Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 15

সিলেটে ভোটের দিন উপরে উড়বে ড্রোন, নিচে প্রশিক্ষিত কুকুর

নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে ততোই মাঠে বাড়ছে উত্তাপ। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটছে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা। সিলেটে এখনো এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটলেও গেল কয়েক দিন ধরে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন বাহিনীর অভিযানে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হলেও ধরা পড়েনি অস্ত্রের মালিকরা। ফলে ভোটের আগে ও ভোটের দিন অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা সিলেটবাসীর মনে চেপে বসেছে।

এ ছাড়া নির্বাচনী এই সময়ে সিলেটের সীমান্ত এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান রোধ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আগেভাগেই ব্যাপক প্রস্তুতি সেরে রেখেছে বিজিবি সিলেট সেক্টর। ভোটের দিন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ড্রোন উড়াবে বিজিবি। আর নিচে কাজ করবে প্রশিক্ষিত কুকুর অর্থাৎ ডগ স্কোয়াড। বিজিবি সিলেট সেক্টরের পক্ষ থেকে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট সেক্টরের অধীনে ভারতের সাথে সীমান্ত রয়েছে ৩০২ কিলোমিটার। নির্বাচনকালীন এই সময়ে যাতে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান, অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার কিংবা কোন ধরণের সীমান্ত অপরাধ সংঘটিত না হয় এজন্য বিজিবির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সতর্কতামুলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত অপরাধ যাতে নির্বাচনী পরিবেশে কোন ধরণের বিরূপ প্রভাব ফেলতে না পারে সেজন্য বাড়ানো হয়েছে টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম।

বিজিবি সিলেট সেক্টর সূত্র জানায়, নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সিলেটে বিজিবি মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে সিলেট বিভাগে সিলেট ও শ্রীমঙ্গল সেক্টরে মোট ৯০টি প্লাটুনে ২ হাজার ১০০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। সিলেট সেক্টরের অধীনে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার ১০টি আসনে অন্যান্য বাহিনীর সাথে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে বিজিবি।

এর মধ্যে সিলেটের গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জকিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের সদর, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় এককভাবে বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী আরও ৫টি উপজেলায় সেনাবাহিনীর সাথে ও অন্যান্য ১২টি উপজেলায় বিভিন্ন বাহিনীর সাথে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবির ‘ক-৯ ইউনিট’র ৪টি প্রশিক্ষিত ‘ডগ’ (কুকুর) মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনী দায়িত্বপালনের জন্য ইতোমধ্যে বিজিবি সদস্যদের ‘রায়োট কন্ট্রোল ট্রেনিং’ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যরা উপজেলাভিত্তিক বেইজ ক্যাম্পে অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিজিবি সিলেট সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন পিএসসি জানান, নির্বাচনে প্রতিটি উপজেলায় ২-৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ড্রোনের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থা চালু করা হবে। নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করা হবে ডগ স্কোয়াড। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি সদস্যদের নতুন সংযোজিত নন-লেথাল অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন যে কোনো জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় এপিসিসহ বিজিবির কুইক রেস্পন্স ফোর্স সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।

কর্নেল মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন আরও বলেন, ‘বিজিবি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে জনগনের ভোটাধিকার শান্তিপূর্ণভাবে প্রয়োগে সহায়তা করবে। নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন হুমকী নেই। আশা করছি, নিরাপদেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।’

হাসিনাকে যেভাবে ভারত পাঠিয়েছি, সেভাবে আপনাদের সঙ্গেও ডিল করব : সিলেটে সাদিক কায়েম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, একটি দল গণভোটে না এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। না মানে হচ্ছে ভারতের দালালি করা, না মানে হচ্ছে দিল্লির দালালদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া, বিচারিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আবার জাতীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা।

