Wednesday, April 22, 2026
Home Blog Page 77

ইভিএম বাতিল, ৪০ শতাংশ ভোট না পড়লে ফের নির্বাচন

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহারের আইন বাতিল করার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে কোনো নির্বাচনে ৪০ শতাংশ ভোট না পড়লে পুনরায় সেই নির্বাচন করাসহ একগুচ্ছ সুপারিশ করেছে।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই কমিশন পুরো নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারে নয় পৃষ্ঠার সুপারিশ জমা দেয়।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
(ক) ঋণ-বিল খেলাপিদের প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখা।

(খ) কোনো আদালত কর্তৃক ফেরারি আসামি হিসেবে ঘোষিত ব্যক্তিদের প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখা।

(গ) বেসরকারি সংস্থার কার্যনির্বাহী পদে আসীন ব্যক্তিদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ওই পদ থেকে তিন বছর আগে অবসর গ্রহণ সংক্রান্ত আরপিও’র ধারা বাতিল করা।

(ঘ) সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৬(২)(ঘ) এর অধীনে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে বিচারিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার শুরু থেকেই সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য করা।

(ঙ) আইসিটি আইনে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে) শাস্তিপ্রাপ্তদের সংসদ নির্বাচনে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার শুরু থেকেই সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য করা।

(চ) গুরুতর মানবাধিকার (বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, অমানবিক নির্যাতন, সাংবাদিকদের/মানবাধিকারকর্মী ওপর হামলা, ইত্যাদি) এবং গুরুতর দুর্নীতি, অর্থপাচারের অভিযোগে গুম কমিশন বা দুর্নীতি দমন কমিশন বা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কর্তৃক অভিযুক্ত হলে তাদেরকে সংবিধানের ৬৬(২)(ছ) অনুচ্ছেদের অধীনে একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য করা। (সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতার মাপকাঠি উচ্চতর হওয়া দরকার এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা দরকার। এ ক্ষেত্রে ‘ট্রানজিশন্যার জাস্টিসের’ যুক্তিও উত্থাপন করা যেতে পারে। )

(ছ) স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পদত্যাগ না করে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য করা।

(জ) তরুণ, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য শতকরা ১০ ভাগ মনোনয়নের সুযোগ তৈরির বিধান করা।

(ঝ) স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১% শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধানের পরিবর্তে ৫০০ ভোটারের সম্মতির বিধান করা এবং এ ক্ষেত্রে একক কিংবা যৌথ হলফনামার মাধ্যমে ভোটারদের সম্মতি জ্ঞাপনের বিধান করা।

(ঞ) একাধিক আসনে কোনো ব্যক্তির প্রার্থীর হওয়ার বিধান বাতিল করা।

(ট) হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের প্রেক্ষাপটে আপিল প্রক্রিয়ায় অনুচ্ছেদ ১২৫(গ) বহাল রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা। [“১২৫(গ)। কোনো আদালত, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হইয়াছে এরূপ কোনো নির্বাচনের বিষয়ে, নির্বাচন কমিশনকে যুক্তিসঙ্গত নোটিশ ও শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া, অন্তর্বর্তী বা অন্য কোনোরূপে কোনো আদেশ বা নির্দেশ প্রদান করিবেন না। ”

(ঠ) হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কিংবা তথ্য গোপনের কারণে আদালত কর্তৃক কোনো নির্বাচিত ব্যক্তির নির্বাচন বাতিল করা হলে ভবিষ্যতে তাকে নির্বাচনে অযোগ্য করার বিধান করা।

মনোনয়পত্র
(ক) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আইনি হেফাজতে থাকা ব্যতীত সকল প্রার্থীর সশরীরে মনোয়নপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি করা।

(খ) নির্বাচনী তফসিলে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় বৃদ্ধি করা, যাতে হলফনামা যাচাই-বাছাই করা ও আপিল নিষ্পত্তি জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারণার সময় কমানো, যাতে প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় সাশ্রয় হয়।

(গ) প্রার্থিতা চূড়ান্তকরণের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করা। এ লক্ষ্যে আদালতের হস্তক্ষেপের বিষয়টি শুধু ‘কোরাম নন জুডিস’ ও ‘ম্যালিস ইন ল’-এর ক্ষেত্রে সীমিত করা।

(ঘ) মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ৫ বছরের আয়কর রির্টানের কপি জমা দেওয়ার বিধান করা।

