Wednesday, April 22, 2026
Home Blog Page 78

লন্ডনে যাওয়ার পথে সিলেট বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো অভিনেত্রী নিপুণকে

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিত্রনায়িকা নিপুণের লন্ডন যাত্রা বাতিল করা হযেছে। শুক্রবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার লন্ডন যাওয়ার কথা ছিল। ইমিগ্রেশনের সময় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটকে দেয় ইমিগ্রেশন পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার যাত্রা বাতিল করে ফিরিয়ে দেয়া হয়। লন্ডন যাত্রা বাতিলের পর তিনি ঢাকায় ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।

ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, বিমানবন্দরে কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা চিত্রনায়িকা নিপুণের লন্ডন যাত্রার বিষয়ে আপত্তি তোলেন। এরপর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। নিপুণের পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার লন্ডন যাত্রা বাতিল করে। তবে ঠিক কী কারণে গোয়েন্দা সংস্থা আপত্তি জানিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ওসমানী বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি মোস্তফা নূর ই বাহার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিপুণের লন্ডন যাত্রার ব্যাপারে আপত্তি তোলে গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের আপত্তির প্রেক্ষিতে চিত্রনায়িকা নিপুনের লন্ডন যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।

কানাডায় মা-বাবা নিয়ে স্থায়ী হওয়ার সুবিধা বন্ধ, বিপাকে বাংলাদেশিরা

এত দিন নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কানাডায় স্থায়ী হওয়া সন্তানরা তাদের মা-বাবা, দাদা-দাদি ও নানা-নানির জন্য স্থায়ী আবাসনের (পিআর) ব্যবস্থা করতে পারতেন। তবে ২০২৫ সালে এ ধরনের সুবিধা নতুন করে আর দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন, উদ্বাস্তু ও নাগরিকত্ব বিষয়ক বিভাগ (আইআরসিসি)।

প্যারেন্ট অ্যান্ড গ্রান্ডপ্যারেন্টস স্পন্সরশিপের (পিজিপি) আওতায় নতুন বছরে আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে নিশ্চিত করেছে আইআরসিসি। এতে করে কানাডার স্থায়ীভাবে বসবাসকারীরা আগের মতো মা-বাবা, দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানির জন্য পিআরের ব্যবস্থা করতে পারবেন না।

আইআরসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে যারা পিজিপির আবেদন করেছিলেন নতুন বছরে শুধু সেসব আবেদনপত্র নিয়ে কাজ চলছে। তবে কেউ চাইলে দেশটির সুপার ভিসা সুবিধার আওতায় নিজের নিকটাত্মীয়দের কানাডা বসবাসের সুযোগ করে দিতে পারবেন। এ ভিসার আওতায় এক নাগাড়ে পাঁচ বছর কানাডা থাকার সুযোগ পাবেন তারা।

অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে ২০২৫ সালে আইআরসিসি ২০ শতাংশ পিআর সুবিধা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এতে বছরের শুরুতেই প্রভাব পড়েছে পিজিপি প্রোগ্রামের ওপর। আগের আবেদনের ভিত্তিতে পিজিপি প্রগামে এ বছর সাড়ে ২৪ হাজার মানুষকে কানাডায় স্থায়ীকরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আইআরসিসি।

অভিবাসনে কড়াকড়ি
বিগত বছরগুলোতে কানাডা অভিবাসননীতিতে উদার থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ট্রুডো জানিয়েছেন, বর্তমানে কানাডা অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে চায়।

অভিবাসনের ব্যাপারে কঠোর নীতির ফলে ২০২৫ সালে পিআর প্রগ্রামের বাইরে কানাডায় বসবাসকারী অস্থায়ী ১২ লাখ বিদেশি দেশত্যাগে বাধ্য হতে পারেন- এমন তথ্য উঠে এসেছে টরন্টোভিত্তিক বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।