ওই দলের নাম উল্লেখ না করেই সাদিক কায়েম বলেন, আপনারা কি আরেক হাসিনা হতে চান? তাহলে বলে দিন। তাহলে আমরা হাসিনাকে যেভাবে বিদায় করেছি, যেভাবে লাথি দিয়ে ভারতে পাঠিয়েছি, ঠিক সেভাবেই আপনাদের সঙ্গেও ডিল করব।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণজমায়েতে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ, সিলেট-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবীবুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীসহ ছাত্রশিবিরের জেলা ও মহানগর এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

এতে সাদিক কায়েম বলেন, এই ‘হ্যাঁ’ মানে হলো জনগণের প্রকৃত ক্ষমতা জনগণের হাতেই তুলে দেওয়া। তিনি বলেন, এই বাংলাদেশের কৃষকের টাকা, শ্রমিকের টাকা, রিকশাচালকের টাকায় যে দেশ চলে, তাদের সন্তানকে আগামীর রাষ্ট্রনায়ক বানানোর জন্য ক্ষেত্র তৈরি করাই হলো ‘হ্যাঁ’-এর মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, এই ‘হ্যাঁ’ মানে হলো বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে যে গুম, খুন ও আয়নাঘরের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সেই খুনি হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচারের আওতায় আনা। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মাণ করা।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ নাগরিকরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি গণভোটে প্রথম যে সিল পড়বে, সেটি হবে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে।

সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই প্রজন্ম বেঁচে থাকতে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি ও ‘না’-এর পক্ষে অবস্থানকারীদের কোনো জায়গা দেওয়া হবে না। তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, দলটি শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে সরে এসে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি ধারণ করছে।

তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের ভুল সংশোধন করে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে হবে এবং দ্রুত ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন শুরু করতে হবে। অন্যথায় ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই জনগণ তাদের বিরুদ্ধে গণরায় দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সবশেষে সাদিক কায়েম সিলেটের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে হবে।

সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আগামী নির্বাচনে যাতে কোনো চাঁদাবাজ, জালিমের হাতে দেশের ক্ষমতা না যায় সেজন্য ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেবার ঘোষণা দেন তিনি।

ছাত্র নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণভোটই সবচেয়ে কার্যকর ও গণতান্ত্রিক মাধ্যম। কিন্তু একটি দল এখনো গণভোট নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি। গণভোটে হ্যাঁ দেওয়া মানে কোনো রাজনৈতিক দলকে জেতানো না, আগামীর বাংলাদেশ গড়া। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশকে রক্ষা করতে, এবং চাঁদাবাজ মুক্ত দেশ গড়তে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সিলেটে হঠাৎ সাজোয়া যান-ডগ স্কোয়াড নিয়ে রাস্তায় বিজিবি

সড়কের পাশে লাইন ধরে দাঁড় করানো রয়েছে সাজোয় যান। যানগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবির সদস্যরা। তার পাশেই ডগ স্কোয়াডের কুকুরদের নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আরও কয়েকজন বিজিবি সদস্য। হাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছেন আরও কয়েকজন। সাইরেন বাজিয়ে ছুটে চলছে বিজিবির গাড়ি।

সড়ক দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি যানবাহনকে ডগ স্কোয়াডের দিয়ে ভালো করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটের টিলাগড় এলাকার সিলেট সরকারী কলেজের সামনে গিয়ে দেখা গেলো এমন দৃশ্য।

হঠাৎ দেখে আঁতকে উঠার মতো দৃশ্য। খারাপ কিছু কী ঘটতে যাচ্ছে? বিজিবির কাছে কী কোন তথ্য আছে? কেন তাদের এই যুদ্ধংদেহী ভাব!

