ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন জৈন্তাপুর সীমান্ত ফাঁড়ির টহলদল ফুলবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ১৫টি গরু ও কানাইঘাটের সুরাইঘাট ফাঁড়ির বিজিবি সদস্যরা ২৪০ কেজি জিরা জব্দ করে। জব্দকৃত গরু ও জিরার মূল্য প্রায় ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন বিজিবি ১৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল মো. জুবায়ের আনোয়ার।

সিলেটে আর চলবে না যেসব গাড়ি : অভিযান শুরু সোমবার

সিলেট নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও যানজট কমাতে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে ৫টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে নির্দেশনায়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সিলেটকে যানজটমুক্ত রাখতে নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও ভূয়া নাম্বার প্লেটযুক্ত কোন যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। অনুমোদিত স্ট্যান্ডে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাখা যাবে না। অননুমোদিত কোন স্ট্যান্ডে গাড়ি পার্কিং করা যাবে না। মোটরসাইকেল চালক ও সহযাত্রী উভয়কে হেলমেট পরিধান করতে হবে। সকাল ৮টা হতে রাত ১০টা পর‌্যন্ত নগরীতে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি প্রবেশ করতে পারবে না।

নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এসএমপির নির্দেশনায় জানানো হয়।

বিষয়টি নিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নগরজুড়ে মাইকিং করা হচ্ছে। আগামী ২২ তারিখ (সোমবার) এসব নির্দেশনা কার্যকর হবে।

তিনি জানান, ২২ তারিখ সোমবার থেকে অভিযান শুরু হবে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডাঃ শশী এবং ডাঃ আরশির একসাথে দুই বোনের স্বাস্থ্য ক্যাডারে বিসিএস জয়

রাজবাড়ীর আপন দুই বোন ডা. সিলমা সারিকা শশী এবং ডা. সিলমা সুবাহ আরশি ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস পরীক্ষায় স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন। একসঙ্গে বিসিএসে জয়ের এই সাফল্যে পরিবারসহ পুরো রাজবাড়ী আনন্দে ভাসছে।

শশী ও আরশী রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুরের নিবাসী। তাদের বাবা রাজবাড়ী সরকারি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আক্কাস আলী মোল্লা এবং মা বালিয়াকান্দির মীর মশাররফ হোসেন কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর মালেকা আক্তার শিখা। তারা দু’জনই রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে ২০১৭ সালে এইচএসসি পর্যন্ত জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেন।

শশী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এবং আরশী ঢাকার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে ২০২২ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। এরপর তারা ইন্টার্নশীপ শেষ করে বিসিএসের প্রস্তুতি নেন এবং ৪৮তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

শশীর বাবা আক্কাস আলী জানান, ‘আমার দুই মেয়ে ছোট বেলা থেকেই মেধাবী ছিল। তাদের স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়া। আমরা সবসময় মানসিকভাবে তাদের পাশে ছিলাম। দুই বোন একই স্কুলে একসাথে পড়াশোনা করেছে এবং এসএসসি ও এইচএসসিতে দু’জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের প্রথম বিসিএস পরীক্ষাতেই এই সাফল্য সত্যিই গর্বের বিষয়।’

শশী ও আরশীর মামা, রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও রাজবাড়ী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি রকিবুল হাসান পিয়াল বলেন, ‘দুই ভাগ্নির একসঙ্গে বিসিএস জয়ের খবর আমাদের আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছে। আশা করি তারা মানবিক চিকিৎসক হয়ে সাধারণ মানুষের সেবা করবেন।’

রাজবাড়ীবাসীসহ দুই বোনের পরিবার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চাচ্ছেন।

ভাইরাল সেই আহমদ শাহর পরিবারে নেমে এলো শোক

পাকিস্তানের জনপ্রিয় শিশু তারকা আহমদ শাহ’র ছোট ভাই উমের শাহ ইন্তেকাল করেছেন। পারিবারিক সূত্রে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

আহমদ শাহ’র অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে জানানো হয়, ‘দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের পরিবারের ছোট্ট উজ্জ্বল তারা উমের শাহ আল্লাহর কাছে ফিরে গেছেন। সকলকে অনুরোধ করছি তার ও আমাদের পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।’

এই সংবাদে পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভক্তরা শোকাহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা ও সমবেদনা জানাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।

‘পাঠান কা বাচ্চা’ খ্যাত আহমদ শাহ প্রথম আলোচনায় আসেন টিকটকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে। সেখানে তার মুখের বুলি—‘পিছে দেখো, পিছে’—সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলে। অল্প সময়েই এই অডিও ব্যবহার করে হাজারো ভিডিও তৈরি হয় টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে।

গোলগাল চেহারা ও হাসিখুশি স্বভাবের কারণে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন আহমদ শাহ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি পাকিস্তানের ঘরে ঘরে পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন।

উমের শাহও বড় ভাইয়ের সঙ্গে প্রায়ই ভিডিওতে উপস্থিত থাকতেন। তাদের দু’জনের মিষ্টি আচরণ ও খেলাধুলা ভরা মুহূর্ত দর্শকদের হৃদয় জয় করেছিল।

ভক্তরা বলছেন, উমের শাহ’র মৃত্যুতে যেন তাদের শৈশবের আনন্দঘন স্মৃতিগুলোরও এক অংশ নিভে গেল।

সূত্র: সামা টিভি