(ঙ) নির্বাচনী তফসিলে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় বৃদ্ধি করা, যাতে হলফনামা যাচাই-বাছাই করা ও আপিল নিষ্পত্তি জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারণার সময় কমানো, যাতে প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় সাশ্রয় হয়।

হলফনামা
(ক) প্রার্থী কর্তৃক মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রত্যেক দল তার প্রার্থীদের জন্য প্রত্যয়নপত্রের পরিবর্তে দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা অনুরূপ পদধারী ব্যক্তি কর্তৃক হলফনামা জমা দেয়ার বিধান করা, যাতে মনোনীত প্রার্থীর নামের পাশাপাশি মনোনয়ন বাণিজ্য না হওয়ার ও দলীয় প্যানেল থেকে প্রার্থী মনোনয়ন প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ থাকে।

(খ) পরবর্তী নির্বাচনের আগে যে কোনো সময় নির্বাচন কমিশন নির্বাচিত ব্যক্তির হলফনামা যাচাই-বাছাই করতে এবং মিথ্যা তথ্য বা গোপন তথ্য পেলে তার নির্বাচন বাতিল করা।

নির্বাচনব্যবস্থা
(ক) নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিধান বাতিল করা।

(খ) নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা।

(গ) কোনো আসনে মোট ভোটারের ৪০% ভোট না পড়লে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠান করা।

(ঘ) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন বন্ধ করা, রাজনৈতিক দলগুলোকে সৎ, যোগ্য এবং ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দেওয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় নির্বাচনে ‘না-ভোটে’র বিধান প্রবর্তন করা। নির্বাচনে না-ভোট বিজয়ী হলে সেই নির্বাচন বাতিল করা এবং পুনর্নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাতিলকৃত নির্বাচনের কোনো প্রার্থী নতুন নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারার বিধান করা।

নির্বাচনী ব্যয়
(ক) সংসদীয় আসনের ভোটার প্রতি ১০ টাকা হিসেবে নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারণের বিধান করা।

(খ) সকল নির্বাচনী ব্যয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা বা আর্থিক প্রযুক্তির (যেমন, বিকাশ, রকেট) মাধ্যমে পরিচালনা করা।

(গ) নির্বাচনী আসনভিত্তিক নির্বাচনী ব্যয় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবিড়ভাবে নজরদারিত্ব করা।

(ঘ) প্রার্থী এবং দলের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের রিটার্নের নিরীক্ষা এবং হিসাবে অসঙ্গতির জন্য শাস্তির বিধান করা।

নির্বাচনী অভিযোগ ব্যবস্থাপনা
(ক) বিদ্যমান ‘নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি’কে অনুসন্ধান বা তদন্ত করার ক্ষমতা প্রদানের পাশাপাশি বিচার-নিষ্পত্তির ক্ষমতা প্রদান করে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি নামে একটি পূর্ণাঙ্গ বিচারিক সত্তা/বডি গঠন করা।

(খ) নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির আওতায় প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে সদস্য করা। এর প্রেক্ষিতে উক্ত কমিটিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ধারা মতে বিচারার্থে অপরাধ আমলে নেওয়ার এবং সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা অর্পণ করা।

(গ) সংসদ নির্বাচন চলাকালে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিগুলোর কার্যাবলি তদারকি করার নিমিত্তে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে একটি উচ্চ পর্যায়ের ‘নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কার্যক্রম তদারকি কমিটি’ একজন নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে গঠন করা।

(ঘ) কার্যকালীন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিগুলো প্রশাসনিকভাবে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কার্যক্রম তদারকি কমিটির আওতায় আনা। বিচারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এগুলোকে স্বাধীন করা।

(ঙ) হাইকোর্ট বিভাগে নির্বাচনী মামলার চাপ কমাতে এবং শুধু নির্বাচনী বিরোধ সংশ্লিষ্ট মামলা (ইলেকশন পিটিশন) দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য জেলা পর্যায়ে ‘সংসদীয় নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল’ (Parliamentary Election Tribunal) স্থাপন এবং ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিলের সুযোগ রাখা।

এই সুপারিশগুলো দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেবে অন্তর্বর্তী সরকার।

পদত্যাগ করলেন টিউলিপ সিদ্দিক

যুক্তরাজ্যের সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিক পদত্যাগ করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠের কাছ থেকে ফ্ল্যাট উপহার নিয়ে ব্যাপক চাপের মুখে ছিলেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) তার পদত্যাগের বিষয়টি জানিয়েছে।

টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অর্থনৈতিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। এরপর নিজের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ মিনিস্ট্রিয়াল ওয়াচডগকে তদন্তের আহ্বান জানান টিউলিপ। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন মিনিস্ট্রিয়াল ওয়াচডগের উপদেষ্টা লরি ম্যাগনাস।

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হতে পারে সিলেটি হামজার

ঘরের মাঠে নয়, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হতে পারে লেস্টার সিটির ফুটবলার হামজা চৌধুরীর। আর সম্ভাব্য ভেন্যু হতে পারে শিলংয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম।

আগামী ২৫ মার্চ এশিয়া কাপ বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে লড়বে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের ভেন্যু এখনও চূড়ান্ত করেনি অল ইন্ডিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। তবে এএফসির অনুমোদন পেলে শিলংই হবে সেই ম্যাচের ভেন্যু। যে ম্যাচ দিয়ে লাল-সবুজ জার্সিতে অভিষেক হতে পারে হামজা চৌধুরীর।
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হতে পারে সিলেটি হামজার
এদিকে, শীতকালীন দলবদলে লেস্টার সিটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। তার সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেড। লেস্টারে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ না পাওয়া হামজা দলবদলের পর শেফিল্ডের জার্সিতে অন্তত নিয়মিত মাঠে নামতে পারবেন।

সিলেটে আজহারীর মাহফিলের জন্য মন্দির ঢেকে দেওয়ার গুজব ভারতীয় গণমাধ্যমে

সিলেটের এমসি কলেজের মাঠে তিন দিনব্যাপী তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের শেষ দিনে গত ১১ জানুয়ারি বয়ান করেন ইসলামিক স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী। সেই মাহফিলের জন্য পার্শ্ববর্তী একটি মন্দির কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলে প্রচার করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম নিউজ১৮ বাংলা।সিলেট পর্যটন প্যাকেজ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই দাবিতে কয়েকটি ছবি প্রচার করা হয়েছে। তবে তথ্য যাচাইকারি প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে আলোচিত দাবিটি সঠিক নয়।

প্রকৃতপক্ষে ওই মন্দিরে প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে; কুয়াশায় যাতে প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে কারণে মন্দির কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট ও সাবেক গণমাধ্যমকর্মী হাসান আল মাহমুদ জানান, আলোচিত ছবিগুলো সিলেটের গোপাল টিলা মন্দিরের। মূলত সরস্বতীর প্রতিমা তৈরি উপলক্ষে মন্দিরটি প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। যাতে করে কুয়াশায় প্রতিমাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।সিলেট পর্যটন প্যাকেজ

তিনি আরো জানান, ওয়াজের ৩ দিন আগ থেকেই প্লাস্টিক টাঙ্গানো হয়েছে, ওয়াজ মাহফিল শেষ হয়ে গেলেও প্লাস্টিকগুলো এখনও সেখানে আছে এবং আরও কয়েকদিন থাকবে।

আলোচিত ওই মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিমাদ্রি কর পুরকায়স্থ জানিয়েছেন, মাহফিলের জন্য মন্দির ঢেকে দেওয়ার তথ্য পুরোপুরি মিথ্যা। মন্দির কমিটির সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ না করেই ভিত্তিহীনভাবে এই সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় একজন কারিগর নামমাত্র মজুরিতে সরস্বতী প্রতিমা তৈরি করে আশেপাশের পূজামণ্ডপগুলোতে সেগুলো বিক্রি করেন।

যেহেতু আমাদের মন্দিরে নিরাপত্তা ভালো, তাই আমরা তাকে এখানে প্রতিমা তৈরির জন্যে জায়গা দিয়েছি। শীতকালের কুয়াশার কারণে প্রতিমা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং শিশু-কিশোরদের অযাচিত কৌতূহল এড়াতে কারিগর নিজেই মন্দিরের চারপাশ কাপড় দিয়ে ঢেকে দিয়েছে।

এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, গোপাল টিলা সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়ার সাথে সিলেট এমসি কলেজ মাঠে আয়োজিত মাহফিলের কোনো সম্পর্ক নেই।