আদতে তেমন কিছু নয়। নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিজিবির প্রস্তুতির মহড়া দিতেই এমন আয়োজন। নির্বাচনের সময় যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় প্রস্ততি নিচ্ছে বিজিবি। তারই একটি মহড়া দেওয়া হয় বৃহস্পতিবার সকালে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এই মহড়ার আয়োজন করে।

এসময় নির্বাচনী মহড়ার পাশাপাশি নিজেদের প্রস্তুতি কথা তুলে বিজিবি’র সিলেট সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন।

তিনি জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটের ৩০২ কিলোমিটার সীমান্তে নজড়দারি বাড়ানোসহ সব ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কর্ণেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন বলেন, বিজিবি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে জনগনের ভোটাধিকার শান্তিপূর্ণভাবে প্রয়োগে সহায়তা করবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সবধরণের সহায়তা করবে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিজিবি মাঠে পূর্ণ মাত্রায়ন মোতায়েন থাকবে। সিলেট বিভাগে ৯০ টি প্লাটুনে ২১০০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের দায়িত্ব পাওয়া বিজিবি সদস্যদের রায়ট কন্ট্রোল প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ড্রোন ব্যবহার করে নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষন করা হবে।

এই বিজিবি কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন হুমকী নেই। আশা করছি, নিরাপদেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

বিয়ানীবাজার মা ও শিশু হাসপাতালে নবজাতক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, ভাঙচুর

বিয়ানীবাজারের মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুটির স্বজনরা হাসপাতালে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে নবজাতকের মৃত্যুও ঘটনা ঘটে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এই মৃত্যু।

এক পর্যায়ে শিশুটির স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতাল লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়েন এবং ভাঙচুরের চেষ্টাও করেন। এতে হাসপাতালটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি করেন।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মৃত শিশুটির স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নবজাতকের স্বজনদের দাবি, ভর্তির আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মা ও শিশুর অবস্থা স্বাভাবিক বলে নিশ্চিত করেছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রসবের সময় সেখানে কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন না। অদক্ষ নার্সের কারণে এই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর এই হাসপাতালে আরেক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। সে ছিল গোলাপগঞ্জের আমকোনার সৌদি-আরব প্রবাসী আব্দুল হামিদের সন্তান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই হাসপাতালে প্রায়ই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কেউ তদন্ত করছেন না, ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছেনা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিয়ানীবাজারের মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের মোবাইল নম্বরে (০১৭১১২৫৩২০১) কল দিলে রিসিভ করেন একজন মহিলা। তার কাছে এ ব্যাপারে বলতে পারেন এমন একজন দায়িত্বশীলকে চাইলে তিনি মোবাইল ধরিয়ে দেন জনৈক জামিল হোসেন নাম বলে পরিচয় দেওয়া একজন কর্মচারীকে।

তার কাছে হাসপাতালটির এমডির (ম্যানেজিং ডিরেক্টর) বা দায়িত্বশীল অন্য কাউকে চাইলে তিনি এমডির নম্বর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাচ্ছেন বলে আর পাঠান নি। তাই তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে বিয়ানীবাজারের পৌর শহরেরই একাধিক সচেতন ব্যক্তির সাথে আলাপ হয় এই প্রতিবেদকের। তারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

তাদের সবার বক্তব্যের সারমর্ম হচ্ছে, বড় বড় ডাক্তার, সার্জন, প্রশিক্ষিত ধাত্রী, নার্স ইত্যাদির কথা বলে তারা প্রসুতির স্বজনদের এখানে ভর্তি হতে প্রলোভন দেন। কিন্তু এরপর দেখা যায়, তাদের কথা আর কাজে মিল থাকেনা। প্রসবের সময়ে আর দক্ষ কাউকে মিলেনা। অদক্ষ আনাড়িদের দিয়ে প্রসবের কাজ করানোর ফলে প্রায়ই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। বুধবারের ঘটনাও তাই।

অনেক সময় নবজাতকের মৃত্যু না হলেও অবস্থা এমন হয় যে, মা ও শিশুর জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। এমন অভিযোগ হামেশাই তারা পান।

এ ব্যাপারে তারা সিলেটের সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালু না রাখলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি

সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে সরাসরি ফ্লাইট চালু রাখার দাবিতে প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক হেঁটে প্রবাসীরা ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি পালন করেছেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে কর্মসূচি শুরু হয়ে মজুমদারি এলাকার বিমান অফিসের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

দুপুর ১২টার দিকে ‘ইউকে এনআরবি সোসাইটি ও ইউকে বাংলাদেশি হেরিটেজ কাউন্সিলর ফোরাম’ এর উদ্যোগে নগরের চৌহাট্টা থেকে ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি শুরু হয়।