এখন থেকে প্রতিবছর পিআর সুবিধা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইআরসিসি। বিগত সময়ে প্রতিবছর পাঁচ লাখ পিআর দেওয়া হলেও এখন সেটি কমিয়ে ২০২৫ সালে ৩ লাখ ৯৫ হাজার অভিবাসীকে পিআর দেবে বলে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ সুবিধা ২০২৬ সালে কমিয়ে ৩ লাখ ৮০ হাজার এবং ২০২৭ সালে আরো কমিয়ে ৩ লাখ ৬৫ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৫ সালে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ৯৪ হাজার ৫০০ ফ্যামিলি, অর্থাৎ পারিবারিক ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইআরসিসির। এর মধ্যে ৭০ হাজার ভিসা পাবে স্থায়ীভাবে দেশটিতে বসবাসকারীদের স্ত্রী-সন্তানরা।ফ্যামিলি ট্যুর প্যাকেজ

ট্রুডো সরকার কানাডার জনসংখ্যা বৃদ্ধি থামানোর প্রয়াস হিসেবে এই নীতি গ্রহণ করেছে। ২০১৫ সাল থেকে উদারনীতির আওতায় বিগত এক দশকে কানাডায় অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণ। এতে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন সুবিধা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাই অভিবাসনের ওপর কড়াকড়ি আরোপে অটুট থাকছে দেশটির সরকার।

বিপাকে বাংলাদেশিরা
ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ দাশ জয় (৩৫) পাঁচ বছর ধরে কানাডার একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করছেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কানাডায় পিআর পাওয়া রীতিমতো দুরূহ হয়ে উঠেছে। পিআর পেতে সরকার-নির্ধারিত নির্দিষ্ট পয়েন্ট অর্জন করতে হয়, যার মান বাড়ানো হয়েছে সম্প্রতি। এতে যেসব বাংলাদেশি পিআর ছাড়া কানাডায় বাস করছেন তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’

শুধু প্রসেনজিৎ নন, কানাডায় প্রায় এক দশক ধরে ব্যবসা করছেন সালাহউদ্দিন বাচ্চু (৩৭)। তিনি জানান, তার কানাডা যাওয়ার প্রথমদিকে চাইলে নিজ খরচে স্ত্রী-সন্তান ও বাবা-মাকে নিয়ে আসা যেত। দিন দিন এই অবস্থা কঠিন হয়েছে। প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ পিজিপির আবেদন করছেন আর সুযোগ পাচ্ছেন লটারিতে নাম ওঠা হাতেগোনা কয়েকজন।

কানাডার অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ১ লাখের বেশি বাংলাদেশি স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ষাটের দশক থেকে কানাডায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের বসবাস শুরু হলেও আশির দশকের শেষের দিকে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। সর্বশেষ গত দুই দশকে কানাডায় বাংলাদেশির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

এত দিন কানাডায় বাংলাদেশিদের কাজ পাওয়া কিংবা পিআর সুবিধার জন্য কোনো বেগ পেতে না হলেও দিন দিন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে। এর ওপর পিজিপি সুবিধা বন্ধ হওয়ায় যারা পিআর পেয়েছেন, পরিবার নিয়ে তারাও পড়েছেন বিপাকে।

রাতের আঁধারে রণক্ষেত্র হবিগঞ্জ : টর্চ জ্বালিয়ে চলে সংঘর্ষ

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে বিল দখল নিয়ে রাতের আঁধারে টর্চ জ্বালিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ৩ ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের নারী-শিশুসহ অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন।

গুরুত্বর আহত অবস্থায় ৪ জনকে সিলেট উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এছাড়াও অন্যান্য আহতদের হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে উপজেলার স্বজনগ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় কাঞ্জা বিল নিয়ে লাখাই ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ রুপন ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারিছ মিয়ার মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তাদের পক্ষ নিয়ে গ্রামের লোকজন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।

বুধবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও টর্চ লাইট নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় রাতের আঁধারে প্রায় ৩ ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের নারী-শিশুসহ অন্তত অর্ধ শতাধিক লোকজন আহত হয়।

খবর পেয়ে লাখাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ৯টার দিকে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করে।

এ বিষয়ে লাখাই থানার (ওসি) বন্দে আলী জানান, বিল দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এছাড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সিলেট-তামাবিল সড়কে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়কে দুর্ঘটনায় এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। বাসের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নাম রুমেল আহমেদ (২০) উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের পানিছড়া গ্রামের হোসেন আহমদ এর ছেলে।