সৌজন্যে: কালেরকন্ঠ

সিলেটে আজহারীর মাহফিল শেষে ৩৩ জিডি, আটক ১০

সিলেট নগরের এমসি কলেজ মাঠে ড. মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিলে অংশ নিতে গিয়ে মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় ৩৩টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও দুটি মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চার নারী ও ছয় পুরুষকে আটক করেছে পুলিশ।সিলেটের খাবার ও রেস্তোরাঁ

শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাতে আনজুমানে খেদমতে কোরআন সিলেট আয়োজিত সিলেট এমসি কলেজ মাঠে তিন দিনব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিল সম্পন্ন হয়েছে। সমাপনী দিনে বয়ান পেশ করেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। এদিন তার বয়ান শুনতে লাখ লাখ মানুষ এমসি কলেজ মাঠে জড়ো হন।

পুলিশ জানায়, মাহফিলে আসাদের মোবাইলফোন ও স্বর্ণ চুরির ঘটনায় থানায় ৩৩টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুক্তভোগীরা। সাধারণ ডায়েরি সূত্র ধরে তাদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে চার নারীকে স্বর্ণ ও ছয় পুরুষকে মোবাইল চুরির ঘটনায় আটক করা হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিন দিনব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের শেষ দিনে মোবাইল ফোন খোয়া যাওয়ার ঘটনায় এ পর্যন্ত সিলেট শাহপরাণ থানায় ৩৩টি জিডি ও দুটি চুরির মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় আটক হয়েছেন ১০ জন।

তাহসানের বিয়ের পর লাইভে মিথিলার কান্না! কতটা সত্যি?

দীর্ঘ সাত বছর সঙ্গীহীন থাকার পর সম্প্রতি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান রহমান খান। এর দুদিন পর তার প্রাক্তন স্ত্রী রাফিয়াত রশীদ মিথিলা লাইভে এসে কান্না করেছেন বলে চর্চা চলছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও-ও ছড়িয়ে পড়েছে।

কিন্তু কতটা সত্যি মিথিলার কান্নার ঘটনা?

এ ব্যাপারে তথ্যের সত্যতা যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার জানায়, ঘটনাটি সত্য নয়। তাদের অনুসন্ধানে দেখা যায়, তাহসানের দ্বিতীয় বিয়ের পর তার প্রাক্তন স্ত্রী মিথিলা লাইভে এসে কান্না করেননি, বরং বিয়ের পর মিথিলাকে তার ফেসবুক পেজের স্টোরিতে মেয়ে আইরার সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ছবি শেয়ার করতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। সেখানে মিথিলার কান্নার কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি বরং এতে তাহসানের বর্তমান স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মেকওভার আর্টিস্ট রোজা আহমেদের সঙ্গে তাহসানের বিয়ের স্থিরচিত্র এবং সাবেক স্ত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা ও কন্যা আইরা তেহরীম খানের মিরর সেলফি যুক্ত রয়েছে।

এর পাশাপাশি ভিডিওটিতে একটি ভয়েসে মিথিলাকে নিয়ে আলোচিত দাবিটি তোলা হয়। তবে ভিডিওতে দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এছাড়া বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে গণমাধ্যম কিংবা নির্ভরযোগ্য সূত্র আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।

গত ৪ জানুয়ারি মেকওভার আর্টিস্ট রোজা আহমেদকে বিয়ে করেন তাহসান। তারপর থেকে তুমুল চর্চায় রয়েছেন এই দম্পতি।

এর আগে ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট মিথিলাকে ভালোবেসে বিয়ে করেন তাহসান। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তাদের সংসারে আসে কন্যাসন্তান আইরা তাহরিম খান। ২০১৭ সালের ২০ জুলাই তাহসান তার প্রাক্তন স্ত্রী মিথিলার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন।

এর দুই বছরের মাথায় ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন মিথিলা। প্রায় সাত বছর ধরে তার সঙ্গেই সংসার করছেন এই অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী।