এ কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য প্রবাসীসহ সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রায় দেড় কিলোমিটার হেঁটে তারা বিমান অফিসের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হন।

এ সময় সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালু না রাখলে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স স্ট্রাইক ও বিমান বর্জনের মতো কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

ইউকে এনআরবি সোসাইটির পরিচালক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

এ সময় ইউকে এনআরবি সোসাইটির পরিচালক এম আহমদ জুনেদ, যুক্তরাজ্যের ওল্ডহাম বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জামাল উদ্দিন, ইউকে এনআরবি সোসাইটির পরিচালক ইসমাইল হোসেন ও মোতালিব চৌধুরী, যুক্তরাজ্যের কমিউনিটি নেতা বুলবুল আমিন, বদরুল আলম, দবির মল্লিক, জামান মিয়া, রাসেল চৌধুরী, নুরুল আমিন, মাসুক উদ্দিন, শাহাব উদ্দিন, আবদুস শহীদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, প্রবাসীরা আমাদের রেমিট্যান্স–যোদ্ধা। তাদের শ্রম ও ঘাম এই সিলেটসহ বাংলাদেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছে। এতে করে বাংলাদেশের অর্থনীতি দিন দিন উন্নতি করছে।

অথচ তাদের সঙ্গে সব সময়ই বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়। এটা কোনোভাবে সহ্য করার মতো নয়। তবে বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রবাসীদের ন্যায্য দাবি পূরণে আমরা সবাই মিলে কাজ করব।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং এই রুট বন্ধ করলে যুক্তরাজ্যের একাংশের মানুষ যাতায়াতে অসুবিধায় পড়বেন। এটা বিবেচনায় নিয়ে সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সরাসরি ফ্লাইট চালু রাখা দরকার।

সমাবেশ শেষে ইউকে এনআরবি সোসাইটির নেতারা বিমান সিলেট অফিসের ব্যবস্থাপকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, যে রুটে বিমান কর্তৃপক্ষ ৮৩ শতাংশ ব্যবসা করে, সেই রুটটি কীভাবে লোকসান হয়? বেশির ভাগ যাত্রী ৭০০ থেকে ৮০০ পাউন্ডের টিকিট ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ পাউন্ডে কেনেন।

বিমানের একটি অসাধু চক্র এ টাকা লোপাট করে প্রতি মুহূর্তেই ফ্লাইটটিকে লোকসান দেখানোর পাঁয়তারা করছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সিলেট থেকে ম্যানচেস্টারে প্রায় ২০ হাজার যাত্রী এবং ম্যানচেস্টার থেকে সিলেটে প্রায় ১৮ হাজার করে বিমান কর্তৃপক্ষ বহন করেছে। এতে সর্বমোট ৩৮ হাজার যাত্রী যাওয়া-আসা করেন। এই সময়ে বিমানের সিট ছিল ৪৫ হাজার।

এই পরিসংখ্যানে বোঝা যাচ্ছে, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট কখনোই অলাভজনক ও যাত্রী সংকটে ছিল না। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে।

বিয়ানীবাজারে পুলিশের হাতে আ*ট*ক হলেন স্বামী-স্ত্রী

বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ স্বামী-স্ত্রী দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিয়ানীবাজার পৌরসভার দাসগ্রাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন— মো. সাদিকুল আলম শামীম (৩৫), পিতা: মৃত আব্দুল হেকিম এবং তার স্ত্রী জোসনা বেগম (৩৩)। উভয়েই দাসগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযানকালে আটককৃতদের কাছ থেকে ১৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. ওমর ফারুক জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

শাহজালাল (রহ.)–এর পুণ্যভূমি সিলেট আগামী দিনে ইসলামপন্থীদের ঘাঁটি হবে -মাওলানা মামুনুল