আজ বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে উমনপুর টার্নিং পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুমেল আহমদ মোটর সাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে চিকনাগুল সিলেট গ্যাস ফিল্ড সংলগ্ন উমনপুর টার্নিং পয়েন্টে আসামাত্র জাফলংগামী একটি বাসের সাথে তার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন।

পরে স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।

এদিকে, ঘটনার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করে। আটকে রাখে বেশ কয়েকটি বাস। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

তামাবিল হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিলেটভিউকে জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত পালিয়ে গেছে। আমরা বাসটি শনাক্ত করতে পেরেছি, আটকের চেষ্টা চলছে।

১৪৪ ধারা ভেঙে সচিবালয় ঘেরাওয়ের চেষ্টা, পুলিশের ধাওয়া

রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির শতাধিক শিক্ষার্থী ১৪৪ ধারা ভেঙে সচিবালয় ঘেরাও করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির (বিওটি) অপসারণ এবং স্থায়ী ক্যাম্পাসের নিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। সে সময় লাঠিচার্জ ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মন্সুর এনটিভি অনলাইনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খালিদ মন্সুর বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিল। এক পর্যায়ে তারা ১৪৪ ধারা ভেঙে সচিবালয়ে ঘেরাও করে এক নম্বর গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। সে সময় তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে কোনো ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়নি।

জানা গেছে, শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সচিবালয়ে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের পক্ষে চার সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল ভেতরে প্রবেশ করে। শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাক্ষাতের কথা ছিল। এসময় বাইরে অপেক্ষা করছিলেন শতাধিক শিক্ষার্থী। অপেক্ষারত শিক্ষার্থীরাই পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, স্থায়ী ক্যাম্পাস ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে আজ দুপুর আড়াইটা থেকে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন। তারা সেখানে ৩০ মিনিটের মতো ছিলেন। পরে তারা শিক্ষা ভবনের দিকে চলে যান।

বিএসএফ থেকে ৫ কি.মি. নদী মুক্ত করেছে বিজিবি

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মাটিলা সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের দখল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার কোদলা নদী মুক্ত করেছে বিজিবি। সোমবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে মাটিলা সীমান্তের কোদলা নদীর পাড়ে সংবাদ সম্মেলন করে মহেশপুর-৫৮ বিজিবি এ তথ্য জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে ৫৮-বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আজিজুস শহীদ বলেন, মাটিলা সীমান্তের পাশ দিয়ে কোদলা নদী প্রবাহিত। নদীর ৪.৮ কিলোমিটার অংশ বাংলাদেশে অবস্থিত, যা আগে বিএসএফ বাংলাদেশের নাগরিকদের ব্যবহার করতে বাধা দিত। তবে, সম্প্রতি উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বিজিবি বাংলাদেশের দখল প্রতিষ্ঠা করেছে।

এছাড়াও, লে. কর্নেল আজিজুস শহীদ জানান, এখন থেকে বাংলাদেশের নাগরিকরা নদীটির সম্পূর্ণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। সংবাদ সম্মেলনের পর বিজিবি সাংবাদিকদের নদীর পাড়ে নিয়ে গেলে সেখানে অনেক মাটিলা গ্রামের লোকজন মাছ ধরতে এবং গোসল করতে দেখা যায়।

স্থানীয় কৃষক আলমগীর বলেন, এখন তারা নিয়মিত নদীর ধারে কাজ করতে এবং মাছ ধরতে পারছেন, যা আগে বিএসএফ বাধা দিতো।

মাটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পলাশ রহমান জানান, বিএসএফের ভয়ভীতি থেকে মুক্তির পর তারা নদীতে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন।

মেজর ডালিমের এক হাতে একটি আঙুল নেই, কী ঘটেছিল?