গরু চুরি করে কর্মীদের আপ্যায়নের অভিযোগ, বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে মহিলা দলের সমাবেশ উপলক্ষে গরু চুরি করে কর্মী-সমর্থকদের আপ্যায়ন করার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ ২জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়ের পর যুবদল নেতা মাহমুদুল হাসান মুক্তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের কয়ড়া বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে, বিকেলে বিএনপির উপজেলা আহ্বায়ক মঞ্জুর কাদের বাবুল খানের স্বাক্ষরিত এক অব্যাহতি পত্র দেয়া হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার কয়ড়া বাজার এলাকার মৃত আব্দুল মজিদ মণ্ডলের ছেলে, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তা চৌধুরীর অনুসারী ও আদারভিটা ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সুমন মন্ডল (৪০) এবং একই এলাকার হাসান প্রামনিকের ছেলে মাংস ব্যবসায়ী (কসাই) ফজলুল প্রামানিক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা মহিলা দলের সমাবেশ উপলক্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মুক্তার চৌধুরীর বাড়িতে এক ভোজের আয়োজন করা হয়। এতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তা চৌধুরী নির্দেশে যুবদল কর্মী সুমন মণ্ডলসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি কর্মী জোড়খালী ইউনিয়নের দক্ষিণ খামার মাগুরা এলাকার মৃত ছৈয়দ আলী মণ্ডলের ছেলে এফাজ মণ্ডলের বাড়ি থেকে গত রাতে একটি গরু চুরি করে। পরে, মাংস ব্যবসায়ী ফজলুল প্রামানিককে দিয়ে গরু জবাই করে রান্নার জন্য তৈরি করা হয়।

পরে, সকালে এফাজ মন্ডল তার গোয়াল ঘরে গরু দেখতে না পেয়ে এলাকায় খোঁজাখোঁজি শুরু করেন। গরু চুরির ঘটনায় এফাজ মন্ডলের বাড়িতে লোকজন জমায়েত হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজনসহ গরুর মালিকসহ কয়ড়া বাজারে যাওয়ার পথে মাংস ব্যাবসায়ী ফজলুর কাছে গরু মাথা ও চামড়া দেখে গরু সনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা করতে গেলে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে যুবদল কর্মী সুমন ও মাংস ব্যবসায়ী ফজলুকে আটক করে। এ সময় গরু চামড়া, মাথা ও কিছু মাংস উদ্ধার করে পুলিশ।

আদারভিটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মুক্তা বলেন, আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার আমাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে৷

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মঞ্জুর কাদের বাবুল খান বলেন, দলীয় ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। কেনো তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তা ৭ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করতে বলা হয়েছে।

মাদারগঞ্জ মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন বলেন, গরু চুরি ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুইজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে কাজ চলছে।

সাজানো বাগান ধ্বংসের পথে, লন্ডনে বিপর্যস্ত টিউলিপ

ফ্ল্যাট-কাণ্ডে বিপর্যস্ত যুক্তরাজ্যের অর্থ ও নগরবিষয়ক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, লন্ডনের বিতর্কিত ওই ফ্ল্যাটটি নিয়ে হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের এমপি টিউলিপ যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থার (এনসিএ) তদন্তের মুখেও পড়তে পারেন।

এর আগে গত সপ্তাহে সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, টিউলিপ তার ক্ষমতাচ্যুত খালা শেখ হাসিনার এক সহযোগীর কাছ থেকে ফ্ল্যাট উপহার পেয়েছেন। যেটির তথ্য তিনি গোপন রেখেছেন। ওই সংবাদ প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) প্রথম প্রকাশ্যে দেখা গেছে টিউলিপকে।

সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, তাকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিসে যেতে দেখা গেছে।

ডেইলি মেইল আরও জানিয়েছে, মিথ্যা কথা বলার অভিযোগে টিউলিপের বিরুদ্ধে তদন্ত হতে পারে। টিউলিপকে ‘প্রতারক মন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ২০২২ সালে তারা তার ফ্ল্যাট নিয়ে তদন্ত করেছিল। ওই সময় তারা খুঁজে পেয়েছিল এটি আসলে তিনি অন্য একজনের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছেন। কিন্তু তখন টিউলিপ মিথ্যা কথা বলেন যে, ফ্ল্যাটটি তার বাবা-মা তাকে কিনে দিয়েছেন।

ওই সময় ডেইলি মেইলকে তিনি হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছে ব্রিটিশ পত্রিকাটি। তারা জানিয়েছে, এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া্ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন টিউলিপ। এরপর আর এটি প্রকাশ করেনি ডেইলি মেইল।

এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ‘মিনিস্ট্রিয়াল কোড’ উপদেষ্টা এখন তদন্ত করবেন, টিউলিপ ফ্ল্যাট নিয়ে ডেইলি মেইলের সঙ্গে মিথ্যাচার করেছিলেন কি না।