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। কারণ, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অবসান চায়।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখী স্কুল সংলগ্ন মাঠে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, শাহজালাল (রহ.)–এর পুণ্যভূমি সিলেট আগামী দিনে ইসলামপন্থীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হবে। আজকের এই জনসভা প্রমাণ করে, গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজারের মাটি দাঁড়িপাল্লার ঘাঁটি।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে পরিবর্তনের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। মানুষ পুরোনো কাউকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। অনেকেই বলছেন, সবাইকে দেখেছি—এবার ইসলামী দলগুলোকে ক্ষমতায় দেখতে চাই। আগামী দিনের রাজনীতি হবে বাংলাদেশপন্থীদের রাজনীতি। কারণ, এ দেশ শাহজালালের দেশ।

সমাবেশে বক্তব্যকালে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। খেলাফত মজলিসের আমীর বলেন, ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করলে গণ–অভ্যুত্থান সফল হবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে।

তিনি ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আলেম-ওলামাসহ গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজারবাসীর কাছে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের মাস্টার আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি হাবিবউল্লাহ দস্তগীর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এহতেশামুল আলম জাকারিয়ার যৌথ পরিচালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

তিনি বলেন, নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য বিজয়ী হলে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী পাবে সিলেটবাসী। জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সিলেটের ছয়টি আসনে জোটপ্রার্থীদের বিজয়ী করতে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দিতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সিলেট-৬ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, নির্বাচিত হলে আধুনিক, নিরাপদ ও উন্নত গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার গড়ে তোলা হবে তাঁর অঙ্গীকার।

নির্বাচনী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন নিয়াজী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম, মহানগর শিবিরের সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম সাজু, জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, প্রবাসী কমিউনিটি নেতা আব্দুল মুমেন জাহেদী ক্যারল, গোলাপগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমীর রেহান উদ্দিন রায়হান, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর জিন্নুর আহমদ চৌধুরী, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রহিম, বাদেপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ উদ্দিন এবং উপজেলা খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল আহাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সিলেট-১: উন্নয়নের নামে লুটপাট নয়, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি জামায়াতের : মাওলানা হাবিব

জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, সিলেট জেলা আমীর এবং সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে জামায়াত ও ১০ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেছেন, এতদিন উন্নয়নের নামে দেশে লুটপাট হয়েছে। কিছু মানুষের উন্নয়ন হলেও সাধারণ মানুষের জীবনে তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আমীর জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ঘোষিত পলিসি সামিট শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই পলিসি সামিটের লক্ষ্য হলো বেকারত্ব ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়া।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাদ আছর সিলেট নগরীর জিতু মিয়ার পয়েন্টে জামায়াত ও ১০ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেট-১: উন্নয়নের নামে লুটপাট নয়, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি জামায়াতের : মাওলানা হাবিব
মাওলানা হাবিবুর রহমান আরও বলেন, জামায়াতের পলিসি সামিটে যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের জন্য বাস্তবমুখী পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক ব্যক্তি এবং ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা থাকবে। ট্যাক্স ও ভ্যাট ব্যবস্থায় সমন্বয় আনা হবে এবং কৃষকদের জন্য বিনাসুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি দাবি করেন, ভোট দিয়ে জামায়াত-জোটকে বিজয়ী করলে সিলেটবাসী প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার গৌরব অর্জন করবে, যা আগে কখনো হয়নি।

পথসভায় সমাজসেবী নূর আলমের সভাপতিত্বে এবং আব্দুল কাদিরের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াত নেতা মাওলানা লোকমান আহমদ, লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান খালেদ, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার নূরুল হুদা জুনেদ, জাগপার সিলেট মহানগরের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শাহজাহান আহমদ লিটন, সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম সাজু, জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল মুকিতসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট মুরব্বি গিয়াস উদ্দিন, ব্যবসায়ী নেতা জিয়াউল হক, ১১নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুল আলীম, ১২নং ওয়ার্ডের সভাপতি ফয়জুল ইসলাম, ১৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি ডা. মোবারক হোসাইন, যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মাহবুবুর রহমান তাসলিম, এনসিপির মহানগর সদস্য রিপন আহমদ, ছাত্র মজলিস ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।-বিজ্ঞপ্তি