প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের লাইভ টকশোতে দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শরিফুল হক ডালিম (বীর বিক্রম) কথা বলেছেন। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। লাইভে ৫০ বছরের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মেজর ডালিম।

লাইভ চলাকালীন একসময় তিনি তার হাত বের করে দেখান, হাতের একটি আঙুল নেই। কেন নেই হাতের আঙুল, লাইভেই খোলাসা করেছেন তিনি।

এর আগে ইলিয়াস হোসেন এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই সাক্ষাতকারের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, রোববার রাতে ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছি, সারাজীবন তার অপেক্ষায় ছিলাম।

ইলিয়াসের বিশেষ লাইভে যুক্ত হতে মেজর ডালিম তার জীবন ও সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা নিয়ে কথা বলেন। লাইভের শুরুতেই ইলিয়াস হোসেন মেজর ডালিমকে যুক্ত করে বলেন, আমাদের জাতির সূর্য সন্তান, যিনি জাতিকে ১৯৭৫ সালে সফলতার পথে নিয়ে গিয়েছিলেন।

সাংবাদিক ইলিয়াসের প্রশ্নের জবাবে মেজর ডালিম বলেন, দেশবাসীকে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ছাত্র-জনতাকে, যারা আংশিক বিজয় অর্জন করেছেন, তাদের প্রতি লাল শুভেচ্ছা জানাই। ২৪’এর গণঅভ্যুত্থানের নেপথ্যের নায়ক ছাত্র-জনতাকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রসারণবাদী-হিন্দুত্ববাদী ভারত যার কবজায় আমরা প্রায় চলে গিয়েছি। সেই অবস্থান থেকে সেই ৭১’এর মতো আরেকটা স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে। তা না হলে বিপ্লব ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

টকশোতে এক পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ইতিহাস বলতে শুরু করেন মেজর ডালিম। তখন তিনি তার হাত দেখিয়ে জানান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আহত হয়ে বাম হাতের আঙুলে হারিয়েছেন। এছাড়াও তার শরীরের বেশ কয়েক জায়গায় জখম হয়েছিল।
মেজর ডালিমের এক হাতে একটি আঙুল নেই, কী ঘটেছিল?
তিনি বলেন, আর আমি যুদ্ধের সময় তিন চারবার আহত হয়েছি। তার একটা নির্দশন আমার হাতের অবস্থা দেখো। এটা বলে তিনি তার বা হাত উঁচিয়ে দেখান। তখন দেখা যায় তার বা হাতের একটি আঙুল নেই।

৭৫ এর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত ইতিহাস তুলে ধরেন। মেজর ডালিম বলেন, খুবই স্পর্শকাতর প্রশ্ন। নিজের বাদ্য নিজে বাজানো যায় না। প্রথম কথা, ১৫ই আগস্ট কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। এটার সূত্রপাত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায়।

এই বীর বিক্রম বলেন, যখন সাতদফাতে চুক্তি করে নজরুল ইসলাম, তাজ উদ্দিনকে পারমিশন দেওয়া হলো একটা প্রভিশনাল গর্ভমেন্ট গঠন করার। সাতটা ক্লজ পড়ে সাইন করার পর নজরুল ইসলাম ফিট হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন যে, আমরা ক্রমান্বয়ে ভারতের একটা করদরাজ্য-অঙ্গরাজ্যে পরিণত হবো।

তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিব তার জুলুমের মাত্রা এতোটাই তীব্র করেছিল স্বৈরাচারী আচরণের মতো যে, তখন মানুষ রবের কাছে মুক্তি চাচ্ছিল তার জুলুমের অবসানের জন্য।’

মেজর ডালিম বলেন, ‘মুজিব তো মারা যায়নি, মুজিব একটি সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হয়েছেন। সেনা অভ্যুত্থান তো আর খালি হাতে মার্বেল খেলা না। ওখানে দুই পক্ষ থেকেই গোলাগুলি হয় এবং হতাহত হয় দুইপক্ষেই। যেমন মুজিবের পক্ষের কিছু লোক মারা গেল সেভাবে সেনাঅভ্যুত্থানকারী বিপ্লবীদের পক্ষ থেকেও কিছু লোক প্রাণ হারায়। এটাই বাস্তবতা। কিন্তু বিপ্লবীরা বিজয়ী হয়ে গেল, তারা ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়ে নিলো।’

তিনি বলেন, ‘মুজিবের মৃত্যুর খবর জানার পর আর বাকশালের পতনের খবর জানার পর শহর বন্দর গ্রামের লাখ লাখ মানুষ আনন্দ মিছিল বের করলো। যে সমস্ত রাজনৈতিক নেতা বা দলগুলো আন্ডারগ্রাউন্ড ছিল তারাও জনসমর্থন নিয়ে রাস্তায় চলে আসে। এভাবেই জনস্বীকৃতি পেয়েছিল ১৫ আগস্টের বৈপ্লবিক সামরিক অভ্যুত্থান।’