ব্যাপক চাপে পড়ার পর টিউলিপ ফ্ল্যাট নিয়ে ডেইলি মেইলকে যে তথ্য দিয়েছিলেন সে অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। টিউলিপের রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির একটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে, টিউলিপের বাবা-মা তাকে ফ্ল্যাটটি কিনে দেননি। এটি আসলে ‘কৃতজ্ঞতার’ অংশ তার স্বৈরাচার খালার সহযোগীর কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছেন।

অন্যদিকে তদন্তের মধ্যেই সিটি মিনিস্টারের দায়িত্ব থেকে টিউলিপকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস।

দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ ওঠার পর তিনি আর দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারেন না বলেও রুপার্ট মারডকের মালিকানায় থাকা ব্রিটিশ সংবাদপত্রটির সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে।

টিউলিপকে এ দায়িত্বের জন্য বেছে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনাও করা হয় এতে।

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরই তাকে দায়িত্ব সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে। যদিও দুর্নীতির অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন টিউলিপ।

এমন প্রেক্ষাপটে লেবার পার্টির সিটি মিনিস্টার হিসেবে তাকে বাছাই করাই ‘স্বচ্ছ ছিল না’ মন্তব্য করে বুধবার দ্য টাইমস লিখেছে, টিউলিপ এ পদের জন্য একমাত্র বিকল্প ছিলেন না।

তাকে এ দায়িত্বের জন্য বেছে নেওয়ার সমালোচনা করে সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, স্যার কিয়ার স্টারমার তার উত্তর লন্ডনের প্রতিবেশীদের রাজনৈতিক সুক্ষ্মদর্শিতা ও যোগ্যতা যাই হোক না কেন, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে তাদের বসিয়ে রেকর্ড করেছেন।

যুক্তরাজ্যের আর্থিক সেবাখাতের ভবিষ্যত কিংবা কীভাবে লন্ডনকে শীর্ষস্থানীয় অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে ধরে রাখা যায়, সে ব্যাপারে হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের এই এমপি কমই আগ্রহ দেখিয়েছেন।

সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, যাই হোক যুক্তরাজ্যের আর্থিক সেবা খাতের দায়িত্বে টিউলিপকে বসানোর সিদ্ধান্ত কতটা অবিবেচনাপ্রসূত ছিল, তা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সামনে আসা অনেক প্রাসঙ্গিক কারণগুলোতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

টিউলিপের বিরুদ্ধে তার খালা, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত কর্তৃত্ববাদী শাসক শেখ হাসিনার সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কের ব্যাপারে অনেকগুলো অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্ত কর্মকর্তা টিউলিপের আবাসন বা ‘উপহারের ফ্ল্যাট’ এবং এর সঙ্গে শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসূত্র খুঁজবেন। তদন্ত চলাকালে তার সরে দাঁড়ানোই উচিত হবে। তবে তদন্তে যদি তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন তাকে সরকারে ফিরিয়ে আনার পথ খুলে যাবে।

দ্য টাইমস আরও বলছে, টিউলিপ তার খালা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বিরোধীদের ফাঁদেও পড়তে পারেন। সর্বোপরি তার স্বজনকে দিয়ে, শেখ হাসিনার সহিংস কর্মকাণ্ড, আত্মসাৎ, দুর্নীতি আর নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন দিয়ে সিটি মিনিস্টারকে মাপা উচিতও নয়। কিন্তু তিনি তার সমর্থকদের প্রভাব থেকেও দূরে থাকেননি। যে কারণে তিনি দেশ-বিদেশে নৈতিক তদন্তের মুখে পড়েছেন।

বিজিবি-বিএসএফ উত্তেজনা, একটা ছবি ভাইরাল

দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, কারও দানে পাওয়া নয়। প্রিয় মাতৃভূমির এক চুল মাটিও কাউকে ছুতে দেওয়া হবে না। এই বাংলা আমার অহংকার। নিজের সেই অহংকার অস্তিত্ব ধরে রাখতে আগে-পিছে না ভেবে জিবিজির সাথে নেমে পড়েন এক কৃষক।

হাতে একটা কাস্তে, পরনে লুঙ্গি, কিছুটা নীচু হয়ে বসে আছেন, তীক্ষ্ণ রক্তচক্ষু ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর দিকে। যেন বাংলাদেশ নামের প্রিয় মায়ের দিকে চোখ তুলে তাকালেই সব শেষ করে ফেলবে সে। মাতৃভূমির প্রতি, এতো প্রেম, এতো ভালোবাসা ভরা তার এই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। রীতিমত হিরো বনে গেছেন তিনি।