সিলেটে নিঃসন্তান দম্পতিরদের সুখবর দিচ্ছে যে প্রতিষ্ঠান

সিলেট জেলায় নিঃসন্তান দম্পতিদের আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রথম আইভিএফ সেন্টার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে ‘সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’।

নগরীর সুবহানীঘাটস্থ উপকন্ঠ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত সেন্টারটিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সিলেটে নিঃসন্তান দম্পতিদের সুচিকিৎসা নিয়ে স্বপ্ন দেখেন ২১ জন গাইনোকোলজিস্ট। স্বপ্ন দেখেন একটি পূর্ণাঙ্গ আইভিএফ সেন্টারের ,যার ধারাবাহিকতায় সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’র যাত্রা শুরু হয়েছে। বন্ধ্যাত্ব নিরাময়ে কাজ করবে এ সেন্টার। কম খরচে টেস্ট টিউবের মাধ্যমে বন্ধ্যা মা-বাবার সন্তান জন্মদানে সার্বিক চিকিৎসা প্রদানে এটিই সিলেটের প্রথম ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নিঃসন্তান মহিলারা রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আইবিএফ (IVF), আইসিএসআই (ICSI), আইইউআই (IUI), এমব্রো ফ্রিজিং সহ অন্যান্য চিকিৎসা এবং নিঃসন্তান দম্পতিদের সার্বিক চিকিৎসার জন্য সেন্টারটি উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রখ্যাত শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার তারেক আজাদ বলেন, কম খরচে টেস্ট টিউবের মাধ্যমে বন্ধ্যা মা-বাবার সন্তান জন্মদানের জন্য ‘সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যে সকল দম্পতির ‘স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা নেই, সে সকল নিঃসন্তান দম্পতিরা আইভিএফ পদ্ধতিতে ভ্রূণ ট্রান্সফার করে যাতে সন্তান জন্ম দিতে পারেন এবং মাতৃত্বের স্বাদ পেয়ে মায়ের মুখেও আত্মতৃপ্তির হাসি ফুটে।

তিনি আরও বলেন, তাদের হাসপাতালে মা ও শিশুদের গাইনি রোগ ও বাচ্চাদের নানা ধরনের জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসায় সফলতা রয়েছে। কিন্তু সিলেটের নিঃসন্তান দম্পতিরা সন্তানসম্ভবা হতে পারছেন না, এ নিয়ে পরিবারগুলোতে চরম অশান্তি দেখা দেয়। সন্তান জন্ম দিতে না পারা স্ত্রীকে স্বামী-শাশুড়ি ও পুরো পরিবার নানাভাবে নিগৃহীত করেন। এটা আমাদেরকে ব্যথিত করে। সে ব্যথা থেকে সাধারণ গাইনি চিকিৎসার পাশাপাশি ইনফার্টিলিটি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছি। এ প্রতিষ্ঠানে আধুনিক সর্বশেষ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। আইভিএফ ও আইইউআই কার্যক্রমের মাধ্যমে আশা করি এটাতে সফলতা পাওয়া যাবে। এ কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তায় রয়েছেন গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার নমিতা রানী সিনহা সহ সকল গাইনী বিশেষজ্ঞগণ।

অধ্যাপক নামিতা রানী সিনহা জানান, মেয়েদের জরায়ুতে অ্যাডোনোমাইসিস নামের এক প্রকার রোগ হয়ে থাকে। এতে নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ রোগ নিরাময়ের জন্যে ভারতে একাধিক হাইপো সেন্টার গড়ে উঠেছে। ননসার্জিকেলি চিকিৎসা দিতে এটি একটি হাইপো সেন্টার। এছাড়া সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে নিঃসন্তান মায়ের ভ্রূণ ট্রান্সফার প্রক্রিয়া শুরুর ৯ মাস পর টেস্টটিউব শিশুর জন্ম হবে। টেস্টটিউব প্রক্রিয়া এবং আই.ইউ.আই প্রক্রিয়ায় নিঃসন্তান দম্পতিরা মা হতে পারবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাক্তার জিয়াউর রহমান বলেন, সিলেটে এই প্রথম চালু হচ্ছে আইবিএফ, আইইউআই কার্যক্রম সিলেটের একমাত্র ইনফার্টিলিটি সেন্টার জানিয়ে বলেন, ‘নিঃসন্তান দম্পতির জন্য এটি অত্যন্ত ভালো কাজ।