২৪ এর বিপ্লবীদের উদ্দেশ্যে মেজর ডালিম বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মের বিল্পবীদের, ছাত্র-জনতার বিপ্লবী কর্মকান্ডে যদি কোনো রকম অবদান রাখতে পারি, আমাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, যোগাযোগ থেকে…তাহলে আমরা সেটা করতে প্রস্তুত। পিছপা হবো না, ইনশাআল্লাহ। আমরা তাদেরকে শ্রদ্ধা, সালাম এবং বিপ্লবী সালাম, সাথে মন থেকে দোয়া করছি তাদের বিপ্লব যাতে ব্যর্থ না হয়। তারা যাতে বিজয় অর্জন করে সুখী সমৃদ্ধ শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলো তাদের দুর্জ্যেয় ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।’

কানাডা নেওয়া যাবে না বাবা-মা ও দাদা-দাদিকে

কয়েক দশক ধরে কানাডায় স্থায়ী বাসিন্দারা বাবা-মা এবং দাদা-দাদি স্পনসরশিপ (পিজিপি) কর্মসূচির আওতায় স্থায়ী বসবাসের (পিআর) জন্য বাবা-মা এবং দাদা-দাদিকে দেশটিতে নেওয়ার জন্য স্পনসর করতে পারতেন। কিন্তু বহুল জনপ্রিয় এই সুযোগ আর থাকছে না।

দেশটির অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী মার্ক মিলারের জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান আবেদনের ব্যাকলগ দ্রুত শেষ করার দিকে মনোনিবেশ করায় বাবা-মা এবং দাদা-দাদির জন্য স্থায়ী বসবাসের স্পনসরশিপের নতুন আবেদন গ্রহণ করা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে কানাডা।

কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব (আইআরসিসি) বিভাগ ঘোষণায় বলেছে, তারা চলতি বছরে এই কর্মসূচির আওতায় আর নতুন কোনও আবেদন গ্রহণ করবে না। কানাডার সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে অনেক বাংলাদেশি পরিবারও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছেন।

বিষয়টি পরিষ্কার করে আইআরসিসি বলেছে, তারা ২০২৪ সালে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াকরণ চালিয়ে যাবে। চলতি বছরে পিজিপি কর্মসূচির আওতায় কোনও নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না। অতীতে এই কর্মসূচির আওতায় কানাডার স্থায়ী বাসিন্দারা দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য তাদের বাবা-মা এবং দাদা-দাদিকে নিয়ে যেতে পারতেন।

এখন এর পরিবর্তে দেশটিতে বসবাসরত পরিবারগুলো সুপার ভিসা কর্মসূচিকে বিবেচনায় নিতে পারবেন। এই ভিসার আওতায় স্থায়ী বাসিন্দাদের আত্মীয়রা টানা পাঁচ বছর পর্যন্ত কানাডায় বসবাসের অনুমতি পাবেন।

দেশটিতে অভিবাসীদের সংখ্যা হ্রাসের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আইআরসিসি নতুন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে দেশটিতে ২০২৫ সালে পিআর বরাদ্দের হার ২০ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি বছরের জন্য আইআরসিসির পিজিপি কর্মসূচির আওতায় ২৪ হাজার ৫০০ জনের আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আগামী কয়েক বছরে এই সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছে কানাডার অভিবাসন বিভাগ।

ঐতিহাসিকভাবে অভিবাসী-বান্ধব নীতির জন্য পরিচিতি রয়েছে কানাডার। কিন্তু দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নেতৃত্বাধীন প্রশাসন দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ মোকাবিলা করার লক্ষ্যে কানাডার এই নীতিতে পরিবর্তন এনেছে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম কানাডা গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করায় চলতি বছরের মাঝেই ১২ লাখেরও বেশি অস্থায়ী বাসিন্দা কানাডা ছেড়ে যেতে বাধ্য হতে পারেন।

এ ছাড়াও বার্ষিক পিআর কোটা আগে ৫ লাখ নির্ধারিত থাকলেও চলতি বছরে তা কমিয়ে ৩ লাখ ৯৫ হাজার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই সংখ্যা ২০২৬ সালে ৩ লাখ ৮০ হাজার এবং ২০২৭ সালে ৩ লাখ ৬৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