কেউ ক্যাপশনে লিখেছেন মাতৃভূমি না হয় মৃত্যু। আবার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, বিনা যুদ্ধে নাহি দিব, সূচ্যগ্র মেদিনী’। ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশকে আর কেউ গোলামির জিঞ্জিরে বন্দি করতে পারবে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের চৌকা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মধ্যে দুইদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরইমধ‍্যে ওই সীমান্তে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। উভয় পক্ষই সীমান্তে বতর্মানে সর্তকাবস্থানে রয়েছে।

জানা গেছে, আর্ন্তজাতিক সীমান্ত পিলার এলাকায় কয়েক মাস আগে সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ড থেকে ৫০ গজ এগিয়ে বাংলাদেশের অভ‍্যন্তরে ভারত একটি কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করে। সেই রাস্তায় পাশে পুনরায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করার সময় তৈরি হয় এই উত্তেজনা।

নিজেদের মাতৃভূমিকে রক্ষায় বিজিবির সাথে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থায়ী বাংলাদেশি বসবাসকারীরা। বিজিবির সঙ্গে দিনব্যাপি অবস্থান করতে দেখা গেছে। একইভাবে, ভারতীয় নাগরিকদেরও বিএসএফের সঙ্গে অবস্থান নিতে দেখা যায়। একে কেন্দ্র করে এই সীমান্তসংলগ্ন দুই দেশের স্থানীয়রা পাল্টাপাল্টি স্লোগানও দেয়।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয় এবং বিজিবির সেক্টর কমান্ডারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া জানান, বিএসএফ কাম্পের সদস্যরা সীমান্ত ঘেষে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করলে বিজিবির পক্ষ থেকে বাধা দেয়া হয়। এরপর সোমবার ও মঙ্গলবার উভয়পক্ষের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। দুই দেশের বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কানাডায় নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

কানাডার টরেন্টোতে নিধুয়া মুক্তাদির নামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় শনিবার (৪ জানুয়ারি) ইরি লেকের তীরে পোর্ট ব্রুস সৈকত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) নিধুয়ার ভাই আব্রাহাম মুক্তাদির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিধুয়া মুক্তাদির (১৯) কানাডায় বাংলাদেশি লেখক ও উপস্থাপক সামিনা নাসরিন চৌধুরীর মেয়ে। তিনি মায়ের সঙ্গে স্কারবারোর ক্রিসেন্ট টাউনে বসবাস করতেন।

জানা গেছে, নিহত নিধুয়া মুক্তাদির কানাডার ফানশাওয়ে কলেজের নার্সিং দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি গত ৪ ডিসেম্বর পোর্ট স্ট্যানলি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে হক ক্লিফ রোড থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন। তাকে খুঁজে পেতে পুলিশ ডুবুরি এবং ড্রোনের সাহায্য নিয়েছিলেন। তবুও তার সন্ধান মিলছিল না। শনিবার ওয়ানেটা বিচে এক কানাডিয়ান নাগরিক নিধুয়ার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। মঙ্গলবার অন্টারিও প্রাদেশিক পুলিশ নিশ্চিত করে যে, এটি নিখোঁজ নিধুয়ার লাশ।

কানাডা পুলিশ জানিয়েছে, কানাডার ফানশাওয়ে কলেজে নার্সিংয়ে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি গত ৪ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

অন্টারিও প্রাদেশিক পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের শরীরে অস্বাভাবিক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

আব্রাহাম মুক্তাদির বলেন, পুলিশ আমার বোনের মরদেহ খুঁজে পেয়েছে। আমার পরিবার খুব খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমার বোন খুব সাহসী এবং দৃঢ়চিত্তের অধিকারী ছিল। তাকে হারিয়ে আমার পরিবার খুব খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

নিধুয়া মুক্তাদির মা সামিনা নাসরিন চৌধুরী বলেন, মেয়ের সঙ্গে আমার সর্বশেষ কথা হয়েছে গত ২৯ নভেম্বর। আমার মনে হয় আমি একটি খারাপ স্বপ্ন দেখছি, জেগে উঠে দেখব সব ঠিক আছে। আমার মেয়ে বেঁচে আছে। আমি শুধু মেয়েকে ফিরে পেতে চাই, আমার আর অন্য কোনো চাওয়া নেই।