এ কাজে ইনশা-আল্লাহ ব্যাপক সফলতা পাওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে IVF (In Vitro Fertilization) বা টেস্ট টিউব বেবিঃ শরীরের বাইরে ল্যাবে কৃত্রিমভাবে নিষিক্তকরণ। ICSI (Intra-Cytoplasmic Sperm Injection) একটি সুস্থ শুক্রাণুকে সরাসরি ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করানো। IUI (Intrauterine Insemination): জরায়ুর ভেতরে শুক্রাণু স্থাপন। ঊসনৎুড় ঋৎববুরহম: ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য ভ্রূণ হিমায়িত করে রাখা। Sperm freezing: শুক্রানু হিমায়িত করে রাখা। Frozen embryo transfer (FET); হিমায়িত ভ্রুন জরায়ুতে প্রতিস্থাপন চিকিৎসা রয়েছে।

অধ্যক্ষ জিয়াউর রহমান আরও জানান, আইভিএফ-এর ক্ষেত্রে বয়স সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। সাধারণত প্রতিবার ভ্রূণ প্রতিস্থাপনে (Embryo Transfer) সাফল্যের হার নিম্নরূপ: ৩৫ বছরের নিচে: সাফল্যের হার সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪০% থেকে ৫০% [১.৪.১৪]। ৩৫ থেকে ৩৭ বছর: সাফল্যের হার প্রায় ৩৫% থেকে ৪০%। ৩৮ থেকে ৪০ বছর: সাফল্যের হার প্রায় ২০% থেকে ২৫%। ৪০ বছরের উপরে: সাফল্যের হার সাধারণত ১০% থেকে ১৫% বা তার কম হতে পারে। খরচঃ একটি সাধারণ আইভিএফ চক্রের (ওঠঋ ঈুপষব) খরচ সাধারণত ৩৫০০০০-৪০০০০০ টাকার ভেতরে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাক্তার হিমাংশু দাস সৌম্য এর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার নাতিয়া রাহনুমা, ডাক্তার নুজহাত শারমিন উর্মি, ডাক্তার দ্বীপান্নিতা ঘোপ, ডাক্তার শামীমা আক্তার শিপা, রেবেকা সুলতানা নিশু প্রমুখ।

সিলেটে প্রায় দেড় কোটি টাকার চোরাই পণ্য উদ্ধার

সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই পথে আসা প্রায় দেড় কোটি টাকার পণ্য উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিজিবি।

তারা জানায়, শনি ও রবিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সংগ্রাম, ডিবিরহাওর বিশেষ ক্যাম্প, বিছনাকান্দি, প্রতাপপুর, তামাবিল, দমদমিয়া, কালাইরাগ এবং বাংলাবাজার বিওপি কর্তৃক চোরাচালান বিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গরু, মহিষ, শাড়ী, কমলা, চিনি, সনপাপড়ি, জিরা, কসমেটিকস সামগ্রী, কম্বল, চকলেট, জুস, সিনকারা সিরাপ এবং বাংলাদেশ হতে পাচারকালে শিং মাছ আটক করে।

এছাড়াও ব্যাটালিয়ন সদরের একটি বিশেষ টহলদল গোয়াইনঘাট সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় শীতের কম্বল, সাবান, নিভিয়া সফট ক্রিম, সানস্লিক শ্যাম্পু, পন্ডস ফেসওয়াস, শাড়ী, বডি লোশন, অলিভ ওয়েল, চকলেট, সনপাপড়ী, সিগারেট আটক করে।

আটককৃত মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ০১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।

এ ব্যাপারে অধিনায়ক, সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান এবং মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোতভাবে অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমানে এ সকল চোরাচালানী মালামাল জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত মালামালের ব্যাপারে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।