হ্রাসকৃত কোটার মাঝে ২০২৫ সালে কেবল ৯৪ হাজার ৫০০টি ভিসা পারিবারিক স্পনসরশিপের জন্য বরাদ্দ পাওয়ার কথা রয়েছে; যার মধ্যে ৭০ হাজার পিআর-ধারীদের স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

প্রায় ৩৫ বছর ধরে বিনামূল্যে কাফনের কাপড় বিতরণ করছেন পালোয়ান পরিবার

রাজধানীর যাত্রাবাড়ির পালোয়ান পরিবার প্রায় ৩৫ বছর ধরে বিনামূল্যে কাফনের কাপড় দিয়ে অসহায় পরিবারের মানুষদের সেবা করছেন। বিনামূল্যে যে কেউ নিতে পারেন তাদের কাছ থেকে। বাবা যে পথ তৈরি করেছেন, সে একই পথে হেঁটেছেন মেয়েও। অর্থকষ্টে শেষযাত্রার বিষয়েও যারা দুঃশ্চিন্তায় থাকেন, তাদের পাশে দাড়াতে পেরে কিছুটা হলেও খুশি পরিবারটি।

ডেমরার মাতুয়াইলগামী সড়কের পাশেই বসবাস এই দম্পত্তির। যে কারোও নজর কাড়ে বাড়ির সামনের সাইনবোর্ডটি দেখে। ১৯৭৯ সালে এ কাজে অসহায়দের সহায় হয়ে এগিয়ে আসেন প্রয়াত আইনজীবী আব্দুল লতিফ পালোয়ান। পিতার মৃত্যুর পর তা জারি রেখেছেন তার কন্যা সিফাত।

কোটি মানুষের এই শহরে মৃতদেহ দাফনের খরচ পড়ে যায় দশ হাজার টাকারও বেশি। এই অর্থ যোগাতে অনেকেরই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে।

স্বেচ্ছাসেবী সিফাত ই ফেরদৌস বলেন, অনেকেই রেফারেন্সের মাধ্যমে আসলে আবার এমনকি কেউ মৃত্যুর সংবাদ নিয়ে আসলে সঙ্গে সঙ্গে নাম ঠিকানা লিখে কাফনের কাপড় দিয়ে দেয়। মানুষদের কোনোধরণের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে দেয় না যাতে কষ্ট না পায়।

সিফাত বলেন, ছেলেদের দাফনের ক্ষেত্রে কাফনের কাপড় দরকার হয় ৭-৮ গজ। এক্ষেত্রে আমি একটু বেশি করেই দেয়। আর মেয়েদের জন্য ৫ গজের দরকার হয়। মেয়েদের কাপড়টা আবার কেটে দিতে হয়। এই কাজটা আমি পারি। মাঝেমধ্যে বাসার পাশের কিছু ভাই-বোন এসে সাহায্য করে।

তিনি চাইলে পারতেন বাহারী পোশাক কিংবা আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করতে কিন্তু তার বিপরীত বাবার দেখানো পথটিকেই ভালোবেসেছেন মেয়ে সিফাত। এই কাজে সঙ্গে পেয়েছেন তার স্বামীকেও। তাদের জমানো টাকা দিয়েই চলছে এই কার্যক্রম।

তিনি বলেন, নিজের ছোটো-খাটো শখ বিসর্জন দিয়ে নতুন কাপড় ৫টা না কিনে যদি ১টা কিনি তাহলে আমার কাফনের কাপড়ের টাকা হয়ে যায়। ৫০০০-৬০০০ টাকায় আমার সহজেই ৪০-৫০ গজের কাফনের কাপড় কিনতে পারি।

সিফাতের স্বামী ইসমাঈল জবিউল্লাহ শরীফ বলেন, এই কাজটাকে আমি আল্লাহর নিয়ামত বলতে পারি। এই কাজ করতে দেখতাম আমার শ্বশুরকে করতে। তিনি কাফনের কাপড় কিনে অসহায় পরিবারের মানুষদেরকে দান করতেন। এটা আসলে ভাগ্যের ব্যাপার।

এ কাপড়ে নিজেকেও একদিন ধরনীর মায়া ছেড়ে যেতে হবে অনন্তের পথে। তাইতো সিফাত চান, তার সন্তানেরাও ভরসা হয়ে উঠুক অর্থহীনের। তার মৃত্যুর পরও বজায় থাকুক পারিবারিক এই রীতি।

ভারতের মুরাদাবাদে গরু জবাইয়ের অভিযোগ তুলে মুসলিম যুবককে হ’ত্যা

ভারতের মুরাদাবাদে এক মুসলিম যুবককে গ’রু জ’বাই করার সন্দেহে লাঠিসোটা ও রড দিয়ে পি’টিয়ে হ’ত্যা করা হয়েছে। ৩৭ বছর বয়সী নি’হত যুবকের নাম মোহাম্মদ শাহেদিন কুরেশি। শাহেদিনকে এলাকার উ’গ্রবাদী হি’ন্দুরা মা’রধর করলে, গত সোমবার রাতে তার মৃ’ত্যু হয়। এ ঘটনার পর, বেশ কিছু মুসলিম প্রধান এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মুরাদাবাদ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুমার রণ বিজয় সিং জানান, ঘটনার পর, শাহেদিনকে মুরাদাবাদ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, রাত সাড়ে ১২টার সময় তার মৃ’ত্যু হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের পর মঙ্গলবার সকালে, শাহেদিনের দাফন সম্পন্ন করে তার পরিবার।

কুমার রণ বিজয় সিং বলেন, শাহেদিন এবং তার সঙ্গীরা সোমবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে মণ্ডী সমিতি এলাকায় গ’রু জ’বাই করছিলেন, এমন অভিযোগ করেন এলাকার কিছু লোকজন। এসময়, ভিড় আসার খবরে শাহেদিনের সঙ্গীরা পালিয়ে গেলেও, শাহেদিনকে আ’টকে ফেলে তারা। পরবর্তীতে, শাহেদিনকে সেখানে গা’লিগা’লাজ ও বেধ’ড়ক মা’রধর করা হয়।

কুমার রণ বিজয় সিং আরও জানান, ঘটনাস্থলে মৃ’ত গরু পাওয়া গেছে। কিছু লোক এই ঘটনার জেরে শাহেদিনকে লা’ঠিসো’টা ও রোড দিয়ে নির্মমভাবে পি’টিয়েছে। তবে, এখনও পর্যন্ত শাহেদিনের হ’ত্যার সাথে সম্পর্কিত কাউকেই গ্রে’প্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুমার রণ বিজয় সিং।

এদিকে, মজহোলা স্টেশন হাউস অফিসার মোহিত চৌধুরী জানান, গরু জ’বাইয়ের অভিযোগে নিহ’ত শাহেদিন এবং মোহাম্মদ আদনানের (২৯) বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম এফআইআর আইপিসি ধারা ৩০২-এর অধীনে শাহেদিনের ভাই মোহাম্মদ শাহজাদের অভিযোগে দায়ের করা হয়। দ্বিতীয় এফআইআর গ’রু জ’বাইয়ের অভিযোগে দায়ের করে মজহোলা পুলিশ। গত বুধবার শাহেদিনের সঙ্গীকে গ্রে’প্তার করেছে পুলিশ।

নি’হ’ত শাহেদিন একজন বডিবিল্ডার ছিলেন এবং তিনি বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। শাহেদিন, তার স্ত্রী রিজওয়ানা এবং ৩ ছেলে — আরাম (১৩), আশি (১১) এবং ইবজান (৯) সহ আসলতপুর এলাকায় বাস করতেন।

শাহেদিনের স্ত্রী রিজওয়ানা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘একটি প’শুর মৃ’ত্যুকে কেন্দ্র করে কোন মানুষকে হ’ত্যা করার অধিকার তাদের কে দিয়েছে? তারা কারা, যারা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়? আমার স্বামীর সাথে যা ঘটেছে, তা নৃশংস। তার অকাল মৃ’ত্যু হয়েছে।’

শাহেদিনের ওপর হা’মলার ভিডিও সম্প্রতি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গু’রুতর আ’ত ও রক্তা’ক্ত অবস্থায় শাহেদিন মাটিতে পড়ে আছেন, কোন নড়াচড়া করছেন না।